বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ আফ্রিকা: ভুভুজেলা নিয়ে বিশ্বকাপ বিতর্ক

সম্ভবত ২০১০ সালের বিশ্ব কাপের এই পর্যন্ত সব থেকে আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে স্টেডিয়ামে ৩২টি প্রতিযোগী দেশের ভক্তদের পড়া রঙ্গীন পোশাক। কোন সন্দেহ ছাড়া, খেলার মূল উল্লেখযোগ্য শব্দ হচ্ছে ভুভুজেলার লাগাতার আওয়াজ, যা খেলা দেখতে আসা দর্শক বা যারা টেলিভিশন দেখছেন তারা ক্রমাগত শুনতে পাচ্ছেন। এই বিশেষ শব্দ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে যে ভুভুজেলা বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাতে কিছু যোগ করছে নাকি কেড়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল প্রেমিকদের জন্য খেলা দেখার সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে ভুভুজেলা বাজানো, আর তারা ভাবেন যে এত চিন্তার কি আছে। তবে, আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য এই প্লাস্টিকের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বিশেষ একটি কিছু।

ফুটবলের শহরে ভুভুজেলার ছবি। তুলেছেন আলভেজ এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত

এই বিতর্ক ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে অনুষ্ঠিত কনফেডারেশন কাপের সময় থেকে শুরু হয়, যেটা বিশ্বের অনেক ফুটবল প্রেমিকের কাছে এই শব্দের সাথে প্রথম পরিচয়। কেউ কেউ স্টেডিয়াম থেকে ভুভুজেলাকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান যাদের মতে এর ফলে খেলার মজা নষ্ট হয়। ফিফার প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার, অবশ্য ২০১০ সালের বিশ্ব কাপে ভুভুজেলার পূর্ণ ব্যবহারের সমর্থন দেন। তিনি বলেছেন, ”আফ্রিকার বিশ্ব কাপকে আমাদের ইউরোপের মতো করা উচিত না।

এখন খেলা শুরু হবার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই, যারা এই ব্যাপারে অভিযোগ করেন তারা ইন্টারনেটে এ নিয়ে ব্যপক আলোচনা করছেন। এমন কি যারা এটি সমর্থন করেন তারাও যোগ দিয়েছেন আলোচনায় আর ভুভুজেলার বিপক্ষের লোকদেরকে যারা সমালোচনা করছেন তারাও বসে থাকেন নি। যদিও এমন শোনা যাচ্ছে যে যারা টেলিভিশন দেখছেন তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিফা ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করতে পারে, অনেকে মনে করছেন এটা চলতেই থাকবে।

সিরিয়ার টুইটার ব্যবহারকারী আনাস কিতিয়েশ একঝাঁক পোকার সাথে এই শব্দের তুলনা করেছেন আর লিখেছেন, ”আমাদের দরকার স্টেডিয়ামে কীটনাশক দেয়া, মৌমাছির ব্যাপারটা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।“ বেশ কয়েকটা টুইটার অ্যাকাউন্ট বের হচ্ছে ভুভুজেলা সম্পর্কে আরো বেশি অভিযোগকে স্বাগত জানানোর জন্যে – যেমন @স্টপভুভুজেলা, @ভুভুনিলা আর @ভুভুনি

অন্যরা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলের ঐতিহ্যকে দ্রুত সমর্থন করেছেন। মিশেল সিবান্দা (@পিঙ্কমিঙ্কস৩৬) লিখেছেন:

ভুভুজেলা আমাদের দেশের ঐতিহ্যের অংশ…তাই না, আমরা এটা বাজানো বন্ধ করবো না আর গরু বাড়ি না ফেরা (সূর্যাস্ত) পর্যন্ত আপনারা অভিযোগ করতে পারেন!!!”

কারো কারো জন্য ভুভুজেলার গুনগুন আওয়াজ মজার মনে হয়েছে, যারা তাদের অভিযোগকে হালকা ভাবে দিয়েছেন। ড্যানিয়েল রিডার্স (@ওয়ানকাইন্ড) জানিয়েছেন:

পশ্চিমা বিশ্ব আফ্রিকাকে আবিষ্কার করেছে, এটাকে জোরালো, নিয়ম ছাড়া আর অতিরঞ্জিত – এই হিসেবে – আর তাই টুইটারের আশ্রয় নিয়েছে অভিযোগ করার জন্য #ভুভুজেলা

পরিশেষে, কারাবো হ্যারি (@কায়রাবিএইচ) সব আলোচনা বিবেচনা করে একটি পরামর্শ দিয়েছেন:

#ভুভুজেলার শব্দ যদি আপনাকে বিরক্ত করে তাহলে আপনি #কানের প্লাগ ব্যবহার করবেন আর এর থেকেও বড় জিনিষ যেমন #অশিক্ষা আর #দারিদ্রতা নিয়ে অভিযোগ করুন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .