বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফিলিপাইনস: ম্যানিলা শহরে পানির সঙ্কট

ছবি ফ্লিকারের রিকিলি৯৯-এর পাতা থেকে নেওয়া

ম্যানিলা শহর, যা ফিলিপাইনসের জাতীয় রাজধানী শহর, বর্তমান পানির সমস্যায় ভুগছে, শহরটির লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা পানির কষ্টে রয়েছে, যেখানে সীমিত পরিমাণ বা রেশনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। গোসল করার ক্ষেত্রে অনন্যোপায় হয়ে ক্ষিপ্ত মালাবান সিটির বাসিন্দারা পানি সরবরাহের পাইপ খুলে ফেলে। ফিলিপিনো ব্লগাররা এই সমস্যা উপলব্ধি করার চেষ্টা করছে।
ব্লাকসামাস ব্লগ বর্ষাকালে পানির রেশন বা সরবরাহ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার তথ্যটি জানতে পেরে ব্যাপারটিকে উদ্বেগজনক মনে করছেন।

ঐতিহাসিকভাবে ফিলিপাইনসে আগস্ট হচ্ছে সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস। যদি না আবহাওয়ার ধরণ পাল্টে যায় তবে পরবর্তী আগস্ট মাসটি হবে সবচেয়ে শুকনা আগস্ট মাস। সেপ্টম্বর মাস হচ্ছে বর্ষাকালের সব শেষ মাস এবং পরই শুরু হয় শুকনো মৌসুম। এই পরিস্থিতিকে মোকাবেলার জন্য কেবল একটি কাজ করা যেতে পারে, তা হচ্ছে কম পানি ব্যবহার করা।

পানির পরিমান কমে আসার বিষয়টি বেড়ে যায় সম্প্রতি প্রচণ্ড আঘাত হানা টাইফুন বা ঘূর্ণিঝড় “বাসইয়াং” এর ঘটনার সাথে (টাইফুন বাসইয়াং আন্তর্জাতিকভাবে কোনসন নামে পরিচিত)। পানির সরবরাহ কমে আসার কারণে উইন্ডো টু মাই সোল-এর “পাগল হয়ে যাবার” দশা।

দাঁড়ান, আমাদের এখানে পানি রয়েছে, তবে এখানে পানির চাপ এত কম যে তা মাটির নীচ থেকে উপরে আসে না। এটি আমার ঘর পর্যন্ত পৌঁছায় না। আমার ওয়াশরুম (পায়খানা সুবিধা সহ হাতমুখ ধোয়ার বিশেষ কক্ষ) বা পরিচ্ছন্ন হওয়ার কামরায় কোন পানি নেই। এখানে যে সমস্ত কল লাগানো রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের [টাইফুন বাসইয়াং] পর থেকে একফোঁটা পানি বের হয় না। কাজে বলা যায় প্রায় ৬ দিন ধরে পানিবিহীন অবস্থায় রয়েছি। সারাদিন আমাকে ভূগর্ভস্থের কামরা থেকে পানি তুলে নিয়ে আসতে হয়েছে।

আই এম এ হাইব্রিড চা নামক ভদ্রমহিলা আমাদের জানাচ্ছে তার পানি না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা:

এটা সত্যি আমার জন্য এক বেদনাদায়ক বিষয়, আমাদের সকলের জন্য এবং বিশেষ করে আমি যতটা পারি আমার ধৈর্য্যের পরিমাণ বাড়িয়ে যাচ্ছি, কারণ আমার কাছে আর কোন বিকল্প নেই (হাসি!)। থালা, দৈনন্দিন সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন পাত্র, এবং গ্লাস সবগুলো আধোয়া অবস্থায় রান্নাঘরে সারারাত ধরে পড়ে রয়েছে। ভালোভাবে এবং পরিপূর্ণ গোসল সারা হয়নি (কারণ পানি এসেছিল {পানি এসেছিল???}), কোন রকমে গোসল সারি ভোর ৬ টায় এবং কর্মক্ষেত্রে যাবার জন্য বাসা ত্যাগ করি (ছেড়ে যাই??? যেন এক অতিথি!) প্রায় দুপুর ১ টায়); আমি স্বল্প, কিন্তু আরামদায়ক গোসল করতে চাই (যখন আমি সুযোগ পাই) কিন্তু যেহেতু এখন কোন পানির সরবরাহ নেই, সেক্ষেত্রে এই অপ্রীতিকর এবং বাজে অনুভূতি বহন করা ছাড়া আমি কি করতে পারি। এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আমি দৈনন্দিন করতে চাই, এমন বিষয়, যা আমার প্রতিদিনের অংশ, যা গত কয়েকদিন ধরে আমি করতে পারছি না ( ঠিক ১৫ জুলাই, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে) কারণ ঠিকমত পানি সরবরাহ হচ্ছে না।.

লেটস গো পিনয় আমাদের তার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছে, সে মনে করছে এটি পানি সমস্যার সাথে যুক্ত।

যদিও আমাদের পানির কল আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করছে, তবে গতকাল থেকে বাসায় যে পানি আসছে তা সামান্য বাদামী বর্ণের। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা বালতির নোংরা এবং এর ভেতর ও বাইরে সবকিছু পরিষ্কার করলাম এবং কয়েকবার এ রকম পরিষ্কার করার পর আমি উপলব্ধি করলাম আসলে পানিটা খারাপ। আজকে সকালেও একই অবস্থা, তবে পানি আগের মত ততটা বাদামী বর্ণের নয়। এই কারণে আমি গতকাল গোসল করতে পারিনি। তবে উত্তাপ এবং ঘামের ফলে শরীর চটচটে হয়ে যাওয়ার কারণে আমি এই পানি দিয়েই গোসল সারলাম।

পিনয় বাজ থ্রি (III) সেই সমস্ত কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছে যা এক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পানি স্বল্পতার সমাধান করতে পারে।

১. সকল ভবন এমন ভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে এই সমস্ত ভবনগুলো সিঙ্ক বা থালাবাসন ধোয়ার জন্য ব্যবহৃত পাত্রাধারের এবং পায়খানার জন্য ব্যবহৃত পানিকে পরিশুদ্ধ বা রিসাইকেল করতে পারে।

২. সকল ভবন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা শুরু করবে।

৩. সকল বাণিজ্যিক ভবন এবং ব্যাক্তিগত ভবনে অবশ্যই ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া পানিকে আবার ব্যবহার উপযোগী করার শোধনাগার সুবিধা থাকতে হবে। ছোটখাট প্রতিষ্ঠানে যৌথভাবে পানিকে ব্যবহার উপযোগী করার শোধনাগার তৈরি করবে এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব শোধনাগার থাকতে হবে।

৪ নতুন গলফ খেলার মাঠ এবং দ্বীপের মাঝখানে পানির মধ্যে বিনোদন আবাস নির্মাণ তৈরির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।

৫ সমুদ্রের লবণাক্ত পানিকে পরিশোধন করার জন্য শোধনাগার তৈরির কাজ শুরু করা…

৬. পাসিগ নদী এবং লাগুনা ডে বের মত জায়গা থেকে ব্যবহার উপযোগী পানি পুনরুদ্ধারের জন্য কাঠামো নির্মাণ শুরু করতে হবে।

র‌্যাডিকেল নাটস এর মতে পানি সঙ্কট এল নিনোর মত ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং এবং এটি এতটা খারাপ হত না, “যদি তা কাঠামোগত কারণের অভাবে সাথে যুক্ত না হয়ে, রাজধানীর পানিপ্রবাহ এবং পয়:নিষ্কাশন পদ্ধতি (এমডাব্লিউএসএস) বেসরকারি খাতে সাথে প্রায় ১৩ বছর আগে যুক্ত হতে পারত”।

এর মধ্য ছিল বেসরকারি সুবিধাভোগী পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদান করা অনেক প্রতিশ্রুতি এবং দুর্বল পানি সরবরাহ পদ্ধতির ক্ষেত্রে কাঠামো নির্মাণ রামোস প্রশাসনের তৈরি করা সংস্কার। এই সমস্ত সংস্কার, পরবর্তীতে আয় করা যায় না এমন পানি ( নন রেভিনিউ ওয়াটার বা এনআরডাব্লিউ, যে সমস্ত পানি ছিদ্র বা চুরি হবার কারণে দৃশ্যত সরবরাহ স্থানে পৌঁছাতে পারে না।) নষ্ট হবার পরিমাণ কমিয়ে আনতে এবং বাড়তে থাকা গৃহস্থালিতে তা সার্বজনীন এবং দিনে রাতে ২৪ ঘন্টা পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারত। তবে এমডাব্লিউএসএস এর সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত এক চুক্তির মধ্যে দিয়ে তারা ২০০১ সালের মধ্যে সার্বজনীন পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ।

তবে এখন পর্যন্ত, মেইনিলাড বা ম্যানিলার মূল সেবা প্রদানকারী এলাকার ৭৯০,০০০ গৃহস্থালির শতকরা ৬০ ভাগের কম বাড়ি ২৪ ঘন্টা পানি পায়, যেখানে ৭৪ শতাংশ বাড়ি কেবল প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৭ পাউন্ড (পিএসআই) পানি পায় অথবা তাদের বাড়িতে পানির শক্তিশালী চাপ থাকে (এখানে পাঠ করুন)। মেইনিলাড বা ম্যানিলার মূল এলাকায় পানির সরবরাহের প্রায় অর্ধেক (৫৩ শতাংশ) নষ্ট হয়ে যায়, ছিদ্র দিয়ে পানি পড়া বা চুরি হয়ে যাবার কারণে (এখানে পাঠ করুন)….

ছিদ্র বা চুরির কারণে নন রেভিনিউ ওয়াটার বা পানি সরবরাহ থেকে আয় না হওয়ার বিষয়ে এমন কোন তথ্য নেই, যা দিয়ে এর পরিমাণ স্পষ্ট করা যেতে পারে। কিন্তু অবৈধ সংযোগ বাড়তে থাকার বিষয়টির ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ একটি মাত্র ঘটনা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, তা হচ্ছে অর্থ পুরোপুরি আদায়ে ভূগর্ভস্থ পানি সরবরাহ বেসরকারীকরণের ফলে পানির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যখন এমডাব্লিউএসএস নামক প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারি করা হয়েছে, মেইনিল্যাড এর পানির মূল্য ৪৪৯ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে এবং পুরো ম্যানিলা এলাকায় পানির মূল্য ৮৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এখন পুরো বিষয়টির সাথে কাজের দুর্লভতা, অপরিবর্তিত বেতন ও আয়, এবং জীবন যাত্রার ব্যয় সবদিক থেকে দ্রুত বেড়ে যাওয়া যুক্ত করুন, এবার তাহলে আপনি সার্বিক চিত্রটি দেখতে পাবেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .