বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তানকে কি পর্ণিস্তান বলা যায়?

গত মাসে, ফক্স নিউজ একটা সংবাদ প্রকাশ করে ‘যৌন ওয়েব সার্চে ১ নম্বর জাতি কোনটি? বলেন তাকে পর্ণিস্তান’ শিরোনামে। যেখানে দাবি করা হয় গুগলের ইন্ডেক্স অনুসারে ওয়েবে যৌন বিষয়বস্তু খোঁজার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবস্থান প্রথম স্থানে। এই রিপোর্ট আসে যখন পাকিস্তানে ইন্টারনেট সেন্সরশিপ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। লাহোর হাই কোর্ট অধার্মিক বিষয় নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টায় শেষে সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট যেমন ফেসবুক, টুইটার এমনকি ব্ল্যাকবেরি সার্ভিস নিষিদ্ধ করে। এই সময় ব্লগ জগত জীবন্ত হয়ে ওঠে এই বিতর্কে যে সামাজিক নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করলেও যৌন ওয়েবসাইটগুলো ঠিকই দেখা যাচ্ছে।

আমার নিজের ব্লগে ইন্টারনেট সেন্সরশিপ আর অধার্মিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে, আমি যৌন সাইট অনায়াসে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরি যদিও সেন্সরশিপ কার্যকর আছে:

যারা ইন্টারনেটে নৈতিক পুলিশের কাজ করতে চান ধর্মের নামে, দয়া করে লক্ষ করুণ হাজার হাজার বাচ্চাদের যৌন ওয়েবসাইট এখনো পাকিস্তানে দেখা যাচ্ছে, যার কোনটার নাম আসেনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ১০,৪২৮টি সাইটের মধ্যে। কবে আমরা বিষয়ের গুরুত্ব বুঝতে শিখব?

সকল আলোচনা সত্ত্বেও ফক্স নিউজ এর রিপোর্ট অনেকের কাছে আঘাত বয়ে এনেছে, কারন পাকিস্তানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম বাকি বিশ্বের তুলনায়। এই রিপোর্টে কেবল এই দাবিই করে নি যে পাকিস্তান ওয়েবে যৌন বিষয়বস্তু সন্ধানে সব থেকে এগিয়ে থাকা জাতি, বরং দেখিয়েছে যে তারা শিশু যৌনতা আর পশুদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই রিপোর্টকে জোরালো দোষারোপ হিসাবে দেখা হয়েছে আর ব্লগার ও প্রধান ধারার মিডিয়া বিস্তারিতভাবে এটি আলোচনা করেছে।

চুপ- চেঞ্জিং আপ পাকিস্তান ব্লগের কালসুম লাখানি এ রিপোর্টে দেখানো পরিসংখান দেখে বিস্মিত আর ঘৃণা বোধ করছেন:

যদিও আমি আসলেই ঘৃণা বোধ করছি (আর বিস্মিত) যে আবার আর একটা খারাপ তালিকার উপরে আমরা আছি, আমি খুব বেশী অবাক হইনি। কারন ফক্স আর টাইম এর দাবি সত্ত্বেও যে পাকিস্তান ‘একটা মুসলিম জাতি, যাদের দুর্নাম আছে রক্ষণশীল আর ধর্মীয় গোঁড়ামির জন্য,’ আমাদের দেশেও বিকারগ্রস্ত আছে, বিশ্বের অন্য যেকোন দেশের মতো। এর কারণ নিশ্চয়ই আছে কেন পাকিস্তানের ইন্টারনেট ক্যাফেতে অদ্ভুত সব চরিত্রে সারাক্ষণ ভরা থাকে, আর তারা যে কেবল ইমেইল দেখছে তা না। সামাজিক মিডিয়া আর অন্যান্য ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করে এগুলোকে চলতে দেয়া নিয়ে যে ভণ্ডামি দেখিয়েছে সরকার তা অস্বীকার করছি না- কিন্তু ভণ্ডামি অনেক বিস্তৃত বিষয়ে ছড়িয়ে আছে আর সব সমাজে। ফক্স আর অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের এই সংবাদকে আলাদাভাবে তুলে ধরা, আমার মতে, আলোচনার বিষয় হয়েছে।

কুল মিউজোনে একটি লেখা ফক্স রিপোর্টের বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছে:

আজকে ফক্স নিউজ পাকিস্তানের উপরে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আর একে পর্ণিস্তান হিসাবে আখ্যা দিয়েছে কারণ এটি যৌন বিষয়ক ওয়েব সার্চে ১ নম্বর জাতি। যেসব কিওয়ার্ড ফক্স নিউজ দেখিয়েছে তা বাস্তব, তৈরি করা না। আমি অস্বীকার করছি না যে এই সব কিওয়ার্ডে পাকিস্তান ১ নম্বর এ আছে। আর পাকিস্তানে পর্ণ বিষয় যে জনপ্রিয় সেটাও আমি অস্বীকার করি না। তবে আমি অস্বীকার করি যে পাকিস্তান যৌন বিষয়ক ওয়েব সার্চে ১ নম্বর জাতি যেমন ফক্স নিউজ দাবি করেছে।

এই পোস্টে বিভিন্ন কিওয়ার্ডের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছে আর গুগুল র‍্যাংকিং এ তাদের চিত্র দিয়ে শেষে বলেছে:

আমি পাকিস্তানকে এখানে শীর্ষ ১০ অঞ্চলের মধ্যে দেখছি না। এটা লজ্জাজনক যে ফক্স নিউজ কিভাবে একটা দেশকে পর্ণিস্তান হিসাবে আখ্যা দিয়েছে কেবলমাত্র তাদের পত্রিকা বিক্রির জন্য। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে ফক্স নিউজ এর অবস্থান আমরা জানি। যে খেলা তারা খেলল সেটা পাকিস্তানকে ‘সঙ্গীত সার্চে নং ১ জাতি’ হিসাবে বলার মতো যেহেতু ‘সুফি সঙ্গীত’ এ এরা ১ নম্বরে আছে!

ওদিকে গুগুল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে ফক্স নিউজ রিপোর্ট এ ব্যবহৃত সার্চের হিসাব ঠিক না এই বলে যে উদাহরণের পরিমান খুব কম ফলাফল পরিসংখ্যানগতভাবে সঠিক হওয়ার জন্য।

আম্মার ইয়াসির এই রিপোর্টের সমালোচনা করেছেন এবং সাথে পাকিস্তানে ইন্টারনেট সেন্সরশিপ নিয়ে কিছু বাস্তব কথা বলেছেন:

সত্যি বলতে ফক্স নিউজ যে ধরনের সাংবাদিকতার মানের জন্য অখ্যাত, যার এতো বছর ধরে পাকিস্তান আর মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে বিশেষ প্রীতি আর ফক্সের এর এই দাবী থেকে গুগলের নিজেকে সরিয়ে নেয়া আমাদের বিশেষ ইন্টারনেট প্রাপ্তি টুকু হয়ত কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত বিশ্বের লোকেরা এই গল্প পড়ে বেশ হেসেছেন আমাদের যৌন আবেদনময়ী (বিকৃত মানসিকতা হচ্ছে আসল শব্দ) স্বভাবের জন্য। কিন্তু এটা কি এই বাস্তবতা সরিয়ে নেয়; যে আমাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ আসলেই এই সব সার্চ করে বা একই ধরনের পর্ণ বিষয় দেখে (ভয়ের কথা)? আমি মনে করি না, এটা আসলে আমাদের ভণ্ড প্রকৃতির আর একটি প্রকাশ। যেমন ফেসবুক, ইউটিউব এমনকি উইকিপিডিয়া নিষিদ্ধ করা যায় কিন্তু পর্ণ সাইটের বিরুদ্ধে কোন নির্দেশ আসে না, আমি ভাবি কেন?

রিপোর্টের দাবি সত্ত্বেও একটা জিনিষ পরিষ্কার, পাকিস্তান আদালত দ্বারা অধার্মিক বিষয়ের উপরে চলতে থাকা ইন্টারনেট সেন্সরশিপ মনে হচ্ছে শুধুমাত্র সামাজিক মিডিয়া টুলসকে লক্ষ্য করে করা অথচ ‘প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়’ থাকা পর্ণ সাইটগুলো ঠিকই পার পেয়ে যাচ্ছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .