বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আরব বিশ্ব: বহুবিবাহের উপরে লেখা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

সৌদি সাংবাদিক নাদিন আল-বেদাইর মিশরীয় সংবাদপত্র আল মাসরি আল ইউম এ ‘আমি আর আমার চার স্বামী’ (আরবী ভাষায়) নামক এক বিতর্কিত প্রতিবেদন লিখে সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

গত ১১ই ডিসেম্বর প্রকাশিত হওয়া এই প্রতিবেদন পুরো ব্লগ জগৎে ঝড় তুলেছে এর বিভিন্ন উস্কিয়ে দেয়া বিষয় আর বলার ধরনের কারনে। উক্ত প্রতিবেদনে নাদিন জিজ্ঞাসা করেছেন মুসলিম পুরুষদের কেন চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখার অধিকার আছে, কিন্তু নারীদের মাত্র একজন স্বামী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে? তিনি শুরু করেছেন:

ائذنوا لى أن أزف إلى أربعة.. بل إلى خمسة. أو تسعة إن أمكن
أختارهم مختلفى الأشكال والأحجام. أحدهم ذو لون أشقر وآخر ذو سمرة. بقامة طويلة أو ربما قصيرة. أختارهم متعددى الملل والديانات والأعراق والأوطان. وأعاهدكم أن يسود الوئام.
আমাকে অনুমতি দেন চার, পাঁচ বা নয়জন [স্বামী] বেছে নেয়ার আমি যদি চাই…আমি বিভিন্ন আকার আর গঠনের স্বামী পছন্দ করবো। একজনের চুল সোনালী হবে আর একজনের কালো। লম্বা বা বেঁটে আমি তাদেরকে বিভিন্ন স্থান থেকে বেছে নেব আর বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র আর দেশ থেকে। আর আমি কথা দিচ্ছি তারা মিলে মিশে থাকবে।

নাদিন বহুবিবাহের ঐতিহ্যকে প্রশ্ন করেছেন যেমন পিতৃত্বের ব্যাপারে অর্থাৎ বহু-অভিভাবকত্বকে নিষিদ্ধ করাকে সমর্থন করে এই বলে যে বর্তমান বিজ্ঞান আর ডিএনএ পরীক্ষার যুগে এটার প্রয়োজনীয়তা আর গ্রহণযোগ্যতা খুবই কম।

নাদিনের প্রতিবেদন অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, এবং একই পরিণতি ঘটেছে আল মাসরি আল ইউম পত্রিকারও। উদাহরণস্বরূপ আল আরাবিয়া পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে “মিশরের সংবাদপত্র নারীদের বহুবিবাহকে সমর্থন করছে” যা ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে।

আসলে, নাদিনের প্রতিবেদন এমন ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যে মিশরের একজন সংসদ সদস্য তার বিরুদ্ধে মামলা করে দিয়েছে। প্রতিবেদনটা ইসলাম বিরোধী হিসেবে দেখা হয়েছে আর নাদিন শাস্তি ভোগ করতে পারেন যদি তিনি একই পত্রিকা থেকে তার প্রতিবেদন ফেরত না নেন তাহলে। সংবাদপত্রকে দোষারোপ করা হয়েছে ‘অধর্ম তুলে ধরার’ জন্য।

কালচার এ পলিটিক্স আরব ব্লগ লিখেছে:

Et c’est naturellement sur ce terrain que se sont déchaînées la plupart des critiques, celles d’hommes de religion mais aussi celles d’hommes politiques, à l’image de Khaled Fouad Hafez, le Secrétaire général du PND (le parti du président Moubarak), trop heureux d’épouser ( !) cette bonne cause et qui a déposé plainte, considérant que de tels propos ne sont pas loin du blasphème.

অবশ্য এই বিষয়ে [ধর্ম নিয়ে] বেশী বেশী সমালোচনা করা হয়েছে; কেবলমাত্র ধার্মিক ব্যক্তির কাছ থেকেই না রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেও, যেমন খালেদ হাফেজ ফুয়াদ, এনডিপির মহাসচিব (প্রেসিডেন্ট মুবারকের দল) সবাই খুব খুশি এই ধরনের মন্তব্য ধর্ম বিরোধীর সামিল ধরে নিয়ে স্রোতে ভেসে গিয়ে মামলা করার জন্য।

নাদিনের সমালোচনা করে অনেক প্রতিবেদন লেখা হয়েছে, তাকে ধর্মবিরোধী থেকে বিকৃত মানসিকতার আর খারাপ নীতির মানুষ হিসেবে বলা হয়েছে। তবে এমনও লোক আছেন যারা তার প্রতিবেদনকে সমর্থন করেছেন, এই বলে যে এটা বহুবিবাহ নিয়ে বিতর্ক আবার খুলে দিয়েছে আর দেখিয়ে দিয়েছে কিছু স্বামী তাদের স্ত্রীদের সাথে কি ধরনের দুর্ব্যবহার করেন।

বিশ্ব মুসলিম তরুণদের সংস্কৃতি বিষয়ক একটি অনলাইন প্রকাশনা এলানে আইশা গাওয়াদ বলেছেন:

সংবাদপত্র আর লেখক দু'জনকেই বাহবা দেয়া উচিত যা সত্য কথা (যদিও বিতর্কিত) তা বলতে ভয় না পাওয়ার জন্য। বিশেষ করে জনগণের এলাকায় কাজ করা (টিভি সাংবাদিক হিসেবে) একজন মহিলা হিসেবে নাদিন আল-বেদাইর সাহসী এমন একটা বিষয় নিয়ে লেখার জন্য যেটাতে তিনি জানতেন শুধু তালির থেকে বেশি সমালোচনা হবে। আমার মনে হয় আমাদের সকলের টুপি/হিজাব/ কুফি তার সম্মানে তুলে ধরা উচিত।

জোসেফ মাইতোন বিকিয়া মাসরে এই প্রতিবেদনের উপরে লিখেছেন। প্রথম মন্তব্য একজন মিশরিয়র দ্বারা করা:

না, বহুবিবাহ ছেলে মেয়ে দুইজনের জন্যই নিষিদ্ধ করা উচিত।

- কিন্তু হয়তো এই বিষয়টাই নাদিন প্রথম থেকেই তুলে ধরতে চাচ্ছিলেন?

মারওয়া আল বাহরাইনি তার ব্লগে বলেছেন যে মানুষ এই প্রতিবেদনের মানে পুরোপুরি না বুঝেই তাড়াতাড়ি তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে:

اثبات عقد النكاح لا يتم الا باثنان الزوج و الزوجة ، اذا لم لا يشركها الرجل في قرارته او حتى في مشاعره…

هذا هو المقال للكاتبة نادين البدير

هذه وجهة نظري للموضوع ، الجميع لم يتعمق بقراءة المعنى الحقيقي المقصود من وراء عنوان اثار الجدل، ارادت اثارة الجدل لأن ما يثير الجدل يرغب القارئ بأن يقرأ ، للاسف الجميع غض النظر عن القراءة و راح يهاجم العنوان.

…বিয়ের চুক্তির পরিপুর্ণতা কেবলমাত্র দুইজন মানুষের উপরে নির্ভর করে: একজন স্বামী আর একজন স্ত্রী। তা না হলে, পুরুষটা তার সিদ্ধান্ত এমনকি তার অনুভূতি তার স্ত্রীর সাথে ভাগ করছেন না। এটাই নাদিন আল-বেদাইরের প্রতিবেদনের [মানে]।

এই ব্যাপারে আমার মতামত এটা। মানুষ প্রতিবেদনটা ভাল করে পড়ে নি, বিতর্কিত শিরোনামের পিছনের আসল মানে তারা দেখেন নি।

তারা বির্তক খুঁজে বের করেছেন কারন এটাই তারা করতে চান- এটা করতে গিয়ে দূর্ভাগ্যবশত: তারা বিষয়বস্তু না দেখে সোজা শিরোনামকে আক্রমণ করেছেন।

মনে হচ্ছে এই দৃষ্টিভঙ্গী অন্যরাও সমর্থন করছেন, যারা বলছেন যে বিষয়টার অনেকটাই প্রতিবেদনের আসল মানে না বুঝে সমালোচনাতে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়েছে।

হিবা মিদানে মন্তব্য করেছেন:

يفتقد تقرير البي بي سي لطبيعة المادة في المقالة الأصلية. لازم عليك أن تسأل: ” هل تدعو البدير فعلا النساء إلى طلب السماح لهن باتخاذ أكثر من زوج, أو أنها تحاول إعادة قضية تعدد الزوجات إلى الأضواء؟
এই বিবিসি রিপোর্ট আসল প্রতিবেদনের মজা হারিয়েছে। একজনকে জিজ্ঞাসা করতে হবে “আল-বেদাইর কি আসলে চাচ্ছেন যাতে নারীরা একাধিক স্বামী গ্রহণ করুক, নাকি তিনি বহুবিবাহের ব্যাপারটা আবার সম্মুখে আনতে চাচ্ছেন?”

(যে বিবিসি খবরের কথা তিনি বলছেন সেটা এখানে পড়া যাবে।)

মিশরীয় আহমেদ জিদান মিডিস্ট ইয়থে মাহদির একটা লেখা নিয়ে মন্তব্য করেছেন “একজন স্ত্রীর বহু স্বামী!!!!” শিরোনামে যেটা এল-বেদাইরের প্রতিবেদনকে খুবই সমালোচনা করেছে:

يا أستاذ مهدي
مقالة السيدة نادين هي مقالة هزلية، وأندهش كيف لم تدرك هذا من بين سطورها؟ كل ما تريده هي المساواة بالرجل، أي قانون زواج وضعي “برسم خارطة جديدة للزواج.” أما إذا لم يستغنِ الرجل الشرقي عن حقه الديني في أربعة زيجات، فلما لا يتم إعطاء الحق بالمثل للمرأة؟؟ أراني أتفق معها يا أستاذ مهدي… أتفق في أن أن تساوى الرجل بالمرأة… كل له زوج واحد، وفق قانون أحوال شخصية وضعي. تحياتي
জনাব মাহদি, মিস নাদিনের প্রতিবেদন বিদ্রুপাত্মক ছিল। আমি অবাক যে আপনি ভিতরের ব্যাপারটা ধরতে পারেননি। তিনি কেবলমাত্র পুরুষদের সাথে সমতা চাচ্ছেন; বিয়ের একটা আইন যেটা বিয়েকে ঢেলে সাজাবে। যদি পূর্বের পুরুষ চারটা বিয়ের তার ধর্মীয় অধিকার ছাড়তে না পারেন, তাহলে নারীদেরকেও একই অধিকার কেন না দেয়া??” জনাব মাহাদি, আমার বিশ্বাস আমি তার সাথে একমত…আমি একমত যে নারী পুরুষের সমান হওয়া উচিত; প্রত্যেকের একজন করে সঙ্গী থাকা উচিত, জাগতিক ব্যক্তিগত অবস্থান আইন অনুসারে। শুভেচ্ছা।

আর পরিশেষে, ওন্টড পলিটিকালে, মন্তব্যকারী লেপ্রোফেশানাল ভুল বোঝাবুঝির ফলে সৃষ্ট আশাভঙ্গের ব্যাপারে বলেছেন:

আমার খুব ভালো লেগেছে যে মিশরীয় ধর্মযাজক থেকে পশ্চিমা মন্তব্যকারী সবাই নাদিন এল-বেদাইরের প্রতিবেদনের আসল বিষয়টা ধরতে পারেননি…

প্রহসন কথাটা প্রতিবেদনে বা উপরের মন্তব্যে একবারও উল্লেখ করা হয়নি- যেখানে তার লেখা পুরোপুরি ‘সংযত একটা প্রস্তাব’ বলে মনে হয়।

তিনি বহুবিবাহের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু আমার মনে হয় এর থেকে আর একটু বিমূর্তভাবে চিন্তা করা প্রযোজন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .