বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পেরু: চান চান প্রত্নতাত্বিক এলাকা সংরক্ষণের উদ্যোগ

চান চান প্রাক-কলম্বিয়া যুগের এক শহর। এটি ৯ শতকে চিমু সংস্কৃতির তৈরি এক কাদামাটির এক শহর যা লা লিবার্টাড অঞ্চলে অবস্থিত। পেরুর উত্তরাঞ্চলের শহর ট্রুজিলোর পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই এলাকা। চান চান প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত এবং এই শহর চিমোর জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে। এই জনগোষ্ঠী চিমু সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ১৪৭০ সালে ইনকারা এই এলাকা জয় করার আগ পর্যন্ত এই সাম্রাজ্য টিকে ছিল। এর আকার অনুসারে ধারণা করা হয় যে এর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০,০০০ হাজার।

যদিও ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অংশ হিসেবে ঘোষণা করে তারপরেও এর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, এবং লুটেরারা ক্রমাগত ভাবে এর সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে ও প্রাকৃতিক কারণে এর ক্ষতি হচ্ছে। এই সব ঘটনা উপর একটা প্রভাব ফেলেছে। তবে সরকার ও নাগরিক সমাজ এই প্রত্নতাত্বিক এলাকা ও এই সংস্কৃতির ইতিহাস সংরক্ষণের বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

 চান চানের ছবি, মার্টিনয়ের সৌজন্যে এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে

চান চানের ছবি, মার্টিনয়ের সৌজন্যে এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে

ট্রাবাজামোস পর চান চান [স্প্যানিশ ভাষায়] (আমরা চান চানের জন্য কাজ করি) ব্লগ ট্রুজিলোর এক পাশে যে কাজ হচ্ছে তার উপর সংবাদ প্রকাশ করেছে। হুয়ানচাকোর বালুকাময় এলাকার কাছে এই প্রত্নতাত্বিক কাজ চলছে এবং এই কাজ সরকারি পুরস্কার লাভ করছে। এই প্রকল্পের নাম “চান চান এর নাগরিকরা”। এই প্রকল্প স্কুলের ছেলেমেয়েদের যুক্ত করেছে যাতে তারা তাদের ইতিহাস সম্বন্ধে জানতে পারে এবং তা সংরক্ষণ করতে পারে:

Frente a la circunstancia de que los monumentos históricos y el patrimonio general se encuentra olvidado y descuidado, es necesario que exista un nuevo tipo de ciudadano que conozca, ame y engrandezca su legado histórico; por esta razón, es que creamos el Programa “Ciudadanos de Chan Chan”, en donde primero se les enseña a conocer y amar el pasado; para luego involucrar a los escolares en los trabajos de conservación; así engrandecen su propia identidad”, señaló Cristóbal Campana, director de los trabajos de conservación del Complejo Arqueológico Chimú y creador de esta experiencia educativa.

ঐতিহাসিক ঘটনা এবং স্থাপনা গুলো যখন ভুলে যাওয়া এবং উপেক্ষার শিকার, তখন এই কাজ তাদের সেই সমস্ত বিষয়ের মুখোমুখি করবে। এমন এক নতুন প্রজন্ম দরকার, যারা তাদের অতীতকে জানবে, ভালবাসবে এবং সংরক্ষণ করবে। এই কারণে আমরা “চান চান এর নাগরিক”-এর মতো পরিকল্পনা তৈরি করেছি। এর মধ্যে দিয়ে (স্কুলের) ছেলেমেয়েরা প্রথমে তাদের অতীত সম্বন্ধে জানবে এবং তাকে ভালবাসতে শিখবে; পরবর্তীতে স্কুলের ছেলেমেয়েরা এই সমস্ত প্রত্নতাত্বিক বস্তু সংরক্ষণ করতে শেখার সাথে যুক্ত থাকবে। এ ভাবেই তারা তাদের নিজেদের পরিচয়কে আবার তুলে ধরবে”। এই কথাগুলো জানান ক্রিস্টোবাল কাম্পানা, চিমু প্রত্নতাত্বিক এলাকা সংরক্ষণ উদ্যোগের পরিচালক ও এই ব্যাপারে যে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে তার স্রষ্টা।

এই সংরক্ষণ উদ্যোগের ফলে কিছু নতুন বিষয় আবিষ্কার হয়েছে। ব্লগ ট্রাবাজামোস পর চান চান [স্প্যানিশ ভাষায়], এই সব আবিষ্কারের বর্ণনা করছে : “এখানে এক কাঠের মূর্তি ও কিছু হাড় আবিষ্কার হয়েছে (যা) চিমু আমলে ধর্মীয় উপাসনায় ব্যবহার হত”।

এল নিনোর মত প্রাকৃতিক কারণে এখন জলবায়ু পরিবর্তন, ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং তার ফলে এই এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষয়। এই কারণে এই সমস্ত প্রত্নতাত্বিক এলাকা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে মানুষই এই প্রত্নতাত্বিক এলাকার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ, যেমনটা বর্ণনা করছে ব্লগ.. এন পেরু:

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্রমাগত অবৈধভাবে জমি দখল, এই প্রাচীন এলাকা.. আইএনসির জন্য এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইসব ব্যক্তিরা এই তথাকথিত “সংরক্ষিত” প্রত্নতাত্বিক এলাকার জমি দখল করেছে। এক বর্ণনায় জানা যায়, প্রায় ২৬৩ জন দাবি করেছে যে তারা এখানকার জমির মালিক। এদের সবাইকে এখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এলাকা ছেড়ে চলে যায় নি। তার বদলে তারা বেড়া উঠিয়ে জমিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং এই এলাকাটি তাদের দিয়ে দেবার জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি করছে।

তবে, স্থানীয় গৃহবধূদের একটি দলের কাজ অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পেরুর সংবাদপত্র এল কোমেরসিও [স্প্যানিশ ভাষায়] বর্ণনা করেছেন, ভিলা দে মার নামক প্রতিবেশী এক এলাকার গৃহবধূরা ২০০৬ সাল থেকে চান চান প্রত্নতাত্বিক শহরের উপর কাজ করে যাচ্ছে। তারা পুরুষের অনেক কাজ করছে, তারা পোড়ামাটির ইঁট বয়ে আনছে, তারা মই বয়ে আট মিটার উঁচুতে উঠেছে, চাকাওয়ালা গাড়ি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে গেছে, উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সব জায়গায় তারা কাজ করেছে। এই সকল কাজের লক্ষ্য ছিল একটাই, সময় এবং মানুষ এই এলাকার যে ক্ষতি করেছে, তা অনেকটা আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।

এই সমস্ত মহিলারা ব্লগেও লেখেন, যেমন ট্রুজিলো ব্লগ এসপেসিয়াল এন ইন্টারমিডিয়া [স্প্যানিশ ভাষায়], যার লেখক রজার মন্টিয়েলগ্রে এবং তিনি এইসব সংরক্ষণকারীদের নিয়ে লিখেছেন, যার শিরোনাম “কাদামাটির এক পৃথিবী”:

En el monumento de barro, capital de la civilización Chimú, hoy Patrimonio Mundial de la Humanidad, existen alrededor de sesenta mujeres, antes dedicadas a los quehaceres del hogar, ahora convertidas en potenciales conservadoras, especialistas en monumentos de tierra. Trabajando a la par con sus compañeros. ¿Sexo débil? Ni que hablar. Basta contemplar sólo unos minutos su trabajo “en la tierra, en el cielo o en el agua” para darnos cuenta de su fortaleza; su empeño es el mismo en cualquier espacio, no pierden su feminidad, por el contrario incrementan su maternidad. Un periodista le pregunta a una mujer que trabaja en la conservación de Chan Chan qué siente por el monumento, ella responde: “Lo quiero como a mi marido porque me da de comer. Y como a mi hijo, porque lo ayudo a crecer”.

কাদামাটির এই স্থাপনা এক সময় চিমু সভ্যতার রাজধানী ছিল এবং এখন যা ইউনেস্কোর মতে মানুষের তৈরি বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অংশ। এখানে সেখানে প্রায় ৬০ জনের মতো মহিলা কাজ করছে, যারা এক সময় ঘরগৃহস্থালির কাজে যুক্ত ছিল। এখন তারা এক সম্ভাব্য এক সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত, বিশেষ করে মাটির তৈরি এক স্থাপনা সংরক্ষণের কাজে। তারা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের সাথে কাজ করছে। সেই সমস্ত মহিলার, যাদের দুর্বল ভাবা হয়? এর কোন বিকল্প নেই। “মাটি, শূন্যে বা পানিতে” তাদের কাজ যদি মাত্র কয়েক মিনিট পর্যবেক্ষণ করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে তাদের শক্তি কতখানি। যে কোন পরিবেশে তারা দৃঢ়তার সাথে কাজ করতে সক্ষম। এক্ষেত্রে তারা কোনভাবেই তাদের নারীত্ব হারায় না, বরঞ্চ কাজের সময় তাদের মাতৃরুপ বাড়াতে থাকে। এই সংরক্ষণ এলাকায় কাজ করতে থাকা এক মহিলাকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিল, এই প্রাচীন স্থাপনা সম্বন্ধে তার অনুভূতি কি, সে উত্তর করে, “এই এলাকাকে আমি তেমনিই ভালোবাসি যেমনটা আমি আমার স্বামীকে ভালোবাসি, কারণ এটি আমাকে জীবনের পুষ্টি যোগায়। এবং এটাকে আমি আমার ছেলের মত ভালোবাসি, কারণ তাকে বেড়ে উঠতে আমি সাহায্য করছি”।

সরকারের অন্য সব প্রতিষ্ঠান এই ব্যাপারে সাহায্য করছে, যেমন চান চান এলাকায় কাজ করতে থাকাইমপ্লিমেনটেশন ইউনিট ১১০ বা প্রয়োগিক ১১০ নম্বর দল [স্প্যানিশ ভাষায়]। তারা ট্রুজিলোয় ভিন্ন এক প্রকল্পে কাজ করছে। তাদের কাজ সম্বন্ধে তাদের ওয়েবসাইট অনেক তথ্য জানাচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনের লোকেরা এই ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের কাজে সাহায্য করছে। এই বিষয়ে জানাচ্ছে ইউনির্ভাসিয়া পেরুর [স্প্যানিশ ভাষায়] ওয়েবসাইট। তারা ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া এক ছবি প্রদর্শনীর সংবাদ প্রকাশ করছে। এই অনুষ্ঠানটি নর্দান প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটির (স্প্যানিশ ভাষার নামের অদ্যক্ষর নিয়ে যাকে ডাকা হয় ইউপিএন নামে) যোগাযোগ বিজ্ঞান বিভাগ ও বা ইমপ্লিমেনটেশন ইউনিট ১০০ -এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রদর্শনীর শিরোনাম ছিল ‘মে লিয়ামো ট্রুজিলো, মে এ্যাপেলিডো চান চান’ (আমার ভালো নাম ট্রুজিলো, আমার ডাক নাম চানচান)।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .