বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

থাইল্যান্ড: ‘আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিয়ে বিরক্ত’

“আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিয়ে বিরক্ত”

উক্ত শিরোনামে ফেসবুকের এক ফ্যান পাতা তৈরি করেছেন সেই নেট নাগরিকেরা যারা থাইল্যান্ডের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পদ্ধতি আর নীতির সমালোচনা করছেন। মন্ত্রণালয় আসল থাই সংস্কৃতি তুলে ধরার ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করছে বিভিন্ন নতুন আর পুরানো মিডিয়া সাইটে। এই লেখা পর্যন্ত এই ফেসবুক পাতায় ২৮৫৭ জন ফ্যান যুক্ত হয়েছে।

ফেসবুকের পাতাতে সাড়া ছিল একটা আলোচনা থ্রেড নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে যা তাদের একজন সহকর্মী জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল পান্তিপে শুরু করেছিলেন। উক্ত কর্মীর ইচ্ছা ছিল মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাপারে মানুষের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানা। এই ওয়েব ফোরাম মনোজ্ঞ এক আলোচনার অবতারণা করে, যার মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে গঠনমূলক সমালোচনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কিছু খারাপ মন্তব্য ভালো লাগে নি। তারা বাধ্য করে তার নিজের কর্মীর পরিচয় জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য।

সাম্পান রুক্সা, মন্ত্রণালয়ের যে কর্মী এই অনলাইন থ্রেড শুরু করেছিলেন, তার কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠি লিখেছেন। তিনি শুরু করেছেন জানিয়ে যে পান্তিপে ওয়েব আলোচনা শুরু করে তিনি মন্ত্রণালয়কে অপমান চান নি যেহেতু এটা একটা জনপ্রিয় আর বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট।

পান্তিপ উপরের সারির সংস্থা, উচ্চ মানের থাই ওয়েব বোর্ড। ওয়েব বোর্ডের সদস্যদেরকে জাতীয় সনাক্তকরন নম্বর বা আইপি ঠিকানা দেখাতে হয়। এই ওয়েব বোর্ডের আলোচনা অন্যান্য ওয়েব বোর্ডের আলোচনার থেকে অনেক ভদ্র।

সাম্পান তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আর মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন:

আমি, জনাব সাম্পান রুক্সা, ওয়েব বোর্ড পান্তিপ.কম, লার্ন ধাম সেওয়ানা আর এম থাই এ আলোচনা শুরু করি। আমি গত মাসের শুরতে লার্ন ধাম সেওয়ানার প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করেছি থ্রেডটা মুছে ফেলার জন্য।

আমি বিশ্বাস করি যে আমার কাজ সংস্কৃতি নিরীক্ষা অফিসের কোন উপকারে আসে নি, আর আরো খারাপ, সেখানে যারা কাজ করে তাদের অস্বস্তির কারন হয়েছে। আমি স্বীকার করছি যে আমার কাজ আমার অজ্ঞতা, অনভিজ্ঞতা, বোকামি আর কাজের প্রক্রিয়া পুরোপুরি না বোঝার ফলে হয়েছে। তার সাথে আমি আমার উর্ধ্বতনদের সাথে পরামর্শ না করে কাজ করেছি, আমার কাজের বাইরে কাজ করেছি, বিচার না করে আর সঠিকভাবে না, কারন বাইরের লোককে অফিসের কাজের সমালোচনা করার অধিকার দিয়েছি নিবীড়ভাবে, এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও সমালোচনা করা হয়েছে।

তাই আমি, যে এই ক্ষতি করেছি, এর দায় নিচ্ছি, স্বীকার করছি যে আমার কাজ বুদ্ধিহীন ছিল। আমি সংস্কৃতি নিরীক্ষা অফিসের প্রতিটি কর্মীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি বুঝতে পেরেছি যে প্রত্যেক কর্মীর নীতি আর কাজ আমাদের সমাজ আর জাতির উপকারের জন্য। তারা কর্মনিষ্ঠ আর কঠোর, কষ্ট আর ক্লান্তি সহ্য করছেন, আর তাদের কাজের প্রতি খুবই নিবেদিত। আমি খুবই দু:খিত।

কোং রিথডি, তার ব্যাঙ্কক পোস্ট ব্লগে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মন্তব্যকে তিরস্কার করেছেন:

মন্ত্রণালয়ের রক্ষণশীল দল-যেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ- যত বেশী দেখানোর চেষ্টা করবেন তাদের দু:খজনক অক্ষমতা দেখার তাদের তৈরি ‘নীতি’ আর ‘মূল্যবোধের’ ঘেরাটোপের বাইরে কি হচ্ছে, তত তারা হতাশা আর মৌলিকতার আগুনে ইন্ধন যোগাবেন। তারা যত সেন্সর করতে চাইবেন, তত মানুষ আড়ালে প্রতিশোধ নিতে ষড়যন্ত্র করবে- আর প্রযুক্তির শক্তি তাদের দিকে থাকবে।

বেচারা মন্ত্রণালয়। তারা এখনো বুঝতে পারছেন না যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি হল গঠনমূলক সমালোচনা আর মুক্ত ভাষ্যের সংস্কৃতি।

ফেসবুক পাতায় মন্তব্য করতে গিয়ে, নাতনারি উরিয়াপোংসোন এই পরামর্শ দিয়েছেন:

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চোখ বন্ধ না রেখে আমাদের দেশে ভরে থাকা দেহপরাসিনীদের ব্যাপারে কিছু করা উচিৎ অথচ একে তুলে ধরে তারা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন!!

থাইল্যান্ডের নাগরিকরা একটা হটলাইনে ফোন করে অভিযোগ করতে পারেন সেইসব চিত্র বা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যা থাই সংস্কৃতি তুলে ধরে না। থাই ফিল্ম জার্নাল জানিয়েছে:

১৭৬৫ নম্বরে ফোন করুন। থাইল্যান্ডে এই নাম্বারে ফোন করতে হবে যদি আপনি অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু দেখেন- থাই পোশাক না পরা সুন্দরী, বক্ষদেশের কাপড় সরে যাওয়া, আপত্তিকর প্রেমের গান বা কোন চলচ্চিত্র-কোন কিছু যা আপনি মনে করেন সমাজে, জাতির জন্য আর ‘দারুন থাই সংস্কৃতির’ জন্য বাধা হিসেবে আসছে।

থাইল্যান্ডের ‘সংস্কৃতি পুলিশ বাহিনী’ দেশব্যাপী ৪৮২৫ নেটওয়ার্কের মধ্য থেকে ১.৩ মিলিয়ন স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে গঠিত যারা বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠান, ওয়েবসাইট আর মিডিয়া অনুষ্ঠান দেখে থাকেন মনিটর করার জন্যে যে সেগুলো থাই সংস্কৃতিকে অপমান আর ক্ষতি করে কি না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .