বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপান: সেইসব গতানুগতিক ভিনাইল ছাতা

ওয়াগাসা নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী জাপানী ছাতা বাঁশ এবং জাপানী কাগজ দিয়ে তৈরি হয়। এটি বেশ সুন্দর একটি ছাতা। তবে জাপানের যে ছাতা সবচেয়ে বেশী চোখে পড়ে তা বেশ সস্তা। এটি অনেকটা অস্বচ্ছ, যার মধ্যে দিয়ে অবশ্য আলো প্রবেশ করতে পারে। এটি সাধারণত প্লাস্টিক ও ভিনাইলের (বিশেষ নমনীয় প্লাস্টিক) তৈরি হয়। একে যে কোন জায়গায় বয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে বিশেষ করে কিয়স্ক (বিশেষ তথ্যকেন্দ্র) অথবা নিত্যপণ্যের দোকানে (কনভেনিয়েন্স স্টোর)।

মালিকানা

ওয়াতাশি টু টোকিওর মারি ব্যাখ্যা করছে, এগুলো এত সাধারণ যে, এসব ছাতার মালিকদের মধ্যে মালিকানার অধিকারবোধ খুব কম কাজ করে।

প্রকৃতপক্ষে অফিসে, এত লোক ছাতা ব্যবহার করে যে বলা অসম্ভব কোনটা আমার বা কোনটা অন্যজনের ছাতা। কাজেই যখন হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়, তখন একটা ছাতা হাতে নেই, কোন ধরনের অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়াই। মনে হচ্ছে লোকজন ভাবে যে ভিনাইল ছাতার মালিকানা সবার। বলা যায় প্রায় স্বাভাবিকভাবে লোকজন এ ভাবে ভিনাইল ছাতা সংগ্রহ করে। ওহ! আমিও একই কাজ করি।

ইচ্ছাকৃত ভাবে হোক বা না হোক, কোন নিত্যপণ্যের দোকানে ছাতা রাখার জায়গাটা এমন স্থানে হয় যা ছাতা বদল হওয়া বা চুরির জন্য আদর্শ স্থান। টাগামের ব্লগে এক মন্তব্যকারী বর্তমানে ঘটা একটি ঘটনার কথা পুনরায় উল্লেখ করছেন:

前にちょっといいビニール傘をコンビニの外の傘立てに置いておいたら、出てきた時には骨がさび付いたふる~いビニール傘に変わってました。

এ রকম একটি নিত্যপণ্যের দোকানের সামনে ছাতা রাখার স্থানে তুলনামূলক দামি ভিনাইল ছাতা রেখে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর যখন আমি ফিরে আসি, তখন সেই দামি ছাতা পুরোনো মরচে পড়া একটি ছাতায় রূপান্তরিত হয়েছে।

@ইয়ুতারিন হতাশ হয়ে গভীর ক্ষোভে টুইটারে জানিয়েছে:

雨の日のコンビニで他人の傘をパクる奴には等しく死を。

বৃষ্টির দিনে এ রকম নিত্যপণ্যের দোকান থেকে যারা ছাতা চুরি করে তাদের মৃত্যু হোক।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

সকালবেলা আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া অনেক লোকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। লেস্টার হো বলছে:

আপনারা জানেন যে জাপানে আবহাওয়ার ব্যাপারে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, তার ৯০ শতাংশ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়, এবং সেদিনের আবহাওয়া কেমন হবে বা সেদিন বৃষ্টি হবে কি না তা সকলেই জানে। এখানে আপনারা দেখতে পাবেন, প্রচুর লোক বৃষ্টি শুরু হবার আগে ছাতা নিয়ে তৈরি হয়ে থাকে।

বিষয়টি ৯০ শতাংশের জন্য অতিরঞ্জন, তখন অবশ্যই বৃষ্টিতে নিরাপত্তার জন্য ছাতার নিচে থাকা (এবং ভিজে না যাওয়া) খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্ভবত এটি কারো অভ্যাসের দিকটি উন্মোচন করে? দি ব্লগার এ্যাট ওডয়েন এ্যাপেল বিস্মিত যে ভিনাইল ছাতা সাথে নিয়ে একজন ছাতা বিক্রেতা যে কিনা “প্রকৃত” বিক্রেতার বিপরীত, সে এক ঘূর্ণি বাতাসের মত ক্রেতাদের কাছে এসে হাজির হয় এবং তাদের কাছে সে ঠিক গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে না।

「この人、朝のニュースや天気予報も見ずに外に出かけ、行った先でビニール傘を買うなんて、準備などがきちんとできない人じゃないだろうか、行き当たりばったりなんじゃないの」と思われそうなこと。

কেউ হয়ত ভাবতে পারে, “এই ব্যক্তিটি হয়ত সকালবেলা আবহাওয়ার সংবাদ বা পূর্বাভাস না শুনেই মনে হয় বাসা থেকে বের হয়েছে এবং পথে পাওয়া একটি ভিনাইল ছাতা সাথে নিয়ে এসেছে। এই সমস্ত মানুষগুলো হয় অসাবধানী অথবা সারা দিনের পরিকল্পনা নির্মাণে খুব একটা দক্ষ না।

আমব্রেলা এপ এর পাতার ছবি

এমনকি জাপানে জাপানী এক আইফোন এপস (আইফোনের বিশেষ সফ্টওয়্যার) রয়েছে যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাকে জানানো যে উক্ত দিনের জন্য আপনার ছাতা সাথে নিয়ে আসা প্রয়োজন কি না। টোকিও হ্যাকার ব্লগ এই বিষয়টি তুলে ধরছে “ভিনাইল ছাতাকে বিদায় বলুন” [জাপানী ভাষায়] এই শিরোনামে।

হারানো এবং ফিরে পাওয়া

মহানগর পুলিশ বিভাগ (মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট) হরিয়ে যাওয়া যে সমস্ত বস্তু মালিকদের ফিরিয়ে দিয়েছে সেই তালিকার #১ নম্বরে রয়েছে ছাতা। ২০০৬ সালে প্রায় ৪৩০,০০০ ছাতা মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সকল হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তির প্রায় ২০ শতাংশের বেশি।

এমনকি জাপানের বেসরকারি রেলওয়ে সঙ্ঘ হারিয়ে যাওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে ছাতার কথা উল্লেখ করে রেলওয়ে সম্পর্কিত শব্দ বা পদের জন্য তৈরি করা এক শব্দকোষে নিজস্ব সংজ্ঞা প্রদান করা শুরু করেছে।

大都市の鉄道では、「ひと雨500本」という言葉が示すように、雨が降ると傘の忘れ物が多くなります。

যেমন তারা বলছে, “একবার বৃষ্টি, পাঁচশ ছাতা” চলে যাচ্ছে। বৃষ্টির দিনে রেল কোম্পানিগুলো মহানগর এলাকার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ছাতা গ্রহণ করে।

কানাজাওয়া শহর একটি বিশেষ প্রকল্প পরিচালনা করে, যে পরিকল্পনায় প্রতি বছর রেল কোম্পানীর সংগৃহীত ছাতার স্তূপের ব্যবহার করা হয়। ডজন খানেক স্থানে সেগুলো বিনে পয়সায় ব্যবহারে জন্য ভাড়া দেওয়া হয়, যার মধ্যে পর্যটন কেন্দ্র ও বাস অন্যতম। গায়ক এরি টাকেনার প্রতীক চিহ্ন এসব ছাতায় বসানো থাকে, যেগুলো যে কোন নির্ধারিত এলাকায় ফেরত দেওয়া যায়। মনে হচ্ছে কারো কারো খারাপ অভ্যাস দুর হবার নয়। গত বছর এই সব ছাতার বেশিরভাগই আর ফেরত আসেনি- ধারনা করা হচ্ছে অনেক পর্যটক সংগ্রহের জিনিস হিসেবে এগুলোকে নিজেদের শহরে নিয়ে গেছে।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, জাপানের আবহাওয়া পরিদপ্তর মূল ভূখণ্ডে বর্ষা ঋতুর আগমনের ঘোষণা দিয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .