বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত: আইপিএল প্রদর্শনী

ক্রিকেট নামক খেলাটি ভারতে এখন প্রায় ধর্মের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ভারতের ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের শুরু। অন্য খেলা যেমন হকি এবং ফুটবল তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়েছে এবং সারা দেশে ক্রিকেট সবচেয়ে প্রিয় এবং অনুসরণীয় খেলায় পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালে ভারত ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ টি-২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়। এই ফলাফলে ভারত দ্রুত ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ভারত সেদেশে ঘরোয়া ভাবে টি-২০ প্রতিযোগিতার আয়োজনে উদ্যোগ নেয় যে প্রতিয়োগিতায় আন্তর্জাতিক খোলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করবে বলে ঠিক করা হয়, যার নাম দেওয়া ইনডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)। এই প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া বা বিসিসিআই) এবং এর তত্বাবধানে ছিলেন বিসিসিআই এর সহ সভাপতি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) ললিত মোদি। তিনি আইপিএল-এর চেয়ারম্যান এবং কমিশনার।

২০০৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাটি প্রথমবার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু ২০০৯ সালে দ্বিতীয় প্রতিযো্গিতাটি নিরাপত্তার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত আইপিএলের তৃতীয় প্রতিযোগিতাটি আবার ভারতে ফিরে এসেছে, আজ যার উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে (১২ মার্চ, ২০১০)

ভারতীয় ব্লগাররা এই বিচিত্র প্রতিযোগিতা শুরুর আগে একে নিয়ে গুঞ্জনে মেতে উঠেছে, যা অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেমন প্রথমবার নিলামে ডাকার সময়ই তারা পাকিস্তানী খেলোযাড়দের উপেক্ষা করা দেওয়া এবং প্রচার মাধ্যমের লোকজনদের বিরক্ত করা। অনেক নেটবাসী এই প্রতিযোগিতার জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করে আছে।

জাস্ট এ স্লাইফ অফ লাইফ এর কুনাল মুদগাল লিখেছে:

পাগলামি করার সময় এখন শুরু হয়েছে!!

তৃতীয় বারের মত আইপিএল-এর মৌসুম ফিরে এসেছে। এটি এখন অনেক বড়, আগের চেয়ে উন্নত এক প্রতিযোগিতা এবং এই প্রতিযোগিতা আবার ভারতে ফিরে এসেছে। এ বছরটি এই উৎসবপূর্ণ প্রতিযোগিতার জন্য সত্যিকারের এক পরীক্ষা, সে কি তার এই কাঠামোতে টিকে থাকতে পারবে কি না।

আইপিএল শুরুর সময় এই প্রতিযোগিতাকে নিয়ে ভারতের এক ভিন্ন ধরনের চিন্তা ছিল। ইউরোপ জুড়ে ফুটবল যেমন উন্মাদনা তৈরি করে, ভারত আইপিএল নিয়ে সে রকম কিছু করতে চেয়েছিল।

রান্ডম থটস অফ এ ডেমেনটেড মাইন্ড-এর গ্রেটবং এই প্রতিযোগিতা যে বিনোদন উপহার দেবার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে, তার ওজন পরিমাপ করেছেন এবং জিজ্ঞেস করেছেন:

এ সকল কিছু কি ১২০০ রুপিতে পাওয়ার যোগ্য, আমি আমার টিকিটের জন্য অনেক দুর যেতে পারি–একই মূল্যে একসময় একজন পাঁচদিনের একটি টেস্ট ম্যাচ দেখতে পারত?

শুভাশীষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং কোলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম ডেকান চার্জার্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম খেলাটি দেখার জন্য স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। তিনি টুইটপিকে এই সব ছবি পোস্ট করেছেন।

At-IPL-640x480

অভিনব ভারতে আইপিএলের উন্মাদনার বিষয়ে জানাচ্ছে:

টিভি, ইন্টারেনট, সংবাদপত্র… সব প্রচার মাধ্যমে ডিএলএফআইপিএলের বন্যায় ভেসে গেছে, একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান; এটি সবার উপরে অবস্থান নিয়েছে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সাফল্যের বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি বলেন, “বেসরকারি এক অনুষ্ঠানের জন্য পুরো প্রচার মাধ্যম লড়াই করছে, তারা বিনে পয়সায় এই প্রতিযোগিতার সংবাদ ছাপাচ্ছে! বিচিত্র কিন্তু কৌতূহলজনক এক বিষয়”!

ব্লগাররা আইপিএলের উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য যে বিপণন প্রক্রিয়া এবং এর ব্রান্ডিং-এর (নামের প্রচারণা) জন্য যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে তার তালিকা তৈরি করেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির কথা উল্লেখ করা হল:

• প্রথম দিন থেকে এই “অনুষ্ঠানকে মোড়কবন্দী করার” কৌশলটি ছিল এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। ক্রিকেট এখানে উপলক্ষ্য মাত্র!

• ২০ ওভারের প্রতিটির উপর মনোযোগ রাখা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানানো, কেবল এর বিনোদনের মূল্য বাড়িয়ে তোলেনি, একই সাথে তা দ্রুত বাড়তে থাকে উচ্চহারে আয় করা তরুণ সমাজের জন্য বিশেষ একটি বিষয়।

• এই প্রতিযোগিতা চলচ্চিত্র তারকা যেমন শাহরুখ খান, প্রীতি জিন্তা এবং শিল্পা শেট্টিদের আকর্ষণ করেছে, তাদের সাথে এটি বড় বড় শিল্পপতিদের আকৃষ্ট করেছে যারা প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দলের মালিক হয়েছেন। তারা প্রচার মাধ্যম এবং জনতার আগ্রহের জায়গাটিকে নিশ্চিত করছে যা এই ভবিষ্যৎ-এ প্রতিযোগিতার সাফল্যেকে বাড়িয়ে তুলতে আরো অবদান রাখছে।

স্মোক সিগনাল-এর প্রেম পানিকার আইপিএলের নিলাম প্রক্রিয়ার উপর আলো ফেলেছেন এবং তিনি এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক তুলে ধরেছেন।

জেএস সকলকে বলছে নানা বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও আইপিএল উপভোগ করার জন্য:

একদিনের ম্যাচ ও টি-২০ বিশ্বকাপ, এমনকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও না, যেমনটা মোদির বিশাল বহর যা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) নামে পরিচিত, প্রতিযোগিতার মাত্রাকে অনেক উচুঁতে নিয়ে গেছে। এমনকি যদি আমরা মুক্ত হয়ে বিবেচনা করতে চাই তা হলে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ গত কয়েকটি আসরে কেমন যেন উত্তেজনাহীন হয়ে পড়েছে, যদিও তা খুব সামান্য পরিমাণে ঘটেছে।

কিন্তু এখনো কোন কিছু বিবেচনা করার সময় নয়; তার বদলে একটি পানীয়ের পাত্র হাতে তুলে নেওয়া যাক, সোফায় আরাম করে শয়ন করুন এবং আইপিএলের দিকে মনোযোগ দিন। এটি এমন এক সময় যখন ক্রিকেটের পঞ্জিকা টিভির সময় দখল করে, যার ফলে সকল ধারাবাহিক নাটক পিছনে চলে যায় এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গৃহবধূরা হয় রিমোট হাতে পায় নতুবা পুরো দলের সাথে যোগ দেয়।

Youtube-IPL-channel-640x480

ডাব্লিউএটিব্লগ জানাচ্ছে যে ইউটিউব আইপিএলের ৬০ টি খেলার সবগুলো তার নিজস্ব চ্যানেলের সরাসরি মাধ্যমে প্রদর্শন করে আইপিএলের প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে ২০০ মিলিয়ান ভারতীয় রুপি অর্জন করেছে (৪.৪ মিলিয়ান মার্কিন ডলার)।

গতকাল রাতে ডিজিটাল প্রচার মাধ্যমের এক পুরস্কার প্রদানের রাতে আমি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলছিলাম, যারা আমাকে ইউটিউব বিষয়ে তাজা সংবাদ প্রদান করল যে ইউটিউব বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার ব্যাপারে অসাধারণ কাজ করেছে। পুরো আইপিএল প্রতিযোগিতার জন্য বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে তারা ২০ কোটি রুপি অর্জন করতে যাচ্ছে, একই সাথে ব্যক্তিগত কিছু বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকার মূল্য ২ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে।

এই বিষয়টি যে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে ইউটিউবকে আরো ব্যায়বহুল করে তুলেছে, যদি আপনি টিভি দর্শকদের বিপরীতে ইউটিউবের মাধ্যমে ভারতে কতজন লোক এই প্রতিযোগিতা দেখতে পাবে তার হিসেব করেন। বিজ্ঞাপনী সংস্থার বেশিরভাগ লোক বলছে যে এটি ভারতীয় ডিজিটাল মাধ্যমের একটি বড় বিজয় এবং কি ভাবে ডিজিটাল মাধ্যমকে বিক্রি করতে হয় তার এক বড় শিক্ষা।

ইতোমধ্যে আইপিএল টুইটারের আজ এক আলোচনার ধারায় পরিণত হয়েছিল। এখানে টুইটারে কিছু প্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা বিশেষ করে উদ্বোধনী দিনের উপর করা, যে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কিছু তারকা ও ব্যান্ড (সঙ্গীত পরিবেশনকারী দল) যেমন ইউবি৪০, এ্যাবা, লায়নাল রিচি প্রমুখরা সঙ্গীত পরিবেশন করে।

স্মোকিসানি: কর্তাব্যক্তিরা#আইপিএল সম্প্রদায় তৈরি করেছে #অরকুট এইচটিটিপি://ডাব্লিউডাব্লিউডাব্লিউ.অরকুট.কো.ইন/মেইন#কমিউনিটি?সিএমএম=৯৯০৮৭২৫৩

সিওপ্যাটেল: #আইপিএল #ম্যাচ #ক্রিকেট #মুম্বাই এগুলো টুইটারে সবচেয়ে সেরা ১০টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে যা এক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। ভারত সত্যিকার অর্থে টুইটার ব্যবহার করে.. আপনি কি তা করেন?

জেইনেলওয়াজলিব: ডিওয়াই স্টেডিয়ামটিকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। এই মুহূর্তে নিজের চরিত্রের সাথে মানায় না এমন এক গর্ব অনুভব করছি। ওই সমস্ত চেয়ারের একটির ক্ষেত্রে আমার পরোক্ষ অবদান রয়েছে। #আইপিএল

প্রদীপ্ত: ওএমজি (ওহ মাই গড, হে আমার ঈশ্বর)! একটি#ইউএফও!!! সাদা এক ইউএফও ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের উপর ভাসতে দেখা যাচ্ছে।# মাথায় দেওয়া ফ্লুরোসেন্টের মজার টুপি পরে ভিনগ্রহবাসীরা স্টেডিয়ামের মাঠের উপর হাটছে!#আইপিএল

ক্রিকস্কোরএপিলেট: #ক্রিকেট #আইপিএল বলিউডের সুন্দরী, আকর্ষণীয় দীপিকা পাডুকোনে এখন মঞ্চের উপর, সে তার চলার মধ্য দিয়ে দর্শকদের মাঝে এক উত্তেজনা তৈরি করছে।

রাকানিয়ার০৭: বরাবরের মত… কি এক বাজে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে…. আর কতকাল আমাদের এ রকম একটা অনুষ্ঠান সহ্য করতে হবে: (#ফেল #আইপিএল)

প্রনভ মারাঠে: লেজার প্রদর্শনী দেখা যাচ্ছে #আইপিএলে # উদ্বোধন # অনুষ্ঠান সত্যিকার অর্থেই বিস্ময়কর। দিপিকার প্রদর্শনীটি বেশ ভালো ছিল লাগলো।

বেদান্তবার্মা: আমি আইপিএলের অনুষ্ঠানে দেখে উত্তেজিত, যতদুর বলা যায় এটি মনকে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। এটি পুরোদস্তুর এক আনন্দদায়ক অনুষ্ঠান) তারা এর যোগ্য #আইপিএল।

এখন ভারতীয় ব্লগস্ফেয়ার ক্রমাগত আইপিএলের গল্পে সমৃদ্ধ লাভ করতে থাকবে। এর অন্য সব বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্লেষণ এবং গুজব তৈরি হতে থাকবে। অর্থ, বিতর্ক, এবং প্রচার মাধ্যমের এমন উত্তেজনা সত্ত্বেও, আশা করা যায় যে এদের কারণে আইপিএলে ক্রিকেট দ্বিতীয় সারিতে চলে যাবে না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .