বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিঙ্গাপুর: মৃত্যুদণ্ড বিরোধী প্রচারণা

ইয়ং ভুই কং নামে ২১ বছরের এক মালয়েশিয়াবাসী ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুরের উচ্চ আদালত দ্বারা অভিযুক্ত হন ৪২.২৭ গ্রাম হেরোইন বহনের জন্য আর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, যা এই দেশে ১৫ গ্রামের বেশী বেআইনি দ্রব্য বহনের জন্যে চুড়ান্ত শাস্তি। তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি একজন মাদক বহনকারী মাত্র আর তাকে মাদক বহনে চালাকি করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি একটি আপিল করেন কিন্তু পরে এপ্রিলে শুনানির এক সপ্তাহ আগে তার আইনজীবীদের তা প্রত্যাহারের কথা বলেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে আবার সুযোগ দেয়া হয় নতুন আপিল করার জন্য এবং জনাব এম. রাভি তার প্রতিনিধিত্ব করেন। আপিল আদালত বলেছে যে তাদের দায়িত্ব নতুন আইনী তর্ক শোনার যদিও একটা ক্রিমিনাল কেস শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, বিশেষ করে সেখানে যদি মৃত্যুদন্ড জড়িত থাকে।

বেশীরভাগ ব্লগার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে, এটা জানাচ্ছেন যে বেশীরভাগ দেশ যখন মৃত্যুদণ্ড রহিত করেছে তখন একজন তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ঠিক না।

সিঙ্গাপুরের ব্লগার এন্ড্রু লো, তার এডভোকেসি সাংবাদিকতা ব্লগ দ্যা অনলাইন সিটিজেন এ লিখেছেন:

মৃত্যুদণ্ডের উপরে অনেক দেশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সব দেশেরই কিছু গর্ব আছে। এইসব দেশ দেশ নিশ্চয়ই জাতীয় গর্বের উপরে মানুষের জীবনকে অধিক মূল্য দিয়েছে- বিশেষ করে যখন জোরালো কারণ আছে এমন করার।

আর সিঙ্গাপুরের বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ডের ফলে, আমাদের অবশ্যই কারণ আছে আইন পুনর্বিবেচনা করার।

সিঙ্গাপুরের অ্যাকটিভিস্ট ব্লগার র‍্যাচেল জেং লিখেছেন:

তবে, আশা করছি যে বিচারকদের মধ্যে থাকা মানবিকতা আর জ্ঞান সাহায্য করবে তাদের দেখতে যে এই তরুণের আর একটা সুযোগ পাওয়া দরকার তার ভুল সংশোধনের- যেটা গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত সে বোঝেনি যে হেরোইন তামাকের মতো ‘নিরাপদ’ জিনিষ না।

সিঙ্গাপুরের ব্লগার জু জিয়ানিউ লিখেছেন:

ইয়ং ভুই কংকে শাস্তি দিলে তা পাচারকারী যে তার বয়সীদের ব্যবহার করে বার বার মাদক পাচারের জন্য সেই সমস্যা শেষ হবে না কারণ কং এর মতো মানুষ, যারা গরিব, অজ্ঞাত আর মরিয়া, তাদের যেকোন সমাজে পাওয়া যায় আর মাদক পাচার চক্রের খপ্পরে তারা সহজে পড়ে।

তিনি আরো বলেছেন যে তরুণদের তাদের ‘অজ্ঞতার’ জন্য সাজা পাওয়া উচিত না:

একজন মানুষ পরিণতি বুঝে কোন অপরাধ করা আর না জেনে করার মধ্যে পার্থক্য আছে। একই সাজা দিয়ে এদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করা উচিত না।

সিঙ্গাপুরের ব্লগার টেরেন্স লি লিখেছেন:

একজন মানুষ দোষী হলে কি? কোন মাদক বহনকারীকে শাস্তি দেয়ার কোন মানে হয়না তাকে ভাড়া করেছে যে মাদক সম্রাট তাকে ছেড়ে দিয়ে যাতে সে আর একজন মরিয়া মাদক বহনকারীকে ভাড়া করে।

আর এমন কঠোর ব্যবহার কেন? মাদক বহন করা কি আরো বড় ধরনের অপরাধ যেমন হত্যার সমতুল্য, আর তাই এটারও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দরকার?

এটাতে ন্যায় বিচার কোথায়?

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .