বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

তাইওয়ান: কিভাবে পুইউমারা ২০১০ সাল শুরু করেছে

তাইওয়ানের পূর্ব তীর ঘেঁষে তাইতুং অঞ্চলে বাস করে প্রাচীন একটা গোত্র পুইউমা আদিবাসীরা। তাদের নেতৃত্ব দানকারী গ্রাম নানওয়াং প্রতি ডিসেম্বরে বাঁদর অনুষ্ঠান আর শিকারের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং এ ধরণের নানা আচার অনুষ্ঠান দিয়ে নতুন বছর শুরু করে।

বাঁদর অনুষ্ঠান এর আগের বিকেলে (২০০৯ সালের ১৯শে ডিসেম্বর) উত্তর আর দক্ষিণের দলের ছেলেরা মিলিত হয় আর একে অপরের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। আর তার পরে তারা নানওয়াং গ্রামের পরিবারদের বাড়িতে যায় খারাপ আত্মা তাড়াতে।

মাগুলিস এই আচার-অনুষ্ঠানের ছবি তুলে ব্যাখ্যা করেছেন:

每一位孩子必須帶著枯香蕉葉,傳說此枯葉配合團體的氣勢可以驅除霉氣。

প্রত্যেক ছেলেকে কিছু শুকনা কলা পাতা আনতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী, দলগত আত্মা সহ কলাপাতা খারাপ আত্মাকে তাড়িয়ে দিতে পারে।

ছেলেরা কোন পরিবারের বসার ঘরে দৌড়ে ঢোকার পরে, তারা উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে: হালাবাগাই ( আমরা এখানে খারাপ আত্মা তাড়াতে এসেছি)!

ছেলেরা তাদের কাজ শেষ হলে, পালুকুয়ানে ফিরে আসে (ঐতিহ্যগত তরুণদের মিলিত হওয়ার স্থান) আর যেসব পরিবারের খারাপ আত্মা তাড়াতে তারা সাহায্য করেছে তাদের বানানো মিষ্টি উপভোগ করে তারা সেখানে।

মাগুলিস অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত এই ছেলেদের সাথে ছিলেন।

時間已經是半夜一點,領完糖果後活動結束讓小朋友回家,準備隔天早上的〝猴祭〞活動。

রাত ১ টা। কিছু মিষ্টি খাওয়ার পরে ছেলেরা বাড়ি গিয়েছে। ভোর সকালে তারা বাঁদর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।

এরকম এক অনুষ্ঠানের ভিডিও ২০০৫ সালে পাউদুল তুলেছিলেন।

তাইওয়ান কালচার পোর্টাল রিপোর্ট করেছে:

পুইউমাদের অনুষ্ঠানের মধ্যে বাঁদর অনুষ্ঠানকে সব থেকে আলাদা ধরা হয়। এর মধ্যে বাঁশ দিয়ে বাঁদর মারাসহ অনেক ধরণের ‘পরীক্ষা’ আছে। আজকেও এই ঐতিহ্য বহন করা হয়, কিন্তু কেবলমাত্র প্রতীকী হিসাবে, আসলের পরিবর্তে খেলনা বাঁদর ব্যবহার করে।

বাঁদর অনুষ্ঠানে নেয়া ভিডিও পাউদুল প্রকাশ করেছেন

ভিডিওতে ছেলেরা খেলনা বাঁদরকে ছুরিকাঘাত করার পরে, বড় ছেলেরা ছোট ছেলেদের নিতম্বে মারে তাদের বাধ্যতা শেখাবার জন্য। তারপরে এক সাথে তারা ঐতিহ্য গত গান ‘গুদাও’ গেয়েছেন।

২৭-৩০ শে ডিসেম্বর এর মধ্যে, কিছু পুরুষ পাহাড়ে ঢোকে শিকারের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করতে। এই শিকারিরা ৩১শে ডিসেম্বর এ ফিরে আসেন আর গ্রামবাসী তাদেরকে স্বাগত জানান।

তাইওয়ান কালচার পোর্টাল রিপোর্ট করেছে:

শিকারের অনুষ্ঠানের শেষে, বাঁশ দিয়ে তৈরি একটা তোরণের নীচে পুরুষদের স্বাগত জানানো হয়। মহিলারা তাদের পরিবারের পুরুষদের ফুলের মুকুট দিয়ে স্বাগত জানান আর তাদের জন্য অনুষ্ঠানের পোশাক প্রস্তুত করেন যেটা তারা পরবেন।

বিকেলে, তরুণ গ্রামবাসী ঐতিহ্যগত গান করেন প্রত্যেক পরিবার যাতে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারে। গানের ভিডিও পাউদুল তুলে ধরেছেন:

১/১/২০১০ তারিখ সকালে বয়স্করা সেইসব পরিবারে যান যারা গত বছর পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন আর তাদের জন্য ঐতিহ্যগত সঙ্গীত গান আর তার পরে গ্রামবাসীরা পালাকুওয়ানে বাৎসরিক অনুষ্ঠান করেন। বাৎসরিক অনুষ্ঠানে নেয়া পাউদুলের ভিডিও এখানে প্রকাশ করা হয়েছে:

যদিও এইসব অনুষ্ঠানের বেশীরভাগ অংশগ্রহণকারী পুরুষ, মহিলা গ্রামবাসী এইসব অনুষ্ঠান আয়োজনে সাহায্য করেন। তাইওয়ান কালচার পোর্টাল বলেছে:

পুইউমারা ঐতিহ্যগতভাবে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ছিল…নারীরা বাড়ির বিষয় অধিকারে ছিলেন আর সম্পত্তি মা থেকে মেয়ের কাছে যেত। তা ছাড়াও, নারীরা ঐতিহ্যগত অনুষ্ঠান দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।

হায় সানি (আমান্দা) আর মাগুলিস ছবি তুলেছেন দেখানোর জন্য যে নারীরা গ্রামে কিভাবে বাঁশ কাটে আর অনুষ্ঠানের জন্য কাপড় আর ফুলের মুকুট বানিয়েছেন। মাগুলিস বলেছেন:

編織一條花環大約必須花上20分鐘的時間(熟練者). 編織花環的人是辛苦的, 被戴上花環的人是幸福的. 因為戴上的花環代表著親友獻上的”愛”

অভিজ্ঞ একজনের জন্য, ফুলের মুকুট তৈরি করতে ২০ মিনিট লাগে। এটা তৈরি করা কঠিন কাজ। যাদেরকে এই ফুলের মুকুট পরানো হয় তারা আশীর্বাদপুষ্ট কারন ফুলের এই মুকুট তাদের পরিবার ও বন্ধুদের ভালোবাসার প্রতীক।

ফুলের মুকুট তৈরি করা কঠিন, কিন্তু এইসব অনুষ্ঠান করা তার থেকেও কঠিন কারন অনেক পুইউমা তাদের বাড়ি ছেড়ে পড়ালেখা বা কাজের জন্য বাইরে চলে গেছেন।

এইসব অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখায় যে ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পুইউমা গোত্রের আত্মা বহন করে, এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্মে, গ্রাম থেকে অন্য শহরে। বালিওয়েকস (১৯১০-১৯৮৮) নানওয়াং গ্রামের খুব গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তি কারন তিনি পুইউমা আত্মা নিয়ে পুইউমা ভাষাতে অনেক গান লিখেছেন। তাইওয়ানের আদিবাসী মানুষদের রিসোর্স সেন্টার বলেছে:

陸森寶說自己作詞作曲是基於一個非常簡單的理由:他希望正在遺忘自己族語的年輕人,藉他的歌找到「山上的話」,從「山上的話」找到回「paLakuwan」的路。

বালিওয়াকেস বলেছেন যে তিনি গাঙ্গুলো লিখেছেন কারন তিনি আশা করেছেন তার গ্রামের তরুণরা, যারা তাদের মাতৃভাষা ভুলে যেতে বসেছিল, পুইউমা পাহাড় থেকে কথাগুলো খুঁজে পাবে, তাদের পালাকুয়ানে যাওয়ার পথ খুঁজে পাবে।

বালিকাওয়াসের শেষ গান এখানে (পুইউমা ভাষাতে), ‘বাৎসরিক অনুষ্ঠানের স্মরনে’।

mikiyakarunan ku isiDumayan

আমার দেশ থেকে দুরে আমাকে কাজ করতে হবে

aDi ku pakawurumaruma

আমি প্রায় বাড়ি যেতে পারি না

hoiyan hoiyan iyahohaiyan hoiyan hoiyan iyahohaiyan aDi ku abaLu sonomukasi

আমাদের ঐতিহ্য আমি ভুলি নি।

tu pu'apuTai ku kan nanali

আমার মা আমাকে ফুলের মুকুট পরিয়ে দেয়

muka ku muwaraka i paLakuwan

আমি পালাকুয়ানে গিয়ে নাচ করি।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .