বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপান: দীর্ঘজীবনের চিন্তা

বিশ্বের সব থেকে দ্রুত বয়স্ক হওয়া জাতি হিসাবে আর সব থেকে বেশী দীর্ঘ জীবনের দেশ হিসাবে, জাপানের অনেক চিন্তার ব্যাপার আছে জীবনের মান আর দীর্ঘস্থায়ী সমাজের ব্যাপারে। তবে এটা খুব কম দেখা যায় যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটা চিন্তা করা হয়। দীর্ঘজীবন একটি ঝুঁকি (長生きはリスクである) ব্লগের লেখক সাতোনাও তার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গী যোগ করেছেন যে দীর্ঘজীবনকে উদযাপন করা উচিত না।

টিকা: পুরো পোস্ট ব্লগারের সম্মতিতে ভাষান্তর করা হয়েছে। সকল লিঙ্ক টমোমি সাসাকি যুক্ত করেছেন সুত্রের জন্য।

আজকাল আমি মানুষের সাথে আলোচনা করতে থাকি যে ‘দীর্ঘ জীবন কিভাবে বিপদজনক’ হতে পারে।

এটা সম্ভবত এই কারণে যে আমার কাছের মানুষরা চল্লিশ আর পঞ্চাশে পদার্পণ করছেন আর আমি নিয়মিত বাড়ির কাছের গল্প শুনতে পাই: বাবা মার দেখাশুনা করতে করতে উনি অসুস্থ হয়ে গেছেন, তার বাবা সব সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ক্যান্সারের জন্য থাকেন, বা তার মার ডিমেন্সিয়া রোগ আছে আর সারাক্ষণ দেখাশুনা লাগে। এর উপরে আমাদের বেতন বাড়ছে না আর অর্থ সংকট আছে। সবার চিন্তা আর সমস্যা আছে। অনেকে যারা অনেক কিছুর ভিতর দিয়ে গিয়েছে অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নেন যে ‘দীর্ঘ জীবন সুখের সমকক্ষ না।‘ দীর্ঘদিন ধরে জাপানিদের মধ্যে এই ধারণা চলে আসছে যে দীর্ঘ জীবন সুখের চাবিকাঠি। এটা অবশ্যম্ভাবী যে কোন সময়ে এই ধারণা পাল্টাতে হবে, যা শোয়া কাল থেকে আমাদের মাথায় গেঁথে দেয়া হয়েছে।

তাদের পরিচিত একজন ৭০ বছর বয়স্ক ‘ধীর আত্মহত্যা’ শুরু করেছেন।

অন্য কথায় এই মানুষ, যিনি এতো দিন বেছে শুনে সুস্থ জীবনধারণ করেছেন, এখন যা খুশি তা করা শুরু করেছেন। এমন জিনিষ যা খারাপ বলে করা বন্ধ করেছিলেন তা আবার শুরু করেছেন কারণ দীর্ঘ জীবন থাকার ঝুঁকি আছে। তার যুক্তি এমন: দীর্ঘ জীবন ধারণের থেকে যা খুশি তাই করেন এটা না ভেবে যে আপনি দ্রুত মারা যেতে পারেন।

আমি এই মাসে এতো ব্যস্ত ছিলাম যে আমার শরীরের যত্ন নিতে পারিনি।

যদিও কেউ দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকেন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান অনুসরণ করে আর নিজেকে অতিরিক্ত কিছু করার থেকে ‘বাঁচিয়ে’, তবুও ডিমেন্সিয়া থেকে ভুগতে কেউ পারে, শয্যাশায়ী হয়ে শেষে কষ্ট পেতে পারেন। এর যে কোনটাই কষ্টকর আর সন্তানদের জন্য বোঝা হতে পারে। জরুরীভাবে চিন্তা করা দরকার সীমিত আর অতিরিক্তের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য আনার ব্যাপারে কারন অসুস্থতাকে হালকাভাবে নেয়ার কিছু নেই। এখনকার মতো আমি এই ধারনা থেকে মুক্তি পেতে চাই যে ‘ দীর্ঘ জীবন সুখের সমতুল্য’। দীর্ঘ জীবন মানেই সুখ না। প্রতিদিন বাঁচা উচিত আর সময় যখন আসবে, নিরব সম্মান নিয়ে মারা যাওয়া উচিত। আমি এইভাবে যেতে চাই। আমার সব কিছু ঠিক করা আছে, আর আমি মানসিক ব্যায়াম করি যে আজকে শেষ দিন হতে পারে, কিন্তু যা দেখার তা হল কিভাবে মারা যাব। অবশ্যই, এটা খুব জটিল ব্যাপার।

দয়া করে লক্ষ্য করবেন যে জন্মাবার ব্যাপারটি বা জীবনকে আমি হালকা করে দেখছি না। আমি আত্মহত্যার কথাও লিখছি না। আমি লিখছি জীবনের শেষকে কিভাবে গ্রহন করা যায়। কিভাবে একজন মারা যাবে তার থেকেই সে কিভাবে বাঁচবে এই চিন্তা আসে। আমি কেবলমাত্র আর একটু কঠোরভাবে চিন্তা করতে চাই বিশেষ করে জীবনের জাদুকে প্রশংসা করে মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে যা আমাদের প্রত্যেকেই জানতে পারবো।

মনে রাখবেন, এটা হওয়া উচিত দীর্ঘদিন বেঁচে ভালো থাকা।

সহায়ক লেখা: জাপান: মোমুস, এই বয়স্ক দেশ সম্পর্কে

জিগি অকুগাওয়াকে ধন্যবাদ অনুবাদে সহায়তা করার জন্যে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .