বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ এশিয়া: অভিবাসী কর্মীরা বাড়ি ফিরছে

দক্ষিণ এশিয়া একটি জনবহুল অঞ্চল। অনেক দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী বা প্রবাসী কর্মীরা উচ্চতর শিক্ষা, ভালো বেতনের চাকুরী বা উন্নত জীবনযাপনের জন্যে পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গায় যায়। তবে তাদের সাথে দেশের আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে এবং তাদের পাঠানো টাকা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতি সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্যে আমার দেখতে পাচ্ছি যে এক উল্টো ধারা শুরু হয়েছে।

আই লাভ লাইফ সো আই এক্সপ্লোর ব্লগের লেখিকা প্রেরণা স্মরণ করছেন যে একসময়ে ভারতে মন্দিরে প্লেনের মূর্তি পুজো দেয়া হতো বিদেশ যাত্রার আশায় দেবতার আশীর্বাদের জন্যে:

১৯৭০ এবং ১৯৮০র দশকে ভারতীয়দের বিদেশী জিনিষের প্রতি অদ্ভূত আকর্ষণ ছিল। অনেকেরই স্বপ্ন ছিল বিলেত, কানাডা বা আমেরিকা পারি দেবার। বিদেশ যাত্রার যে কোন সুযোগের জন্যে তারা এতই উদগ্রীব ছিল যে অনেকে দেবতার শরণাপন্ন হত তাদের সহায়তার জন্যে।

তবে এই ব্লগার একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন:

সাম্প্রতিক কালে এই ধারাটি বদলে যাচ্ছে। পশ্চিমের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থমকে দাঁড়িয়েছে ফলে অনেক প্রবাসী তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক প্রবাসী ভারতীয় তাদের অভিবাসী স্ট্যাটাস ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরে এসেছে।

সানডে পোস্ট ব্লগের সুপ্রিয় চৌধুরী এই বিপরীতমুখী অভিবাসন সম্পর্কে বলছেন:

অর্থনৈতিক মন্দা, অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মের জটিলতা, এবং দেশে ভাল সুযোগ থাকার কারনে এই সবকিছু বিষয়ই কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে বিপরীতমুখী এই অভিবাসনের ধারা শুরুর কারন হিসেবে। যুক্তরাজ্য থেকেও বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু হয়েছে এবং দুবাইতে যেন বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। তাই, হঠাৎ করেই ভারতের শহরগুলোতে বিদেশ ফেরত অনেক ভারতীয়কে দেখা যাচ্ছে, হাতে কিছু পুঁজি নিয়ে তারা চেষ্টা করছে নতুন একটি জীবন গড়তে।

সাউথ এশিয়া ব্লগের রাজীব আহমেদ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আলোকে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের একটি বিস্তৃত পরিপ্রেক্ষিত দাঁড় করিয়েছেন:

দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটি। কোটি কোটি পরিবার প্রবাসীদের পাঠানো টাকার উপর নির্ভর করে থাকে তাদের জীবন চালানোর জন্যে। তাই, উন্নত দেশগুলো থেকে এই সব প্রবাসী কর্মীদের ফিরে আসার ফলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে ২০০৯ সালে। এইসব দেশগুলোর অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি অভিবাসী কর্মীরা বেশি পরিমানে ফিরে আসা শুরু করে তাহলে এটি বাংলাদেশের মত দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমিয়ে দেবে। বেকারত্ব বাড়বে, সাথে সাথে দারিদ্র্যও। এই ধারার খারাপ প্রভাব নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।

আমরা এই উল্টো ধারার ব্যাপারটি ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করছি। মিয়ান্ডারিং মেমোজ লিখছে:

এটি একপ্রকারের কঠিন চৈতন্যোদয় হল এখানে যখন মালয়েশিয়া সম্প্রতি ৫৫০০০ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীর ভিসা বাতিল করে। যে ভিসাগুলো বাতিল করা হয়েছে সেগুলো ইস্যু করা হয়েছিল কিন্তু কর্মীরা যাবার অপেক্ষায় ছিল। অন্য যেসব কর্মীদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ছিল তাদের। এখন মালয়েশিয়ার সরকার বলছে যে যেহেতু মন্দা চলছে তাই সরকার মালয়েশিয়ানদের জন্যে চাকুরি নিশ্চিত করতে চাইছে।

এই ধারা বাংলাদেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে কারণ:

শ্রমিক রপ্তানী বাংলাদেশের একটি বড় আয়ের উৎস – অনেকে এটিকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানী বলে। তারা যে পরিমাণ টাকা দেশে পাঠায় সেগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় বৃহৎ উৎস। এই টাকা – যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার – গ্রামের পরিবারগুলোর ভরণপোষণের এক গুরুত্বপূর্ণ নিমিত্ত এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে।

তবে এইসব সমস্যা সমাধান করতে পারবে দক্ষিণ এশিয়ার সরকারেরা যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়। রাজিব আহমেদ কিছু আশা দেখছেন:

প্রথম ধনাত্মক জিনিষ যেটি হতে পারে, সেটি হচ্ছে যে অনেক অভিবাসী কর্মীরাই দেশে ফিরে আসবে কিছু জমানো টাকা নিয়ে। আমি বলতে চাচ্ছি যে তারা তাদের সমস্ত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে এবং স্বল্প মেয়াদে এই সকল অর্থ এই সব দেশগুলোতে আরও অর্থ আয় করতে পারে। যদি সরকার এই বেশি পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক ব্যবহার করতে পারে (উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করে), তাহলে এটি মন্দার সাথে লড়াই করতে পারবে ভালভাবে।

এইসব অভিবাসী কর্মীদের অনেকেই গ্রাম থেকে আসে, কাজেই তারা যখন বাড়ী ফিরে যাবে, তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ নতুন ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নেবে এবং তারা এইসব গ্রামের উন্নয়নের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্য দিকে, অনেক শিক্ষিত লোকেরা ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা থেকে ফেরত আসছে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর জন্যে একটি সুসংবাদ বয়ে নিয়ে আসছে।

সুপ্রিয় চৌধুরী ও আশাবাদী এবং মন্তব্য করছেন:

ভারত, যার অসীম সুযোগ রয়েছে এইসব ফেরত আসা অভিবাসীদের কাজে লাগানোর, এই সুবিধাকে ব্যবহারের মাধ্যমেই অতি উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে। এইসব শিক্ষিত লোক উদ্যোক্তা হিসেবে অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারবে এবং একটি নতুন গতিশীলতা এনে দিতে পারবে। অবশ্য দেশকে এর জন্যে পর্যাপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .