বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান – এক ভিন্ন ধরনের পলায়ন

অবশেষে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের তালেবানদের বিরুদ্ধে বহু প্রতীক্ষিত অভিযান শুরু করেছে। সারা দেশ জুড়ে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের পর সরকার এই অভিযানের ঘোষণা দেয়, যা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই অভিযানের ফলে তালেবানদের তরফ থেকে এক পাল্টা আঘাত তৈরির বিষয় রয়েছে, যার ফলে এখানকার ১২০,০০০ স্থানীয় বাসিন্দা তাদের ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পাক স্পেক্টেটর-এর মারিয়া সুলতান ওয়াজিরিস্তানের আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে বাস্তু চ্যুত লোকদের উপর আলোকপাত করেছেন:

এই সমস্ত আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু মানুষেরা (ইন্টারনাল ডিসপ্লেসড পিপলস বা আইডিপি) পায়ে হেঁটে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান থেকে ডেরা ইসমাইল খান গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছাতে তাদের প্রায় শ-খানেক মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে এবং পথে তাদের যে দুর্দশা ঘটেছিল তা বলার মত নয়। ডেরা ইসমাইল খান এলাকায় প্রাথমিক বেশ কিছু শিবির স্থাপন করা হয়, কিন্তু এই সব শিবিরে যথেস্ট খাবার, ওষুধ ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত নেই এবং সেখানে খাবার পানির অভাব রয়েছে। যারা এইসব লোকদের সাহায্য করবে সেই সব সরকারি কর্মকর্তারা এখনো এই এলাকায় আসে নি এবং সেখানে এক মানবিক বিপর্যয় ঘনিয়ে উঠছে।

এদিকে ডন নামের পত্রিকা জানাচ্ছে, যে সমস্ত স্থানীয় বাসিন্দা এই রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সমস্ত লোকেরা ক্রমাগত নানা বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে এবং এই আক্রমণাত্বক পরিস্থিতিতে তারা কোন আশার আলো দেখছে না।

চৌরাঙ্গি ব্লগের হিনা সাফদর আশাবাদী যে সরকার উদ্বাস্তুদের সমস্যা সমাধানে খুব দ্রুত উদ্যোগ নেবে।

বাস্তু চ্যুত উদ্বাস্তুরা ডেরা ইসমাইল খান ও ট্যাঙ্ক নামক এলাকায় পালিয়ে গেছে। এ দু'টি শহরের অবস্থান পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে, যা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের সীমানায় ঘেঁষে রয়েছে। ত্রাণকর্মীরা বলছেন উদ্বাস্তুদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পথে এখন সরকারের সবচেয়ে বড় বাধা সেখানকার ক্ষণভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকার অবশ্য অস্বীকার করেছে যে সেখানকার উদ্বাস্তুরা সমস্যায় রয়েছে। সরকার বলছে, বাস্তু চ্যুত ব্যক্তিদের জন্য তারা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান। সেখান উদ্বাস্তু শিবির স্থাপন বাস্তব সম্মত কোন সিদ্ধান্ত নয়, কারণ সেখানে উপজাতি গোত্রগুলোর মধ্য পুরোনো শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে এখনো সংঘর্ষ চলছে। বাস্তু চ্যুত ব্যক্তিরা মূলত: সেখানে তাদের আত্মীয় বা স্বগোত্রীয়দের সাথে বাস করছে।

ওয়াজিরিস্তানের সমস্যা সোয়াত উপত্যকায় সৃষ্ট সমস্যার চেয়ে ভিন্ন। এখানে অসংখ্য মানুষ বাস্তু চ্যুত হয়েছে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে সেখানকার লোকদের দেখাশোনা করা ও তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে তালেবানরা শিবিরের লোকদের সাথে মিশে না যায়। তবে স্থানীয়দের মধ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে ও শিবিরে লোকজনের আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার যে সমস্ত সংবাদ আসছে, তাতে মনে হচ্ছে এই ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

পাকস্পেকটেটরে আলতাফ খান একটি লেখা পোস্ট করেন, যার শিরোনাম ‘দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে কিছু প্রশ্ন ’’। এই লেখায় তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন।

• সামরিক বাহিনী কি প্রস্তুত, সমরসজ্জা , প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত দিক নির্ধারণের দিক থেকে? তারা কি এক গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, যা তারা লড়তে যাচ্ছে?
• এখানে জানা জরুরী সন্ত্রাসীদের সাথে স্থানীয় লোকদের কি ভাবে আলাদা করে চিহ্নিত করা হবে, বিশেষ করে মেসহুদ-এর গোত্রের লোকদের সাথে মেসহুদের অনুসারী যোদ্ধাদের কি ভাবে আলাদা করা হবে, তা নির্ধারণ করা জরুরী?

যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ে তৈরি হওয়া অনেক প্রশ্নের মধ্যে এগুলো সামান্য কয়েকটি প্রশ্ন। যদিও মনে হচ্ছে লোকজন এই বিষয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের এবং কি ভাবে এই মানবিক বিপর্যয়কে কমিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে সবাই সাহায্য করতে রাজি। আমার নিজের ব্লগে আমি একটা সচেতনতামূলক বিষয় উত্থাপন করেছি এবং বিশ্লেষণ মূলক লেখা পোস্ট করেছি। সেখানে বলা হয়েছে চলতে থাকা এই পরিস্থিতি ও সমস্যা সম্বন্ধে, যে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

ঘটনা হচ্ছে মেহসুদের প্রতি কর্তৃপক্ষ ও জনতার মনোভাব সহনাভূতিশীল ও সচেতনতার বদলে সতর্কতামূলক ও ভীতিকর। যা মূলত তালেবানদের উদ্দেশ্যকে সফল করে। এবং এই বিষয়গুলো মেহসুদের স্বগ্রোত্রীয় লোকদের তার দলে মিশে যেতে বাধ্য করে। এই যুদ্ধে কখনই জেতা যাবে না, যদি না ওয়াজিরিস্তানের স্থানীয় বাসিন্দারা তালেবানদের সাথে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ও তাদের কাঠামো ধ্বংস করার প্রতি আলাদা কোন আগ্রহ না দেখায়। স্থানীয় লোকদের হৃদয় না জিতে যুদ্ধ জেতা হবে ক্ষণস্থায়ী এক জয় মাত্র। যদি আমরা একে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করে দিতে চাই তাহলে আমাদের নিরাপত্তাহীনতাকে অতিক্রম করতে হবে এবং তাদের সহানুভূতির সংস্কার থেকে বের করে আনতে হবে। জাতি হিসেবে এক হয়ে থাকতে হলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এটা প্রয়োজন। চলুন ওয়াজিরিস্তানের বাস্তুচ্যুত এইসব লোকদের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাই, যদিও তারা অতীতে নিরবিচ্ছিনভাবে তালেবানদের সমর্থন জুগিয়ে গেছে। এটা আমাদের জন্য এইসব লোকদের সাহায্য করার একটা সুযোগ যাতে তারা তালেবানদের বলয় ছিন্ন করে বের হয়ে আসতে পারে। চলুন সবাই পরিত্রাণের পথ বেছে নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .