বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: ঘুড়িগুলোকে উড়তে দাও

আকাশের উড়ছে ঘুড়ি। ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী নমি৪৯-এর। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে।

আকাশের উড়ছে ঘুড়ি। ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী নমি৪৯-এর। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের অনেক অংশে, বিশেষ করে লাহোরে, ঐতিহ্যগতভাবে লোকজন ঘুড়ি উড়িয়ে বসন্ত উৎসব উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এই ঐতিহ্য এখন কিছু দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের এক আইনজীবী লাহোর আদালতে ঘুড়ি উড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করার জন্য মামলা দায়ের করেন। তিনি যুক্তি দেন, বসন্ত কেবল হিন্দুদের এক ধর্মীয় উৎসবই নয়, একই সাথে তা প্রাণঘাতী এক উৎসব। যে সমস্ত বিষয়গুলোর কারণে এটিকে বন্ধ করে দেবার দাবি জানানো হয়েছিল, তার মধ্য একটি ছিল ঘুড়ি উড়ানোর সময় প্রাণঘাতী সুতার ব্যবহার, যা অনেক সময় শিশুদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এই সুতার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। এই মামলার পর লাহোর হাইকোর্টের এক আদেশে পাঞ্জাব প্রদেশে ঘুড়ি উড়ানো বন্ধ ঘোষণা করা হয়

প্রতি বছর যখন ফুল ফোটার সময় আসে এবং অনেক অপেক্ষার পর বসন্ত অজান্তে তার আগমন বার্তা প্রচার করে, তখন সবাই বসন্ত উৎসবের কথা চিন্তা করতে থাকে। অনেকেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে, কেন সরকার নিরীহ ঘুড়ি উড়ানোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে, কিন্তু তবুও সকলেই ঘুড়ি ওড়াতে চায়।

সম্প্রতি এই বিতর্ক আবার চাঙ্গা হয়ে উঠে যখন লাহোর হাইকোর্ট ঘুড়ি উড়ানোর উপর কোর্টের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার আবেদনকে খারিজ করে দেন এবং কারণ দর্শান যে এটি একটি বিপজ্জনক কর্ম। লাহোর নামার ব্লগার রাজা রুমি এখনো আশা করছেন যে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে:

“আশা করছি লাহোরে এই উৎসব আবার শুরু হবে। এই বিষয়ে যে ভাবে নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে, আমরা তীব্রভাবে তার প্রতিবাদ করি। পাকিস্তানের সব এলাকাকে ঘুরে বেড়ানো সন্ত্রাসবাদী এবং আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে দেয়া উচিৎ নয়। অথচ এখানে শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা এক উৎসব পালন করতে পারে না, যা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অংশ”।

লাহোর মেটব্লগের ব্লগার হামজা আহমেদ কোরেইশি অন্য ভাবে ভাবছেন:

“সম্প্রতি লাহোর হাইকোর্ট বসন্ত উৎসব পালনের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, তা নিয়ে সমাজের একটি বিশেষ অংশ হৈ চৈ শুরু করেছে। এক্ষেত্রে আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছি।

ওই সমস্ত লোকজন একটি সংস্কৃতি অনুষ্ঠান হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় শোক প্রকাশ করছে, যা সারা বিশ্বের হাজার হাজার বিদেশী নাগরিককে আকর্ষণ করত। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন যে কিছু রঙ্গিন ঘুড়ি সেই সমস্ত বিদেশীদের আকর্ষণ করতে সমর্থ হবে, যারা এই মৃত্যুকূপে প্রবেশ করতে ভয় পায়। সবচেয়ে বড় কথা সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার এই বিষয়টি সমাজের কয়েকটি অংশ এবং পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য চিন্তার বিষয় হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এই বিষয় নিয়ে তেমন একটা ভাবে না”।

তবে মোমেখ যুক্তি দিচ্ছে:

“বসন্ত উৎসবের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা একটি হাস্যকর বিষয়। এই উৎসবের মধ্যে দিয়ে জীবন ঝরে যাওয়া, বা পাকিস্তানের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াপদার ক্ষতি হবার কারণে এই উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। এইখানে এর কারণটি রয়েছে: জীবনহানি ঘটছে ঘুড়ি উড়ানোটাই বিপজ্জনক তা বলে কিন্তু নয়। ঘুড়ি উড়ানো তো বহু বছর ধরে চলে আসছে”।

মোমেখ ব্যাখ্যা করছেন, কেন বসন্ত উৎসব একটি বিতর্কিত বিষয়। এই ব্লগার পরিষ্কার করছেন কর্তৃপক্ষ এই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার বদলে কোন বিষয়ের উপর দৃষ্টি দিতে পারে:

“এইসব মৃত্যু, যেগুলোকে এখন বসন্ত উৎসবের সাথে যুক্ত করা হয় আপনা আপনি, মূল কারণ হচ্ছে শক্তিশালী সুতা। অনেকে মনে করে তীক্ষ্ণ ধার এই সুতা যা কিনা মাঞ্জা মারার ফলে তৈরি হয়েছে, সেটিই এই সব মৃত্যুর ঘটনার কারণ। যদিও এটি একটি বড় কারণ যে সেই সুতা একটা চাকুর মত ধারালো হয়ে উঠে, তবে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এই সুতা খুবই শক্তিশালী।[..]

শক্তিশালী সুতাকে ধারালো মাঞ্জা দেয়ার ফলে এই সুতা যে কাউকে মেরে ফেলার মত ধারাল হয়ে উঠে”।

যদি সরকার এ রকম এক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে মাঞ্জা লাগানো সুতার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কিছু নিয়ম ও নীতি তৈরি করে দেয়, তা হলে এই অনুষ্ঠান পালন করা নিয়ে এ রকম দ্বন্দ্ব তৈরি হবে না। তবে নতুন করে আদালতের আদেশ জারি হওয়ায় এখনও ঘুড়ি উড়ানো নিষেধ।

এই রকম এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ঘুড়ি প্রেমিরা প্রতিবেশী ভারতে গিয়ে ঘুড়ি উড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। ঘুড়ি উড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকা সত্ত্বেও লাহোরের আকাশে শত শত ঘুড়ি উড়তে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনায়ই প্রমাণ করে ঘুড়ি উড়নো এখানে কতটা জনপ্রিয়।

পাঞ্জাব প্রদেশ বসন্ত উৎসবের কেন্দ্র । একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সংবাদ প্রকাশ করেছে পাঞ্জাবের শতকরা ৭৫ ভাগ জনগোষ্ঠী ঘুড়ি উড়াতে চায়। তবে সরকার এবং বিচার বিভাগের আপাতত জনসাধারণকে ঘুড়ি উড়াতে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সংবাদ পাওয়া গেছে, পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নিশ্চিত করে এই নিষেধাজ্ঞা পালনের বিষয়টি যেন কেউ উপেক্ষা করতে না পারে, বা নিয়ম পালন না করা ব্যক্তি যেন বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে না যায়। তবে এই সংবাদটি যে অনেক লোকের হৃদয় ভেঙ্গে দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .