বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

প্যালেস্টাইন: গাজায় সোয়াইন ফ্লুর আগমন

আশেপাশের অন্য অনেক এলাকার চেয়ে অনেক দেরিতে এইচ১এন১ নামক ভাইরাস জ্বর গাজায় প্রবেশ করল। বাস্তবতা হচ্ছে ইজরায়েল ও মিশর এই এলাকা অবরোধ করে রেখেছে। গাজায় এ মাসের শুরুতে এইচ১এন১ রোগে প্রথম কারো মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়। এই পোস্টে গাজার ব্লগাররা এই এলাকার জনগণের সোয়াইন ফ্লু নিয়ে ভয় এবং প্রতিক্রিয়া তুলে ধরছে-এবং যে সমস্ত জিনিষপত্র এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে, সেগুলোর হুহু করে বিক্রি হবার ঘটনাকে তুলে ধরছে।

সাব্বাহ রিপোর্ট-এ ওমার ঘারাইব লিখেছেন:

যখন সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১ ভাইরাস) নামে পরিচিত মহামারী বিশ্বের বেশীরভাগ অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন গাজার নাগরিকরা বিশ্বাস করেছিল, তারা হয়ত এই রোগের আক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পেরেছে। তাদের এই নিশ্চিত বিশ্বাসের ইতি ঘটে ৬ই ডিসেম্বর। সে সময় গাজায় প্রথম এক ব্যক্তি সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা। এই ঘটনার ফলে এখানকার লোকজন মাত্রাতিরিক্ত ভয়ের সাথে এক ধাক্কা খাওয়ার মত অনুভূতিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই মৃত্যু তাদের তীব্রভাবে আঘাত করেছে, কারণ এই সময় বিশ্বের অন্য সব এলাকায় এই ভাইরাস নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হচ্ছে না, এবং সে সমস্ত এলাকায় সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার ঘটনা ক্রমশ কমে আসছে। […] ডিসেম্বরের ছয় তারিখে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণার পর গাজায় খারাপ সংবাদ যেন নোংরা নর্দমার স্রোতের মত প্রবাহিত হতে শুরু করে। সন্দেহজনক নতুন নতুন ব্যক্তির সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হবার সংবাদ সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলতে শুরু করে। যদিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নি, তবে গুজব রয়েছে যে বিশাল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নাগরিক ইজরায়েলে সোয়াইন ফ্লুর চিকিৎসা নেবার সময় মৃত্যুবরণ করেছে।

সে বলেই চলেছে:

গাজা এখন এক ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ হাজীরা হজ শেষে মক্কা থেকে ফিরে আসতে শুরু করেছে। হজের মৌসুমে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরা মক্কায় হজ করতে যায়। সে সময় তারা সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়াও অনেক বিদেশী গাজায় প্রবেশ করে। তারা হয় সেখানকার অজস্র বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আসে, নতুবা গাজার লোকদের প্রতি সমর্থন প্রকাশের জন্য গাজায় প্রবেশ করে।

লিনা আল শরিফ তার ৩৬০ কেএম২ অফ কেওয়াস ব্লগে লিখেছেন:

সারা বিশ্বের অনেক স্থানে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক মাস পরে যখন এই ফ্লু আমাদের এই এলাকায় প্রবেশ করল, তখন আমি আবিষ্কার করলাম এখানকার লোকজন এই ব্যাপারে প্রচণ্ড সচেতন। আজ আমি হালকা খাবার কেনার জন্য স্থানীয় এক মুদি দোকানে গেলাম। আমি বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করলাম দোকানের মালিক এইচ১এন১ রোগের লক্ষণ সমূহ ও তার প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ছাপানো এক কাগজ আমার হাতে ধরিয়ে দিল। এখানে এক ধরনের উদ্বিগ্নতা দেখা দিয়েছে; যখন খুব সাধারণ নিয়মিত রোগ সমূহ এখানে দেখা দেয় তখন দেখা যায় গাজায় তার জন্য যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকে না। কাজেই যে কোন রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার ভয় থেকে যায়। আমি এক ডাক্তারকে বলতে শুনেছি যে, তার অনেক রোগী সাধারণ জ্বরের লক্ষণ নিয়ে চলাফেরা করে, হয়তো তাদের সোয়াইন ফ্লু হয়েছিল।

এক নতুন প্রকাশ ভঙ্গি ব্যবহার করা হচ্ছে:

যখন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করল যে এইচ১এন১ গাজায় প্রবেশ করেছে, তখন যে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে সবার মনে সন্দেহ দেখা দেয়, যে সে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে। অনেকে “এইচ১এন১ পজেটিভ” নামে এক ধরনের প্রকাশ ভঙ্গি তৈরি করেছে, যার ব্যাখ্যা হচ্ছে “আপনার সোয়াইন ফ্লূ হয়েছে”। এই প্রকাশ ভঙ্গির-এর চেয়ে ভালো অনুবাদ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

গাজায় বিশ্বাস করা হয় যে স্টার এনাইস নামক মশলা (অনেকটা মৌরির মত) সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধ করে। [অনেকে স্টার এনাইসকে মৌরি বা এনাইসের সাথে গুলিয়ে ফেলে, আরবী ভাষায় এই মশলার নাম ইয়ানসুন, এর ফল দেখতে অনেকটা তারার মত, বীজ মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত উষ্ণ পানীয়তে এই মশলা ব্যবহার করা হয়]:

অবশেষে, যখন এই রোগের ঘোষণা এল, তখন লোকজন স্টার এনাইস বা মৌরি নামক মশলা কেনার জন্য উন্মাদের মত হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কারণ এটি নাকি সোয়াইন ফ্লু রোগের উপশম করে এবং প্রতিরোধ করে। নিশ্চিত করে বলা যায় অনেক খুচরা বিক্রেতা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। এনাইস বা মৌরির এর দাম এর আগে কখনো এতটা বৃদ্ধি পায় নি।[…] এছাড়াও হাত “জীবাণুমুক্তকরণ” উপাদানের দামও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওমার ঘারাইব-এর সূত্রমতে সোয়াইন ফ্লু রোগের ক্ষেত্রে স্প্যানিশ রসুনের ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয়:

লোকজন এখানে উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেছে এবং তারা কি ভাবে এইচ১এন১ ভাইরাসে প্রাদুর্ভাব দুর করা যায় সে সম্বন্ধে তথ্য অনুসন্ধান করা শুরু করেছে। তারা বের করার চেষ্টা করছে কি ভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় এবং একে খতম করা যায়। ব্যবসায়ীরা এই ভাইরাস প্রতিরোধক উপাদান সরবরাহ করছে, তবে তারা প্রকৃতপক্ষে এই আতঙ্ক এবং এই রোগ সম্বন্ধে যে সাধারণ অজ্ঞতা, তার বাণিজ্যিক ফায়দা লুটছে। গাজাবাসীদের এই রোগ প্রতিরোধে বেশ কিছু টোটকা প্রদান করা হচ্ছে, তার মধ্য মৌরি ও স্প্যানিশ রসুন অন্যতম। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার কয়েকদিনের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার কারণে গাজা থেকে মৌরি উধাও হয়ে যায়। এদিকে গাজার ওষুধের দোকানগুলো “এইচ১এন১-এর শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে স্প্যানিশ রসুন ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করছে”। এদিকে আতঙ্ক এবং অজ্ঞতা পাশাপাশি চলছে।

অলা আনান তার ব্লগ ফ্রম গাজায় লিখেছে:

وبعدين قصة الينسون هادي عنجد اشي بيضحك
صار الكل يقول والله سمعنا الينسون هادا بشفى من الانفلونزا .. ويادوب الخبر انتشر .. وبظرف يومين بالعدد ارتفع سعر الينسون وتضاعف بدرجة مخيفة مش ممكن تتخيلوها … يعني كان الكيلو بـ 12 شيكل مثلا .. ويامين يشتريه .. هلأ وصل سعر الكيلو لـ 200 و 260 شيكل بظرف يومين !!!
যখন মৌরি এই ঘটনার সাথে যুক্ত হয়, তখন বিষয়টি সত্যি হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়। সকলে এটা বলছে যে–আমরা সত্যিই এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি-মৌরি, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধ করে… যখনই এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তার দুদিনের মাথায় মৌরির দাম বেড়ে যায় এবং পরে তা কয়েকগুণ বেড়ে আতঙ্ক ধরানোর মত এক দামে এসে থামে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়… এক কিলো মৌরির দাম ছিল ১২ শেকেল (শেকেল- ফিলিস্তিনি মুদ্রা, ১২ শেকেল =৩ মার্কিন ডলার বা ২১০ টাকা প্রায়) সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ শেকেল -এ (৫২.৫ মার্কিন ডলার বা ৩৬০০ টাকা প্রায়) এবং এই ঘটনার দুই দিনের মাথায় প্রতি কিলো মৌরির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ শেকেল (৬৮.৫ মার্কিন ডলার বা ৪৭০০ টাকা প্রায়)!

এবং মুখোশের কথা ভুলো না:

الشغلة التانية الي صارت موضة .. الا وهي لبس الكمامات … بالمدارس هلأ بتلاقي الولاد الصغار كل واحد لابس كمامة وصارت لعبتهم .. وبنفس الوقت بتلاقي اولاد جايبين معاهم من بيوتهم صابونة ومنشفة وكل شوية رايحين جايين يغسلوا ايديهم ..
দ্বিতীয় যে বিষয়টি এখন উন্মাদনায় পরিণত হয়েছে তা হল মুখে মাস্ক বা মুখোশ পরা…। স্কুলে এখন কিশোর কিশোরীদের সকলকে মুখোশ পরা অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে… একই সাথে দেখা যাবে শিশুরা বাসা থেকে তোয়ালে ও সাবান নিয়ে এসেছে এবং প্রায়শ:ই তারা তাদের হাত ধুতে চলে যাচ্ছে…।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .