বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ, ভারত: টিপাইমুখ বাঁধ ও স্বচ্ছতা

টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমাদের পূর্বের রিপোর্টটি পাঠকদের নিকট সমাদৃত হয়েছে। এই পোস্টটিতে জুলাই ২০০৯ পর্যন্ত এ নিয়ে সর্বশেষ খবর দেওয়া হল।

আসাদুল হক তার হকস টকিং ব্লগে এ এই বিষয়টি যে এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই তুলে ধরেছেন:

The Tipaimukh dam issue currently continues to dominate the domain of political, media, intellectual and civil society’s discourse in Bangladesh with a unilateral demand for revocation of India’s decision for the project. Massive public protest in different forms i.e. rallies, protest meetings, strikes and so on against the dam continue to gain momentum in Bangladesh.

টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যু বর্তমান বাংলাদেশ-এর রাজনীতি, প্রচারমাধ্যম, চিন্তাবিদ এবং সাধারণ জনগণ -এর মাঝে বির্তকের সৃষ্টি করেছে। একটাই দাবি সকলের – তা হল,ভারত যেন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিবাদ যেমন: মিছিল, প্রতিবাদ সভা, ধর্মঘট ও অন্যান্য এই আন্দোলনে গতি সঞ্চার করেছে।

সচলয়াতনে জাহিদ লিখেছেন:

বাংলাদেশ আজ একটি ভয়ঙ্কর সমস্যার মুখে পতিত, আমরা এখনো বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারছিনা তাই আসল চিন্তা না করে রাজনীতির কাঁদা ছোড়াছুড়ি করে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে ব্লগে, সংবাদপত্রে, টিভিতে, জনসভায় আলোচনা হচ্ছে, কুটনৈতিক পর্যায়ে মতানৈক্য চলছে, বিভিন্ন দলের বিশেষজ্ঞদের নাম জানা যাচ্ছে কিন্তু তার পরেও আমরা পনের কোটি মানুষ শান্তিতে ঘুমোচ্ছি। সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকার দরিদ্র কৃষকটি, যার সারা বছরের খাবার আর জীবন যাপনের একমাত্র অবলম্বন বোরো ধান, কিংবা দরিদ্র জেলেটি যার খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা নির্ভর করছে বর্ষাকালের হাওড়ের মাছের উপর সেও শান্তিতে ঘুমুচ্ছে কারন সে জানেনা কি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে তার জন্য। ফাঁরাক্কা ব্যারেজের কারনে আমাদের উত্তাল প্রমত্তা পদ্মা আজ যৌবন হারিয়েছে সেই সাথে ধুকে ধুকে মরছে এর শাখানদীগুলো। ১৯৭৪-৭৫ সালে নির্মিত ফাঁরাক্কা ব্যারেজের ফলে ভারতের একচেটিয়া পানি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে একটি চুক্তি করতে কুটনৈতিক আলোচনা গড়িয়েছে ২০ বছর, আর এই সুদীর্ঘ সময়ে আমরা হারিয়েছি আমাদের নদীর নাব্যতা, আমাদের ফসলের জমি হারিয়েছে তার উর্বরতা, লবনাক্ততা এসে গ্রাস করেছে আমাদের অহংকার সুন্দরবনকে, ইবনে বতুতার সবুজ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পরিনত হয়েছে শুষ্ক মরুভূমিতে।

টিপাইমুখ নামের এই মরণফাদঁ এর বিরুদ্ধাবস্থান ইতিমধ্যে ইন্টারনেট এর এই জগৎ এ ছড়িয়ে পরেছে। ফেসবুকে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ৮০ এর অধিক গ্রুপ খুলা হয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধ কর, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, টিপাইমুখ বাঁধ ও ফুলেরতাল ব্যারেজ – ভারতকে থামান, টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধ করুন, আমাদের বাংলাদেশ বাঁচান টিপাইমুখ রচনাবলী। এছাড়া এ নিয়ে সম্পূর্ণ নিবেদিত ব্লগও খোলা হয়েছে

প্রথম আলো ব্লগ এর ব্লগার আনন্দময়ী ইআইএ(এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) রিপোর্ট থেকে আবিষ্কার করেছেন যে:

সবচেয়ে উলেখযোগ্য যে তথ্যটা পেলাম সেটা হলো টিপাইমুখ ড্যাম সাইট থেকে ৯৫ কি.মি. ভাটিতে ফুলেরতালে একটা ব্যারেজ নির্মানের প্রস্তাবনা আছে (যা ভারত সবসময় অস্বীকার করে আসছে)।

ম্যাপটি সুবীর ভৌমিকের সৌজন্যে

ম্যাপটি সুবীর ভৌমিকের সৌজন্যে

নাভিদ বলেছেন:

The Tipaimukh Dam project may not be harmful to us rather useful if it only consists of a Dam. The problem will arise if India makes Fulertal Barrage along with the Dam. The Barrage can really render this great country into a desert.

টিপাইমুখ প্রকল্প ক্ষতিকারক হবে না বরং আমাদের জন্য লাভজনক হবে যদি এটি কেবল বাঁধ হয়। কিন্ত সমস্যা হবে যখন ভারত ফুলেরতাল ব্যারেজ বানাবে বাঁধ এর সাথে। ব্যারেজটি আমাদের দেশকে একটি মরুভুমিতে রুপান্তর এর জন্য যথেষ্ট।

ভারতীয় হাই কমিশনার এর সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশ এর রাজনীতিতে ঝড়ের সৃষ্টি করেছে, জানাচ্ছে ‌অ্যান অর্ডিনারী সিটিজেন ব্লগ। ভারতীয় সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক তার ব্লগে লিখেছেন যে তথ্য গোপনের ফলে সমগ্র ব্যপারটি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি বলেছেন:

If we leave this aside as normal compulsions of domestic politics in Bangladesh, it still falls on India to take a lower-riparian neighbour like Bangladesh into confidence when we plan such huge projects like Tipaimukh.

আমরা যদি ব্যপারটিকে ছেড়েও দেই বাংলাদেশ এর রাজনীতির সাধারণ ব্যপার বলে তা তবুও ভারতের উপর এ দায় বর্তায় বাংলাদেশ এর মত একটি ছোট দেশকে তার আস্থায় নিতে, যখন টিপাইমুখ এর মত বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা আমরা করি।

দা নিউ হরাইজন ব্লগের দিগন্ত সরকার মন্তব্য করেছেন যে তিনি ইআইএ ও ইএমপির রিপোর্টে “এমন কিছুই দেখেননি যা দেখে মনে হয় ভারত কিছু লুকাচ্ছে”। এইগুলো অনলাইন এও সহজলভ্য। তিনি এই নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যে, ভূমিকম্প ও অন্যান্য পরিবেশ ঝুঁকির জন্যে যে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তা যথেষ্ট কিন্তু সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এইগুলো আদৌ কার্যকর হবে কিনা।

জাহিদ তার ৬ পর্বের ধারাবাহিক ব্লগ এর ৫টি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। এই সব ব্লগে তিনি ব্যারেজ ও ড্যাম এর ক্ষতিকর প্রভাব সর্ম্পকে বলেছেন, যা ভারত বরাবর অস্বীকার করে আসছে, বাংলাদেশ এ জন্য কোন পরিবেশ ঝুঁকির মুখোমুখী হবে না।(Part 1, Part 2, Part 3, Part 4, Part 5)। তিনি বলেছেন:

একজন সাধারণ মানুষও যেখানে জানে যে বাঁধের কিছু না কিছু প্রভাব উজান ভাটিতে থাকে সেখানে একটি বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) বা পরিবেশগত ঝুঁকির পর্যালোচনায় ভাটি অঞ্চলকে প্রায় সম্পূর্ণ ভাবে উপেক্ষা করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

ভারতীয় ব্লগার বিপ্লব পাল এর মতে:

বিদ্যুত অবশ্যই চাই। ভারত এখন শিল্পোন্নত দেশ-সেখানে ঘন্টায় ৪-১০ ঘন্টা গড়ে লোডশেডিং নিশ্চয়ই কাম্য না। কিন্তু সেটা হিমালয়ের জল সম্পদকে লুণ্ঠন করে কোটি কোটি মানুষের জীবিকাকে ধ্বংস করে কেউ নিশ্চয়ই চাইবে না ।

টিপাইমুখ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হিমালয়ের বুকে এই রকম আরো ১০০ টি জলবিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার পরিকল্পনা চলছে। আফটার অল, যত বেশী বাঁধ তত বেশী ঠিকাদারি। পকেট ভরবে রাজনীতিবিদদের। দুদিকে লাভ। অর্থাগম ভোটাগম। মাশুল গুনবে ভারত -বাংলাদেশের সাধারন মানুষ। যাদের অধিকাংশই আদিবাসী। নদীই একমাত্র জীবিকা কেন্দ্র।

ইন্টারকালচারাল রিসোর্সের জিতেন ইয়ামনাম মত প্রকাশ করেছেন যে এই প্রকল্প ভারতের মনিপুর রাজ্যে আন্দোলন এর জন্ম দিতে পারে।

India should refrain from constructing Tipaimukh dam to avoid multidimensional conflicts and complications as the project is potentially rife for causing conflicts between states, between state and indigenous peoples and between indigenous peoples all over control and management of resources and definition of developmental priorities. As Manipur is already rife with movements for right to self determination, any forced construction of Tipaimukh dam with its multifaceted impacts will only legitimize their movement to defend their land and resources.

ভারতের টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরে আসা উচিত। কারন এর ফলে যে বহুমুখী সমস্যা ও সংঘর্ষের জন্ম দিবে বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে, রাজ্য ও আদিবাসীদের মধ্যে, আদিবাসীদের হাতে সমস্ত উন্নয়ন কার্য ও সম্পদ নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনার দায়িত্ব কি দেয়া হবে কি না এই নিয়ে। এখন মনিপুর যেহেতু বিভিন্ন সমস্যা ও আন্দোলন এ জর্জরিত নিজের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে, জোরপূর্বক টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের সিদ্বান্ত সমগ্র আন্দোলনের পালে হাওয়া দেওয়ার মত হবে এবং তাদের ভুমি ও সম্পদ রক্ষার আন্দোলন কে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

সম্প্রতি আমাদের ১০ সদস্যের একটি সংসদীয় দল পুরো ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনার জন্য সেখানে গিয়েছেন। বাংলাদেশের সরকার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে তাদের মত না নিয়ে যাতে এই রুপ কোন কিছু নির্মান শুরু না করে। ডেইলি স্টারে মুহাম্মদ জমির একটি মত প্রকাশ করেছেন:

What is required today is transparency and political will. One hopes that the visit of our Parliamentary delegation will be followed not only by intensive discussion on the basis of shared data between relevant experts from both countries but also meetings between the two political leaderships. An acceptable equation has to be reached between sovereign rights and national interests.

এখন যা দরকার তা হচ্ছে স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আমার বিশ্বাস এই যে আমাদের সংসদীয় দলের সফর এর পর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকবে এবং উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান হবে, এ ছাড়াও উভয় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যেও আলোচনা হবে। সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য এইরুপ একটি সমাধান সকলের কাম্য, যেখানে উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .