বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নাইজেরিয়া: ব্লগাররা নাইজেরিয়ার ঋণাত্মক ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক করছেন

এটা জানা কথা যে নাইজেরিয়ার ভাবমূর্তির সমস্যা আছে- ৪১৯ ইন্টারনেট প্রতারণা, দুর্নীতি, ব ভূমি এলাকায় তেল ডাকাতি- অনেকের কাছেই এইসব বিষয়গুলো মনে আসে যখন আফ্রিকার সব থেকে জনবহুল দেশের কথা ওঠে। তবে বিদেশে নাইজেরিয়ার ভাবমূর্তি সব থেকে খারাপ ছিল গত বছর: গত কয়েক মাসে, বেশ কিছু ঘটনা যা নাইজেরিয়াকে প্রশ্ন বিদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে এবং তা সমগ্র ব্লগ জগৎে আলোচনা তৈরি করেছে।

গত সেপ্টেম্বরে সনি প্লে স্টেশন ৩ নিয়ে একটা বিজ্ঞাপন দেখিয়েছিল যেটাতে এই বাক্য ছিল “ইন্টারনেটে যা পড়েন তা সব বিশ্বাস করতে পারেন না- না হলে, আমি এত দিনে নাইজেরিয়ার একজন কোটিপতি হয়ে যেতাম।“ এই বিজ্ঞাপন অনেক নাইজেরিয়ান আতঙ্ক নিয়ে দেখেছেন, আর ফেডারেল সরকার সনিকে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করেছেন (সনি ক্ষমা চেয়ে বিজ্ঞাপনটি তুলে নিয়েছিল)।

একই সময়ে ডিস্ট্রিক্ট ৯ চলচ্চিত্রটির মুক্তি পায়- এই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে সমালোচকরা ভালোভাবে গ্রহণ করলেও কিছু নাইজেরিয়ান বিরক্ত হয়েছেন। নাইজেরিয়ার সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রে নাইজেরিয়ানদেরকে অপরাধী আর মানুষ খেকো হিসেবে দেখানোর কারনে। চলচ্চিত্রটি নাইজেরিয়ার মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর সেন্সর বোর্ডকে সিনেমা হল থেকে এটা জব্দ করতে বলা হয়েছে। অনলাইনে এই চলচ্চিত্র বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সেখানে কেউ কেউ বলেছেন যে এই চলচ্চিত্র নাইজেরিয়ানদের জাতিগত দৃষ্টিকোন থেকে দেখানো হয়েছে, আর অন্যরা এটা সমর্থন করেছেন যে এটা রূপক একটি উপস্থাপনা যেটার সাথে বাস্তবতার মিল নেই।

ইভিসিএল ব্লগে আদামু ওয়াজিরি দেখিয়েছেন যে প্রায়শ:ই নাইজেরিয়ানরা যেভাবে নাইজেরিয়াকে দেখায় সেটাও একই রকম অপমানজনক:

নলিউড আমাদের স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্প, আমাদেরকে দেশের আর আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে আরো খারাপ ভাবে তুলে ধরেছে। একটা সময় ছিল যখন কোন নলিউড চলচ্চিত্রের বিষয় নীচের যে কোন একটা বা কয়েকটির সমষ্টি ছাড়া দেখা যেত না; জুয়াচুরি, মায়াবিদ্যা, সশস্ত্র চুরি, অনাচার, ব্যভিচার, মানুষ খেকো আর অবশ্যই আমাদের প্রিয় দুর্নীতি। নলিউড এইসব বিষয় নিয়ে হাজার হাজার চলচ্চিত্র বানিয়েছে সাধারণ জনগণ বা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বিশেষ কোন প্রতিবাদ ছাড়াই।

… চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করা ভুল ইঙ্গিত দেয়; আসলে এটা বিপদজনক হতে পারে। আমরা জনগণকে এই বিষয়ে বির্তক করতে দেয়া উচিত। আমরা এটা করার মতো পরিপক্ব। আমার মনে হয় আমাদের মন্ত্রী চলচ্চিত্রটিকে যথেষ্ট প্রচারণা দিয়েছেন যেটা আমি নিশ্চিত তার উদ্দেশ্য ছিল না।

নিকোল স্ট্যাম্প ডিস্ট্রিক্ত ৯ চলচ্চিত্রে বর্ণবাদ নিয়ে মন্তব্য করেছেন:

যে জিনিষটি আমাকে ভাবিয়েছে সেটা হল বেশীরভাগ লোক যারা এই চলচ্চিত্র দেখবেন তারা প্রশ্ন করবেন না, বা লক্ষ্যও করবেন না, এই বিশেষ জাতিগত উপস্থাপনা… কেন নাইজেরিয়ানরা এমন মানুষ হতে পারেন না যাদের অর্থ আর অস্ত্রসহ যৌক্তিক উদ্দেশ্য আছে? কেন তাদেরকে প্রয়োজনের বাইরে হাবা-গোবা জংলী হতে হবে?… এটা অসম্ভব এই অভিযোগকে উড়িয়ে দেয়া – নাইজেরিয়ানদের বড় প্রেক্ষাপটে দেখলে, এটি ক্ষতিকর বা মান হানিকর না কিন্তু বিপদজনক।

এই বিতর্ক সম্পর্কে আরো পড়েন নাইজেরিয়ান্সটক.অর্গ বা গুগলে খুঁজেন ‘ডিস্ট্রিক্ট ৯ রেস’ কিওয়ার্ড দিয়ে।

সাম্প্রতিককালে টাইম ম্যাগাজিন দক্ষিণ আফ্রিকার ফটোগ্রাফার পিটার হুগোর চিত্রের একটা স্লাইড শো প্রকাশ করেছিল যেখানে নাইজেরিয়ার ‘নলিউড’ চলচ্চিত্র শিল্পের কিছু ছবি দেয়া ছিল। যদিও ‘ডিস্ট্রিক্ট ৯’ বা প্লে স্টেশন বিজ্ঞাপনের মতো বিতর্কিত না, তারপরেও ছবিগুলো ব্লগ জগৎে বির্তক সৃষ্টি করেছে, এই আলোচনাসহ যে নাইজেরিয়াকে এমন করে উপস্থাপন করা কি শৈল্পিক স্বাধীনতা নাকি সাংস্কৃতিক পক্ষপাতিত্ব।

সলোমান সাইডেল নাইজেরিয়ান কিউরিওসিটিতে লিখেছেন:

আমি অবশ্যই বিষয়টাতে চাপ সৃষ্টির কারণ বুঝি, কারণ এই চাহিদা থেকেই বেশ কিছু সৃজনশীল মাস্টারপিস আর সর্বসময়ের কাজ হয়েছে। তবে, এইসব চিত্র দিয়ে, আমি এদের প্রশংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছি এবং/অথবা এরা কিসের প্রতিনিধিত্ব করছে আর বিশ্বাস করি যে তারা অকারণে পক্ষপাতিত্বের উপরে নির্ভর করছে যা বেশ কিছু বদ্ধমূল ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করবে হুগোর বিশেষভাবে পশ্চিমা দর্শকের জন্য।

এইসব অনুষ্ঠান বিশেষভাবে খারাপ সময়ে হচ্ছে যেহেতু এগুলো এই বছরের শুরুতে ‘নাইজেরিয়াকে রিব্রান্ডিং (নতুন ভাবে দেখানোর)’ নতুন একটা উদ্যোগ এর সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এই উদ্যোগ স্পন্সর করছেন নাইজেরিয়ার তথ্য আর যোগাযোগ মন্ত্রী ডঃ ডোরা আকুনিলি, আর এটি প্রশংসা আর সমালোচনা দুটোরই মুখোমুখি হয়েছে (এখানে গ্লোবাল ভয়েসেস এর এ প্রসঙ্গে লেখাটি দেখুন)।

বুন্মি ওলোরোন্তোবা আ বোম্বাস্টিক এলিমেন্ট ব্লগে সাম্প্রতিক এক বিবিসি আলোচনার ভিত্তিতে রিব্রান্ডিং (পুন: নামকরণ) প্রচারণার ব্যাপারটি সম্পর্কে বলছেন:

মন্ত্রীর যুক্তি ভালো যখন তিনি বলেন যে নাইজেরিয়া অনেক ভালো জিনিষ দেখছে না, তার গল্প জানাচ্ছে না আর পৃথিবীকে তার দুর্নামের উপর ভিত্তি করে তার ভাবমূর্তি স্থির করতে দিচ্ছে। আর ভালো দিকের কিছু ভালো উদাহরণ তাঁর কাছে আছে। কিন্তু বিবিসি কয়েকজন জনসংযোগ কর্মকর্তা আর নামকরণ বিশেষজ্ঞ খুঁজে নিয়েছেন যারা এর বিরোধিতা করেছেন, দেশটা যদি নিজেকে রি ব্রান্ডিং করতে চায়, তাহলে এর জনসংযোগ দলকে এর থেকে অনেক বেশী কিছু দিতে হবে। যাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে তারা বলেছেন, লাগাতার বিদ্যুৎ প্রাপ্তি আর ডিজেল জেনারেটর অর্থনীতির সমাপ্তি নাইজেরিয়ার নতুন ভাবে উপস্থাপনাকে ‘সহজ’ করে দেবে। আর তাদের কথার প্রমাণ হিসেবে, ১৩:৪০ মিনিট অনুষ্ঠান পরে… কি হল আসলে তা বোঝার জন্য আপনাকে নাইজেরিয়ান হতে হবে না।

নাইজেরিয়ার ভাবমূর্তি নিয়ে আলোচনার একটা উজ্জ্বল দিক হল নাইজেরিয়ার লেখক চিমামান্দা নাগোজি আদিচিকে নিয়ে বিপুল প্রচারিত একটা ভিডিও যিনি ‘একটা গল্পের বিপদ’ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আদিচি আফ্রিকার একই ধরনের ভাবমুর্তির বিপদ নিয়ে মন্তব্য করেছেন; তিনি সাবধান করে দিয়েছেন যে নিজেদের ‘একটা গল্পে’ সীমাবদ্ধ করে রাখা অভিজ্ঞতাকে কমিয়ে দেয় আর বদ্ধমূল এক তরফা ধারণা তৈরি করে। অনেক ব্লগারের জন্য, আদিচির মন্তব্য দেশের বাইরে নাইজেরিয়ার সাধারণ ভাবমূর্তি নিয়ে তাদের হতাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে ।

শেড ননকনফর্মিস্ট আদিচির ভাষ্য আর নাইজেরিয়ার ভাবমূর্তির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন:

আমার মনে হয় টেডে একটা গল্পের বিপদ নিয়ে তার বক্তৃতার সময় এটাই চিমামাদা আদিচি বোঝাতে চেয়েছিলেন। সমস্যা দেখা যায় যখন আমরা দেখি মৃত পশু, দারিদ্র, বিপর্যয়, মৃত্যু, দুর্নীতি, বিখ্যাত লোকের পোষ্য গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আফ্রিকাকে শুধু তুলে ধরা হয়…আপনি পুরো ব্যাপারটি জেনে যাবেন। আমি বলছি না যে আফ্রিকাতে এই বিষয়গুলো নেই। আমরা সবাই একমত হতে পারি যে এগুলো আছে। আমি তর্ক করছি যে এই ব্যাপারগুলো আফ্রিকার দেশের জন্য নির্দিষ্ট না।

আমি/আমরা কখনো থামাবো না আফ্রিকার এমন চিত্র তুলে ধরা থেকে যেখানে আফ্রিকাকে ভারসাম্যহীন আর পূর্ব সংস্কারযুক্ত দেখানো হবে। আফ্রিকাকে ভারসাম্য নিয়ে তুলে ধরা জরুরী। আর আফ্রিকান হিসেবে আমাদের সেই মাধ্যম হিসেবে কাজ করা উচিত যারা পরিবর্তনে অংশ নিতে চান (আর দেখতে পারবেন) আমাদের প্রিয় মহাদেশে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .