বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বন্যা পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে

পাকিস্তানের বন্যা, ২রা আগষ্ট,২০১০, ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী গ্লোবোভিশনএর। সিসি বাই-এনসি-লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে

নিশ্চিত রূপে বলা যায় এ বছর বর্ষা পাকিস্তানের জন্য আর্শীবাদ হয়ে আসেনি। যখন সব সময় গ্রীষ্মকালের বৃষ্টিকে যৌবন এবং আনন্দের উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি সারা দেশে এক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী বন্যা তৈরি করেছে। এটি এমন এক ঘটনা যা কোন ভাবে পাকিস্তানের কাম্য ছিল না।।

ডন পত্রিকার সূত্র মোতাবেক, গত মাসের শুরুতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। যে সমস্ত এলাকা এই প্রবল বৃষ্টিপাতের শিকার হয় তার মধ্যে বেলুচিস্তান প্রথম। এখানে মোট মৃত্যুর বেড়ে ১০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে, প্রবল বৃষ্টিপাতে বাড়িঘর ভেসে যাওয়ায় বিশাল সংখ্যক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এই বৃষ্টি বেলুচিস্তানের বেশিরভাগ অংশে এই বৃষ্টি আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে রয়েছে সিবি, ডেরা বুগটি, কোহলু এবং বারখান এলাকা”।

তবে শীঘ্রই খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকার সোয়াত এবং কাবুল নদী উপচে পরে সমস্যা তৈরি করা শুরু করে। এই বন্যা প্রদেশের রাজধানী, পেশোয়ার এবং সোয়াত উপত্যকার সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন করে। সোয়াত এমন এক এলাকা যা গত বছর তালেবানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ধ্বংস হয়ে যাবার পর সেখানকার জনগণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। সুন্দর উপত্যকা সোয়াতের এক প্রধান এলাকা নওসেরা থেকে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক লেখক বলছে যে আকস্মিক বন্যায় নওসেরা কালান এলাকার প্রায় ১০,০০০ বেশি ঘর ভেসে গেছে এবং ৫,০০০ লোক অন্য গ্রাম বা আশেপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।

নীচে ফ্লিকার ব্যবহারকারী ডিজিটালগ্লোব-ইমেজারির তোলা স্যাটেলাইট চিত্র, ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে তা ব্যবহার করা হয়েছে, বাই-এনসি-এনডি এর মাধ্যমে।

১৭ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে পীর সাদিক এলাকা

২ আগস্ট, ২০১০ তারিখে পীর সাদিক এলাকা

সাম্প্রতিক সংবাদ অনুসারে গত ৮০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ এই বন্যায় প্রায় ১৫ লক্ষ লোক আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১১০০ তে এসে দাঁড়িয়েছে এবং বিশাল সংখ্যক মানুষ সকল প্রকার ত্রাণ এবং উদ্ধার তৎপরতার বাইরে রয়েছে কারণ তারা পানি বন্দী অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হচ্ছে বন্যা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব। ভাইরাস জনিত বেশ কিছু রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। এই সব রোগের মধ্যে রয়েছে কলেরা এবং পেটের পীড়া। সোয়াতের কিছু অংশে এবং যে সমস্ত এলাকার জনগণ পানি বন্দী সেখানে হেলিকপ্টারের সাহায্যে চিকিৎসকদের দল পাঠানো হচ্ছে।

পাকিস্তানী ব্লগ জগৎ বন্যা সংক্রান্ত পোস্টে ভরে গেছে। ব্লগাররা কেবল বন্যাক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি কেবল সহানুভূতিশীল ও তাদের জন্য চিন্তিত নয়, তারা একই সাথে সরকারের কাছ থেকে আরো সরাসরি ও কার্যকর সাড়ার আশা করছে। তবে প্রচার মাধ্যম এবং ব্লগ এই বন্যার চেয়ে একই সাথে অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে সম্প্রতি ইসলামাবাদে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছে। এটি এমন এক ধারা যা নিয়ে আহসান বাট তার ব্লগে সমালোচনা করেছেন:

“গতকাল আমি বিমান দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া বনাম খাইবার পাখতুন বন্যার সংবাদের ব্যাপারটি বেশ লক্ষণীয়। যখন বিমানটি ধ্বংস হয়, তখন সেই সংবাদ সকল সংবাদ প্রচার করা টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্রে প্রচার হতে থাকে। এই সংবাদ প্রচার মাধ্যম দুটির সকল জায়গা দখল করে নেয়। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যদিও সে রকমটা না হয়, তারপরেও তা বিমান দুর্ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ। এই বন্যায় অনেক লোক মারা গেছে, এবং সুনির্দিষ্টভাবে অনেক বেশি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শস্যের এ আরো অনেক জিনিষের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে বন্যার ক্ষেত্রে আমাদের সংবাদ মাধ্যম এবং ব্লগস্ফিয়ার/টুইটারস্ফিয়ারে প্রতিক্রিয়া একই রকম সরব ছিল না”।

তিনি বেশ কিছু সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার যুক্তিকে আরো সুস্পষ্ট করেন। এই দুই দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের অবস্থান সমাজের ভিন্ন শ্রেণীতে। তারা প্রচার মাধ্যমে যেটুকু গুরুত্ব পেয়েছে শ্রেণীর বিষয়টি তার উপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেছে:

পোস্টের যে বক্তব্য তার পক্ষে আমি যুক্তি প্রদান করব, এখানে সমাজিক শ্রেণী সত্যি একটি বিষয়। যে সমস্ত ব্যক্তি এয়ার ব্লু ফ্লাইট দুর্ঘটনায় মারা গেছে, যদি তাদের সামাজিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বলা হয়, তাহলে এরা, খাইবার পাখতুন এলাকায় যে সমস্ত লোক তাদের পরিবার হারিয়েছে তাদের চেয়ে একেবারে ভিন্ন। এই কথাটি বলার জন্য আমি দুঃখিত. কিন্তু এটাই সত্যি। এবং যে কেউ যদি অন্যভাবে তা তাহলে বিষয়টি বিচিত্র হবে”।

তবে অন্যরা বাস্তবিক ত্রাণকার্যে অংশ নেবার বিষয় নিয়ে ভাবছে। এই বিষয় নিয়ে ফেসবুক, ব্লগ এবং টুইটার লেখায় ভাসছে। বন্যা আক্রান্তদের সাহায্য করার জন্য যাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য, ত্রাণ বিতরণকারী সাহায্য সংস্থার তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। সেক্যুলার পাকিস্তান ব্লগ এর “ফ্লাড রিলিফ” পাতা এবং বিনা সারায়োর এর “লিঙ্ক টু সেন্ড ডোনেশন, রিলিফ গুডস (সাহায্য ও ত্রাণ পাঠানোর লিন্কগুলোর তালিকা)” পাতা এর উদাহারণ। এলইউবিপি (লেট আস বিল্ড পাকিস্তান/চল আমরা পাকিস্তানকে গড়ি) আরেকটি উল্লেখযোগ্য পাকিস্তানী ব্লগ, যারা একধাপ এগিয়ে গিয়ে সরাসরি অর্থ সংগ্রহ করছে এবং বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বন্যা নিয়ে পাকিস্তানী ব্লগস্ফিয়ারের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে বলতে গেলে মৃদু। এর কারণ, যদি কয়েকজন ব্লগার এ ব্যাপারে অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছে, তারপরেও বিশাল সংখ্যক ব্লগার এই বিষয়ে দু-এক লাইনের বেশি লেখেনি। এর বাস্তবতা হচ্ছে প্রায় পাকিস্তানের পুরো ব্লগিং সম্প্রদায় এমন এক জায়গায় বাস করে, যারা সকলে বন্যা থেকে নিরাপদ এবং সেখান থেকে অনেক দুরে বাস করে। যখন এই বিষয়টি ব্লগারদের অসংবেদনশীলতার বিষয়টিকে প্রতিফলিত করে। এই বিষয়টি একই সাথে ব্লগীয় কর্মকাণ্ডের ধারণাকে নতুন করে ভাবার বিষয়টিকে তৈরি করে, যদি আমরা মিডিয়ার সাধারণ উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ড থেকে বিষয়টিকে রক্ষা করতে পারি, যেখানে কেবল শোকেসে সাজিয়ে সংবাদ বিক্রি করা হয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .