বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রাশিয়া: অর্থের বিনিময়ে ব্লগ লেখকদের নেটওয়ার্ক উন্মোচিত

সম্প্রতি রাশিয়ান ব্লগার আর রাজনৈতিক কর্মী রোমান দোব্রখতোভ (যার সাক্ষাৎকার গত বছর গ্লোবাল ভয়েসেস প্রকাশ করেছিল) একটা তদন্ত চালিয়েছেন যে রাশিয়ার ব্লগ জগৎে কিভাবে অর্থ দিয়ে রাখা ব্লগারদের একটি নেটওয়ার্ক কাজ করে। তিনি লিখেছেন যে এমন চাকুরি ভুক্ত ব্লগার নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা তার সাথে তিনবার দেখা করেছেন, আর তাকে প্রতি লেখার জন্য ২৩ থেকে ৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দিতে চেয়েছে। অর্থের বিনিময়ে যারা লেখেন এমন প্রত্যেক ব্লগারের ক্ষেত্রে আশা করা হয় যে লেখার সময় তারা বিশেষ একটা দৃষ্টিভঙ্গী অনুসরণ করবেন। শেষ যে প্রস্তাব দোব্রখতভ পেয়েছেন তা ছিল অনেকটা প্রথার বাইরে: রাশিয়ার পুলিশ নিয়ে ভালো কথা লেখা:

Менеджер компании Garin-studio предложил мне разместить целую серию постов с «позитивом» про милицию. За первый пост – 2000 р., за остальные – по тыще. Я выяснил под разными предлогами более подробную информацию. Заказчиком выступает не московское ГУВД, а федеральное МВД, причем, по словам моего собеседника, заказ шел из Управления собственной безопасности (так вот чем оно занимается!). Всего в проекте участвует более 50 блогеров, причем с некоторыми, самими популярными (например, с Радуловой) заказчик общается напрямую. Garin-studio, как я понял, далеко не единственный подрядчик МВД.

গারিন –স্টুডিও কোম্পানির একজন ম্যানেজার আমাকে একটা পোস্ট লেখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেখানে পুলিশ সম্পর্কে ভালো কিছু মন্তব্য করা হবে। প্রথম পোস্টের জন্য -২০০০ রুবল (৬৩ মার্কিন ডলার) অন্য গুলোর জন্য – প্রত্যেকটি ১০০০ রুবল (৩১ মার্কিন ডলার)। আমি বিস্তারিত তথ্য বের করতে সমর্থ হয়েছি। বের হয়েছে যে কোম্পানিটির গ্রাহক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মস্কো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট না। আরো মজার যে ব্যাপার তা হল, আদেশ এসেছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ডিপার্টমেন্ট থেকে [যারা পুলিশকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে] (আহা, এরা তাহলে এই কাজ করে!)। এই প্রকল্পে ৫০ জনের মত ব্লগার জড়িত আছেন, যদিও তাদের কারো কারো জন্য, বিশেষ করে জনপ্রিয়দের সাথে (উদাহরণস্বরূপ রাদুলোভা) গ্রাহক সরাসরি যোগাযোগ করে। গারিন-স্টুডিও, আমি যতদূর বুঝেছি, একমাত্র কন্ট্রাক্টর না যাকে [স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়] ব্যবহার করে।

অন্যান্য ব্লগাররা কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত এই ধরনের বেশ কটি পোস্ট দেখেছেন যাতে পুলিশ সম্পর্কে ভালো মন্তব্য আছে – বিশেষ করে নাতালিয়া রাদুলোভার ব্লগ আর একটা জনপ্রিয় ব্লগ ম্যাক্সিম অ্যালেক্সান্দ্রভের ব্লগে।

দোব্রখতাভ অন্তত ৩৮ জন ব্লগার পেয়েছেন যাদের গারিন-স্টুডিওর সাথে কথিত সম্পর্ক আছে আর তারা ‘পুলিশ প্রচারণার’ সাথে জড়িত। এদের মধ্যে উচ্চস্তরের কিছু ব্লগারও আছে। তিনি বিশ্লেষণ করেছেন যে কতজন জনপ্রিয় ব্লগার একই সময়ে একই জিনিষ নিয়ে লিখেছেন: এক সপ্তাহে প্রায় ৭৫ জন ব্লগার মোবাইলের কাজ নিয়ে একই ধরনের পোস্ট দিয়েছেন (যার মধ্যে প্রথমসারির ২৫ জন ব্লগার যেমন ইবিগদান, কাতোগা, আল্লান৯৯৯, বাইদিরাই আর সিরিদেনকভ আছেন), ১৭ জনের মতো ব্লগার ওজন কমার ঔষধ নিয়ে লিখেছেন।

সাধারণভাবে বললে, অর্থ দিয়ে রাখা ব্লগার সারা বিশ্বে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৯ সালে প্রায় শতকরা ৮.৫ জন ব্লগার তাদের লেখার জন্যে টাকা পেয়েছেন। যখন ব্লগিং আর সাংবাদিকতার মধ্যকার সীমা আবছা হয়ে যায়, তখন আগেরটা শখ না থেকে কাজে পরিণত হয়। ডেভিড আরমানো মূলধারার মিডিয়া আর সামাজিক মিডিয়াতে অর্থের বিনিময়ে লেখার ধরন সম্পর্কে জানিয়েছেন:

মিডিয়া কেনার এই ব্যবসা বিস্তারিত ডিজিটাল জগৎে অনেক দিন ধরে চলছে বিপণন হিসাবে আর অন্যভাবে। যদিও এটাকে আলাদাভাবে মাপা যায়, মূল ব্যাপারটি একই। আপনি ঠিক করবেন যে আপনার টাকার সীমিত মূল্যের মাধ্যমে কোথায় সব থেকে বেশী প্রচার করতে পারবেন আর সেই অনুযায়ী ডিজিটাল পরিবেশে আপনার বক্তব্যের স্থাপনা ক্রয় করবেন যা ঠিক মনে হবে। অনেক ক্ষেত্রে, নানা এজেন্সিকে ব্যবহার করা হয় এসব চুক্তি সম্পাদনের জন্য। এই মডেলে হালের চল হল বিশেষায়িত ফার্মের সাথে পার্টনার হওয়া যারা নতুন মিডিয়া যেমন কমিউনিটি, নেটওয়ার্ক, ফোরাম আর ব্লগ নিয়ে কাজ করে। এইসব ফার্ম টাকার বিনিময়ে আপনার প্রচারের ব্যবস্থা নেবে যাতে আপনার লেখা সামাজিক মিডিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়ায়। একজন বিজ্ঞাপনদাতা হিসাবে যদিও যোগাযোগের মাধ্যমের উপরে আপনার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকতে পারে (উদাহরণস্বরূপ, এই মডেলের ব্লগাররা এখন বলতে পারেন তারা যা চান) কিন্তু ‘প্রচারের স্থান’ এর মূল্য দেয়া থাকে বা কেনা থাকে।

রাশিয়াতেও, অর্থের বিনিময়ে ব্লগ লেখকদের অনেক বড় নেটওয়ার্ক আছে যাদেরকে সম্প্রতি সময় ছাড়া উদঘাটন করা হয়নি। এদেশে ব্লগ মার্কেট আছে (যেমন ব্লগুন.রু – blogun.ru), যেখানে মিডিয়া পরিকল্পনাকারীরা একটা পোস্ট বা লিঙ্ক অর্ডার করতে পারেন কোন নির্দিষ্ট বিষয় বা বস্তু নিয়ে। সাধারণত কাজ এইভাবে হয়: মাঝেমাঝে ব্লগাররা নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু তৈরি করেন আর তার জন্য অর্থ পান (যেমন কোন একটা নির্দিষ্ট বস্তু নিয়ে টিউটোরিয়াল), আর মাঝে মাঝে তারা অর্থ পান নির্দিষ্ট জিনিষের প্রচারের জন্য (যেমন লুকানো কোন বিজ্ঞাপনের জন্য)। ‘অর্থের বিনিময়ে মিডিয়ার’ হাল্কা একটা সংস্করণ হল ‘ক্ষতিপূরণ মিডিয়া’: একজন ব্লগার কোন গ্যাজেট নিয়ে লেখেন যেটা তিনি উপহার হিসাবে পেয়েছেন বা একটা অনুষ্ঠান নিয়ে যেখানে তাকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। অনেকে কয়েকজন জনপ্রিয় ব্লগারকে সংবাদপত্রের লেখা বা টিভির বিজ্ঞাপনের থেকে বেশী বিশ্বাস করবেন- যেভাবে নিজের চেনা কাউকে বিশ্বাস করবেন যেমন একজন বন্ধুকে। এই কারনে যারা কোন বস্তু বা ঘটনার প্রচার চান তাদের জন্য ব্লগ একটা আকর্ষণীয় মাধ্যম।

হাতে টাকা, ডন হ্যাংকিন্স এর ছবির কোলাজ

হাতে টাকা, ডন হ্যাংকিন্স এর ছবির কোলাজ

অর্থের বিনিময়ে ব্লগের ধারণা হল যে এটি যোগাযোগের ব্যক্তিগত চ্যানেল ব্যবহার করে আর কিছু ধারণা জিনিষকে তুলে ধরতে বেশী কার্যকরী। অবশ্যই সবসময়ে এর নৈতিক একটা বিপদ থাকে: একটা ব্লগের সাধারণ কার্যকারিতা হয় যদি ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া আর ‘আসল যোগাযোগের’ তবে যদি সেটি যদি লুকানো বিজ্ঞাপন দেয়া তবে সেটি ব্লগার আর তার পাঠকদের মধ্যে না বলা চুক্তিটি তখন ‘ভঙ্গ’ করে, যা পারষ্পরিক সম্মান আর আন্তরিকতার উপরে নির্ভরশীল।

রাশিয়ার ব্লগ জগতের অদ্ভুত কিছু ব্যাপার আছে। প্রথমত, যেহেতু জনপ্রিয় বেশীরভাগ রাশিয়ান ব্লগ লাইভজার্নাল প্লাটফর্মে হোস্ট করা, লুকানো বিজ্ঞাপন আসলে সেখানে বেআইনি। লাইফ জার্নাল (এলজে) এর ব্যবহারের নীতিমালায় পরিষ্কারভাবে অচেনা আর অনুমোদনবিহীন বিজ্ঞাপন দিতে মানা করা আছে (ব্যবহারকারীর আচরণের ধারা ৭ বলে: “আপনি রাজি হচ্ছেন এই সেবা নিম্নলিখিত কাজে না ব্যবহার করার জন্যে:…কোন অনিয়ন্ত্রিত বা অননুমোদিত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে, আপলোড বা অন্যভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে, প্রচারণাপত্র ছড়াতে, ‘জাঙ্ক মেইল’,’স্পাম’, ‘চেইন চিঠি’, ‘পিরামিড স্কিম’ বা অন্য কোন ধরনের প্রচারণা চালাতে‘)। এই নিয়ম অনেকটাই উপেক্ষা করা হয়। মাত্র একজন জনপ্রিয় ব্লগার, এলজে ব্যবহারকারী তেমা, চেষ্টা করেছিলেন অনুমোদিত লাইভজার্নাল বিজ্ঞাপন তুলে ধরতে, কিন্তু তার প্রচেষ্টা জনপ্রিয় ব্লগারদের সমর্থন পায়নি।

আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো- আর উপরে বর্ণিত দোব্রখতোভের উদাহরণ তা তুলে ধরে- অর্থের বিনিময়ে ব্লগারদের নেটওয়ার্ক মাঝেমাঝে কিছু রাজনৈতিক ধারণা তুলে ধরে বা সরকারী রাজনৈতিক এজেন্ডা তুলে ধরে। ব্লগারের তদন্ত রুনেটের এই ‘ধূসর এলাকায়’ আরো বেশী স্বচ্ছতা আনে। যেসব অর্থের বিনিময়ে ব্লগারদের উন্মোচন করা হয়েছে তারা কম ক্ষমতাবান, যেহেতু পাঠক বুঝতে পারে যে তারা কিছু বিষয় তুলে ধরে যেহেতু এটার জন্য তারা অর্থ পায়। আর একটা জিনিষ হল দোব্রখতোভ রাশিয়াবাসীর মতামতে প্রভাব ফেলার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনলাইন মিডিয়া ব্যবহারের একটি অভ্যাস তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন: একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিতর্কিত মার্কেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা কি ঠিক কাজ?

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .