বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বলিভিয়া: গলে যাওয়া হিমবাহের জন্য পানি সংকট

চাকাল্টায়া পর্বতশ্রেণীতে বলিভিয়ার আন্দেজ পর্বতমালার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চূড়া আছে। এই পাহাড়ী দেশে যেহেতু এক সময় স্কি করার এটাই একমাত্র জায়গা ছিল, লা পাজ পৌরঅঞ্চলবাসী আর বিদেশীদের কাছেও এই পাহাড়গুলো বেশ পরিচিত। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের অংশগ্রহণে এই পাহাড়ে চ্যারিটি ফুটবল খেলাও হয়েছে এটা দেখাতে যে এই খেলা উচুঁ জায়গাতেও খেলা যায়।

তবে চাকাল্টায়া হিমবাহ (গ্লেসিয়ার) দ্রুত আর চিন্তায় ফেলার মতো গতিতে গলে যাচ্ছে। এই হিমবাহ সহ এই এলাকার অন্যান্য গ্লেসিয়ার উপরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করেছেন হায়ার ইউনিভাসিটি অফ সান আন্দিয়াজের প্রফেসর এডসন রামিরেজ। তিনি বিশ্ব উষ্ণায়ন আর হিমবাহ গলে হয়ে যাওয়ার পিছনে সরাসরি সম্পর্ক আছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন

রামিরেজ আর তার দল কাছে আর একটা হিমবাহ দেখছিলেন যেখানে একই ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে আর স্থানীয় জনগণের উপরে এর প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করছিলেন। তুনি কন্দোরিরি হিমবাহটি দ্রুত গলে যাচ্ছে, যা আলপাইন পর্বত প্রেমীদের হতাশ করেছে, কিন্তু একই সাথে অভিবাসী একটা গোত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যারা তাদের খাওয়ার পানি আর কৃষি কাজের জন্য এর উপরে নির্ভর করে।

হিমবাহ থেকে যে সংগ্রহশালাতে পানি জমে তা এল আল্টো শহর আর এর বাইরের লা পাজের ৮০% খাওয়ার পানি সরবরাহ করে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুসারে, এল আল্টোর জনসংখ্যা ৮২৭,০০০ যা প্রতি বছর ৫.১% হারে বাড়ছে। সাংবাদিক আর ব্লগার মোনিকা ওব্লিটাস বলেছেন যে জাতীয় গড়ের থেকে এই হার দ্বিগুণের বেশী। বিশেষজ্ঞরা পানির সংকট আর পানির মূল্য বৃদ্ধির ভবিষ্যৎবাণী করছেন, আর কিছু মানুষ ভবিষ্যৎবাণী করছেন যে পানি শীঘ্র রেশন করা হবেঅবসার্ভেদর গ্লোবাল (গ্লোবাল অবজার্ভার) এর এক দল এই এলাকায় ভবিষ্যৎে পানির ঘাটতির সম্ভাবনা নিয়ে ৬ অংশের একটা ভিডিও সিরিজ তৈরি করেছে।

বলিভিয়ার এল আল্টো শহরে স্থায়ী হন অভিবাসি আয়মারা গোত্রের লেকেরা, এদের অনেকেই প্রায় দরিদ্র পরিস্থিতিতে। ইন্ডিজিনাস বলিভিয়া ব্লগের ব্লগার ক্রিস্টিনা কুইসবার্ট অনেক বাসিন্দা খাওয়ার পানি নিয়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা বর্ণনা করেছেন:

অন্যান্য পরিস্থিতি পানি পাওয়াকে কঠিন করে দিচ্ছে। অনেক মানুষ গ্রাম থেকে এল আল্টো শহরে আসেন আর যেখানে পারেন থেকে যান। অর্থের অভাবে তারা এমন জায়গায় থাকে যেখানে না খাওয়ার পানি না পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে। কেউ কেউ তিন মিটার গভীর পর্যন্ত গর্ত খোঁড়ে পানির জন্য। নভেম্বরের দিকে, বৃষ্টির সময় শুরু হয় আর তখন পড়শীরা পানি সংগ্রহ করেন। পরিশেষে পানির অভাব আর দারিদ্রের কারনে অনেক সময় অসুখ ছড়িয়ে পড়ে।

এখানে বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি আছে। আমার বাড়িতে পানি আছে কিন্তু আমার পড়শির বাড়িতে নেই। এটা ওই পরিবারগুলোর জন্য গুরুতর সমস্যা। আমার ক্ষেত্রে, অন্যান্য পরিবারের সাথে আমি পানি ভাগ করে নেই। বাসিলিও আর জুয়ানার চারটা বাচ্চা আছে। তারা ভাড়াটে। তারা যে বাড়িতে থাকে সেখানে খাওয়ার পানি নেই। যখনই তাদের লাগে তারা একটা পাইপ ব্যবহার করে আমার বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহের জন্য আর মাস শেষে পানির বিল আমরা ভাগ করে নেই।

তবে, তুনি কোন্দোরিরি হিমবাহ কেবলমাত্র শহরে খাবার পানি সরবরাহ করে না, বরং এল আল্টোতে কৃষিকাজের জন্য মূল্যবান পানিও সরবরাহ করে। যদি জীবন ধারণের নিমিত্ত কৃষিকাজ পানির অভাবে কমে যায়, অনেক গ্রাম্য লোক এল আল্টোতে কাজের সন্ধানে আসবে। সেখানে তারা একই ধরনের পানির সংকটে পড়বে, আর চাহিদা বাড়িয়ে দেবে।

৩৫০.অর্গ কর্মীরা গত ২৪শে অক্টোবর বলিভিয়ার চাকাল্টায়া হিমবাহে উঠেছিলেন। ছবি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত।

৩৫০.অর্গ কর্মীরা গত ২৪শে অক্টোবর বলিভিয়ার চাকাল্টায়া হিমবাহে উঠেছিলেন। ছবি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত।

চাকাল্টায়া হিমবাহের উচ্চমানের ভাবমূর্তি স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তাদের আর অন্যান্য কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বলিভিয়ার জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার দিকে। সাম্প্রতিক স্থানীয় একটা অনুষ্ঠান যা ৩৫০.অর্গ প্রচারণার সাথে জড়িত তার বিজ্ঞাপন ফেসবুকে এসেছিল, যেখানে বলিভিয়ানদের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল চাকাল্টায়া গ্লেসিয়ারে গিয়ে নিজে এর প্রভাব দেখে আসতে।

পরিশেষে, ওব্লিটাস নীচের প্রশ্ন দিয়ে শেষ করেছেন:

চাকাল্টায়া আশেপাশে নেই আর শীঘ্র, অন্যান্য হিমবাহ আর থাকবে না। দেশ কি এইসব ক্ষতির জন প্রস্তুত? আমরা কি সতর্ক আছি বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে কার্যকর আর দ্রুত কোন পদক্ষেপের জন্য? অনেকের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না আর এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মনে করেন না নিজেকে। কিন্তু সত্যি সত্যি সকলেই বিপদের সম্মুখীন আর সকলে একই পরিস্থিতিতে এর মুখোমুখি হবেন না। সংগ্রাম চলছে যদিও চাকাল্টায়ার মতো স্থানের জন্য অনেক দেরী হয়ে গেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .