বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত: সরকারের নীতি এবং তার প্রেক্ষাপটে মাওবাদীদের জবাব প্রদান নিয়ে নাগরিকরা বির্তক করছে

ভারতীয় সরকার সম্প্রতি সে দেশে নকশাললপন্থী-মাওবাদী বিদ্রোহ সশস্ত্রভাবে দমন করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাতের শিকার হয়েছে, ৬ এপ্রিল,২০১০-এ, ছত্তিশগড় নামক এলাকার দান্তেওয়াড়েতে ৭৬ জন পুলিশ সদস্যের উপর অতর্কিতে হামলা করা হয় এবং ঘটনাস্থলে তারা নিহত হয়। এই ঘটনাকে এখন দান্তেওয়াড়া বিপর্যয় নামে অভিহিত করা হচ্ছে, যা এ পর্যন্ত সংঘটিত নিরাপত্তা বাহিনীর উপর মাওবাদীদের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

বিশাল পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু আরো একবার অপারেশন গ্র্রীন হান্টকে সংবাদ শিরোনামে তুলে আনে এবং জাতির সচেতনতা, এবং মাওবাদীদের আদর্শ, তাদের কৌশল, এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে এক উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অতি-পরিচিত ব্লগার গ্রেটবঙ্গ লিখেছেন:

অনেক বছর ধরে আমরা অদৃশ্য এক গৃহযুদ্ধের মাঝে বাস করছি। এটাকে গৃহযুদ্ধ বলা উচিত, কারণ, এটা জনতার কিছু অংশের সাথে এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রশাসনের অস্ত্রের সংঘাত, এমন এক লড়াই, যা এতটা জটিল আকার ধারণ করেছে, যার ফলে তা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে, এতে আইন রক্ষাকারী সংস্থা এটা মেনে নিয়েছে যে, দেশটির এক বিশাল অংশ রয়েছে, যেখানে তারা প্রবেশ করতে অক্ষম। এই যুদ্ধ অদৃশ্য, কারণ এটি খুব সামান্য সময় তা জাতীয় পর্যায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করে, নিশ্চিত করে বলা যায়, এটা গ্রামীণ পশ্চাৎপদ এলাকায় ঘটা ঘটনা। ফলে এইসব ঘটনার সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ লাভের বিষয়টি খুব দুর্লভ…যতক্ষণ না ৭৬ জনের বেশি সিআরপিএফ সদস্য নির্মমভাবে খুন হয়, এতে সময়ের বাস্তবতায় আমরা বাধ্য হয়ে এই বিষয়টিকে নিয়ে কাজ করতে শুরু করি, অন্তত কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত।

এই ঘটনায় টুইটার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ভরে যায়, তার কয়েকটি উদাহরণ:

@বাভিস্কারইয়োগেশ: ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে কৌশলগত সমাধানের প্রয়োজন। ভারতের ইতিহাসে এটা সবচেয়ে খারাপ দিন.. এটা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক বিশাল ক্ষতি
@ইরাগুহ, মাওবাদীরা আমাদের জনতার অংশ। সরকারকে অস্ত্রের জোরে নয়, ভিন্নভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
@শিবু_কেটি: নিরাপদে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীদের ধরার জন্য জোরালো অভিযান? নাকি আরো সহানুভূতি পাবার জন্য আরেকটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের অপেক্ষায় থাকবো?
@রঘুদত্তাসি, কখন মাওবাদীদের উল্লসিত নেতার দেখতে পাবে যে, গরিব আদিবাসীদের জন্য মারা যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর যুবকেরা, মাওবাদীরা নয়?
@মাইটপনিউজ, একটা ছোট্ট ক্ষত এখন ভারতের জন্য ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে..আজকের মাওবাদীদের এই আক্রমণ ক্যান্সারের মত, এর জন্য দায়ী সরকার।

নিরাপত্তা বাহিনীতে এই বিশাল হতাহতের ঘটনা, একদল লোকের দৃষ্টিভঙ্গিকে পুনরায় খুলে দিয়েছে, যারা দেখছে যে সরকার এ ব্যাপার খুব সামান্য কৌশলগত পরিকল্পনা করেছিল এবং এই বিদ্রোহ (আন্দোলন) মোকাবেলা করার জন্য যাদের পাঠিয়েছিল, তাদের এমন প্রশিক্ষণ ছিল না, যার মাধ্যমে তারা মাওবাদীদের গেরিলা যুদ্ধকে মোকাবেলা করতে পারে।

মাধব দাতার তার ব্লগে লিখেছেন:

নিহত ৭৬ জন সিআরপিএফ ব্যক্তির পরিবারের জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত, যারা মাওবাদীদের এক গেরিলা আক্রমণে নিহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনায় আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। এটা ঘটছে এবং বিদ্রোহীদের দ্বারা তা ঘটতেই থাকবে। দুর্বল নেতৃত্ব, মাওবাদীদের সাথে লড়াইয়ের মত প্রশিক্ষণ এবং নৈতিকতার অভাব, এ সকল কিছু এই বিপর্যয়ে অবদান রেখেছে।

অন্য অনেকে এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত। নরেন্দ্র মেরিনিউজে জানাচ্ছেন সরকার এই কাজকে বদলা নেয়া হিসেবে বিবেচনা করছে, তিনি লিখেছেন:

এই গেরিলা আক্রমণের পর, তিনি (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব. পি. চিদাম্বরম) বেশ কিছু পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দেন, যা আবেগময় এক স্বরে প্রদান করা হয়েছে। তারা এর মধ্য রয়েছে মাওবাদীদের মোকাবেলার জন্য সেখানে সেনা সদস্যদের পাঠানো, এর সাথে মনুষ্যবিহীন হেলিকপ্টার ব্যবহারের ঘোষণা রয়েছে। এই ঘটনার চাপ এতটা জোরালো ছিল যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলা হয়, পরে সরকার যা অস্বীকার করে।

যখন সরকার যথাযথভাবে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া প্রদান করার চেষ্টা করছে, সে সময় নেটবাসীরা বিতর্ক করছে যে এর পাল্টা জবাব কি হতে পারে, তা কি সামরিক আক্রমণ, নাকি ক্রমাগত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কটি কেন্দ্রীভূত হয় আন্দোলনকারী বিদ্রোহীদের দায়িত্ব নিয়ে এবং সরকার যে তার ত্রুটিপূর্ণ নীতির মাধ্যমে আদিবাসীদের সমাজকল্যাণের বিষয়টিকে উপেক্ষা করেছে তা নিয়ে, যার বাস্তবতা হচ্ছে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই অস্ত্রের সংঘাত।

অনেকে দেখাচ্ছেন যে, এটা সবচেয়ে দারিদ্র্য পীড়িত আদিবাসী অনেক এলাকায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, যার মাধ্যমে মাওবাদীরা সে সব এলাকায় তাদের অবস্থান সুসংহত করতে সমর্থ হয়েছে। অন্যরা অনুভব করছেন, সম্ভবত এ সকল কিছু মাওবাদীদের বিদ্রোহ নয়, এটার কারণ হতে পারে দারিদ্র্যের পীড়া। উন্নয়নের সুবিধা বঞ্চিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে এমন এক প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অবশেষে তারা নিজেদের অধিকার ও ভূমির জন্য লড়াই-এ ফিরে এসেছে। নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর পরিচালিত এই হত্যাকাণ্ড সত্ত্বে কিছু নাগরিক অনুভব করেন, সরকার এবং সামরিক বাহিনীর আক্রমণের কারণে তারা এ ধরনের এক নির্মম ঘটনা ঘটাতে বাধ্য হয়েছে। কিছু টুইট এই আবেগ এবং যুক্তির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

@রাইট২(টু)কিল: এভাবে মাওবাদীদের ঘুরে দাঁড়িয়ে আঘাত করা সেই সব জনতার বিচ্ছিন্ন ও ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার জবাব ছাড়া আর কিছুই নয়, যাদের ভারতীয় উজ্জ্বল সেতুটির পেছনে ফেলে রেখে আসা হয়েছে।
@ম্যাক্স৪৯৭৪: এ সকল কিছু আমাদের নিজ সমাজের পশ্চাৎপদ মানুষগুলোকে উপেক্ষা করা, আমাদের এই মাওবাদী/নকশালপন্থী সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে!
@সুজাইয়াপ@বিদত্ত: নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে লড়াই করা ছাড়া মাওবাদীদের জন্য সরকার আর কোন পথ খোলা রাখেনি। গণহত্যার মত খারাপ আর কিছুই নেই, সরকারের উচিত তার সকল সেনাকে ফিরিয়ে আনা।

প্রগতি বামপন্থীদের একটি ওয়েবসাইট, মাওবাদী সমস্যার ব্যাপারে যারা এই কথা বলছে:

… মাওবাদীদের সমস্যা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার মত সহজ সমস্যা নয়। বঞ্চনা, বাণিজ্যিক লুণ্ঠন, শোষণ এবং অনুন্নয়নের মত বিষয়গুলো এর সাথে যুক্ত। এখন ধীরে ধীরে সামরিক বাহিনীর উপর আক্রমণের উপর কথা প্রচার করে সরকার দারিদ্র্য ও অনুন্নয়নের মত বাস্তব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছে… যা মাওবাদীদের কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করছে…রাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব মাওবাদীদের জন্য একটি অস্ত্র, যা তাদের সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির পেছনের কারণ বিবেচিত হচ্ছে এবং তাদের হাতের মুঠোয় আরো মানুষকে জড় করার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্য কথায় মাওবাদী ও রাষ্ট্রের মধ্যে আঘাত ও পাল্টা আঘাত হানার যে চক্র তৈরি হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারে যে কোন ভিন্নমতের রাজনীতি এবং নীতিকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে ফেলে।

ডি-সেক্টর ব্লগের এস.জি.বম্বাটেকেরা একই আবেগের প্রতিধ্বনি করেছেন:

…..ভারতের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি তৈরি করে, যারা বলছিল, জনতার মাঝে নকশালপন্থীদের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকা, সরকারের বিচ্ছিন্নতা এবং ব্যর্থতার প্রতীক এবং এটি দারিদ্র্যের সাথে চরমপন্থার সরাসরি সম্পর্ককে স্পষ্ট করে।

[…] সংঘাত কেবল সংঘাতের জন্ম দেয়। সরকার তাদের উপর অর্থনৈতিক আঘাত তৈরি করে, সে সব এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে, এই সব ঘটনার মাধ্যমে তাদের উদ্বাস্তু বানানো হয় এবং এ কারণে তারা তাদের নিজেদের ভূমি এবং জীবনযাপনের সামগ্রীর উপর অধিকার হারিয়ে ফেলে। টাকা খরচের মাধ্যমে তারা এর পাল্টা জবাব দিতে পারে না, কারণ তাদের কাছে কিছুই নেই। যখন শিল্পের নামে তাদের জমি দখল করা হয়, তখন তারা এর প্রতিবাদ করে, উত্তেজনাপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, শরীরের রক্তবিন্দু দিয়ে জমি দখলের প্রতিবাদ করে। যখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয় না, তখন এই প্রতিবাদ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়, এমনকি অনেক সময় তাদের কথা এইসব প্রশাসকদের কানেই যায় না। প্রতিবাদকারী বা পুলিশ যারাই প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ করা শুরু করুক না কেন, সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ এ ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

স্বয়ম্ভু মুখার্জির মতে রাষ্ট্রের উদাসীনতার মধ্যেই মাওবাদী সমস্যার প্রকৃত স্বরূপ লুকিয়ে আছে। তিনি লিখেছেন:

…. খালি চোখে যা দেখা যায়, আদিবাসী আন্দোলনের তীব্রতা তার চেয়ে বেশি। মাওবাদীরা এই সমস্যার একটি সামান্য অংশ মাত্র-তারা এর প্রকৃত সমস্যা নয়। প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে এই যে, রাষ্ট্র নিজেই এই ব্যাপারে উদাসীন এবং লোভী। এর একটা উদাহরণ হচ্ছে, রাষ্ট্র এবং বড় বড় খনি মালিকের হাতে ডোংগিরা কোন্ডার শোষণ, ভেদান্তা নামক একটি খনি কোম্পানির মাধ্যমে এই শোষণের ঘটনা ঘটে।… চার্চ অফ ইংল্যান্ড সম্প্রতি ৩.৮ মিলিয়ন মূল্য সমপরিমাণের সম্পত্তি ভেদান্ত রিসোর্সের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে, মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে তাদের যে তালিকা তাতে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে..যদি ভেদান্তা সারা বিশ্বে এত বড় মাপের একটা বিতর্ক তৈরি করতে পারে, সেক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিরব কেন? বিশেষ করে এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন যখন ভারতীয়?

গ্লাডসন ডাংডাং একজন মানবাধিকার কর্মী এবং তিনি ঝাড়খন্ড থেকে সংহতি ব্লগে তার প্রবন্ধটি লিখেছেন:

….. তথাকথিত গ্রীন হান্ট নামক অভিযানের উদ্দেশ্য হচ্ছে তথাকথিত “লাল এলাকা নামক ভূখন্ডটিকে” একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত করা। ভারত নামক রাষ্ট্রটির মাওবাদী বা নকশালপন্থীদের নিয়ে এত শোরগোলের উদ্দেশ্য হচ্ছে, খনি সমৃদ্ধ এই এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশের রাস্তা করে দেওয়া। আমি নিশ্চিত এই সমস্ত বাণিজ্যিক দৈত্যগুলো যখন খনি সমৃদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হবে, তখন মাওবাদী ও নকশালপন্থীদের বিষয়টি রাষ্ট্রের আলোচ্যসূচির প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাবে।

মাওবাদীদের প্রতি সম্ভবত সবচেয়ে সহানুভূতিশীল এবং (সবচেয়ে বিতর্কিত) প্রবন্ধটি ছিল বুকার পুরস্কার প্রাপ্ত লেখিকা ও একটিভিস্ট অরুন্ধতী রায়ের। যিনি অভিযোগ করেন, ভারত নামক রাষ্ট্রটি তার দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে এবং জোর করে আদিবাসী গোত্রগুলোর মধ্যে বিদ্রোহ তৈরির চেষ্টা করছে (এমন এক উত্থান. যা রাষ্ট্রের দমনমূলক কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে), এটি করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকিকে মোকাবেলা করার নামে। অরুন্ধতী রায় প্রবন্ধে মাওবাদীদের গান্ধী বলে অভিহিত করেন, তবে তারা অস্ত্র হাতে নেওয়া গান্ধী। এবং একে এমন ভাবে চিত্রিত করা হয়েছে অনেক যাকে গোলাপের কাঁটায় মোড়ানো, আবেগপূর্ণ ভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিহিত করেছেন এবং সম্ভবত এটি ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের বিকৃত চেহারা।

তবে যাই হোক, অন্যরা গরিব আদিবাসীর মাওবাদীতে রূপান্তরের গল্প বিশ্বাস করেন না’, নিচের টুইটে তার প্রমাণ রয়েছে:

@রাজেশকেউপাধ্যায়, তবে মাওবাদীরা আদিবাসী নয়, কিন্তু তারা তাদের আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এদের ব্যবহার করছে। তারা ক্ষমতা দখল করার জন্য ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন কারণ ব্যবহার করছে।

সিনিকাল ইনডিয়ান-এর আনন্দ চক্রপানি, মাওবাদী এবং তাদের প্রচলিত কঠোর অভিযান পদ্ধতি (লড়াই) সম্বন্ধে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন করছেন।। তিনি জিজ্ঞেস করেন:

“…কারা এই সমস্ত নকশালপন্থীদের অস্ত্র দেয়? এর জন্য তারা কোথা থেকে টাকা পায়? যদি তারা একে-৪৭ নামক অস্ত্র ও আইইডির (ইমপ্রুভ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা উন্নতমানের বিস্ফোরক তৈরির যন্ত্র) জন্য টাকা জোগাড় করতে পারে, তা হলে তারা কি নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য এবং বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা খরচ করতে পারে না? কেন তারা নিষ্পাপ এবং গরিব গ্রামবাসীদের ধরে আনে, যাদের তারা তাদের প্রতিনিধি বলে দাবি করে? কেন তারা হত্যা করে?.. কেন তারা আলোচনার টেবিলে বসে না, যেখানে জনাব চিদাম্বরম (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) তাদের বেশ কয়েক বার আলোচনার টেবিলে বসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন?

গ্রেটবঙ্গ যুক্তি দেখান যে তা আদিবাসীদের শোষণের প্রেক্ষাপটে প্রতিরোধের নামে ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণকে ন্যায় সঙ্গত বলা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের অন্য অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অধিকার অর্জনের এগিয়ে যাচ্ছে।

এটা জানা উচিত যে, দেশের অন্য প্রান্তের গরিব এবং শোষিত লোকজন অস্ত্র হাতে নেবার প্রয়োজন বোধ করেনি এবং সংগঠিত হবার জন্য তারা সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়নি। তারা সমবায় সমিতি গঠন করেছে, যেমন গুজরাট-কোপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং লিমিটেড (আমুল) এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভবিষ্যৎ পাল্টে ফেলেছে। কাজেই সম্প্রদায়ের সংগঠনের জন্য মাওবাদীদের দরকার নেই…

এছাড়াও একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যে, মাওবাদীরা আদিবাসী এলাকার উন্নয়ন ঘটাতে ইচ্ছুক নয়, তার বদলে তারা আদিবাসীদের গেরিলা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে, মাওবাদীরা সমস্যাকে প্রচারণার জন্য ব্যবহার করছে; তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে, বর্তমান ভারত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করা, এবং এ কারণে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন বিদ্রোহকে কঠোর হস্তে দমন করা প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে ব্লগার শুভাসনান্দা মিশ্র লিখেছেন:

…..এই দেশটির বড় এক হুমকি হচ্ছে মাওবাদ, যারা এটি লাগামহীন একটি দল এবং তারা বন্দুকের নলের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়…[..]। মাওবাদীরা উৎসাহ পাচ্ছে, কারণ প্রস্তুতিহীন নিরাপত্তাকর্মীদের দল এবং আমাদের সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। […] মাওবাদ নামক সমস্যা এত ভয়ঙ্কর এবং সংঘাতময় হয়ে উঠেছে যে, মাওবাদীরা এখন তাদের নিজ জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। তারা যে ভাবে কাজ করে সে ভাবেই তাদের জবাব দেওয়া উচিত এবং মাওবাদী কর্মকাণ্ডের ধ্বংস না যাওয়া পর্যন্ত, তাদের সাথে লড়াই করা উচিত..।একই সাথে রাষ্ট্র এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নকশালপন্থী এবং আদিবাসী প্রধান এলাকায় নানা ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া উচিত, কারণ এই সমস্ত এলাকার লোকজন প্রচণ্ড দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে, যার ফলে তারা অনুভব করে যে, তারা রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন এবং উপেক্ষিত।

তবে অন্যরা যুক্তি তুলে ধরছেন যে পশ্চাৎপদ এলাকায় হঠাৎ করে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করা হলে, সুশাসনের অভাবে কাঙ্খিত সফলতা অর্জন করতে পারবে যাবে না। প্রশাসন নিশ্চিত করবে হবে যে প্রকল্পগুলোকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর যে সুবিধা তা সত্যিকার অর্থে আদিবাসীদের হাতে পৌঁছাবে। মাধব দাতার-এর সূত্রানুসারে:

আমাদের বুঝতে হবে কেবল মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান, এই ধরনের যুদ্ধ জয়ে সহায়তা করবে না। এখানে সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ‘দুর্বল প্রশাসন’ এবং এই বিষয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে যায় না, যা কার্যকরভাবে সরকারি মেহকমাদের (সরকারি প্রতিষ্ঠান/কমকর্তা) আরো লুটপাট করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সকল ভাবেই তাকে দৃশ্যমান হতে হবে।

মিনাক্ষী রাও এই সমস্যাকে দুর করার জন্য পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত এবং সম্মিলিত পরিকল্পনার কথা বলেন । তিনি অনুভব করেন, এখন পুরো মাত্রার এক সামরিক আক্রমণের সময়, যাতে ভারতে বাড়তে থাকা মাওবাদীদের গোঁড়া থেকে উপড়ে ফেলা যায়। তিনি তার ব্লগে এই কথাগুলো লেখেন:

এটা সত্যি, তবে এই সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হবার মধ্যে। কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতি আজো রয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রথমে সমস্যার শাখাগুলোকে ছেঁটে ফেলা দরকার এবং তার পর তার গোঁড়ায় যে সমস্যা রয়েছে, সেগুলোতে হাত দেওয়া দরকার। এর প্রকৃত মানে, কেন্দ্র থেকে এই সমস্ত সশস্ত্র লোকদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার এক যুদ্ধ পরিচালনা করা দরকার এবং তার সাথে বিরোধীদের গুঞ্জনে চোখ এবং কান বন্ধ রাখা দরকার। […]

সময়ের বাস্তবতায় এখন আমরা দুর্বলভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, দুর্বল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আমাদের আধাসামরিক বাহিনীকে মাওবাদীদের শিকারে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখি।

অন্যদের মধ্যে রহিত প্রধান যুক্তি হিসেবে নির্মম ভাবে শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করেন এবং তিনি মন্তব্য করেন, এই বিষয়ে যদিও রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ায় শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি পছন্দের, তবে লম্বা সময়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কোন ফলাফল প্রদান করে না। এই ভাবনা প্রধানের :

দান্তেওয়াড়ের বেদনাদায়ক ঘটনার যথাযথ উত্তর হবে ক্ষমতা তৈরি করা-রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ভাবে তা তৈরি করা-নির্মম ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে, এই বিষয়টি দমন করার চেয়ে লম্বা সময় ধরা চলা সংস্কারের উপর জোর দেওয়া।

সাউন্ড অফ ডিসেন্ট পরামর্শ প্রদান করেছে, সরকারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মাওবাদী নেতাদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসা এবং তাদের সাথে কথা বলা।

উন্নয়ন সাধন করা এবং মাওবাদীদের প্রভাব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সময়টা বড় দেরি হয়ে গেছে। এখন একমাত্র যে উপায় রয়ে গেছে তা হল আলোচনা, আলোচনা এবং শর্তহীনভাবে আলোচনা করা, অথবা যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা সম্ভব। দি হিন্দু নামের পত্রিকায় এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিপিআই (কমিউনিষ্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া, মাওপন্থী)-এর মুখপাত্র তাদের অবস্থান পাল্টে ফেলার কথা জানান। এখন তারা আলোচনায় বসার জন্য তৈরি এবং উভয় পক্ষ এই ধরনের নির্মমতা বন্ধ আগ্রহী, এখন সরকারের সাড়া দেবার পালা। আশা করা যায় তারা যথাযথ ভাবেই সাড়া প্রদান করবে।

এখন আমাদের অপেক্ষা করা এবং দেখার পালা যে, ভারত সরকার কি ভাবে এই সমস্যায় সাড়া প্রদান করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .