বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পোল্যান্ড: ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকারের উপর এক সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা সৃষ্টিশীলতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পোলিশ ব্লগারদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ওয়েব সাইটগুলোর নতুন করে নিবন্ধন ও সেবা বিষয়ে সরকারের যে প্রস্তাবনা তা নিয়ে আলোচনা ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। এর ফলাফল হচ্ছে উল্লিখিত প্রস্তাবনাটিকে অপসারণ করা হয়েছে। পোলিশ ওয়েব সাইটগুলোর উপর যে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি বেশ কিছু সৃষ্টিশীল প্রতিক্রিয়ার করেছে; এই সব প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেয় যে, পোল্যান্ড ২০১০ সালে এক সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নীতি বা সেন্সরশিপ আরোপের কতটা কাছে অবস্থান করছিল।

ব্লাকআউট ইউরোপ [পোলিশ ভাষায়]- ওয়ারশতে সংগঠকরা যে বিষয়টি প্রদর্শন করেছে-তা হল, তারা একটি ডামি ওয়েবসাইট (বিশেষ কাজে ব্যবহারের জন্য অনুরূপ এক ওয়েবসাইট) ওয়েব সাইটের সাথে এটিকে যুক্ত করেছে, যা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে (পোলিশ ভাষায়):
STOP

যে ওয়েবসাইটে আপনারা প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন তা বিপজ্জনক। নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেষ্ট হউন। এটাতে প্রবেশের উপর আমরা নিষেধাজ্ঞা জারী করেছি।

এটাতে হয়ত এমন বিষয় থাকতে পারে, যা শিশু পর্নোগ্রাফি, জুয়ার মত এমন সব উপাদান, যা জনতাকে আহত করতে পারে, এমন উপাদান, যা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

এই সাইটে প্রবেশের চেষ্টা ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয় দ্বারা নিবন্ধনকৃত এবং বিষয়টিকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কর মন্ত্রণালয় এবং একই সাথে স্থানীয় ইউরোপুলিশ স্টেশন এটিকে দেখাশুনা করে।

পুলিশ কর্মকর্তার আগমনের সময় দয়া করে শান্ত থাকুন।

‘দয়া করে আমার প্রতিটি বাক্যকে কোন প্রতিশ্রুতি হিসেবে গ্রহণ করবেন না’- ডোনাল্ড টাস্ক।

একই সাইটে একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে, যা তৈরি করেছে মার্টিন লেকোউইজিক “খাঁচা” শিরোনামে:

একদিন দাসত্ব শৃঙ্খল তৈরি হবে
যেমন শীতের রাতের শেষে উষ্ণতা হারিয়ে যায়
স্বাধীনতার জন্য কেউ লড়াই করছে না
কারণ কেউ একজন তার উষ্ণ কণ্ঠস্বর দিয়ে আমাদের বোঝানো চেষ্টা করছে
রাস্তায় কোন ট্যাংক নামানো নয়
তার বদলে তুমি নিজেই ঘরে বসে রয়েছ
যখন আমাদের কোন কিছু নিয়ে চিৎকার করার জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে
যখন আমাদের হয়ে চিৎকার করার জন্য কেউ একজন রয়েছে।

এখনো এই গানের উপর মন্তব্য করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে হিটো১২৪ লিখেছে [পোলিশ ভাষায়]:

আমার মুখে আর কোন শব্দ নেই… এই গানটি শুনে আমার চোখে কান্না চলে এসেছে… এটা খুব বেদনাদায়ক বিষয়…

সাবেক২৩বি এর বিরোধীতা করছে [পোলিশ ভাষায়]:

আমি খুব বেদনা অনুভব করি, যখন তারা তার মত একজন মানুষকে অভিযুক্ত করে। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদদের নিজস্ব কোন মতামত নেই, কারণ তাদের তা নেই। তারা নেচে ওঠা প্রয়োজন, যেমনটা তারা বলছে।

পিগমিয়ে ১৮ যুক্তি দিচ্ছেন [পোলিশ ভাষায়]:

সত্যিকারের এক সঙ্গীত। সব সময় সেন্সরশিপকে মোকাবেলা করার একটা উপায় থাকে, ফ্রিনেট এবং টর (ফ্রিনেট এবং টর সেন্সরশিপহীন এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন নেটওয়ার্ক ও সফ্টওয়্যার)-এর নামহীন বা পরিচয়হীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, আমার মতে কোন বিষয়ের উপর আরো তথ্য পাবার জন্য সেগুলোকে যাচাই করে দেখা হোক, যেখানে সেন্সরশিপের কোন অধিকার নেই:), উল্লাস কর।

একই লেখকের অন্য এক গান, যার নাম “আনসেন্সর(নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়)”, যতদুর জানা যায়, এখন পর্যন্ত এটি ৩৮,০০০ জন ব্যক্তি দেখেছে:

‘ যে আপনি আমাদের স্বপ্নের নিরাপত্তা এবং রক্ষার দেখাশুনা করেন,
সেই আপনার প্রতি আমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই,
আমরা আপনার বিশ্বস্ত কুকুর!
কাজেই ধন্যবাদ আপনাকে, সুন্দর প্রভু আমার, যে আপনি আমাদের মুখ বন্ধ করার জন্য জালতি বা মুখোশ পরিয়ে দিয়েছেন, কুকুরের মুখ বন্ধ করার জন্য যেমনটা করা হয়,
ধন্যবাদ, বিশাল এক ধন্যবাদ আপনাকে…’

এই পোস্টেও ক্রমাগত মন্তব্য আসতে থাকে।
ভগলা যে এই বিষয়ে সোচ্চার, সে এই ব্লগে এক অন্তর্দৃষ্টি মূলক বিশ্লেষণ পোস্ট করেছে (পোলিশ ভাষায়)। তিনি সেখানে এই ভিডিওটি পোস্ট করেছেন, যেখানে সে পুরোনো এক পোলিশ চলচ্চিত্রের গান গাইছে যার নাম “নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া সঙ্গীত’:

একটি কুঠার, কোদাল ও কিবোর্ড, যারা দ্বিতীয় দফায় সুযোগ পেয়েছে [এখানে রাজনৈতিক পেশাকে উল্লেখ করা হয়েছে],
একটি কুঠার, কোদাল, সিলমোহর, চাকু, নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া সাইটের নিবন্ধন, ঘরের এক কোনের পেছনে রয়েছে।

এই ভাইরাস রোগ ‘মানসম্পন্ন’ একটি বিশেষ চলচ্চিত্রের সারাংশ, যা হিটলারকে নিয়ে তৈরি করা চলচ্চিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে, সেখানে এর ব্যবহার করা হয়েছে:

কি এক লজ্জা! ইতোমধ্যে আমরা তাদের ভোট দিতে দিয়েছি! এর পর তারা আর কি চায়?!

তিনদিন আগে বুউডযু মন্তব্য করেছে [পোলিশ ভাষায়]:

যদি আমরা সেন্সরশিপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি (কোন এক বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত এবং প্রতিদিনের ঘটনায়) তা হলে তা এক বিচিত্র প্রধানমন্ত্রীর কল্পনার বিচিত্র ঘটনা চেয়েও এক উচ্চ স্তরে ঘটবে:

টমাজ সিমইকোয়াকস্কি তার ব্লগে পোল্যান্ডে বিভিন্ন সময় যে সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে তার সময়সূচি পোস্ট করেছেন [পোলিশ ভাষায়]:
polishcensorshiphistory

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .