বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মরোক্কো: যৌন হয়রানির উপর চার রকমের দৃষ্টিভঙ্গি

ভয় দেখানো, গালি বা অশ্লীল কথা বলা ও জোর করে কোন যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা, এসব বিষয়ের মধ্য দিয়ে যৌন হয়রানি নির্ধারণ করা হয়। যে কোন ভাবেই হোক না কেন এগুলোই যৌন হয়রানির পরিচয়। এ রকম ঘটনা সারা বিশ্বে ঘটে আসছে। যদিও পরবর্তীতে মিশরের যৌন হয়রানির ঘটনা বিশ্ব প্রচার মাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে, তবে মরোক্কোর ব্লগার নিজ দেশে, কাছ থেকে এই পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে। এই বিষয়ে ছেলে বা মেয়ে, বিদেশী বা মরোক্কান উভয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।

ফুলব্রাইট বৃত্তিধারী লিজ। সে দক্ষিণ মরোক্কোর আগাদিরে কাজ করছে। এই চমৎকার ব্লগ পোস্টে সে আমেরিকা ও মিশরের সাথে মরোক্কোর তুলনা করেছে। মরোক্কোয় তার অভিজ্ঞতার ব্যাপারে সে মন্তব্য করেছে:

মরোক্কোতে যৌন হয়রানির ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা হল, এখনকার ৯৯ শতাংশ যৌন হয়রানি ঘটনা মৌখিক আকারে ঘটে। কায়রো এর থেকে আলাদা, সেখানে প্রায়শ:ই রাস্তায় আমাকে শরীর চেপে ধরার চেষ্টা করত, এখন হয়রানির ব্যাপারটি ঘটে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে। এটা যে কোন ভাবে হতে পারে, এমনকি তা এক পুরুষের ফিসফিস করে বলা “সা ভা” [ফরাসী ভাষার এই শব্দের মানে, ভালো] শব্দের মাধ্যমে হতে পারে। যখন আমি রাস্তা পার হই, তখন আঠার গন্ধ শোঁকা আমার বয়সী এক প্রতিবেশী কিশোর ভাঙ্গা ভাঙ্গা অশ্লীল ভাষায় আমার দিকে চেঁচিয়ে ওঠে। একজন পুরুষের অনুসরণ করা এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে যার সাথে বন্ধুত্ব হয় সেই ব্যক্তি সারা রাস্তায় আমাদের বলে, সে কি ইংরেজী শেখার জন্য আমাদের সাথে কথা বলার অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবে কিনা, এ সবের মধ্যে হয়রানি করার একটা প্রবণতা রয়েছে। সরাসরি হয়রানির ঘটনা এ রকম হতে পারে, একটি পুরুষ তার গাড়ী নিয়ে মহিলাদের অনুসরণ করে, তার গাড়ীতে উঠতে হুকুম করে, অথবা তারা এইসব কাজের জন্য ভিড়ে ভর্তি একটি বাসে উঠে পড়ে, যাতে কোন মেয়ের গায়ে হাত দিলেও তার জন্য সে অজুহাত দিতে পারবে।

ব্লগাররা নোট দিচ্ছেন যে, লেখিকার যৌন হয়রানি বিষয়ে উপলব্ধি, যৌনতার চেয়ে তা ক্ষমতা না পাওয়ার সমস্যা থেকে উদ্ভূত। এই বিষয়টি আরেকটি অসাধারণ পোস্টের সাথে লিঙ্ক করা হয়েছে এবং মূল্যায়ন করা হয়েছে, কি ভাবে এর উদাহরণ লিজের স্বদেশের সাথে যুক্ত, এখানে বর্ণনা করা হয়েছে:

কি ভাবে এই সব চিন্তা মরোক্কোর প্রেক্ষাপটের উপর প্রয়োগ করা হল? প্র্রথমত: আরব দেশগুলোকে আলাদা হিসেবে উপস্থাপন করে যুক্তি প্রদান করা কঠিন। মরোক্কো সহ সব আরব বিশ্বে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। পরিবার সম্ভবত সবচেয়ে প্রধান প্রতিষ্ঠান (প্রায়শ:ই অনেক প্রজন্ম এই ছাদের নিচে বাস করে), এবং পরিবারের মধ্য ভূমিকা ও কর্তৃত্ব পরিষ্কার ভাবে নির্দিষ্ট করা রয়েছে। এখানে তরুণরা বয়স্কদের কাছে এবং মহিলারা পুরুষদের কাছে নত থাকবে। মেয়েরা প্রথম স্ত্রী এবং সব সময়ের জন্য মায়ের ভূমিকা পালন করবে, এর ফেলে ঘরে তাদের নিচু হয়ে থাকতে হয়, সেখানে ছেলেদের চলাফেরায় স্বাধীনতা রয়েছে। কিনডিয়োটি এই কাঠামোকে বর্ণনা করেন “পিতৃতান্ত্রিক দরকষাকষি” হিসেবে: তরুণীরা এমন এক সামাজিক কাঠামো পায়, যা তাদের চলাফেরা সীমাবদ্ধ করে ফেলে এবং তাদের অন্যদের অধীনস্থ করে ফলে, কারণ কোন এক সময় পুরোনো মাতৃতন্ত্র মোতাবেক, এর ফলে মেয়েরা পুত্রবধূর চলাফেরা সীমাবদ্ধ করে ফেলবে এবং নিজেদের অধীনস্থ করবে।

একজন ডাচ নৃবিজ্ঞানী যিনি মরোক্কোর উপকূলীয় রাজধানী রাবাত-এ বাস করছেন, তিনি বিসাহা নামের এক ব্লগ লেখেন। তিনি এক লম্বা পোস্টে তার এই পার্থক্যের অনুভূতি বিষয়ক তথ্য প্রদান করেছেন। এই ব্লগের লেখিকা এই পার্থ্যকের কারণে, রাস্তায় তার সাথে কি রকম ব্যবহার করা হয় তার মূল্যায়ন করেছেন।

মরোক্কোর রাস্তায় সকল মহিলা মনোযোগ আকর্ষণের শিকার হয়। কিন্তু আমার সন্দেহ রয়েছে, মরোক্কোর কোন মেয়ে রাস্তায়, চিকন গলায় মিষ্টি ইংরেজিতে বলবে না “খুব সুন্দররররররওর” অথবা পুরুষটিকে বলে না “তোমার শারীরিক কাঠামো খুব পছন্দ”।

ডানকান এখানে অবস্থিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য, তিনি মরোক্কোর বর্ণবাদ নিয়ে লিখেছেন, যা যৌন হয়রানি নামক বিষয়কে ছুঁয়ে যায়। তিনি জানাচ্ছেন, এখানে বাস করা যে সমস্ত বিদেশী মহিলা আরবদের মতো দেখতে, তাদের সাথে অন্য বিদেশী মহিলাদের চেয়ে ভিন্ন ব্যবহার করা হয়:

যদি কোন বিদেশীকে দেখতে মরোক্কানদের মতো লাগে, তা হলে তার কাছ থেকে ভিন্ন পোশাক এবং আচরণ আশা করা হয়। স্বেতাঙ্গিনী স্বেচ্ছাসেবী হঠাৎ কখনো হয়রানির শিকার হতে পারে। কিন্তু আমার স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্যে আমি এই যুক্তি প্রদান করতে পারি যে, এটা ভিন্ন এক বিষয়। স্বেচ্ছাসেবী যে দেখতে কিনা মরোক্কোর (অনেকটা) মহিলাদের মতো, তার কাছ থেকে মরোক্কোর মহিলাদের মতই আচরণ আশা করা হয়। কিন্তু তারা এখানে দুই ধরনের আদর্শ প্রদর্শন করে। তাদের পোশাক শরীর ঢাকে, কিন্তু তা হয় আমেরিকার আদর্শে শরীর ঢাকা। তাদের চুল খোলা থাকে, এ ধরনের মহিলার মরোক্কোতে প্রচুর মৌখিক ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। একজন স্বেতাঙ্গিনী হয়তো একই বাস্তবতায় একই ধরনের ঘটনা বা যৌন হয়রানির মুখোমুখি হয় না। সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটার সময় একজন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা, অশ্লীল আহ্বান লাভ করে, একজন সাদা চামড়ার স্বেচ্ছাসেবী হয়তো এমন ডাক শুনতে নাও পেতে পারে। ভদ্রমহিলা তার সাইটে লিখেছেন, দেখতে মরোক্কোর মত স্বেচ্ছাসেবী জনসম্মুখে অপমানের শিকার হয়, ঠিক কয়েকজন লোকের সামনেই। ঘটনার পর যখন তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, কেন তারা মহিলার সাহায্যে এগিয়ে এলো না, সে সময় লোকজন উত্তর করে, “কারণ সে দেখতে মরোক্কোর মহিলাদের মতো”। স্বেচ্ছাসেবী ভালই আরবী বলতে পারেন, যার ফলে এটা আরো সহজ হয়ে যায় সে এক মরোক্কোর মহিলা। স্বেচ্ছাসেবী বলেছে যে, ইচ্ছা করেই সে ভুল করে, যাতে লোকজন ধারণা করে যে সে এক আমেরিকান।

এই আলোচনা পূর্ণমাত্রায় এক ব্লগ পোস্টে এসেছে, যার লেখক মরোক্কোর অবদেলিলা বউকিলি। এই ব্লগ প্রশ্নোত্তরের ভিত্তিতে তৈরি করা যা বিবিসি ওয়ার্ল্ডের “হ্যাভ ইয়োর সে” বা “আপনার বক্তব্য কি” নামক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রশ্ন: পুরুষদের কি নিজেদের নিজের হাত থেকে রক্ষা করা উচিত? ব্লগার বিভিন্ন পোশাক পরিধান এবং আরব বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ার উপর ভিত্তি করে সামগ্রিক মূল্যায়ন করেছেন, তিনি মহিলাদের পোশাকের পরিশীলিত অবস্থার উপর গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

তিনি উপসংহার টানেন:

পুরুষদের অবশ্যই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। তাদের অবশ্যই কামনা ও কল্পনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মেয়েরা এমন পোশাক পড়বে যাতে তার আত্মমর্যাদা বজায় থাকে, তবে বোরখা পড়ে নয় এবং এমন পোশাক পড়ে নয়, যা পড়লে শরীর অনেক বেশী প্রকাশিত হয়ে পড়ে, যখন তারা নিশ্চিত যে তাদের কোন যৌন বস্তু হিসেবে দেখা হবে, কোন ব্যক্তি হিসেবে নয়, ব্যক্তিত্ব অবশ্যই শ্রদ্ধার বিষয়।

যদিও চারজন ব্লগার উপরের বিষয় উদ্ধৃতি করেছে, মরোক্কোর যৌন হয়রানি নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি চমৎকার ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছে। এদের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা নিজস্ব এবং এদের কেউ চূড়ান্ত নয়। যারা মরোক্কোর লিঙ্গ বিষয়ে আরো কৌতূহলী, তারা এ বিষয়ে ফাতিমা সাদিকীর অসাধারণ বই, “ওমেন, জেন্ডার এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ইন মরোক্কো” বা “নারী, লিঙ্গ, এবং মরোক্কোর ভাষা” পড়তে পারেন অথবা এই ব্লগ যা কিনা নিয়মিত এ ধরনের বিষয় তুলে আনে: মরোক্কোয় ৭৬০ দিন: মরোক্কোয় এক আমেরিকান মুসলমানের অভিজ্ঞতা, এবং দি গুড, দি ব্যাড, এন্ড দি আগলি বা ভালো, খারাপ এবং কুৎসিত পড়তে পারেন, সারাহা আলাউয়ি নামের এক মরোক্কান-আমেরিকানের ব্লগ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .