বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিশর: রমজানে যারা রোজা করবে না তাদের জন্য রয়েছে জেল

ইসলামের ৪র্থ স্তম্ভ পালন হিসেবে রমজান মাসে মুসলমানদের রোজা রাখতে হয়। কিছু মুসলিম রোজা রাখেন না… তবে মিশরে জেল আর জরিমানা প্রাপ্য ছিল তাদের যারা জনসম্মুখে খাওয়া দাওয়া করেছে এই বছর।

মিশরে প্রথমবারের মতো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনসম্মুখে যে সকল মুসলিম খেয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। হাসান আল হেলালি একটি পোস্ট লিখেছেন এই শিরোনামে:

حملة أمنية غير دستورية تنتهك الحريات العامة للمواطنين وتوقف المجاهرين بالإفطار في رمضان لأول مرة بمصر
নাগরিকদের নাগরিক অধিকারের উপরে অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ হয়েছে মিশরে। যারা জনসম্মুখে রোজা করছে না তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি গ্রেপ্তারের তালিকা দিয়েছেন:

في أسوان ألقت الشرطة المصرية القبض على ١٥٥ مصرياً وأودعتهم السجن وحررت لهم محاضر جنحة” الجهر بالافطار في نهار رمضان. وفي الغردقة (المدينه السياحية!!) أصدر محافظ البحر الأحمر قراراً بإغلاق المقاهي والمطاعم في نهار رمضان، كما ألقت الشرطة المصرية القبض على العديد من المصريين خلال إفطارهم في نهار رمضان. وألقت كذلك مباحث طلخا بمحافظة الدقهلية بدلتا مصر القبض على سبعة شباب يجاهرون بالافطار في نهار رمضان ويدخنون السجائر في الشارع العام، وحرّر لهم رئيس مباحث طلخا محضراً بالواقعة وتم عرضهم على النيابة التي أمرت بالافراج عنهم بكفالة ٥٠٠ جنيه.
আসোয়ানে, পুলিস ১৫৫ জন মিশরীয়কে গ্রেপ্তার করেছে একটা অপরাধের জন্য। হুরগাদা (পর্যটন কেন্দ্র) তে লৌহ সাগরের গভর্নর একটা নিয়ম করেছেন যে রমজানের সকালে সকল রেস্টুরেন্ট আর কফির দোকান বন্ধ থাকবে। বেশ কয়েকজন মিশরীয়কেও আটক করা হয়েছে। ঢাকালিয়াতে, ৭ জন তরুণকে জনসম্মুখে ধূমপানের জন্য আটক করা হয় আর ৫০০ স্থানীয় মূদ্রা জরিমানা দিয়ে তারা মুক্ত হন।

এরাবিক নেটওয়ার্ক ফর হিউমান রাইটস ইনফর্মেশন এর জেনারেল ম্যানেজার গামাল ইদের উদ্ধৃতি দিয়ে এল হেলালি বলেছেন:

إجراءات القبض على المواطنين بتهمة “الإفطار” لا يوجد ما تستند إليه قانوناً”، وأضاف “يحق لأي مواطن أن يفطر أو يصوم رمضان، ولا يحق لأحد أن يفرض ذلك عليه”.
মিশরের আইন বা সংবিধানে কিছুই নেই এই গ্রেপ্তারের সমর্থনে, যে কোন নাগরিকের অধিকার আছে রোজা করার বা না করার আর কেউ তাকে জোর করতে পারে না এর জন্য।

খাওয়াতার অবশ্য অন্যরকম প্রতিক্রিয়া পোস্ট করেছেন খৃষ্টানদের পরিপ্রেক্ষিতে:

لا يوجد مثل هذه التهمة في القانون الا في القوانين السعودية والباكستانية الطالبانية”.وأكد حنا أن “مثل هذه الحملة تثير الفتنة في مصر، فقد توقف الشرطة مسيحياً في الطريق العام وهو يأكل أو يشرب، وقد تلقي القبض على مريض له رخصة الافطار، فهل يهان هذا المواطن ويسجن لحين إثبات براءته”.وأوضح “نحن نخشى أن تقوم الشرطة المصرية بتوقيف من ترتدي البنطال الضيق أو من تضع مساحيق الزينة على وجهها”.وتساءل حنا ” ما الذي يعنيه الجهر بالافطار، لقد وصل الامر الى اقتحام الشرطة المصرية للمقاهي والقبض على من بداخلها، علماً بأن من يجلس في مثل هذه المقاهي يجلس مختبئاً ولا يجاهر بالافطار، فالمعنى مطاطي وحسب أهواء الشرطة”.
সৌদি বা পাকিস্থানী আইনের বিপরীতে মিশরে এমন কোন অপরাধ আইনে নেই। আইনজীবি মাগদি হান্নাহ বলেছেন যে পুলিশ ভুল করে খাচ্ছে এমন কোন খ্রীষ্টানকে গ্রেপ্তার করে থাকতে পারেন। তারা অসুস্থ কোন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করে থাকতে পারেন যিনি রোজা করছেন না। এই নাগরিক কি অপরাধী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করবেন? আমরা চিন্তিত যে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্যান্ট আর মেক-আপ করা মহিলারাও পড়বেন! হান্নাহ ‘জনসম্মুখে রোজা না রাখার’ পরিষ্কার মানে জানতে চেয়েছেন কারণ যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা রাস্তায় না বরং একটা কফির দোকানে বসে ছিলেন… পরিষ্কার ব্যাখ্যার অভাব প্রত্যেক অফিসারকে স্বাধীনতা দেয় কে কি করছে সেটা ঠিক করার।

সালাফি সুন্নিরা বলেছে:

من جانب آخر لقيت هذه الحملة ارتياحاً بين السلفيين في مصر، على اعتبار أنها خطوة جيدة لتطبيق الشريعة في مصر.وقال الداعية الاسلامي عادل السيد نائب رئيس جماعة أنصار السنة السلفية بمصر لـ”العربية.نت”: نعم الصوم هو عبادة بين العبد وربه، يجزى بالثواب إن صام وبالعقاب إن أفطر دون عذر، لكن هذا لا يمنع أن المجاهرة بالافطار لا تجوز شرعاً وما فعلته الشرطة المصرية شيء تحمد عليه، وهو من باب الامر بالمعروف والنهي عن المنكر”.وأضاف الشيخ عادل السيد “إن الانسان لو شرب الخمر في بيته ولا يراه أحد لا أستطيع أن أعاقبه، أما إن جهر بها في الطريق العام فيحق لي أن أنفذ فيه العقوبة بواسطة ولي الامر، وهو هنا في مصر الشرطة، والتي نصّ عليها الشرع والقانون لانه أخلّ بالنظام العام وجاهر بالمعصية ولم يعتبر لحرمات الله، واستهان بالشرع الحنيف، وهذا ينطبق على المفطرين في نهار رمضان، وإن كان المفطر مريضاً أو مسافراً فلا يجوز له ان يجاهر بالافطار”.وأكد “أن ما فعلته الشرطة المصرية يطابق القانون المصري، فهناك نص يعاقب على ذلك في قانون العقوبات بالغرامة المالية تحت بند “مخالفة الأخلاق والآداب العامة، وهو ما يعاقب عليه القانون”.
সালাফিরা মিশরে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার দিকে এক ধাপ হিসাবে এটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মিশরের আন্সার আল সুন্না সালাফি সংস্থার ডেপুটি শেখ আদেল এল সায়েদ বলেছেন যে এটা সত্যি যে রোজার ব্যাপার আল্লাহ আর প্রার্থনাকারীর মধ্যে আর যারা রোজা করে বা করে না আল্লাহ তাদেরকে পুরষ্কার বা শাস্তি দেবেন। কিন্তু গুনাহ জনসম্মুখে তুলে ধরা শরিয়া আইন পরিপন্থি আর পুলিশের কাজ ‘ভালো কাজ তুলে ধরা আর খারাপ কাজ আটকানো’ এর মধ্যে পড়ে। কোন ব্যক্তি যদি বাড়িতে মদ্যপান করেন, তাকে আমি গ্রেপ্তার করতে পারি না কিন্তু জনসম্মুখে করলে, আইনের নামে আমি তাকে ধরতে পারি- মিশরের আইনে পরিষ্কার একটা ধারা আছে নীতি ভাঙ্গার বিরুদ্ধে।

হাইড এন্ড সিক গ্রেপ্তারের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন:

خطوة في طريق شرطة الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر
شعار هذه الحملة هو : سندخلك الجنة … بمزاجك أو غصباً عن دين أمك
الخطوة القادمة : حملات للقبض على الفاطرين في منازلهم و مداهمة ( أوكار الفطور ) للتخلص من المجرمين
في المستقبل : سترسل وزارة الداخلية بعثات من خيرة ضباطها إلى أفغانستان للحصول على تدريبات عملية من هناك لأحدث سُبل مكافحة الإفطار
تنظيم إحتفالية كًبرى بمناسبة القضاء على ( الحرية الشخصية ) بفضل الله أولاً و أخيراً ثم مجهودات السيد الرئيس و السيد وزير الداخلية
——
بأية تهمة تم القبض على المجاهرين بالإفطار ؟؟؟
ثم أفرض أني مش عايز أصوم .. انت مال أهلك .. لي رب يبقى يحاسبني
أزاي الضباط اللي عملوا الحملة دي و اللي أمر بقيامها ما يتحاكموش و يتعزلوا من مناصبهم
يعني أيه تخليني أصوم بالعافية ؟؟؟ هو أنت لمؤخذة يعني .. فاكر نفسك ربنا و لا أيه ؟
মিশরী ভালো কাজ তুলে ধরা আর খারাপ কাজ আটকানো পুলিশ শাষনের দিকে আর এক ধাপ। এই প্রচারনার স্লোগান হওয়া উচিত: যে কোন উপায়ে আপনি জান্নাতে যাবেন। পরের পদক্ষেপ: বাড়িতে রেড করে নাস্তিকদের খুঁজে বের করা হবে।

ভবিষ্যৎে, পুলিশদেরকে আফগানিস্থানে পাঠানো হবে ‘বাড়ি ভেঙ্গে ঢোকার’ প্রশিক্ষণ নিতে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা শেষ করার জন্য বিশাল অনুষ্ঠান হবে। এই সব লোক কি অপরাধ করেছেন? ধরে নেই যে আমি রোজা করতে চাই না… এটা আপনার কোন ব্যাপার না।

এটা আমার আর আল্লাহর মধ্যের ব্যাপার।

এই প্রচারনায় যেসব অফিসার ছিলেন তাদের বিচার করে সরে দাঁড়াতে বলা উচিত। আপনি কে আমাকে জোর করে রোজা করতে বলার? আল্লাহ সাজতে ভালো লাগে?

বিখা মাসর বলেছেন যে মিশরী কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেন নি:

মিশরের সংবাদপত্র আল ইউম আল সাবাতে বিশেষ সাক্ষাতকারে, সহকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জেনারেল নাগি আল-হাসি রিপোর্ট অস্বীকার করেছেন যা বিক্যা আর অন্যান্য মিশরী সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল।

তিনি বলেছেন যে আসোয়ানে পুলিশের রেইড যারা জনসম্মুখে রোজা করছে না তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে কোন ‘সরকারী প্রচারণার’ অংশ না। তিনি তর্ক করেছে যে মানুষের মধ্যে ‘বিভিন্ন বিষয় ছিল আর এই ব্যাপারে বিভ্রান্ত ছিল, যেহেতু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা নেয়া হয়েছিল তা সকল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মাঠ পর্যায়ের কাজের ফলো আপ হিসেবে সাধারণভাবে অপরাধ আর মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য।’

হাসি বলেছেন পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছেন যারা পুলিশের চোখে ‘সন্দেহজনক’ ছিল।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .