বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নেপাল: জলবায়ু পরিবর্তন নামক চ্যালেঞ্জকে হাতে নেওয়া

জলবায়ু পরিবর্তন নেপালে এক আলোচিত বিষয়। এক গবেষণা দেখাচ্ছে যে এই দেশটির অনেক লোক অনাহারের মুখে রয়েছে, কারণ দেশটিতে ক্রমাগত খরা ও হিমবাহ গলার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। যার ফলে দেশটির লক্ষ লক্ষ লোক হুমকির মুখে পড়ে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য এই দেশটি পর্যটন ও কৃষির উপর বিপুল পরিমাণ নির্ভরশীল। আবহাওয়া পরিবর্তন এখন এই দুটি খাতকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

“আবহাওয়ার পরিবর্তন, নেপালে খাদ্যশস্য উৎপাদনের উপর নাটকীয় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে কৃষকরা নিজেদের খাওয়ার মতো খাদ্য শস্য উৎপাদন করতে পারছে না এবং তারা ঋণের ভারে জর্জরিত হচ্ছে”। অক্সফাম এক রিপোর্টে এ কথা বলেছে:

কার্নেগি এনডৌমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পীস নামক প্রতিষ্ঠানের এক নবীন সভ্য চন্দন সাপকোটাক। তিনি মনে করেন নেপালের উচিত কৃষিখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাবের উপর দ্রুত মনোযোগ প্রদান করা।

“দেরীতে আসা মৌসুমী বৃষ্টিপাত শস্য উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে, যা এই দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কারণ দেশটির শতকরা ৭০ ভাগ লোক জীবন ধারণের জন্য কৃষির উপর নির্ভর করে থাকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনপ্রতি আয়ের উপর এই ঘটনার এক বিশাল প্রভাব রয়েছে”।

নেপাল-আইসল্যান্ড পিক (ইমজে তেসে)। হিমবাহের বরফ গলে নীচে পড়ছে।

নেপাল-আইসল্যান্ড পিক (ইমজে তেসে)। হিমবাহের বরফ গলে নীচে পড়ছে।

ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী ম্যাকএয়াসাভেজ এর সৌজন্যে এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় ব্যবহৃত

আবহাওয়ার পরিবর্তন নেপালের আদিম হিমালয় পর্বতশ্রেণী ও তার আশেপাশে বসবাসরত সম্প্রদায়ের উপর এক গুরুতর প্রভাব তৈরি করছে। পামিল ভিশনের ব্লগার ফিল বাটলার হিমলায়ের হিমবাহ গলার বিপজ্জনক দিকের কথা আমাদের জানাচ্ছেন। কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবির সহকারে এক লেখায় তিনি গভীরভাবে গলতে থাকা হিমবাহ এবং এর ফলে যে হ্রদ তৈরি হচ্ছে সেই পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করছেন। এতে যা দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

“এই উঁচু বরফ গলা হ্রদ (…), প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। কোন সন্দেহ ছাড়াই বলা যায় কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি আমাদের সামনে এর চেহারা উন্মোচন করেছে। এটি প্রমাণ করে গুরুত্বপূর্ণ এসব হিমবাহ গলছে। এটি প্রমাণ করে বিশ্বের জলবায়ু দ্রুতগতিতে বদলে যাচ্ছে। এ এলাকার হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা এই হিমবাহের পানির উপর নির্ভরশীল তাদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। এই প্রভাব কতটা খারাপ হবে তা আমরা সঠিক ভাবে কল্পনা বা অনুমানও করতে পারি না”।

নেপালের এই হিমবাহ গলার বিষয়টি অনেক আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন দ্রুত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। যদিও কাঠমুন্ডু সরকার এর থেকে নিজের পা সরিয়ে নিচ্ছে। যখন কোন দীর্ঘ মেয়াদী পরিবেশ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা বলা হয়, তখন সরকার সেখান থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের পাহাড়ী গ্রামবাসী ও প্রতিবেশ পদ্ধতি বা ইকোসিস্টেমের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা ওয়ার্ল্ড ওয়াইর্ল্ডলাইফ ফান্ড (ডাব্লিউ ডাব্লিউ এফ)-এর এই ভিডিও দেখাচ্ছে ।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি), ইউএনএফপি- ও দি এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্কের সাথে এক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা এই ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। এই ভিডিও দেখাচ্ছে, পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে নেপালের হিমবাহের উপর কি ধরনের প্রভাব তৈরি হচ্ছে।

নেপালী সরকারের নিষ্ক্রিয়তা বাদে দিলেও, আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন ডাব্লিউডাব্লিউএফ এবং আইসিআইএমওডি দেশটির পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দেশ জুড়ে এ ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সারা দেশের অনেক নাগরিক ও তরুণ গ্রুপ বা দল গঠিত হচ্ছে।

নেপালীজ ইয়থ ফর ক্লাইমেট এ্যাকশন, এ রকমই এক দল। তারা সারা বিশ্বে পরিবেশ দুষনের ক্ষেত্রে এক আদর্শ মান রাখার কথা বলছে। তারা আদিবাসীদের জ্ঞান ও শিল্প ব্যবহারের উপর গুরুত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা দূষণ করে না বা পরিষ্কার জ্বালানীর উপর বিনিয়োগ করা ও পরিবেশের উপর নেপালীদের আরো সচেতনতা বাড়ানোর জন্য শোভাযাত্রা বের করে।

বেসরকারী খাতের অনেকেই পরিবেশ পরিবর্তনের জন্য দায়ী বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ ও সম্পদ উন্নয়ন করে পরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভাজুমাহেশ রিপোর্ট করেছেন, পানস সাউথ এশিয়া-পিএসএ সাত দিনের (১৭ থেকে-২৪ আগস্ট,২০০৯) এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছিল। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল:

“প্রচার ও অন্য যোগাযোগ মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভূমিকা তৈরি করা, আইসিটি টুলস প্রয়োগ করার মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য উন্নয়ন সূচিপত্র তৈরি করা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময় করা, যাতে তারা স্থানীয়ভাবে বহুবিধ সূচি তৈরি করতে পারে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে যোগাযোগ ঘটানো দরকার তার জন্য এই সমস্ত উদ্যোগ”।

যখন নেপালী সরকার পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে একপাশে দাঁড়িয়ে, তখন নেপালের প্রাইভেট সেক্টর ও অন্যান্য সাধারণ নাগরিকরা পরিবেশ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে করণীয় কাজে নেতৃত্ব প্রদানে এগিয়ে এসেছে। তারা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে জনতার শক্তি আসলে কতখানি।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .