বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হাইতি: শরণার্থী নারী আর মেয়ে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার

হাইতির ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পরে, নারী আর মেয়ে শিশুরা এখনো যৌন অত্যাচারের সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ কেবলমাত্র ধর্ষণের শিকার হচ্ছে না, তার পরে অনুপস্থিত বিচার ব্যবস্থা আর অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে।

হাইতিতে তাবুর শহর

তাবুর শহর by এডিটা মাতের্কা, ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় ব্যবহৃত

মিস ম্যাগাজিন ব্লগে, গত ফেব্রুয়ারীতে জিনা ইউলিস লিখেছেন যে হাইতির শরণার্থী ক্যাম্পে নারীদের জন্য ধর্ষণ দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এই রিপোর্টে তিনি যৌন নিপীড়নের ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান দিতে গিয়ে হাইতির বিচার আর গণতন্ত্র ইন্সটিটিউটের (আইজেডিএইচ) এর কথা বলেছেন আর মাদ্রের অভ্যন্তরীণ শরণার্থী মানুষের ক্যাম্পে (আইডিপি) ধর্ষণের উপরে রিপোর্ট এর কথা উল্লেখ করেছেন।

অনেক নারী আর মেয়ে শিশুরা তাদের সমর্থনের বলয় হারিয়েছে আর তার সাথে বাবা, ভাই আর স্বামী বা ছেলেবন্ধুদের যারা তাদের রক্ষা করতে পারতো। তাই ক্যাম্পের ভিড়ের মধ্যে থাকার সময়ে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে, অনেককে খোলা জায়গায় গোসল করতে হচ্ছে আর অচেনা লোকের পাশে শুতে হচ্ছে বা এমন স্থানে ঘুমাতে হচ্ছে যেখানে আক্রমণের সম্ভাবনা আছে। একবার আক্রমণ হলে, যা অনেক ক্ষেত্রে দলীয় ধর্ষণ হয়ে থাকে, তাদের আরো বিভীষিকার মধ্য দিয়ে যেতে হয়: বেশীর ভাগের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুবিধা থাকে না এবং বিচার ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত, যার ফলে পুলিশের দুর্নীতির সম্মুখীন তারা হয় আর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আবার শিকারের পরিণত হয় আক্রমণ হওয়ার ঘটনা আর যারা আক্রমণ করেছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা জানা সত্ত্বেও। উলিসে লিখেছেন:

বিচার পাওয়া নারীদের জন্য আরো অসম্ভব। যেসব নারী ধর্ষণের খবর জানিয়েছেন- আর এরই মধ্যে ঘৃণা আর যৌন হয়রানির মানসিক কষ্টের ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন- প্রায় ক্ষেত্রেই পুলিশ তাদের মজা করে বা অবহেলা করে। কিছু ক্ষেত্রে, এইসব নারীকে পুলিশের দুর্নীতির শিকারও হতে হয়। তাছাড়া হাইতির বিচার ব্যবস্থা এমন কেসের বিচার করেও নি। যারা বেঁচে আছেন তারা ভয়ে থাকেন কারণ তাদেরকে ক্যাম্পে এমন এলাকায় থাকতে হয় যেখানে তাদের আক্রমণ করা হয়েছিল আর ধর্ষণকারী ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশ কয়েকজন নারী জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পের পরে তাদেরকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য আর নতুন মিডিয়া প্রোগ্রামে সহযোগী আইজেডিএইচ এইসব মানুষের স্বীকারোক্তি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। এটি রেকর্ড করেন স্যান্ডি বেরকোভিটজ আর হ্যারিয়েট হিরশোর্ন এটার সম্পাদনা করেন।

নারীরা যদিও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য সংগ্রাম করেন, তাদের পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম যেহেতু অল্প দিনের এই ক্যাম্প দীর্ঘদিনের বাসস্থানে পরিণত হচ্ছে। গত জানুয়ারীতে, কেয়ার আমেরিকা সাক্ষাৎকার নিয়েছিল ড: ফ্রাঙ্ক জিনাসের, যিনি হাইতিতে কেয়ারের স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম সমন্বয় করেন আর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন এইসব ক্যাম্পে ধর্ষণের সম্ভাবনা বেশী। তিনি জানান কি কি কারনে শরণার্থী ক্যাম্প এই ধরনের আক্রমণের উর্বর ভূমি হিসাবে পরিণত হয়: বিদ্যুতের অভাব যার ফলে এইসব ক্যাম্প রাত্রে একেবারে অন্ধকার হয়ে যায়। এছাড়াও রয়েছে খারাপভাবে ভাগ করা ক্যাম্প এবং ল্যাট্রিন ও গোসলের ব্যবস্থা নারী ও পুরুষের জন্যে আলাদা না করা যার ফলে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকে না।

গত ফেব্রুয়ারীতে কেয়ারের জেন্ডার পরামর্শক জ্যানেট মায়ার্স তার নিজের মত দিয়েছিলেন যে ভূমিকম্পের পরে নারীদের নিরাপদে রাখার জন্য এই ক্যাম্পগুলো কিভাবে স্থাপন করা উচিত, অনেকটা একই ধরণের বিষয় দেখিয়ে। আমি ভাবছি এইসব বিষয়ের মধ্যে কতগুলো এখনো ঠিক হয়নি, যখন এই ক্যাম্পগুলো স্থায়ী বাসস্থানে পরিণত হচ্ছে, এবং এর ফলে তাদের প্রতি আরও নিপীড়নের পথ খুলে যাবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .