বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

প্যালেস্টাইন: গাজার সেই ইফতারি ভাঙ্গার কামানের আওয়াজের অপেক্ষায়

ইফতারের কামান

ইফতারের কামান

গাজার যুদ্ধ অনেক ঐতিহ্যকে স্মৃতিতে পরিণত করেছে। প্যালেস্টাইনী ব্লগার হাজেম [আরবী ভাষায়] বেদনার সাথে রমজানের সেই সব অনুষ্ঠান হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেদনার সাথে স্মরণ করেছেন। এইসব স্মৃতি তার দাদা মনে রেখেছেন, কিন্তু এখন সে সব অনুষ্ঠান গাজায় আর অনুষ্ঠিত হয় না।

অনেক মুসলিম দেশের এটা ঐতিহ্য, সূর্যাস্তে রোজা ভাঙ্গার (ইফতার করা) সংকেত হিসেবে সে সব দেশ কামান দাগা হয়। কিন্তু এখন গাজায় আর ইফতারের সময় কামান দাগা হয় না। তিনি লিখেছেন:

آبائنا وأجدادنا لا زالو كل يوم يحدثونا عن شيئ كان سابقاً يسمى مدفع الافطار , وماان حدثونا الا وان تمنوا تلك الأيام أن تعود …
وفي حديث مع جدي على مائدة الافطار , حدثني قليلاً عن تلك الأيام ( البريئة ) كما وصفها هذا الختيار ..
فاستغربت من كلماته واحاسيسه التي كانت تنبعث من قلبه , فأخذ يحدثني وعيناه تدمع من شدة مرارة الايام فقال
آآآه يا جدي لو يعود مدفع الافطار , والفرحة تدخل كل بيت ودار ,, وبيت ستك يجمعنا وحوالينا كوانين النار , ونعيش ليالي رمضان ..
আমাদের বাবা ও দাদারা এখনও স্মরণ করতে পারেন ইফতারের (রোজা ভাঙ্গার সময়) কামানের কথা। যখনই তারা এইসব বিষয় মনে করতে শুরু করেন, তখনই তারা ভাবতে শুরু করেন, ইফতারের সেই পুরোনো দিন গুলো যদি ফিরে আসত। আমার দাদা সেইসব ‘সুন্দর” দিনের কথা বলেন। যখন তিনি সেইসব দিনের কথা বলতে থাকেন তখন আমি তার বর্ণনা ও অনুভূতিতে বিস্মিত হয়ে যাই। এইসব কথা যেন তার হৃদয় থেকে উচ্চারিত হয়। তার চোখ বেদনায় ভরে আসে। চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে যখন তিনি সেইসব দিনের কথা স্মরণ করেন..।

নাতি, ইফতারের সেই কামান যদি আবার ফিরে আসত। সেটা সকল বাসায় সকল ঘরে সুখ বয়ে আনত। আমরা সকলেই তোমার দাদীর ঘরে জড়ো হতাম, সব্বাই, গা গরম করার জন্য আগুনের যে চুল্লি জ্বালানো থাকত, তার পাশে বসতাম, রমজানের রাত উদযাপন করতাম।

বৃদ্ধ মানুষটি স্মরণ করতে থাকে গাজায় রমজানের রাতে কি হত:

تلاقي الفطرة أشكال وألوان , هادا كنافه بالسمن البلدي , وهاد قطايف محشية بلوز ,, واعمامك كلهم صغار ,, هون فانوس وهون لعب اطفال والحارة كلها انوار ..
نتزاور أهل وجيران , والبسمة تملى أباريق واجرار , نسهر ونتلكم ونحكي قصة وأسرار , عن فارس أسد ومغوار .
তুমি তখন সকল সুস্বাদু জিনিস পেতে। দেখতে পেতে কুনাফা। এটি প্রাণীর স্বাভাবিক চর্বি দিয়ে বানানো হত। পেতে কাতায়েফ। বাদাম দিয়ে ভেজে তৈরি করা। সে সময় তোমার চাচারা ছিল তরুণ এবং তুমি দেখতে লণ্ঠন (ফানুস), এখানে সেখানে অনেক খেলনা ছড়িয়ে থাকত। প্রতিবেশীরা সকলেই জেগে থাকত, সবাই আনন্দে মেতে থাকতাম। সাধারণত আমরা আত্মীয় এবং প্রতিবেশী ওখানে বেড়াতে যেতাম। সে সময় সকলের মুখে হাসি ছিল। রাতে আমরা তাদের বাসায় থাকতাম এবং গল্প করতাম ও গোপন কথা আলোচনা করতাম। গল্পের বিষয় হত এক বীর, এক সিংহ এবং এক অভিযানের।

আজকের দিনে ফিরে আসলে দাদা দু:খ প্রকাশ করেন:

آآآآه يا جدي لو يرجع مدفع الافطار
لا أسرَى ولا معتقلات
لاحواجز ولا مستوطنات
في حارتنا تعلا الرايات
ونغني كبار وصغار
في بلدنا بلد الأحرار
لو يرجع مدفع الافطار
হে আমার নাতি, যদি কেবল ইফতারের কামান ফিরে আসত।
কোন বন্দি নয়, কোন গ্রেফতার নয়,
কোন দেওয়াল নয়, নয় কোন বসতি স্থাপনকারী
আমাদের প্রতিবেশী মধ্যে, ঝাণ্ডা অনেক উঁচুতে উড়বে
তরুণ এবং তরুণীরা গান গাইবে
আমাদের দেশ, স্বাধীন দেশ
যদি কেবল ইফতারের কামান ফিরে আসে

হাজাম-এর পর বলে চলেছেন:

ولم يكمل جدي المشوار , حتى ادمعت عيناي ألم من هذا الواقع الجبار , حصار ودمار والاهل والجيران كلُ في وادِ محتار .
قبلت جبينه ودعوت ربي أن يجمعنا رمضان في خيرِ وسعادة واستقرار .
আমার দাদা তার গল্প শেষ করেন নি, আমার দুচোখ কান্নায় ভরে এল, আমাদের নিষ্ঠুর বাস্তবতার কথা ভেবে- দখলদারিত্ব এবং ধ্বংসের মধ্যে বসবাস করা, আমাদের সকল আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে বাস করছে, সবাই একা এবং দ্বিধান্বিত। আমি আমার দাদার কপালে চুমু খেলাম এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম, রমজানে সমৃদ্ধি সুখ এবং স্থায়িত্বের মধ্যে দিয়ে আমাদের যেন এক করা হয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .