বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মরোক্কো: এক্টিভিস্ট যারা জনসম্মুখে রোজা ভাঙ্গবে, তার জন্য শাস্তি পাবে

রমজান মাসে মুসলমানরা দিনের বেলা কোন ধরনের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে (আরো অনেক অন্য জিনিসের সাথে)। অনেক মুসলিম দেশে যদিও রমজানে খাবার গ্রহণ ও অন্যান্য বিষয় আইনগতভাবে অবৈধ নয়, কিন্তু কেউ দিনের বেলা জনতার সামনে খাবার খাবে সামাজিকভাবেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই রমজানে মিশরের কিছু মুসলমানকে গ্রেফতার করা হয়, কারণ তারা রমজান মাসে দিনের বেলা খাবার খাওয়ার মতো অপরাধ করেছিল।

এই সংবাদের জের কাটতে না কাটতেই মরোক্কোর একদল অ্যাক্টিভিস্টকে জনসম্মুখে রোজা ভাঙ্গার কারণে কঠিন ভাবে তিরষ্কার করা হয়, এটা মরোক্কোর অপরাধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দি ফিউ ফ্রম ফেজ এর সূত্র মতে:

মাগরেব আরব প্রেস বলছে, সোমবার স্থানীয় প্রশাসন “এক শোভাযাত্রাকে রুখে দিয়েছে, যারা জনসম্মুখে রোজা ভাঙ্গাকে আইনের ধারা থেকে বাতিল করতে চাচ্ছে”।

মরোক্কোর সংবাদপত্র নিশ্চিত করেছে যে মোহাম্মদিয়াতে মঙ্গলবার “রোজা না রাখা ব্যক্তিরা” যে শোভাযাত্রা বের করার উদ্যোগ নেয়, তা ব্যর্থ হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছে মরোক্কোতে এই প্রথম উপবাস না করা ব্যক্তিরা জনসম্মুখে হাজির হয়েছে, রমজান মাসে রোজা না রাখার দাবি নিয়ে।

মোহাম্মদিয়ার প্রতিবাদকারীরা মরোক্কোর যে আইনে মুসলমানরা রমজান মাসে রোজা না রাখলে শাস্তি প্রদানের বিধান রয়েছে, সেই আইনের বিলুপ্তি চায়। রমজানে ইফতারের আগে খাবার খাওয়া নিষেধ, রমজানে ইফতার গ্রহণ করা মানে দিনের শেষ হয়েছে বোঝানো হয়।

প্রতিবাদকারীদের কাজের কোন বর্ণনা না দিয়ে জনপ্রিয় ব্লগার লারবি তাদের সাহসের প্রশংসা করেছেন:

Sans préjuger de leur cause il faut reconnaître aux quelques personnes qui se sont déplacés une certaine forme de courage. L’article 222 du Code pénal marocain stipule que tout individu connu pour son appartenance à l’Islam qui rompt ostensiblement le jeûne dans un lieu public pendant le Ramadan est passible de un à six mois d’emprisonnement et d’une amende.

কোন সংস্কার ছাড়াই, এই ঘটনাকে চিহ্নিত করা যেতে পারে কিছু মানুষের সাহসিকতা প্রদর্শন হিসেবে। মরোক্কোর দণ্ডবিধির ২২২ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি ইসলামের সাথে যুক্ত, সে যদি রমজান মাসে প্রকাশ্যে রোজা ভাঙ্গে অর্থাৎ খাবার গ্রহণ করে, তাহলে তার শাস্তি হিসেবে এক থেকে ছয় মাসের জেল এবং জরিমানা হবে।

এই পোস্টে মন্তব্য করা সকলেই একমত নন যে, প্রতিবাদকারীদের প্রতিবাদের ধরণ সাহসিকতা পূর্ণ ছিল। ঘটনা হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত প্রদানকারী মনে করছে যে এই দলটি ভুল পথে যাচ্ছে।

একজন মন্তব্যকারী বোউচারা মনে করছেন প্রতিবাদকারীরা অনেকটা আর্ম চেয়ার এক্টিভিস্ট বা নিষ্ক্রিয় ধরনের প্রতিবাদকারী:

এই রকম বোকামীপূর্ণ কোন অনুষ্ঠান আয়োজন না করে তাদের শক্তি এবং চেষ্টা কোন গঠনমূলক প্রতিবাদে নিয়োজিত করা উচিত, দেশটির যাতে মঙ্গল হয় এমন কাজে নিয়োজিত হওয়া উচিত।

দেশটির সকল কিছুর ত্রুটি বের না করে, নিজেরা বের হও এবং এমন কিছু কর, যাতে দেশের ভালো হয়। তারা অনলাইনে কেবল দেখে এবং এটাই তারা জানে.. চিন্তায় বড় হও এবং প্রকৃত নাগরিক হও।

আরেক মন্তব্যকারী কাসাজোন নির্দেশ করছেন প্রতিবাদকারীদের সম্ভাব্য ভণ্ডামির এক দিক, যখন এ ব্যাপারে মরোক্কোর জনসংখ্যা পরোক্ষ এক সমস্যা।

Il est “fort probable” que la plupart des manifestants qui ont mangé le sandwich Ont jeté le reste (papier, aliments, os, ..etc) sur la voie publique

এটা অনেক বড় ব্যাপার, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে যারা স্যান্ডুউইচ খেয়েছে তারা এর অবশিষ্ট অংশ (কাগজ, খাবার, হাড় ইত্যাদি..) রাস্তায় ছুড়ে ফেলেছে।

অনথ্রে নু মরাকেশিয়ান [ফরাসী ভাষায়] আবিষ্কার করেছেন যে, প্রতিবাদকারীরা ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তিনি বলেছেন:

« Il y a cinq piliers dans l’islam, il faut pas punir seulement la violation du Ramadan, la loi ne punit pas ceux qui ne prient pas toute l’année ou ceux qui ne vont pas à la Mecque » précise Zineb El Razhoui. A notre tour on répond : Personne ne vous oblige d’être musulmane, mais on vous oblige de respecter les musulmans.

ইসলামে পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে, আমাদের কেবল রমজানের রোজা ভাঙ্গার জন্য শাস্তি পাওয়া উচিত নয়, যারা সবসময় নামাজ পড়তে যায় না, তাদের জন্য আইনে কোন শাস্তি নেই অথবা যারা হজ্জ করতে মক্কায় যায় না তাদের ক্ষেত্রেও আইনে কোন শাস্তি নেই: জয়নাব এল রাজহুই বলেছেন। আমাদের যখন পালা আসে; তখন কেউ কাউকে জোর করে মুসলমান বানাতে পারে না, কিন্তু এখানে জোর করে মুসলমানদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে বলা হচ্ছে।

এতোনিয়ে (আশ্চর্য) নামের এক মন্তব্যকারী এই দল যে দু:সাহসিকতা দেখিয়েছে, তাতে তিনি বিভ্রান্ত, তিনি বলেছেন,

Je sens de la manipulation,
Si vous n'avez pas envie de jeûner, ne le faites pas, vous n'êtes pas obligés de le faire, tout est question de conviction, Dieu n'en sera pas dérangé, des milliards d'autres le font, que sont quelques dizaines à ne pas le faire !!!! Mais une autre question me vient à l'esprit, pourquoi montrer votre refus en public et maintenant ????
Vous demandez le respect de votre liberté en bafouant celle des autres ???

যদি কেউ রোজা রাখতে না চায়, সে তা রাখতে বাধ্য নয়, সকল কিছুই বিশ্বাসের উপর, এবং সৃষ্টিকর্তা এতে বিরক্ত বোধ করেন না, অন্য সকল কোটি কোটি মানুষ রোজা রাখছে, শতকরা দশজন রোজা রাখে না!কিন্তু আমার মনে অন্য এক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, কেন এই প্রতিবাদ তারা জনতাকে প্রদর্শন করতে চাইছে? অন্যকে নিয়ম লঙ্ঘন করতে দেখে নিজেরা স্বাধীনতা প্রকাশ করতে চাইছে?

এইসব বিরোধীতার ভিড়ে প্রতিবাদকারীদের সমর্থনেও কিছু মন্তব্য এসেছে, ভয়েস অফ সাপোর্ট এ রকমই মন্তব্য মরোক্কো বোর্ডে রেখে গেছেন।

একটু দাঁড়ান, এই সমস্ত ব্যক্তিরা একটি আইনকে জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছে, যা মনে হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতার লঙ্ঘন। আমি বিশ্বাস করি না, তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধিতা করার জন্য কেবল এই কাজ করেছে। যদি আমরা এটা মেনে নেই যে, কাউকে দিনের বেলায় খেতে দেখা গেছে এই বিষয়টি কর্তপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া উচিত, তাহলে তার পরের কাজটি হবে দিনে জোর করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরা। মরোক্কো অনেক যৌক্তিক রাষ্ট্র, এটা কেবল নিশ্চিত করা যে, আপনার প্রতিবেশী এমন স্বর্গ ভাগ করে নিচ্ছে, যা আপনার জন্য আসলেই একটি বিষয়। এখানে মুক্ত ভাবে বাস করা, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

রোজা রাখা অথবা নামাজ পড়া অথবা কোন ধর্মীয় আচরণ পালন করা ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং এই বিষয়ে রাষ্ট্রের কিছু করার প্রয়োজন নেই। হয়তো ওলামাদের শুঁড়িখানার মালিকদের সাথে বসা উচিত, যেগুলো রমজান মাসে অলৌকিক ভাবে উধাও হয়ে যায় এবং তারপরে আবার ফিরে আসে, ভণ্ডামির কথা বলা, অথবা তারা দেশে দারিদ্র নিরসনে রাষ্ট্রের ভূমিকা কি হওয়া উচিত এবং পতিতাবৃত্তি নিয়ে কথা বলা, মুসলিম হিসেবে প্রত্যেক মুসলমানের জাকাত দেওয়া উচিত, যখন মরোক্কোতে এই শ্রেণীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রাপ্ত জাকাত দারিদ্র নিরসনে ব্যবহার করা উচিত, এটি মুসলমানদের জন্য গর্ব করার মতো এক বিষয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .