বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীন: হু ইয়াওবাং-কে স্মরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী ওয়েন

বৃহস্পতিবার পিপলস ডেইলিতে একটি খোলা চিঠি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও ভুল স্বীকার করে ও লজ্জার সাথে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হু ইয়াওবাং এর সাথে তার আলোকিত যাত্রার কথা স্মরণ করেছেন। এই চিঠি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ২১ তম মৃত্যুবাষির্কী স্মরণে প্রকাশিত হয়েছে।

এই চিঠি কেবল হুর প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা প্রকাশের প্রতীক নয়, একই সাথে তা পরিষ্কার ভাবে চীনের তরুণ প্রজন্মের নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেওযা যে, যেন তারা জনতার সংস্পর্শ থেকে এবং দেশের সব চেয়ে মৌলিক স্তরে যে ভাবনা বিরাজ করে তার থেকে সরে না যায়।

ওয়েন তার লেখা চিঠিতে হু'র মহান গ্রামীণ জরিপ পদ্ধতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। এই চিঠিতে চীনের দক্ষিণ পশ্চিমের একটি শহর শিঙ্গইতে ভ্রমণের বিবরণ রয়েছে, যেখানে ১৯৮৬ সালের শুরুতে তারা একসাথে ভ্রমণ করেছিলেন। সাধারণ জনতার সংস্পর্শের উপর ক্রমাগত জোর দেওয়া দৃঢ়সংকল্প হু, একে সঠিকভাবে সরকার পরিচালনার এক পদ্ধতি বলে বিবেচনা করতেন।

সংস্কার উদ্যোগের শুরুর বছরগুলোতে যখন মুদ্রাস্ফীতি ও অস্থিরতার এক চক্র শুরু হয়, তখন ১৯৮৭ সালে হু-কে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত করা হয়। রক্ষণশীল নেতা, যেমন চেন ইয়ুন ও দেং লিকুন হুর অর্থনৈতিক উদারীকরণ মতবাদকে দলের আদর্শের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে।

১৯৮৯ সালের ১৫ই এপ্রিল হু মারা যান। তার মৃত্যু গণ মানুষের শোক ও প্রতিবাদে পরিণত হয়। যদিও হু জনতার চোখে বিজয়ী ছিলেন, তারপরেও যে তিনি লম্বা সময় দলের সাথে যুক্ত ছিলেন, সেই হুর মৃত্যু সংস্কৃতিক বিপ্লবের পর দলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে বিবেচিত হয়েছিল।

ওয়েনের-এর চিঠি জনতার কাছে থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, প্রকাশিত হওয়ার এক দিনের মধ্যে অনলাইনে এর ২০,০০০ প্রতি উত্তর এসেছে।

ব্লগার ইয়াও কেমিং আজকের চীনে এই চিঠির গুরুত্বের দিকটি উন্মোচন করেছেন।

难得在公开的报纸上,读到领导人写的这样质朴、情真、意浓的好文章 … 文章一开头,就将人吸引住了。

এ রকম সাধারণ, অর্থপূর্ণ ও সত্যিকারের প্রবন্ধ একটি উন্মুক্ত সংবাদপত্রে পড়তে পারা বেশ কঠিন এক বিষয়।

চীনা সরকার এবং দলের আমলাতান্ত্রিক শাসকদের মধ্যে, ওয়েনকে প্রায়শই সাধারণ জনতার সংস্পর্শে থাকা নেতা হিসেবে বিবেচিত করা হয়। এই চিঠির উত্তরে ফ্রিডম নামের এক ব্লগার এই আবেগের প্রতিধ্বনি করেছেন।

人民日报就是中国政治的风向标,温家宝作为亲民的政治领袖,在各届领导人中尤为突出,特别是在汶川地震的时候,特别是在贵州抗旱的现场,特别是在苦难人民的身旁。

চায়না ডেইলি চীনের রাজনীতির বাতাসকে তুলে ধরেছে। একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ওয়েন জিয়াবাও সকল শ্রেণীর নেতার মধ্যে স্মরণীয়, বিশেষ করে ওয়েনচুয়ানের [সিচুয়ান] ভূমিকম্প ও বর্তমানে গুইঝু-এর খরার সময় এবং বিপর্যয়ে জনতার পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য, তার এই গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও প্রধামন্ত্রী ওয়েন-এর চিঠি অতীত দিনের ক্ষেত্রে অনেক কম ব্যাক্তিগত চিন্তার প্রতিফলন এবং অনেক বেশি আগত দিনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা বিচ্ছিন্নতা বোধ থেকে জেগে ওঠার আহ্বান। কোন সংবাদপত্র, যেমন পিপলস ডেইলিতে সম্পাদকীয় লেখার অনুশীলনের বিষয়টি চীনা প্রজাতন্ত্রের মতই পুরনো।

বাস্তবতা হচ্ছে যে সমস্ত গোলমাল হুর সংস্কারের তালিকায় ছিল, তার বেশিরভাগই ১৯৮৬ সালের শেষ মাসে (ডিসেম্বরে) প্রকাশিত পিপলস ডেইলি, বেইজিং ডেইলি, এবং শিনহুয়া সংবাদের সম্পাদকীয়তে প্রতিফলিত হয়। ১৯৯২ সালে দেং শিয়াওপিং -এর সমর্থনে পিপলস ডেইলিতে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়, যা স্মরণ করিয়ে দেয় খানিক অবসরে যাওয়া রাষ্ট্রপতি জিয়াং জেমিন এখনো ক্ষমতায় রয়েছেন।

ওয়েনের চিঠি যে বার্তা বহন করছে ব্লগার মো চে তার কথা বিবেচনা করছেন:

深入群众,是我党的主要工作方法之一,如果我们整天坐在办公室里听取汇报,很多情况可能不是真实的,甚至是假的。

জনতার সাথে গভীর ভাবে যুক্ত হওয়া আমাদের দলের দল পরিচালনার মূল পদ্ধতি। যদি আমরা সারাদিন দপ্তরে বসে সংবাদ শুনতে থাকি, তা হলে অনেক পরিস্থিতি সম্বন্ধে যে ধারণা পাওয়া যাবে, তা হয়ত সত্যি হবে না, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে তা ভুয়া বলে প্রতীয়মান হতে পারে।

মো চে ওয়েনের চিঠির সমাপ্তিকরণ অংশ উদ্ধৃত করেছেন:

通 读温家宝总理回忆胡耀邦同志的西南行,归结到一句话,就是领导干部“要经常到群众中去,到基层去,进行调查研究,考察访问,密切上级与下级、领导机关同广 大人民群众之间的联系。只有这样,才能形成一种好的风气,产生巨大的精神力量,有助于实现正确的领导,减少领导工作的失误,提高干部的素质,促进干部特别 是年轻干部健康成长。”

প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও এর পুনরায় স্মরণ করা হু ইয়াওবাং এর দক্ষিণ পশ্চিমে যাত্রার গল্প -পাঠের পর আমি কয়েকটি বাক্য যোগ করতে চাই, যারা নেতা, “তাদের অবশ্যই জনতার মাঝে যাওয়া, মৌলিক স্তরে প্রবেশ করা এবং তদন্ত পরিচালনা করা ও গবেষণা করা উচিত, তাদের পর্যবেক্ষণ করা ও সাক্ষাৎকার নেওয়া উচিত এবং সমাজের উচ্চস্তর ও নিন্মস্তরের সাথে, নেতৃত্বের কাঠামো এবং ব্যাপক গণ মানুষের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করা উচিত। কেবল এভাবে ভালো এক পরিবেশ তৈরি করা, চরিত্রে দৃঢ়তা আনা, সঠিক নেতৃত্ববোধ গঠনের উপলব্ধিতে সাহায্য করা, নেতৃত্ব পূর্ণ কাজে ভুল কমিয়ে আনা, নেতৃত্বের গুণাবলী বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর নেতৃত্ব- বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব তৈরিতে গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .