বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নেপাল: রাজনৈতিক মেরুকরণ দ্বারা প্রভাবিত প্রাক্তন ‘রাষ্ট্রনায়কের’ মৃত্যু

ভূতপূর্ব নেপালি প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালা দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পরে ২১ শে মার্চ শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নেপালী রাজনীতিতে প্রভাবপূর্ণ আর শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু প্রায়শ:ই তিনি বির্তকিত হয়েছেন আর ব্যাক্তি জীবনে রাজনৈতিক মেরুকরণ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

গিরিজা প্রসাদ কৈরালা। ছবি উই্কিপিডিয়ার সৌজন্যে। ক্রিয়েটিভ কমনস লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত

গিরিজা প্রসাদ কৈরালা। ছবি উই্কিপিডিয়ার সৌজন্যে। ক্রিয়েটিভ কমনস লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত

তার ষাট বছরের রাজনৈতিক জীবন আর নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাঁচ মেয়াদের রাষ্ট্রপরিচালনা সত্বেও তার খ্যাতিকে কলুষিত করেছে তার মেয়ের জন্য অযৌক্তিক ইচ্ছা পূরণ।

ব্লগার এক্সনেপালি মন্তব্য করেছেন:

“মাওবাদিদের মূলধারার রাজনীতিতে এনে দেশের গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার তার উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। নেপালে মাওবাদি সমস্যা শেষ করায় তার অবদানকে সম্মান জানাতে, নেপালি সরকার সম্প্রতি তাকে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেছেন।

শেষের দিনগুলোতে তার উপর অতিরিক্ত ভাবে তার মেয়ে কেন্দ্রিক হওয়ার দোষ দেয়া হয়। তার একমাত্র মেয়ে সুজাতা কৈরালাকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাকে উপ প্রধানমন্ত্রী আর পররাষ্ট্র মন্ত্রী করা খুব সমালোচিত হয়েছিল।“

গিরিজা কৈরালার সফলভাবে শাসনে অক্ষমতা, বা তার ব্যবস্থাপনা কৌশলের অভাব সম্পর্কে দীপক অধিকারী বিশ্লেষণ করেন তার ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে:

একজন বিশ্লেষক বলেছেন: ”কৈরালার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার আছে কিন্তু রাষ্ট্রনায়কের কৌশলের অভাব আছে তার।“ এক সময়ে কৈরালা কঠোর কমিউনিস্ট বিরোধী ছিলেন। কিন্তু সবাই বলে – রাজনীতি তাকে অদ্ভুত সঙ্গীদের সাথে মিলিয়েছে। তিনি দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিলেন মাওবাদিদের সাথে চুক্তি করে তাদের মূলধারার রাজনীতিতে আনার জন্য। বর্তমান কৈরালার নেতৃত্বের সরকারের ভবিষ্যৎে এটা সব থেকে কঠিন কাজ হবে।

……… তিনি অবিসংবাদিতভাবে বিতর্কে জড়িত। তিনি তার সঙ্গী কেপি ভাট্টারাইর বিরুদ্ধে প্রতারণা করার দোষে কেবল দোষী না, বরং রিপাব্লিক নেতা আর উঠতি তরুণ নেতা নরহরি আচার্য আর গগন থাপাকে জাতীয় কংগ্রেসের সাধারন কনভেনশনে রাজপ্রাসাদের এজেন্ট বলাও তার ভুলগুলোর মধ্যে ছিল……”

দেশের শান্তি প্রক্রিয়াতে আর নতুন সংবিধান লেখাতে তার লাগাতার প্রচেষ্টার কারনে, কৈরালার অসময়ের মৃত্যু আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ আর চিন্তার উদ্রেক করেছে। ভারত মনে হচ্ছে বিশেষভাবে চিন্তিত। যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছে যে কৈরালার প্রতি আসল সম্মান জানান হবে নতুন সংবিধান চূড়ান্ত করে শান্তি প্রক্রিয়া দ্রুত করলে।

মাইসংসার ব্লগের উত্তম বাবু শ্রেষ্ঠ বলেছেন যে কৈরালার মৃত্যুর ফলে নেপালের রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা শান্তি প্রক্রিয়াকে কঠিন অবস্থানে ফেলবে। যারা আগে কৈরালার শক্ত নেতৃত্ব দেয়ার অক্ষমতার সমালোচনা করতো এহন শান্তি প্রক্রিয়াকেও সঠিকভাবে শেষ করার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন।

“समग्र शान्तिप्रकृया र नेपालको राजनितिको आशाको केन्द्र वनेको छिनछिनमा अक्सिजन लिएर बाँच्दै गरेको त्यो कुनो अब रहेन । वाहिर उनलाई गाली गर्दै कुर्लने तर उनको पिँडीमा गएर टाउको कन्याउने क्रमको अब अन्य भएको छ । देशको शान्तिप्रकृया संविधान लेखन जस्ता मुद्दाहरु यतिखेर अक्सिजन लिएर बाँचिरहेको छ केहि दिन अघिको गिरीजा प्रसाद कोइराला जस्तै । हिजो गिरीजाले हामीलाई नेतृत्व गर्न दिएनन् भन्दै ठुला ठुला भाषण ठौक्दै उनीमाथि दोष थुपार्नेहरुलाई उनले मैदान खालि गरिदिएका छन् पार्टी भित्रको र देशको राजनितिमा पनि । अक्सिजन लिएर वाँचिरहेको शान्तिप्रकृयालाई तार्किक निष्कर्षमा पुराउने वा नपुराउने ? कोमामा रहेको संविधानसभालाई कोइराला जस्तै अवसान हुन दिने कि तग्राउने ? हिजोसम्म गिरीजालाई दोष दिदै आफ्ना कर्तुतहरु लुकाउनेहरुलाई इतिहासले नयाँ जिम्मेवारी सुम्पेको छ – गर या मर ।”

“সমগ্র শান্তি প্রক্রিয়া আর নেপালি রাজনীতির এক কোনা যা লাইফ সাপোর্টে ছিল তা এখন নেই। কৈরালাকে জন সম্মুখে সমালোচনা করে পরে তার দ্বারে সাহায্যের জন্য ফিরে যাওয়ার খেলা শেষ হয়েছে। কৈরালার শেষ দিনের মতো, দেশের সংবিধান লেখা আর শান্তি প্রক্রিয়া এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। কৈরালা এখন তাদেরকে স্থান দিয়েছেন যারা আগে চিৎকার করতো যে তিনি তাদের নেতৃত্বের সুযোগ দেননা। শান্তি প্রক্রিয়াকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া উচিৎ হবে, বা সাংবিধানিক অ্যাসেম্বলিকে জীবন্ত করা উচিৎ যা এখন কোমাতে চলে যাচ্ছে? ইতিহাস নতুন দায়িত্ব দিয়েছে তাদের যারা গিরিজা কৈরালা অতীতে দোষী করতো আর তাদের নিজেদের কাজ এখন লুকানো বা- করা অথবা মরার।“

কোন সন্দেহ নেই যে গিরিজা কৈরালার মৃত্যু নেপালি রাজনীতিতে একটা শূন্যতা আনবে। তার অভাব ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে অনুভূত হবে যখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন সংবিধান লেখার কাজ শেষ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো সংগ্রাম করবেন। তার ঐতিহ্য আর অকার্যকর ব্যবস্থাপনার ইতিহাস চলতে থাকবে। কারন তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন যিনি জনগনের সম্মুখে জীবনধারণ করেছেন আর জনগনের চোখ থেকে বাঁচতে পারেন না- মৃত্যুর পরেও।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .