মিশর: গাঁজার সংকট দেশের সাম্প্রতিক কষ্ট বাড়িয়েছে

মিশরীয়রা রুটি, জ্বালানী, আর রান্নার গ্যাসের অভাবে ভুগছিলেন বিগত কিছু দিন ধরে। কিন্তু সম্প্রতি তারা আরো বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন, আর সেটা হল হাশিশের (গাঁজার) অভাব। যদিও গাঁজা আর সাধারণভাবে যে কোন মাদক মিশরীয় আইন অনুসারে নিষিদ্ধ, কিন্তু মনে হচ্ছে দেশব্যাপী এটা বিপুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আর এই সংকট অনেককে আঘাত করছে।

হাশিশের এই সংকট নিয়ে লিখেছেন ওয়াহদা মাস্রেয়া আর বলছেন কিভাবে তিনি মনে করেন যে এটা মিশরীয়দের আসলেই প্রভাবিত করছে:

و في رأي إن أزمة الحشيش تعد الأصعب و الأقوى على شعب مصر حيث أن نظام القمع و القهر لم يترك للمصريين إلا الحشيش يدخنونة لينسوا به مشاكلهم و أزماتهم و عجزهم و ضيق الحال
আমার মতে, অন্যদের তুলনায় গাঁজার সংকট সব থেকে বেশী প্রকট। সরকারের দমননীতি মিশরীয়দের মধ্যে আর কোন উপায় রাখেনি গাঁজা ধূমপান করে তাদের সমস্যা, অক্ষমতা আর দারিদ্র ভুলে থাকা ছাড়া।

তিনি তার পরে বর্ণনা করেছেন মানুষ কেন গাঁজা খায়, আর বিভিন্ন গোত্র আর সমাজের মধ্যে এটা কেন সাধারণ একটা ব্যাপার। তিনি লিখেছেন:

لست من مدخنى الحشيش او أي مكيفات لكن
تعرفت على الكثييرين من كل الأطياف و الألوان و أدركت اهمية الحشيش في حياتهم فمنهم من يدخنة ليلا و منهم من يدخنة قبل الإياب للعمل حيث ينسية منظر أم المدير و القرف و البروقراطية و المرتب اللي زي الزفت و المواصلات اللي بيتدبهدل فيها فكان الحشيش هو الحل الأمثل و عرفت من يأكل الحشيش ولا يدخنة حتى قبل أن يواجة زوجتة و أسرتة بطلابتهم التي لا يستطيع الإيفاء بها
আমি নিজে গাঁজা বা অন্য কোন মাদক নেই না। কিন্তু আমি সমাজের বিভিন্ন স্তরের অনেককে জানি যারা এটা ধূমপান করে থাকেন আর তাদের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ রাতে গাঁজা ধূমপান করেন, আর অনেকে সকালে কাজে যাওয়ার আগে ধূমপান করেন থাকেন তাদের ম্যানেজারের খারাপ ব্যবহার, আমলাতন্ত্র, স্বল্প বেতন আর কাজে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে গাড়ি পেতে তারা যে অসুবিধার সম্মুখীন হন তা ভুলে থাকার জন্য। আমি এমনও লোককে চিনি যারা ধূমপান না করে এটা নিয়ে থাকেন তাদের স্ত্রী সন্তানদের লাগাতার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে।

তিনি তার পোস্ট শেষ করেছেন এই বলে:

الازمة حقيقية و حرجة و ربما يستطيع عالم إقتصاد ان يذكر لنا مدى تأثير تلك الأزمة على الإقتصاد المصري ؟
مع كل ذلك و مع خالص تعاطفي كمصرية صميمية و إدراكي لمعاناة المحشيشين المصريين في كل مكان إلا أنني لا أنكر ساعدتى من أن أخيرا يا مصريين “حنخلي الدماغ صاحي”
সংকট গুরুতর, আর হয়ত আমাদের অর্থনীতিবিদ লাগবে জানার জন্য যে মিশরের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কি পড়বে।

আমি যদিও মিশরীয়দের প্রতি সংবেদনশীল আর সর্বত্র তাদের কষ্ট অনুভব করি, কিন্তু আমি আমার আনন্দ অস্বীকার করতে পারছি না এটা জেনে যে অবশেষে তারা জেগে উঠবে।

অন্যদিকে হোয়াট্স আপ ইজিপ্ট এই ব্যাপারকে বিপদ হিসাবে অভিহিত করতে রাজি না, আর তার ব্লগে নতুন একটা পোস্ট লিখেছেন দ্যা ফাস্টার টাইমসে ম্যাক্স স্ট্রাসের একটা প্রতিবেদনের ব্যাপারে যেখানে তিনি এটাকে বলেছেন ‘মিশরের ২০১০ সালের বিশাল হাশিশ বিপদ’।

আমি মনে করিনা যে বেআইনি একটা জিনিষ না পাওয়া কোন বিপদ হতে পারে। কিন্তু এই লেখক তা মনে করছেন এবং এ ব্যাপারে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী আছে। তিনি তার লেখা শেষ করেছেন এটি বলে যে “এখনকার বেশীরভাগ লোকের জন্য জীবন কঠিন। তাদেরকে নেশা করতে দেন।“ আর এটা বাইবেল/কোরানের বিষয় না।

পরিশেষে, এই বিপদ আশ্চর্যজনকভাবে প্রধান ধারার মিডিয়াতে আলোচিত হয়েছে, আর অনেক মিশরীয় অনলাইন ওয়েব ফোরাম একে ব্যবহার করেছেন তাদের কাছে থাকা হ্যাশ বাজারজাত করতে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .