বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ কোরিয়া: পাতাল রেলের আসন নিয়ে প্রজন্মের মধ্যে লড়াই

দক্ষিণ কোরিয়ার পাতাল রেলে দুটি প্রজন্মের মধ্যে প্রতিদিন বিশেষ এক বসার স্থান নিয়ে লড়াই চলে। মাঝে মাঝে এই আসনে বসা নিয়ে শারিরীক বা মৌখিক হয়রানির ঘটনা অনলাইনে আসে এবং নতুন পোস্টগুলোতে বয়স্ক লোকদের বিরুদ্ধ অভিযোগ করা হয়। তাদের খারাপ আচরণের অভিযোগ নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মত পোস্ট ইন্টারনেটে জন্ম নিচ্ছে।

যখনই কোন বিদেশী প্রথম কোরিয়া আসে, তখনই সে এক অদ্ভূত দৃশ্য দেখত পায়, পাতাল রেলের প্রতি কামরার চারটি কোনায় তিনটি খালি সীট রয়েছে, যেখানে কেউ বসার সাহস করে না। ভ্রমণকারীরা অনেক সময় এক বিচিত্র দৃশ্যের সাক্ষী হয় যে, সেখানে বসে থাকা কিশোর বা তরুণরা, বয়স্ক ব্যক্তিদের আগমনে দ্রুত সেই আসন ত্যাগ করে।

এই সমস্ত আসনকে বলা হয় নোইয়াক আসন, শারিরীক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা যে বসার জায়গা বিভিন্ন যানে সংরক্ষিত থাকে এটি তার পাতাল রেল সংস্করণ। এই সমস্ত আসন কেবল বয়স্ক ও দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত। যদিও বলা হয়েছে নোইয়াক আসান কেবল বয়স্ক, শারিরীক প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী মহিলা এবং শিশু সহ ভ্রমণ করা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, তবে সাধারণত কেবল বয়স্করা এই সমস্ত আসন লাভ করতে পারে।

স্থানীয় প্রচার মাধ্যম ও অনলাইন ব্লগে অভিযোগ করে সাংবাদ প্রকাশ করা হয় যে, নোইয়াক আসন পাবার জন্য বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রায় সময় আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে। বয়স্ক নাগরিকরা ক্লান্ত ছাত্র, ২০ থেকে ৩০ বছরের নাগরিক, এবং গর্ভবতী তরুণীকে আসন থেকে উঠিয়ে দেয়। বলা যায় কোন কোন বয়স্ক লোক আক্ষরিক অর্থে তরুণদের এই সমস্ত আসন থেকে লাঠি দিয়ে গুতা মেরে এবং ধাক্কা দিয়ে উঠিয়ে দেয়। তরুণ প্রজন্মের দিকে তারা অপমানজনক মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়, এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তরুণদের আসন ত্যাগ করতে বাধ্য করা পাতাল রেলে অতি সাধারণ এক দৃশ্য। অনেকে প্রবীন, বয়স্কদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা করার শিক্ষা না দেবার জন্য তরুণদের মায়েদের অভিশাপ দিতে থাকে। এই লড়াইয়ে যদি তরুণরা ঘুরে দাঁড়াতে চায়, তখন প্রায়শই তা শোরগোলে, শারিরীক হাতাহাতি এমনকি ভয়াবহ আঘাতের ও আইন আদালতের ঘটনায় রূপান্তরিত হয়, যা নিয়ে স্থানীয় প্রচার মাধ্যম সংবাদ তৈরি করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র হানকক ইলবো সিউল পাতাল রেল কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ উদ্ধৃত করেছে যা জানাচ্ছে যে, বয়স্ক নাগরিক যারা নোইয়াক আসনের উপর তাদের অধিকার দাবী করে তাদের সাথে অবাধ্য তরুণ প্রজন্মের সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে, যারা আর এখন আর তত বেশি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয়।

서울도시철도공사(5~8호선)에 따르면 지난해 노약자 석을 놓고 벌어진 자리다툼 관련 민원은 총 121건에 달했다. 올 들어 지난 4월까지 접수된 민원도 총 84 건으로 증가 추세를 보이고 있다.

সিউল মেট্রোপলিটন র‌্যাপিড ট্রানজিট ট্রান্সপোর্টেশন কর্পোরেশন (যারা ৫ থেকে ৮ নম্বার পাতাল রেলের দায়িত্বে নিয়োজিত) সংবাদ প্রদান করেছে যে গত বছর আসন নিয়ে ১২১ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইতোমধ্যে ৮৪টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করছে যে অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ৬৫ বছর বয়স্ক ব্যক্তি বা যাদের বয়স তারচেয়ে বেশি তারা বিনে পয়সায় পাতাল রেলে ভ্রমণ করতে পারে এবং এই বয়স্ক লোকগুলো পাতাল রেলের শেষ গন্তব্য পর্যন্ত বসে যাবার জন্য এই পাস বা রেল ভ্রমণের অনুমতিপত্র ব্যবহার করে। কারসনিক নামক এক ব্লগার বলছে, পাতাল রেলের কামরায় আরো বেশি নোইয়াক আসন বরাদ্দ করায় বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে যে, দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত বয়স্ক নাগরিকদের সমাজে পরিণত হচ্ছে। তবে বয়স্ক নাগরিকরা ক্রমাগত সমাজে বিনে পয়সার যাত্রীতে পরিণত হচ্ছে, যা দেশের এক বিশাল অর্থনৈতিক ঘাটতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

노약자석이 부족하다고 말하는 사람들이 점점 늘어나고 또 우리 나라가 고령화 사회로 접어드는 관계로, 이제는 수도권 전철 각 운영 주체들간의 노약자석 늘리기가 대세인 것 같습니다. 게다가 또 다른 문제는, 어르신들이 운임을 단 한 푼도 내지 않고 있다는 것입니다. 아시다시피 65세 이상 노인들의 지하철 운임은 무료입니다. 하지만 이 분들은 이 운임 무료를 이용해서 소요산, 천안, 인천 등 종점이란 종점은 다 돌아다녀서 운영주체들의 적자에 한 몫 제대로 하고 계십니다.

যেমনটা অনেকেই যুক্তি দিয়ে তুলে ধরছে, দক্ষিণ কোরিয়া যে ভাবে ক্রমেই বয়স্ক নাগরিকদের রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, সেই অনুসারে পাতাল রেলে যথেষ্ট পরিমাণ নোইয়াক আসন নেই। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে পাতাল রেল কর্তৃপক্ষ আরো নোইয়াক আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বয়স্ক লোকদের পাতাল রেল ভ্রমণের জন্য কোন টাকা দিতে হয়না, একটা টাকাও নয়। এই সমস্ত লোকেরা বিনে পয়সার পাওয়া অনুমতি পত্রের অপব্যবহার করছে এবং বিনে এই টিকেট গাড়ী শেষ যে স্টেশন পর্যন্ত যায়, সেই সব শেষ স্টেশন পর্যন্ত যাচ্ছে, যেমন সয়ো এমটি.স্টেশন, চেওনান স্টেশন এবং ইনচন স্টেশন। এই কাজের মাধ্যমে তারা প্রতি বছর রেল কর্তৃপক্ষের বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যে যুদ্ধ কোরিয়া উপদ্বীপকে ধ্বংস করে ফেলে, যার কারণে তারা স্বৈরশাসনের অধীনে যন্ত্রণা ভোগ করে এবং এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়া কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্প ও জ্ঞান ভিত্তিক সমাজে পরিণত হয় এবং একশ বছরের কম সময়ের মধ্যে এই রূপান্তর ঘটে।

ডাউম-এর এক ব্লগার “ইয়োন টে” যুক্তি প্রদান করছেন যে, বর্তমানের প্রবীণরা কোরিয়ান সমাজের সবচেয়ে কঠিন সময়ের শিকার হয়েছিল। সেই সময়ে আধুনিক এবং যথাযথ শিক্ষা কেবল সুবিধাভোগী মাত্র কয়েকজনকে দেওয়া হয় এবং এখন তারা অনুভব করছে যে সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস করছে।

노인들은 대부분 어려운 시기에 교육을 제대로 받지 못했습니다. 그렇다보니 나이가 들면 보상심리와 함께 세대적 상대적 박탈감이 많이 작용 할 수 있으며…

যেহেতু এই সমস্ত বয়স্ক নাগরিকরা এক (ঐতিহাসিক) কঠিন সময়ে জন্মগ্রহণ করেছে এবং বেড়ে উঠেছে, যার ফলে তারা যথাযথ শিক্ষা পায়নি। এর ফলে যখন তারা বুড়ো হচ্ছে, তখন তারা ভাবছে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত ও তাদের ভেতরে তুলনামুলক বঞ্চনার অনুভুতি সৃষ্টি হয়েছে ….

উত্তর কোরিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী মূলক সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া জাতিকে সঠিকভাবে পুনরায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছিল জরুরী এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় সকল স্তরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন লাভ করে, কিন্তু তা অর্জন করে সংখ্যালঘুদের কল্যাণকে বিনিময়ে। নাভার এর এক ব্লগার হায়ান ১১ মন্তব্য করেন যে কোরিয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করার কারণে সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রচণ্ডভাবে উপেক্ষা করে এবং এর ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা সমাজে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে শুরু করেছে।

한편 노인들의 권리가 이 정도까지 실추되게 된 배경은 우리 모두가 알고 있다시피 이분들이 시대의 변화에 적응하지 못한데다, 마땅히 노인들의 권익을 보호해 주었어야 하는 우리 사회 역시도 권익 보호에는 안중에도 없이 앞만 보며 달려왔기 때문입니다. 자기 관리에 실패한 노인을 더 이상 공경만을 할 수는없는 시대가 오면서 이들은 지하철의 ‘자리 하나'를 확보하는 것으로 잃어버린 자존심의 일각이나마 회복하려하는 눈치이건만, 이분들이 연세에 걸맞는 지혜와 품위를 가지지 못한다면 단지 나이가 많다는 이유만으로 공경받을 수 있는 평화로운 세상은 다시는 찾아오지 않을 겁니다.

বয়স্ক লোকদের এই মর্যাদা (অধিকার) লাভের অধিকার এই বাজে পরিস্থিতি টেনে এনেছে, এটি কেবল এই কারণে নয় ,যে তারা দ্রুত পরিবর্তনশীল এক সমাজে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে, তার বদলে কোরিয়ান সমাজ কেবল বিশেষ ভাবে উন্নতি করার দিকে মনোযোগ প্রদান করেছে এবং সম্পূর্ণভাবে বয়স্ক লোকেদের অধিকার উপেক্ষা করেছে। বিশেষ করে বয়স্ক লোকেরা যখন নিজেদের মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেক্ষেত্রে সেই সমস্ত লোকেদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা আসা করা অসম্ভব, কারণ তারা বৃদ্ধ। পাতাল রেলের আসন দখলের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকরা তাদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে যদি তারা তাদের বয়সের কারণে তাদের কাছ থেকে যে প্রজ্ঞা এবং শুভেচ্ছা আশা করা হয়, আসলে এ ক্ষেত্রে এমন কোন স্বর্গ নেই যেখানে, এর জন্য তারা সম্মান পেতে পারে।

আরো বেশি নোইয়াক আসন বরাদ্দ করার বিষয়টি তরুণ প্রজন্মের ভয়াবহ সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং অনেক লোক পরামর্শ প্রদান করেছে যে বয়স্ক লোকদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ করার। মনে হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের চলাচল স্থান সিউলের পাতাল রেলে উভয়ের সংস্পর্শে তৈরি হওয়া সংঘাত এড়ানো যাচ্ছে না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .