বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পশ্চিম সাহারা: আমিনাতু হায়দার নির্বাসিত

আমিনাতু হায়দার এর ছবি সাহারুইয়াকের সৌজন্যে

আমিনাতু হায়দার এর ছবি সাহারুইয়াকের সৌজন্যে

পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার (মরোক্কো থেকে) লড়াইয়ে যারা অবদান রাখছেন তাদের মধ্যে প্রথম সারির কর্মী আমিনাতু হায়দার। ১৯৬৭ এ জন্মগ্রহণ করা এই বীরকে মরোক্কোর কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতার স্বপক্ষে লড়াইয়ের বদলা নিতে ‘গায়েব’ করে দিয়েছিলেন বিশ বছর বয়সে কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় তিনি আবার বেরিয়ে এসেছিলেন। ২০০৫ সালে হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল একটা বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য আর ‘সহিংস বিক্ষোভ কার্যে উস্কানির জন্য’ তার সাত মাসের জেল হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাকে বিবেকের বন্দী হিসাবে ঘোষণা করেছিল, তিনি সহ ৬ জনের বিচারের যথার্থতা প্রশ্ন করে। তার মুক্তির পর তিনি রবার্ট এফ কেনেডি মানবাধিকার পুরস্কার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন, আর সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে নাগরিক সাহসিকতার পুরস্কার পেয়েছেন – এ সবই পশ্চিম সাহারায় মানবাধিকার রক্ষার জন্য তার কাজের স্বীকৃতি।

তাকে দেয়া এত সম্মান সত্ত্বেও, হায়দার সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মরোক্কোতে বাস করতেন গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে। গত ১৩ই নভেম্বর শুক্রবার এল আইয়ুন (পশ্চিম সাহারার একটি শহর) এ ফেরার পরে তাকে গ্রেপ্তার করে নির্বাসিত করা হয়েছে। ক্রিশ্চান সায়েন্স মনিটর অনুসারে, কর্তৃপক্ষ তার কাস্টমস ফর্মে ‘পশ্চিম সাহারা’ লেখাকে কারণ হিসেবে দেখেছেন। মরোক্কোর কর্তৃপক্ষ অনুসারে, হায়দার তার মরোক্কোর নাগরিকত্ব অস্বীকার করে ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে সই করে বাতিল করেছে'। তাকে ক্যানারী দ্বীপের ল্যাঞ্জারোতে বন্দীশালায় পাঠানো হয়, আর পরে মানবিক কারনে স্পেনে থাকার অধিকার দেয়া হয় (স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা এবিসি অনুসারে)।

স্বাধীনতার পক্ষের ব্লগ স্যান্ডব্লাস্ট পাঠকদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে হায়দার একমাত্র অভিবাসী নন যাকে তার বৈপ্লবিক কাজের জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছে:

গত ৬ই অক্টোবর থেকে এই পর্যন্ত পশ্চিম সাহারা থেকে সুপরিচিত পনের জন মানবাধিকার উকিলকে গ্রেপ্তার, আটক আর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্যাসাব্লাঙ্কা ৭ নামে পরিচিত সাতজনকে সামরিক আদালতে বিচার করা হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহীতার জন্য কারণ তারা দক্ষিণ পশ্চিম আলজেরিয়ায় সাহারাউই শরণার্থী ক্যাম্প থেকে তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে ঘুরে এসেছে। এই সাহারাউইদের লক্ষ্য করা হয়েছে তাদের বাসভূমি মরোক্কো কর্তৃক অধিগ্রহণ ও তাদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য আর তাদের স্ব-নির্বাচনের অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টার জন্যে যা জাতিসংঘের চার্টার আর ১০০ টার বেশী রেজল্যুশন দ্বারা স্বীকৃত। গত আগস্টে, মরোক্কোর কর্তৃপক্ষ ৬ জন সাহারাউই তরুণকে যুক্তরাজ্য যাওয়া থেকে বিরত করেন। তারা অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছিলেন অক্সফোর্ড কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান টক টুগেদারে, যা সংঘাতময় এলাকার তরুণদের মধ্যে আলোচনার স্থান।

স্প্যানিশ ব্লগার বিল্বাওবিলোনিয়া, সাম্প্রতিক একটা ভাষণের কথা বলেন যেখানে মরোক্কোর বাদশা মোহাম্মদ সপ্তম বলেছেন যে কেউ যদি পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকে সমর্থন করে তাহলে সে বিশ্বাসঘাতক। তিনি হায়দারের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন:

Ya lo dijo el rey Mohamed VI en su discurso conmemorativo de la Marcha Verde: en Marruecos sólo se puede ser patriota o traidor. Claro que, si alguien se toma la molestia de examinar las raquíticas libertades que promueve la dinastía alauí o la persecución a la que somete a la disidencia saharaui, es fácil llegar a la conclusión de que en Marruecos, la traición es la forma más noble de patriotismo.

গ্রীন মার্চ উদ্বোধনের সময় বাদশা মোহাম্মদ যেমন বলেছেন: একজন মরোক্কান হয় দেশ প্রেমিক হবে বা দেশদ্রোহী। অবশ্য কেউ যদি কষ্ট করে দেখেন যে আলাওয়াইট রাজবংশ যে স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেন বা তারা সাহারাউই অভিবাসীদের যে শাস্তি দিয়ে থাকে, সেটা থেকে সহজেই বলা যায় যে মরোক্কোতে, দেশপ্রেমের সব থেকে মহৎ প্রদর্শন হল দেশদ্রোহিতা।

ব্লগার ওয়ান হাম্প অর টু বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই ব্যাপারে যে মরোক্কোর কর্তৃপক্ষ এত ভালো পরিচিতি থাকা কারো পিছনে লাগবেন:

এটা থেকে বোঝা যায় যে মরোক্কোর পুলিশ যে কোন সাহারাউইদের পিছনে লাগবে যারা কোন জনমতকে সমর্থন করবে, যারা আন্তর্জাতিক পরিচিতি আর সমর্থন পান তাদেরকেও। হায়দারের পুরস্কার ( সম্প্রতির নাগরিক সাহসিকতার পুরস্কার) তাকে এই সকল বিপদ থেকে দূরে রাখার কথা এবং মরোক্কোর কর্তৃপক্ষকে এটা দেখিয়ে যে বিশ্ব দেখছে তাদের।

সাহারা অক্সিডেন্টাল ব্লগ আমিনাতু হায়দারের বিষয়টি নিয়ে প্রচার মাধ্যমের মতামতগুলোর পর্যালোচনা পোস্ট করে যাচ্ছে

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .