বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সংঘর্ষকে উপলদ্ধি করার জন্য ইজরায়েলী ও ফিলিস্তিনী তরুণরা ভিডিও ব্যবহার করছে

ইজরায়েল ও অধিকৃত প্যালেস্টাইন অঞ্চলের দু'টি ভিন্ন সংগঠন, আরব ও ইহুদি তরুণদের মধ্য সংঘর্ষ বন্ধ ও উভয়ের দূরত্ব কমিয়ে এনে উভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার জন্য ভিডিওকে ব্যবহার করছে। সংগঠন দু'টি তাদের মধ্যে এমন এক বিশেষ জায়গা তৈরি করছে যাতে তারা পরস্পরের সাথে মেশে এবং যোগাযোগ তৈরি করে। এর উদ্দেশ্য যাতে তারা তাদের স্বপ্ন, পরস্পরের সচেতনতা ও চিন্তাভাবনা ভাগাভাগি করে নিতে পারে, যেন তাদের জীবনে যে জটিলতা চলছে তা তারা অতিক্রম করতে পারে।

এই বিষয়ে এক অন্যতম উদ্যোগের নাম হল সাদাকা রেয়ুট এবং তারা তাদের এই উদ্যোগ সম্বন্ধে বলছে:

বেশিরভাগ ফিলিস্তিনী ও ইহুদি তরুণ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন (তারা আলাদা সম্প্রদায় হিসেবে বাস করে থাকে এবং স্কুলে পড়াশুনা করে) হয়ে থাকে এবং এর ফলে তাদের একে অপরের প্রতি ভয়, বর্ণবাদ এবং সংস্কার বিরাজ করছে। আমরা দু'টি সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বা মেশার জন্য বিকল্প এক ধারা তৈরির চেষ্টা করছি। ‘শান্তির এক সংস্কৃতি নির্মাণ’ নামক উদ্যোগটি প্যালেস্টাইন ও ইহুদি তরুণদের পরস্পরের সাথে এক সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা যাতে তারা উভয়ে নিজেদের সমান অধিকার সম্পন্ন মানুষ বলে বিবেচনা করে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং তারা ব্যক্তিগত ও জাতিগত ভাবে এই সমস্ত বিষয়গুলো অনুভব করে।

তাদের এই অনুষ্ঠানের সদস্যরা এক মিনিটের এক ভিডিও নামক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছে, সেখানে তারা এক সপ্তাহের এক কর্মশালায় অংশ নেয়। এই কর্মশালায় তারা ভিডিও এক্টিভিজম সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করে। এখানে তার কিছু ফলাফল রয়েছে এবং আপনি তাদের সাইটে ক্লিক করে বাকী ভিডিও দেখতে পাবেন:

এএম/এফএম:

ভালোবাসার কিছু গান গাওয়া:

উইন্ডোজ ফর পিস বা শান্তির জানালা নামক পরিকল্পনা এ রকম আরেকটি উদ্যোগের নাম। এই উদ্যোগের শুরু ১৯৯১ সাল থেকে, যার শুরু তরুণদের জন্য এক পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে। দু'টি ভাষা ও দু'টি সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করে এমন এক পত্রিকা এটি। এর উদ্দেশ্য ছিল তারা যেন একে অপরের সাথে মিশতে পারে এবং পরস্পরের দ্বন্দ্বের কারণগুলো জানতে পারে। একই সাথে এই পত্রিকা যেন তরুণদের জন্য সাম্য ও ক্ষমতা তৈরি করতে পারে তার জন্য এটি কাজ করে গেছে। তবে কাজটি সহজ ছিল না। যেমনটা তারা তাদের সাইটে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছে:

ইজরায়েলী ও ফিলিস্তিনী তরুণদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার বিষয়টি সহজ কাজ ছিল না, যেখানে উভয়ের মধ্য প্রচুর পরিমাণে ভুল বোঝাবুঝি এবং একই ধরনের বিশ্বাসের মত বিষয়গুলোকে অতিক্রম করে আসতে হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে তারা একে অন্যের সম্বন্ধে শিখে এসেছে। পরস্পরের সাথে মেশার ক্ষেত্রে তথ্য পাওয়ার অনেক কম সম্ভাবনা থেকে যায়। এর ফলে সম্প্রদায়গতভাবে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস করে। চলতে থাকা রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রদায় দু'টিকে পরস্পরের প্রতি ভীতি, সংস্কার ও ঘৃণা তৈরি করতে শেখায়, যা তাদের আলাদা করে রেখেছে। উইন্ডোজ অফ চেঞ্জ বা পরিবর্তনের জানালা নামের উদ্যোগটি এ কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে ভাবে ইজরায়েলী ও ফিলিস্তিনী তরুণরা পরস্পর ও সংঘর্ষকে দেখে তার পরিবর্তন ঘটাবে”। উইন্ডোজ-এর অংশগ্রহণকারীরা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছে যা উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজমান সংঘর্ষকে ভিন্ন আকারে উপস্থাপন করে, বিষয়টিকে এমন এক শান্তিপূর্ণ বাস্তবতার দিকে নিয়ে গেছে যেখানে উভয় সম্প্রদায় একত্রে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং পারস্পারিক জ্ঞান ও একে অন্যের প্রতি গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে স্থির এবং কাঙ্ক্ষিত এক শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব হবে।

তারা একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যার নাম থ্রু দ্যা লেন্স। এখানে ১৫ থেকে ১৭ বছরের তরুণ যারা পত্রিকার মাধ্যমে ‘বিশেষ সনদ প্রাপ্ত বা গ্রাজুয়েট’ হয়েছে, তারা শর্ট ফিল্ম বা সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র তৈরির উপর দক্ষতা অর্জন করছে। তারা সংবাদ টুকরো এবং অন্য সব ভিডিও তৈরি করছে যা ভবিষ্যৎ-এ উৎপাদনশীল, শান্তির সংলাপ সম্বলিত এবং ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করে এমন তথ্য চিত্র তৈরি করতে পারে।

এখানে একটি ভিডিও রয়েছে যেখানে উইন্ডোজ-এর অংশগ্রহণকারীরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তার বর্ণনা দিচ্ছে এবং এই কাজে তারা যে সমস্ত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিল কি ভাবে সেগুলো মোকাবিলা করেছে সেই সব বিষয় উপস্থাপন করছে। একই সাথে তারা ইজরায়েলী ও ফিলিস্তিনীদের মধ্যে যে সংঘর্ষ সেই জটিল বিষয় সম্বন্ধে বলছে:

এই ভিডিওর শিশুরা অনেক শব্দে তাদের কথা বলছে: অনেক মতামত নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাদের বেশ কঠিন সময় পাড়ি দিতে হয়েছে এবং অন্য শিশুদের প্রকাশিত ধারণাকে উপলব্ধি করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে, কিন্তু পরস্পরের মধ্যে আলোচনার জন্য নিরাপদ এবং নিরাপত্তামূলক জায়গা তৈরি করার মত বিষয়টি, যে পৃথিবীতে তারা বাস করছে তাকে বুঝতে সাহায্য করছে। এই ঘটনাটি অন্য শিশু এবং তরুণদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা ও শেখার বিষয়টিকে ভাগাভাগি করে নিতে সাহায্য করছে, এমনকি এটি তাদের ধারণা পরিবর্তনেও তা সাহায্য করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .