বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হং কং: গণতন্ত্রের দেবীর মূর্তিকে ঢুকতে দেয়া হয়নি

আজ ৪ঠা জুন বেইজিং এর তিয়েনানমেন স্কোয়ারের হত্যাযজ্ঞের বার্ষিকী আর হংকংবাসী তাদের সারা রাত মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখার বাৎসরিক অনুষ্ঠান পালন করছে। তবে প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত ঝামেলামুক্ত হতে পারেনি। আর এই বছর সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হল গণতন্ত্রের দেবীর মূর্তি।

প্রথমত:, হংকং পুলিশ গণতন্ত্রের দেবির দুটো মূর্তি আটক করে তিয়েনানমেনের ঘটনা স্মরণে ৩০ মে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক মিছিলের আগে। সরকার জানিয়েছেন যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা টাইমস স্কোয়ারে ‘পাবলিক বিনোদন অর্ডিনেন্স’ ভঙ্গ করেছে। কে ল্যাম কর্তৃপক্ষের আচরণের অযৌক্তিকতা সম্পর্কে জানিয়েছেন:

日日都有人在街頭表演、乞食、甚至擺檔叫人上寬頻,佢地就唔係展覽,就唔會違反公眾娛樂條例,反之六四紀念屠城殺人,就違反了「公眾娛樂條例」,悲乎?可能有一日,出殯都可能被視為娛樂節目,是在公眾地方展覽屍體,而要因此被捕,食環署還要沒收屍體呢。

প্রতিদিন সেখানে মানুষ কিছু করে দেখাচ্ছে আর রাস্তায় কাউন্টার বানাচ্ছে – তাহলে তারা ‘পাবলিক বিনোদন অর্ডিনেন্স’ ভঙ্গ করে প্রদর্শনী করছে না? আর যারা ৪ঠা জুনের হত্যাযজ্ঞকে পালন করতে চাচ্ছে তারা এই অর্ডিনেন্স অঙ্গ করেছে? দু:খজনক। এরপরে কি শবযাত্রাকে বিনোদন হিসাবে আখ্যা দিয়ে জনগনের সামনে মৃতদেহ প্রদর্শিত হবে? খাদ্য আর পরিবেশ শোধন দপ্তর এইসব দেহ জব্দ করতে পারেন।

এই আটকের ব্যাপারে বেন এনজির তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া বেশীরভাগ গণতন্ত্রপন্থী নাগরিকের অনুভূতি তুলে ধরবে:

可悲!可恥!
你可以奪去民主女神,
不可以奪去我們紀念六四的心。
你可以不給真普選,
不可以奪去我們爭取民主的心。
當常識及良知被看作激進時,
這個地方的自由與民主已亮起黃燈。

দু:খজনক আর লজ্জাহীন!
তোমরা গণতন্ত্রের মূর্তিকে কেড়ে নিতে পারো, কিন্তু ৪ঠা জুনকে স্মরণ করার আমাদের সংকল্পকে তোমরা কেড়ে নিতে পারো না।
তোমরা আসল গণতন্ত্রের ব্যাপারে আমাদের অধিকারকে খর্ব করতে পারো,
কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য আমাদের ইচ্ছাকে খর্ব করতে পারোনা।
যখন বিবেক আর সাধারন জ্ঞানকে চরমপন্থী বলে ভাবা হয়,
স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র তখন হুমকির মুখে।

মূর্তিগুলো চীনে দেশপ্রেমী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সমর্থনে হংকং জোটকে ফিরিয়ে দেয়া হয় বেশ কিছু ঝামেলা হবার পরে। এর জন্যে অনলাইন ক্যাম্পেইন করতে হয়েছে এবং ৩রা জুন পুলিশ স্টেশন ঘেরাওয়ের ভয় দেখানো হয়। নীচে ইউটিউবের একটা ভিডিওতে টাইমস স্কোয়ারের মুখোমুখি একটা ঘটনা দেখাচ্ছে যেখানে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়:

শারিরিক হাতাহাতি ছাড়াও, বেশ কয়েকজন কর্মী টাইমস স্কোয়ারে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ জানিয়েছেন গণতন্ত্রের দেবী সেজে। নীচে টুইটারের মাধ্যমে প্রচার করা একটা ছবি:

ইতোমধ্যে গত পহেলা জুন হংকং এর ইমিগ্রেশন মূর্তির ভাস্কর চেন ওয়েমিংকে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। ২রা জুন ভোরে চেনকে আমেরিকায় ফেরত পাঠানো হয়

সব থেকে ভয়ঙ্কর ঘটনা হলো ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা’র অজুহাতে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গণতন্ত্রের দেবীর মূর্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে মানা করা। বেশ কয়েকটা ছাত্র সংঘটন যৌথ বাণী দিয়েছে স্কুল কতৃপক্ষের ‘রাজনৈতিক সমতা’ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার নিন্দা জানিয়ে আর মুক্ত কথা আর প্রকাশের উপরে এর প্রভাব নিয়ে (ইন্টারলোকালস.নেট মারফত):

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে এরা ‘রাজনৈতিক সমতার মতকে পুন:প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন জনগনের কাছে চিঠিতে। এর মানে যদি এটা হতো যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ানো, গবেষণা বা প্রকাশ রাজনৈতিক পছন্দের কারনে সীমাবদ্ধ রাখবে না তাহলে আমরা খুশি হতাম। তবে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ছিল যে অভিবাসীদের কণ্ঠ অন্যদের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে আর তাই এটা নিষিদ্ধ করা উচিত। প্রকাশের স্বাধীনতার প্রাথমিক মূল্যবোধ হলো অভিবাসীদের নিরাপত্তা। মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক আর বেঠিককে ঘুরিয়ে দিচ্ছে অভিবাসীদের কণ্ঠ রোধের জন্য।

মূল চীনা সরকারের সরকারী অবস্থান তুলে ধরতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দেবীর মূর্তি প্রদর্শন নিয়ে কোন ধরনের চিন্তা বা বিচারের মধ্যে না গিয়ে উন্মোচিত করেছে তাদের আদিম নিপীড়নের ইচ্ছা। আরো খারাপ, এটা জনসাধারণের কাছে চিঠিতে বলা ছিল যে ‘বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে কোন কাজের সাথে সম্পৃক্ত করবে না যার ফলে একটা রাজনৈতিক অবস্থান ফুটে ওঠে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সম্পর্কে”, যার মানে যে কোন ক্যাম্পাসের কাজ যেটা রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিগ্রহের শিকার হবে। এটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মা আর গুণাবলী চাপা দেয়ার সামিল, আর শিক্ষার স্বাধীনতাকে ত্যাগ করা। ‘একটি সমতার সমাজ’ মাত্র এক কদম দূরে।

ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির বাইরে ‘জ্ঞানের দরজা’ মূর্তির স্টেজের দরজায় সাদা রঙ করেছেন ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার রাজনৈতিক রংকে তুলে ধরতে’ (ছবি ইনমিডিয়া এইচকের মাধ্যমে)।

জ্ঞানের দরজা মূর্তি

আজ রাতের মোমবাতি নিয়ে জেগে থাকার পরে, একদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক আর কর্মীরা গণতন্ত্রের দেবীকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন। নাগরিক সাংবাদিকরা সরাসরি ব্লগ করবেন এই ঘটনা টুইটার ট্যাগ #৮৯৬৪ বা #ইনমিডিয়াএইচকে ব্যবহার করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .