বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইথিওপিয়া: ‘অস্ত্রের জন্য সাহায্যের’ গল্প ঝড়ের সৃষ্টি করছে

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিবিসি একটি ঝড় সৃষ্টি করেছে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ১৯৮০র দশকের দুর্ভিক্ষের সময়ে যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ক্ষুধার্থ মানুষের সাহায্যে পাঠানো হয় তা বিদ্রোহীদের অস্ত্র কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদ্রোহী, যারা ইথিওপিয়ার সরকারের এখন বড় অংশ, আর কিছু সাহায্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান এই কথা অস্বীকার করেছেন। আইরিশ রক তারকা বব গেল্ডফ, যিনি ৮০র দশকে অনেক অর্থ উত্তোলনে সাহায্য করেন তার লাইভ এইড প্রচারণা দিয়ে, বলেছেন ’এটা কখনোই ঘটে নি’। ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট সংবাদপত্র একটা ব্লগ প্রকাশ করেছেন যে এই গল্প বানানো, যা ইথিওপিয়ার সরকারের শত্রুরা বানিয়েছেন সামনের নির্বাচনে সুবিধা পাবার জন্যে।

ইথোপিয়ার ব্লগ ইথিওপিয়ান রিসাইক্লার, যিনি পরিষ্কারভাবে দেশের শাসকদের ভক্ত নন, দ্বিমত পোষণ করেছেন আর “অর্থ সাহায্য, অস্ত্র, আর স্যার বব গেল্ডফ” আর “লাইভ এইড এর মাধ্যমে তোলা অর্থ সাহায্য অস্ত্রের জন্য দেয়া হয়েছে” এই দুটি পোস্টে বিবিসির রিপোর্টকে সমর্থন করেছেন:

১৯৮০র দশকে তোলা মিলিয়ন মিলিয়ন সাহায্যের অর্থ অস্ত্রের জন্য দেয়া হয় আর বিদ্রোহী নেতাদের একটা আয় দেয় যা আজকের তুলনায়ও অমানবিক আর বিলাসবহুল। এটা কোন খবর না। টিগ্রে থেকে হাজার হাজার ক্ষুধার্থ লোক বাধ্য হন সুদানের দিকে যাওয়ায় আর এই পথে অনেকে মারা যান। আর শত শত যারা দক্ষিণপশ্চিম ইথিওপিয়াতে পুনর্বাসিত হয়েছিলেন তাদেরকে সুদানের ভিতর দিয়ে টিগ্রেতে ফেরত পাঠানো হয় [যাদের মধ্য থেকে পথে শত শত মারা যায়]। এটাও কোন খবর না। গতকালের বিবিসির রিপোর্টের পরে এই প্রশ্ন করা যে এই ঘটনা আসলেই ঘটেছিল কিনা তা একেবারেই অদ্ভুত।

“কেন এক শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ সময় লাগলো জনগনের সম্মুখে সত্য বলতে,” এটি ভেবেছেন আব্বেই মিডিয়া: ইথোপিয়ার তথ্য ব্যাঙ্ক এর স্যামুয়েল কেটেমা:

যদি কোন একটা বিষয়ে মানুষ বিস্মিত হন, তাহলে তা হল যে মানুষের এক শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ সময় কেন লাগলো সত্য বলতে। তাছাড়া টিপিএলএফের যে প্রতারণা ইথিওপিয়ার মানুষ তাদেরকে এটার জন্যই চেনে। কিভাবে কোটি টাকার একটি প্রতিষ্ঠান রেস্ট (রিলিফ সোসাইটি অফ টিগ্রে) গঠিত হয়েছিল তা ইথিওপিয়ার মানুষের কাছে খুব বড় কোন গোপনীয়তা না। তারপরে সিআইএ প্রথম থেকে যা জানতো আর আমেরিকার সরকার যা সমর্থন করতো তাও আছে।

আগের দুই বিদ্রোহী কমান্ডার, যারা সত্যটা জানিয়েছেন, এর আগেও আমহারিকে দেয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এটা বলেছেন। এটা নতুন কিছু না। কি করে টিপিএলএফ সাব সাহারা আফ্রিকার সব থেকে ভালো আর সুসজ্জিত সেনাকে সে সময়ে পরাজিত করেছিল? মেলেস জেনাউই, পশ্চিমের অনেকের মতো, বব গেল্ডফ আর বোনো তাকে বর্ণনা করেছেন, খুব চালাক মানুষ হিসাবে, আসলে তার প্রশংসা করে পশ্চিমের যারা যতটা ভাবে তার থেকেও বেশী চালাক।

ইথিওপিয়ার কারেন্ট এফেয়ার্স ডিস্কাসন ফোরামের একজন পাঠক সারা লক্ষ্য করেছেন যে ইথিওপিয়ানরা এই সংবাদে বিস্মিত না:

ইথিওপিয়ায় যারা ইথিওপিয়ার শাসকদের রুপ জানতো এই সংবাদে একেবারেই বিস্মিত হননি, তারা অবাক হয়েছেন যে পশ্চিমের মিডিয়া এটা নিয়ে কি ভাবে কথা বলছে? আর বব গেল্ডফ ইথিওপিয়ার একনায়কদের ক্যাডারের মতো আচরণ করছেন।

‘অস্ত্রের জন্য সাহায্য’ গল্পের মূল দাবির ব্যাপারে ইথিওপিয়াতে সবার জানা ছিল তর্ক করেছেন মেব্রে:

যে গল্প আপনারা বলছেন তা ইথিওপিয়ার সর্বত্র খুব ভালোভাবে জানা কিন্তু এটা পশ্চিমের জন্য তথ্যসহ প্রমান যে একজন একনায়ক যার নিজের নৈতিক চরিত্র নেই সে তার মানুষকে সমৃদ্ধি আর স্বাধীনতা দিতে পারে না। আমরা সবাই পশ্চিমের প্রতি জোর দিয়েছি যে একনায়কদের অস্ত্র দেবেন না… গরিবদের সাহায্য করুন… দরিদ্রদের স্বাধীনতার খুব প্রযোজন…

সাহায্যকারী সংস্থাদের সাথে ইথিওপিয়ার সম্পর্কের আর একটা দিক সম্মুখে এসেছিল আদ্দিস আবাবা ভিত্তিক ব্লগার ওয়েন বারদারের একটা প্রতিবেদনে। সাহায্য ব্লগ হ্যান্ড রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল দেখিয়েছিল দেশের বিলাসবহুল হোটেল শেরাটন, যেখানে অনেক সাহায্যকারী কর্মকর্তারা থাকেন আর ঠিক এর দেয়ালের বাইরের চাক্ষুষ দারিদ্রের মধ্যকার পার্থক্য:

গত সপ্তাহে আদ্দিস আবাবাতে আমি একটা মিটিং এ গিয়েছিলাম যেখানে বাহুল্য ময় শেরাটন হোটেলে আমার থাকা একটু নষ্ট হয়েছিল বেড়ার বাইরের দৃশ্যে, যেখানে ছেঁড়া কাপড়ে মানুষ সাধারণভাবে কম আরাম ভোগ করছিল… ভালো যে স্থানীয় খরা হোটেলের চারপাশের ঝরনাতে পানির চাপ কমায় নি যেখানে গরম এড়াতে আমরা সুইমিং পুলে ডুব দিতাম, বিশেষ করে বিকালের চা এর আগে। মিটিং এর বিষয় ছিল “২০১০ সালের খরা আর দুর্ভিক্ষের সময়ে এইচআরআই এর সুযোগ”

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .