বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত: আদিম এক ভাষার মৃত্যু

প্রাচীন বো ভাষার শেষ ভাষী, বোয়া সিনিয়র, তার বাসস্থান আন্দামান দ্বীপে (ভারতের অংশ) মারা গেছেন গত মাসে। এটি গত বছরের ইউনেস্কোর রিপোর্টের হুঁশিয়ারি যে পৃথিবীব্যাপী ২৫০০টি ভাষা বিলুপ্ত হওয়ার পথে আছে তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ।

উপরের ভিডিওতে বো সিনিয়র তার মাতৃভাষা বোতে গান গাচ্ছেন। এটি সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের সৌজন্যে প্রাপ্ত।

মিনেসোটার ট্রু টু ওয়ার্ড ব্লগটি ‘ভাষা আর লেখার সন্ধানে’ নিবেদিত। এর লেখক সারা ডুয়ান বোর মৃত্যুর সংবাদটি জানিয়েছেন আর যোগ করেছেন যে ভূতপূর্বের মৃত কিছু ভাষা সম্প্রতি আবার পুনর্জীবিত হয়েছে:

১৯৯২ তে বিশিষ্ট আমেরিকার একজন ভাষাবিদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ২১০০ সালের এর মধ্যে বিশ্বে ৯০% ভাষার অস্তিত্ব থাকবে না। তার মধ্যে একটা ভাষা গত মাসে হারিয়ে যায় যখন ৮৫ বছরের বোয়া সিনিয়র মারা যান। তিনি বো ভাষার শেষ ভাষী ছিলেন, যা বিশ্বের সব থেকে প্রাচীন ভাষার মধ্যে একটি ছিল।

ভাষাকে হারিয়ে যাবার দারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা যায়, বা পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেলেও আনা যায়, যদি মনোবল শক্ত থাকে আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যদি সেই ভাষা যথেষ্ট লিখিত আকারে থাকে। ১৯ শতকের শুরুতে হিব্রু মৃত ভাষা ছিল। এটা পন্ডিতদের লিখিত ভাষা হিসাবে ছিল, কিন্তু শব্দগুলো কিভাবে উচ্চারিত হয় তা জানার কোন উপায় ছিলনা। অধ্যাবসায় আর ইচ্ছাশক্তি ইজরায়েলি ইহুদিদের এই ভাষাকে প্রতিদিনের ব্যবহারে ফিরিয়ে এনেছে। যুক্তরাজ্যে ওয়েলশ আর নিউজিল্যান্ডের মাওরি ভাষারও পুনরুজ্জীবন ঘটেছে।

ট্রানসাবস্টানশিয়েশন, যারা নিজেদেরকে সম্পর্কে বলে যে ‘তারা ব্যাবেলের টাওয়ারের মানে বুঝতে চাচ্ছে’ – পরামর্শ দিয়েছে মৃতপ্রায় ভাষাকে নথিভুক্ত করার:

আমরা যদি ভাষার জীবন সংরক্ষন করতে পারি তা হলে যেকোন মূল্যে তা করা উচিত। তবে মাঝেমাঝে এটা সম্ভব হয়না আর তখন ভাষাবিদ হিসাবে আমাদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা আর নথীভুক্ত করা; মৃতপ্রায় ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করা যাতে এর সম্পর্ক জ্ঞান আমরা ব্যবহার করতে পারি পরবর্তীতে মানষের পরিস্থিতি সম্পর্কে গবেষণার সময়ে।

আকাশ থেকে আন্দামান দ্বীপপুন্জ। ছবি ফ্লিকার থেকে ভেন্কটেশ কের সৌজন্যে

আকাশ থেকে আন্দামান দ্বীপপুন্জ। ছবি ফ্লিকার থেকে ভেন্কটেশ কের সৌজন্যে

ওরাওন (কুরুখ) আদিবাসী গোত্রের সদস্য মধু বাগানায়ের বোয়া সিনিয়রের মৃত্যুতে বো ভাষার বিলুপ্তির ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন:

প্রত্যেক ভাষার নিজস্ব স্বতন্ত্র ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ধরন আর গল্প আছে। যখন একটা ভাষা মারা যায়, ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশাল জ্ঞানের ভান্ডারও মারা যায়। আজকে জীবিত একটা আদিবাসী ভাষা ‘বো’ মারা গেছে। কালকে ভারতের আরো আদিবাসীদের ভাষা মারা যেতে বাধ্য। শত শত কারন আছে জীবন্ত আদিবাসী ভাষা মারার পিছনে…

আয়ারল্যান্ডের অবস্থিত ব্লগার দ্যা পুয়ার মাউথ বো এর অভাবে শোক প্রকাশ করে বলেছেন:

ভাষা আসে, ভাষা যায়- আমরা ব্রিটিশ আইলসে বেশ কিছু বিলুপ্ত ভাষার লক্ষন দেখতে পাই (ইয়োলা, নোরন, কুম্ব্রিক ইত্যাদি)- কিন্তু আমি এটা অনুভব করি যে যখন তারা মারা যায় মানবিকতার উৎকৃষ্ট মিশ্রণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে যায়। বোয়ার চলে যাওয়া আমাদের সকলকে ছোট করে দিল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .