বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীন: চীনের সমালোচনা করার আগে পশ্চিমাদের নিজেদের প্রতি তাকানো উচিত

২০০৬ সালে প্রকাশিত ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ও শেষ মানব ( দা এ্যন্ড অফ হিস্ট্রি এন্ড দি লাস্ট ম্যান) বইয়ের শেষে এর লেখক ফ্রান্সিস ফুকোইয়ামা বিশ্ব রাজনীতির এক সম্ভাব্য চরিত্র অঙ্কন করেছেন: তাতে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের উপর কর্তৃত্বশালী পুঁজিবাদের জয় দেখানো হয়েছে। এটি তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য নয়, কিন্তু এই দিকেই পৃথিবী এগুচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্ব মনে হচ্ছে চীনের বেশ কিছু ধারাবাহিক ঘটনার কারণে উদ্বিগ্ন, যেমন পশ্চিমা কম্পিউটার যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর চীনের সাইবার আক্রমণ, গুগলের সাথে সম্পর্কের অবনতি, মানবাধিকার কর্মীদের উপর সাঁড়াশি আক্রমণ, এক ব্রিটিশ নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা, পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে পশ্চিমাদের প্রতি অসহযোগিতামূলক আচরণ, এসবের কারণে তারা চীনের প্রতি উদ্বিগ্ন। এই রকম আরো অনেক ঘটনা রয়েছে। পন্ডিতেরা চিহ্নিত করেছেন যে হুমকির পরিমাণ বাড়ছে যা ক্রমাগত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা চীন নিজেই তৈরি করছে।

কিন্তু চীনের সমালোচনা করার আগে, চলুন বিষয়টিকে অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি। পশ্চিমারা চীনের অর্থনৈতিক সংস্কার ও বাজার খুলে দেবার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এই বিষয়টি চীনের আত্ম-বিশ্বাস তৈরিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চীনা পন্ডিত ঝু শিউয়েকিন (朱学勤) বিবিসি চীনের ওয়েব সাইটে ও লিয়ু ডি (芦笛) বুলোগার.কমে প্রধান বিষয় হিসেবে আলোচনা করেছেন।

চীনের সবচেয়ে বড় বাজি:

দেং জিয়াওপিং ছিলেন চীনের সবচেয়ে সেরা সংস্কারপন্থী নেতা। একবার তিনি বলেছিলেন বিড়াল সাদা কি কালো সেটি বিষয় নয়, বিষয়টি হচ্ছে সে ততক্ষণ একটি ভালো বিড়াল, যতক্ষণ সে ইঁদুর ধরতে পারে। এটা এই ধরনের একটা বিশ্বাস যে, বিপর্যয়কারী চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর ১৯৭৮ সালে নেওয়া চীনা অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্যে দিয়ে চীন পুঁজিবাদকে আলিঙ্গন করেছে। যেমনটা ঝু শিয়েউকিন ধারণা দেন, এটি সফলভাবে নিজেকে এমন এক বিড়ালে পরিণত করেছে যা অনেক ইঁদুর ধরতে পারে অথবা পশ্চিমা পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক বিভিন্ন জাতিকে ধরতে সক্ষম হয়েছে:

小平投注的是猫,猫鼠联姻,被吃的是鼠,不是猫。

জিয়াওপিং এই বিড়ালের উপর বাজি ধরতে চান। তিনি বোঝাতে চাইছেন বিড়াল এবং ইঁদুরের বিবাহে যাকে হজম করা হয় সেটি ইঁদুর, বিড়াল নয়।

এমনকি এই জুয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তটি ছিল, ১৯৮৯ সালে ঘটা তিয়ানমেন স্কয়ারের ঘটনা। চীনের কর্তৃত্ববাদীরা নিজেদের এই বিপদ থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়, এর জন্য পশ্চিমা পুঁজিবাদীদের ধন্যবাদ:

世纪豪赌最危险的时候,是1989至1991那三年。坦克一上街,所有的老鼠都吓得屁滚尿流,外资大撤退,内资亦不继,GDP直线下降,中国面临崩盘,真可能玩完。小平同志跑到南方画一个圈,说一句“不问姓社姓资”,招商引资,春雷滚滚。

এই জুয়াখেলার সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তটি ছিল ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যকার সময়টি। সে সময় চীনের রাস্তায় ট্যাঙ্ক নেমে পড়ে, সকল ইঁদুর ভয় পেয়ে যায়, বিদেশী বিনোয়োগকারীরা তাদের টাকা উঠিয়ে নেয়। জিডিপির হার নীচের দিকে যেতে থাকে এবং চীন ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। চীনের দক্ষিণাংশে ভ্রমণের সময় কমরেড জিয়াওপিং বলেছিলেন, “সমাজতন্ত্র বা পুঁজিতন্ত্র যাই হউক না কেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না”। এই একটি বাক্যে তিনি আবার বিদেশী বিনিয়োগের রাস্তা খুলে দেন।

得小平高瞻远瞩,还能“不争论”,带头招商引资,引无数老鼠竞折腰。让一点市场,撒几把米粒算得了什么?资本家,资本家,我就不信资本家来了,资本家的政府不来!果然,西洋各国寻米而来,争抢中国订单,哪一国总理订单要少了,回去还有受民主舆论的喝斥。经济制裁是这样打破的,政治制裁则不消说,强虏烟飞灰灭,1989政治危机就是这样度过的。

দেং-এর দূরদৃষ্টি এবং বিদেশী পুঁজিকে স্বাগত জানানোর কারণে, ইঁদুরেরা নিজেদের আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। সামান্য মূল্যের বিনিময়ে বাজারের কিছু অংশ খুলে দেওয়া হয়! পুঁজিবাদ, পুঁজিবাদ, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে এক সময় পুঁজিবাদ চীনে আসবে, তাদের সরকার কোন বিষয়কে অনুসরণ করবে না! বাস্তবতা হচ্ছে চীনের সাথে চুক্তি করতে একে একে পশ্চিমের অনেক দেশ এগিয়ে আসছে। আর কি চাই, সে সমস্ত দেশের সরকার যে সমস্ত চুক্তি করেছে, সেগুলো তাদের নিজেদের সংবিধানের বিপরীত ও সেগুলো প্রচার মাধ্যমের সমালোচনার মূখে পড়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এ ভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতার কথা আর না বলাই ভালো। এ ভাবেই ১৯৮৯ সালে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান হয়েছে।

পুঁজিবাদ এবং সার্বজনীন মূল্যবোধ

ঝু-র প্রবন্ধে যা প্রতিফলিত হয়েছে তাতে লু ডি নিশ্চিত নন যে চীনা পূঁজিবাদের চেহারায় পশ্চিমা সভ্যতা সার্বজনীন মূল্যবোধ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।

其实列宁早就发现这点了。还在西方文明世界封锁苏俄时,他便断言,甭看帝国主义跟咱们貌似势不两立,贪婪是资本家的本性,因此他们迟早要来和我们做生意,帮助我们把国家弄得强大起来。老邓之所以在中国翅膀未硬前,便敢冒全世界之大不韪血洗北京城,也无非是吃透了西方的道义高调是假的,再“义薄云天”,最后还是得为铜臭弯腰钻狗洞,虽则可能是掩着鼻。

প্রকৃতপক্ষে অনেক আগে লেনিন এই সত্যটি আবিষ্কার করেছিলেন। যখন পশ্চিমা সভ্যতা সোভিয়েট ইউনিয়নকে বয়কট করে, তখন তিনি পুঁজিবাদের লোভকে বিচার করতে সক্ষম হন। তিনি বুঝতে পারেন, আজ বা কাল, তারা সোভিয়েট ইউনিয়নে আসবে এবং দেশটির সাথে ব্যবসা করবে। এই কারণে দেং রক্তাক্ত এক অভিযানের মাধ্যমে তিয়ানয়ানমেনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমন করেন। তিনি এই কাজটি করেন এমন এক সময় যখন চীন ছিল দুর্বল। তার এইভাবে দমনের কারণ, তিনি পশ্চিমের ভণ্ডামিকে পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছিলেন। আপনার উদ্দেশ্য যতই মহৎ হউক না কেন, টাকার জন্য আপনাকে নত হতেই হবে।

সম্প্রতি ঘটা বেশ কিছু ঘটনার উপর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি আলোচনা করেন:

谷歌与雅虎的区别,说起来也很可怜:雅虎完全接受后面这一条,甚至向中国政府提供异议人士的通信内容,导致师涛被重判,而谷歌本已同意中国政府有权管制资讯,只是实在难以同意中国政府有权窥探公民隐私。区别也就只在这点上而已。就连这最后的底线,谷歌能否最后守住,也还在未定之天。

গুগল এবং ইয়াহুর বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলা যায়, তাদের উভয়ের পার্থক্যকে খেয়াল করার বিষয়টি বেদনাদায়ক। এই পার্থক্য অতি ক্ষুদ্র: ইয়াহু সবকিছু মেনে নিয়েছে [চীন সরকারের গোপনীয়তার নীতি], এবং ইয়াহু ব্যবহারকারীদের অন্যের সাথে যোগাযোগের যাবতীয় তথ্য সরকারের কাছে সরবরাহ করেছে, এল ফলে শাস্তি হিসেবে শি তাও এর লম্বা সময় জেল হয়েছে। গুগল, চীনা সরকারের তথ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার নীতিগত ভাবে মেনে নিয়েছে, তবে তারা অনৈতিকভাবে কারো গোপনীয় বিষয়ে প্রবেশ করার অধিকার মেনে নেয়নি। এটাই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য, তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে, গুগল এই নীতি মেনে চলবে কিনা।

不难看出当局为何敢重判刘晓波:第一,他们吃准了鬼子为了钱不敢作声,顶多只是不疼不痒地咋呼两声,但经济制裁之类的凶器是再也没本事亮出来了。第二,他们吃准了“民心所向”,知道大部份或起码是相当大的比例的精英出于自家利益反对“普世价值观”,因此无论他们怎么胡作非为,都不会引起国内舆论民情强烈反弹。

এটা বের করা কঠিন নয়, চীন সরকার লিউ শিয়াওবোকে জেলে ভরার মত কঠিন এক শাস্তি দেবার মত সাহস কোথা থেকে পায়: প্রথমত, তারা জানে যে পশ্চিমারা তাদের বাণিজ্যিক লাভের কারণে তাদের প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তাদের বেশীর ভাগই হয়তো বিড়বিড় করে একটা দুটা শব্দ উচ্চারণ করবে, অর্থনৈতিক অবরোধ এমন এক অস্ত্র যা পশ্চিমাদের আর হাতে নেই। দ্বিতীয়ত, তারা জানে যে আভ্যন্তরীণ ধনী শ্রেণী তথাকথিত “সার্বজনীন মূল্যবোধের” বিরোধিতা করবে। এটি তারা করবে তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য। কাজেই সরকার যাই করুক না কেন, কেউ তার শক্ত বিরোধিতা করবে না।

这说明了什么?道义在金钱面前的脆弱。普世价值观再崇高,也抵挡不住银弹攻势。自由世界不怕苏联的核弹,但在我党的糖衣炮弹面前只能乖乖投降。

এসব কি প্রদর্শন করে? টাকার সামনে ন্যায় বিচার ঝুঁকে পড়ে। কেউ যতই মহৎ হউক না কেন অর্থের দাপটের সামনে সার্বজনীন মূল্যবোধ টিকছে না। মুক্ত বিশ্ব সোভিয়েট পারমাণবিক বোমার ভয়ে ভীত নয়, কিন্তু চীনের চিনি মাখানো বুলেটের সামনে নত না হয়ে পারে না।

বিদায় গুগল:

পশ্চিম কি আশা করছে যে চীনের সাথে যদি অর্থনৈতিক ভাবে যুক্ত হওয়া যায়, তাহলে তা এক রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে চীনকে নিয়ে যাবে, প্রায় সৎ এক চিন্তা? ঝু পুঁজিবাদ এবং কর্তৃত্ববাদের সম্পর্কের মধ্যে দার্শনিক কিছু প্রতিফলন তৈরি করেছেন:

市场经济与现代宪政并不具有必然因果关系,前者是后者的必要条件,而不是必要充分条件。也就是说,无市场经济必无宪政民主,有市场经济则不一定必有宪政民主,两者之间还要有其它条件。

বাজার অর্থনীতি এবং আধুনিক সংবিধানবাদের (সংবাধিনের শাসন) মধ্যে সাধারণ এক সম্পর্ক বিরাজ করবে, বিষয়টা ততটা জরুরী নয়। প্রথমটি পরেরটির জন্য এক প্রয়োজনীয় শর্ত, তবে তা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং যথেষ্ট এক শর্ত বলে বিবেচিত হবে না। অন্য কথায়, বাজার অর্থনীতি ছাড়া আধুনিক কোন সংবিধানবাদ তৈরি হয় না। তবে বাজার অর্থনীতি আধুনিক সংবিধানবাদের প্রয়োগ করে না। এর মধ্যে অন্য শর্তাবলীও টিকে থাকে।

ঝু এক হতাশাবাদী অংশ দিয়ে তার প্রবন্ধ শেষ করেন:

中国猫完成了转基因,输血者恰是被食者,自然界多了一种新物种。内鼠也好,外鼠也罢,总有一天都会噬脐莫及。硕鼠硕鼠,适彼乐土,回你的美国老家吧,别了,司徒雷登,别了,谷歌搜索!

চীনা এই বিড়ালটি তার ডিএনএ-এর রূপান্তর ঘটিয়েছে। যারা একে খাওয়ায়, তারাই এর পেটে যায়। বিশ্বে এখন এক নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়েছে। ইঁদুরগুলো এখন হয় এর ভেতরে বা তার বাইরে রয়েছে, তাদের সকলকে খেয়ে ফেলা হবে। বড়, বড় সব ইঁদুর। এই মাটি তোমাদের জন্য উপযুক্ত নয়। আমেরিকায় ফিরে যাও। বিদায় জন লেইটন স্টুয়ার্ট, বিদায় গুগল!

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .