বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পোল্যান্ড: আউসউইৎজ শিবির থেকে ‘আরবাইট মাখট ফ্রাই’ নামের প্রতীক চিহ্ন চুরি হয়ে যাওয়া

আউসউইৎজ নির্যাতন শিবিরের প্রবেশ পথ, ছবি টেবেরটর১ এর ফ্লিকার পাতা থেকে নেওয়া।

আউসউইৎজ নির্যাতন শিবিরের প্রবেশ পথ, ছবি টেবেরটর১ এর ফ্লিকার পাতা থেকে নেওয়া।

গত শুক্রবার সকালে পোল্যান্ডের ক্রাকাও-নামক এলাকার কাছে প্রাক্তন নাৎসী মৃত্যু ক্যাম্প (বন্দী শিবির) আউসউইৎজের শিবিরের দরজায় লেখা “আরবাইট মাখট ফ্রাই” (কাজই সবাইকে মুক্ত করে) নামক প্রতীক চিহ্নটি চুরি হয়ে গেছে। এর মূল অংশটি প্রথম তৈরি করেন এই শিবিরের বন্দীরা [পোলিশ ভাষায়], যার নেতৃত্ব দেন জান লিয়াসজ এবং এই চিহ্নটিকে শিবিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখা ও জাদুঘরের বৈশিষ্টপূর্ণ শিল্প বলে অভিহিত করা হত। এর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকগুলো ধারণার জন্ম দেয় [পোলিশ ভাষায়], তবে একই সাথে পোলিশ সরকার, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ, ইহুদি সম্প্রদায় এবং কিছু জনতা এই ব্যাপারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এই বিষয়ের প্রতি উৎসর্গীকৃত এমন এক ফোরাম বা সভায় ব্যবহারকারী লেসটাট বলেছেন [পোলিশ ভাষায়]:

এখন তারা এক পোল নাগরিকের চরিত্র অঙ্কন করতে পারবে। তারা শীতে আক্রান্ত, কাজে তারা এক বোতল মদের জন্য প্রস্তুত। এর জন্য তারা ভাঙ্গা লোহার টুকরা বিক্রি করে দেয়, যে টুকরা কেবল ঐতিহ্যগতভাবে তাদের সংস্কৃতির একটি অংশ নয়, একই সাথে তা যন্ত্রণা ও বীভৎস মৃত্যুর প্রতীক।

মিশেল এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এই ভয়াবহ চৌর্যকর্মের পরিণতি সে অনুভব করছে [পোলিশ ভাষায়]:

কে ভাবতে পারে যে, কেউ একজন এই রকম ভয়াবহ স্থান থেকে চুরি করতে পারে। যখন আমি অউসউইৎজ শিবিরের পাশ দিয়ে যাই, আমি ভয়ে শিউরে উঠি… যারা ওই জিনিসটি চুরি করেছে, তারা নিছক উন্মাদ।

কাজিমিয়েরজ মাসিয়েইয়েভস্কি সম্প্রতি তার ব্লগের এক আলোচনার সময় এই চৌর্যকর্ম নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে সেটি যুক্ত করেছেন। এই আলোচনার বিষয় ছিল উন্মুক্ত স্থানে ক্যাথলিকদের ক্রস বা প্রতীক চিহ্ন ছড়িয়ে থাকা। উভয় বিষয় নিয়ে আলোচনার পরিমাণের তিনি তুলনা করে দেখিয়েছেন [পোলিশ ভাষায়:।

আমরা বলছি, তরুণ প্রজন্ম যেখানে শিক্ষা লাভ করছে, সেই সমস্ত এলাকা থেকে প্রতীক নিষিদ্ধ করা নিয়ে এক আলোচনার আমরা সাক্ষী। এদের মধ্যে সামান্য কয়েকজন ক্রস চিহ্নটি নিষিদ্ধ করার পক্ষে।

মার্কডি-র দাদি আউসউইৎইজ শিবিরে খুন হয়েছিল। তিনি তার ব্লগ পোস্টে এক ভিন্নমত পোষণ করেন [পোলিশ ভাষায়]:

গরিব চোরদের রেল লাইন থেকে লোহা চুরি করার থেকে এই প্রতীক চিহ্ন চুরি করা ১০০০ গুণ কম গুরুত্বপূর্ণ। কারা এভাবে তাদের টিকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় এবং সেই বুড়ো লোকটির মত নিউমোনিয়া বাঁধাতে চায়, যে কি না রেললাইন ঠিক হবার অপেক্ষায় বসে থাকে।

আজ পুলিস জানিয়েছে যে এই ঘটনার তদন্ত শেষে পাঁচজন লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতীক চিহ্নটি উদ্ধার করা হয়েছে বটে, কিন্তু ততদিনে এটিকে তিন টুকরায় পরিণত করে ফেলা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র এই চুরির উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন:

এই চুরির ঘটনার সকল দিকই পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং একই সাথে আমরা যাচাই করে দেখছি এই ঘটনার সাথে ইহুদি বিদ্বেষী কেউ জড়িত কিনা […]।

পরে, বলা হয় এই শিল্প দ্রব্য চুরি করার সম্ভাব্য কারণ ছিল, এই বস্তু বিক্রি করে কিছু টাকা হাতানো।

এটা পরিষ্কার নয় যে কি ভাবে এটা বিক্রি করে টাকা কামানো হয়েছে। দুই দিন আগে ডিগ এর মত এক পোলিশ সাইট একটি লিঙ্ক বা সংযোগ সাইটের কথা প্রকাশ করে। এই সাইট জানাচ্ছিল জাদুঘরকে সাহায্য করার জন্য এই প্রতীকের নকল কপি বিক্রি করা হচ্ছে:

আউসউইৎজ-বিরকেনাউ স্মৃতি সংগ্রহশালা ও জাদুঘরে বর্তমানে অর্থ সংকট চলছে এবং তার সাহায্যের প্রয়োজন। আমাদের এ রকম এক চিন্তা ছিল যে প্রধান প্রবেশ পথে যে প্রতীক চিহ্নটি ছিল তার কিছু নকল কপি তৈরি করা, যাতে বিক্রির এই টাকা দিয়ে এই ঐতিহাসিক জাদুঘরে বিভিন্ন জিনিসপত্র লম্বা সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়।

সকল কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থের ২০ শতাংশ পোল্যান্ডের ওসউইসিম-এর আউসউইৎসজ-বিরকেনাউ স্মৃতি সংগ্রহশালা এবং জাদুঘরে প্রদান করা হবে।

কাজেটান৮ এই লিঙ্ক বা সংযোগ-এর ব্যাপারে মন্তব্য করছে [পোলিশ ভাষায়]:

এটা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে তারা দ্রুত এর নকল তৈরি করে ফেলেছে। তারা বলছে, যদি কাউকে দোষ দিতে হয় তা হলে অজানা কাউকেই দোষ দেওয়া উচিত। ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে বলা যায়, সেই ব্যক্তি এই ঘটনার জন্য দায়ী, যে এই ঘটনা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। তিনি সেই ব্যক্তি, যে এই কাজটি করেছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .