বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ক্যাম্বোডিয়ার গ্রেট ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল?

ক্যাম্বোডিয়ার সরকার স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট (এমন এক জায়গা যেখান থেকে দেখা যাবে ইন্টারনেটের নেটওয়ার্কে কে কোথায় প্রবেশ করছে) স্থাপন করতে যাচ্ছে, যাতে সরকার ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি, চৌর্যবৃত্তি, এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারে। তবে টেলিকম ক্যাম্বোডিয়ার (টিসি) মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন নীতি নেই। এটি রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান, যা তার ক্ষমতার মাধ্যমে ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করবে, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাক্তিগত ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেবার ক্ষমতা রাখবে।

নম পেন পোস্টের তাজা সংবাদ অনুসারে, টিসির এই কর্তৃত্বপরায়ণতার ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একই সাথে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, ক্যাম্বোডিয়া কি প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোকে অনুসরণ করবে, যারা ইন্টারনেট সেন্সরশিপের অনুশীলন করে। একদিকে টিসির উপ পরিচালক দাবি করেছেন, এই প্রতিষ্ঠানের পরিষদ ইন্টারনেট সাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, অন্যদিকে অন্য মন্ত্রণালয় যার মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ও রয়েছে এই বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি।

যদি কোন ওয়েবসাইট সরকারকে আক্রমণ করে, অথবা কোন ওয়েবসাইট আপত্তিজনক কোন ছবি প্রদর্শন করে যেমন অশ্লীল ছবি, অথবা সরকারের কোন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে, তা হলে সেটিকে আমরা বন্ধ করে দেব। যদি টিসি এক্সচেঞ্জ পয়েন্টের ভূমিকা পালন করে, তা হলে ক্যাম্বোডিয়ার সমাজ তাতে উপকৃত হবে, কারণ এক্ষেত্রে সরকারের আমাদের উপর আস্থা তৈরি হবে, এবং আমরা ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারব” এই কথাগুলো বলেন টিসির উপ পরিচালক চিন দারো।

এই দাবীর বিপরীতে তথ্যমন্ত্রী খিয়ু কানহারিত টিসির কর্তৃত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং সরকারের অবস্থানের প্রতিধ্বনি করেন:

“আমি জানি না এই ধরনের কথা বলার তারা কে, কিসের ভিত্তিতে এ সব বলছে […], যদিও সরকার ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেবার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু সরকারের সে রকম কোন কিছু করার ইচ্ছে নেই, এবং এছাড়াও অমীমাংসিত এক প্রশ্ন রয়েছে যে নিয়ন্ত্রণ নীতির কোন প্রয়োগ করা হবে কি না […], ইন্টারনেট থেকে কি সব উপাদান ছেঁকে ফেলা বা প্রদর্শন বন্ধ করা হবে, কে তা নির্ধারণ করবে”? আমাদের কাছে এই প্রযুক্তিটি রয়েছে , কিন্তু কোন উপাদানকে ছেঁকে ফেলার বিষয়টিকে আমরা যথাযথ মনে করি না।

এই বিতর্কের বাইরেও, এর আগে অতীতে ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যার মূল শিকার ছিল শিল্পীরা। সেই সমস্ত ওয়েবসাইটের ওপর হামলা চালানো হয় যেগুলো মূলত ছিল সরকারের সমালোচক অথবা যারা প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য উন্মোচন করেছিল। অশ্লীল ছবি প্রদর্শনকারী ওয়েবসাইটগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার মধ্য ছিল রিয়াহু.নেট, যা কেবল ক্যাম্বোডিয়ার বাইরের নেট ব্যবহারকারীরাই ব্যবহার করতে পারে।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রনে সরকারের বর্তমান পরিকল্পনার অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা দ্রুত তাদের আপত্তির বিষয়টি প্রদর্শন করে। টাচ নরিন, প্রস্তাবিত ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার (সেন্সরশিপের) ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার মতে, এই ধরনের মনোভাব মুক্ত অর্থনীতি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে যায় না। ক্যাম্বোডিয়ার এই পরিকল্পনা চীনের আদর্শের অনুসারী যেখানে “গ্রেট ফায়ারওয়াল” পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। তার মন্তব্যের ঘরে (স্ট্যাটাস আপডেট) রাষ্ট্রীয় ভাবে পরিচালিত ওয়েব সংযোগ ছেঁকে ফেলার ঘটনাটি যুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে নরিন পোস্ট করেছেন:

“বড় ভাই যা করে, ছোট ভাই তা অনুসরণ করে”।
“এখানে ছোট ভাই মানে ক্যাম্বোডিয় সরকার, আর তার বড় ভাই হচ্ছে চীন। আমাদের সরকার ইন্টারনেটের উপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে…….. এটা হচ্ছে ইন্টারনেটের উপরে সেন্সরশিপের আরোপ, চীন যার চর্চা করে থাকে”। ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করা এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

একই ভাবে ওয়েবের উপর সরকারের পরিকল্পনায় সিদার্থ কং তার চিন্তা ব্যক্ত করেছে। এই ব্লগার ২৮ বছর বয়স্ক এক ভদ্রমহিলা যিনি ৭ বছর ধরে সক্রিয় ভাবে বিভিন্ন এনজিওতে আইসিটি বা যোগাযোগ প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি তার ফেসবুক মন্তব্যের ঘরে (স্ট্যাটাসে) পরামর্শ প্রদান করছেন:

“সরকারি কর্মকর্তাদের এমন মানসিকতা থাকা উচিত না, যা তারা দায়িত্ব হিসেবে এই খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তার বদলে জনগণের সত্যিকারের সুবিধার জন্য বিষয়টিকে মুক্ত ভাবে অনুসরণ করা উচিত এবং এর জন্য খোলা পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত”।

কটি চ্যাটের (ইন্টারনেটে আলাপন) মাধ্যমে প্রদান করা এক সাক্ষাৎকারে প্রথিতযশা ব্লগার কোউনিলা কেও তার এই চিন্তা ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের এই পরিকল্পনা ব্লগস্ফেয়ারের জন্য এক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রশ্ন: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের উপর নিয়ন্ত্রণে এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট স্থাপনের সরকারে যে পরিকল্পনা, সে ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

কোউনিলা: একজন সরকারি কমকর্তা বলেছেন যে অশ্লীল সাইট ও একই সাথে সরকারের সমালোচনা করে এমন সাইটগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হবে আমি এই তথ্যটিকে মোটেও পছন্দ করি নি। কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা নেম পেন পোস্টকে প্রদান করা সাক্ষাৎকারে বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে এই প্রচেষ্টার দু'টি দিক রয়েছে। প্রথমত, সরকার গোপনীয়তার মাধ্যমে আরো বেশি টাকা চায় এবং দ্বিতীয়ত, এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করতে চায়।

প্রশ্ন: এই নিয়ে ব্লগারদের সাথে কোন আলোচনা করেছেন কি ?

কোউনিলা: এই বিষয়ে আমি কয়েকজন ব্লগারের সাথে আলোচনা করেছি এবং তাদের অনেকে বিষয়টি পছন্দ করেনি….

প্রশ্ন: এর ফলে স্থানীয় ব্লগস্ফেয়ারে এর উপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে?

কোউনিলা: যদি ইন্টারনেটের উপর এই নিয়ন্ত্রণ সফল হয়, তা হলে তা ব্লগস্ফেয়ারের বাসিন্দাদের জন্য এক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে… এর কারণ, রাষ্ট্রীয় ভাবে পরিচালিত যে কোম্পানী এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটি ব্লগে সরকারের প্রতি যারা সমালোচনা মুখর তাদের উপাদানকে অথবা সমালোচনামূলক মন্তব্য অথবা চিন্তাকে সেন্সর করতে পারবে। এমনকি যদি সরকার এখনো এই ধরনের চিন্তার বিষয়টিকে পরিষ্কার করে উপস্থাপন করে নি, তবে তারা কিছু ধারণা দিয়েছে (যে ধারণা প্রদান করেছে সরকারের এক বা দু’জন কর্তা ব্যক্তি এবং দু’জন ভিন্ন কর্মকর্তা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করেছে) যা ব্লগারদের মধ্যে এক অনিশ্চিত অবস্থা এবং ভয় তৈরি করেছে, যারা সরকার, রাজনীতি এবং সামাজিক বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে চায়।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন ক্যাম্বোডিয়া ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীনের নীতি অনুসরণ করবে?

কোউলিনা: আমি আশা করি ক্যাম্বোডিয়া চীনের পথ অনুসরণ করবে না.. ক্যাম্বোডিয়ার প্রতিটি খাতে প্রচুর উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে.. এবং জনতার মতামতকে অবশ্যই প্রচণ্ড উৎসাহ প্রদান অথবা মূল্য প্রদান করা উচিত। ব্লগারদের সমালোচনা অথবা রাজনৈতিক মন্তব্যকে নিন্দা হিসেবে গ্রহণ না করে, বিবেচনার সাথে গ্রহণ করা উচিত। এই বিষয়টিকে আমাদের এভাবে দেখা উচিত কারণ ক্যাম্বোডিয়াকে যদি সকলে দ্রুত সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তা হলে সরকার এবং জনতা উভয়ের সবকিছুতে অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যদি আমরা আমাদের দেশটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তা হলে এটাই একমাত্র উপায়। কিন্তু যদি সরকার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ সফল হয়, সেক্ষেত্রে আমি সন্দেহ করি ক্যাম্বোডিয়া ডমিনো ইফেক্টের (একটি ঘটনার মধ্যে দিয়ে পর একটি ছোট ছোট অনেকগুলো প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়া, একটা ডমিনোর পতনের মধ্যে দিয়ে সামনেরগুলো পড়তে থাকা) মধ্যে পড়ে যাবে, ইতোমধ্যে কিছু প্রতিবেশি রাষ্ট্র যার মধ্যে পড়ে গেছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ডিটেল আর স্কেচি জাতীয় মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার অধীনে সরকারের ইন্টারনেটকে ছেঁকে ফেলার এই উদ্যোগের বিষয়টির বিরোধিতা করে।

“এই উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ এখনো অঙ্কন করা হচ্ছে। কিন্তু নৈতিকতা বজায় রাখা পুলিশের বেশিরভাগের প্রচেষ্টা যেমন হয়, এটার ক্ষেত্রেও মনে হচ্ছে, এর নিয়তি আমলাতান্ত্রিক নির্বুদ্ধিতার মধ্যে গিয়ে শেষ হবে। তাদের এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখা উচিত যে সারা দেশে পতিতাবৃত্তি প্রচলিত রয়েছে, ইন্টারনেট জগৎ-এ ছোট্ট-অংশ সেন্সর করা, কেবল এক বিভ্রান্তির নামান্তর। এটা একটা বিস্ময়, যে তারা এই বিরক্তিকর কাজটি করার চেষ্টা করছে”।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .