বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ আফ্রিকা: কাস্টার সেমেনেইয়ে, ছেলে নাকি মেয়ে?

দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড়বিদ কাস্টার সেমেনেইয়ে সম্প্রতি বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় একটি স্বর্ণপদক জিতেছে। এই জয় তাকে সবার চোখের সামনে নিয়ে আসে, তবে তার জয়ের কারণে নয়, লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার কারণে। এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, কাস্টার সেমেনেইয়ে কি পুরুষ নাকি মহিলা? এই পোস্টে আমরা এই বিতর্কিত বিষয়ে ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেছি।

মেইল এবং গার্ডিয়ান রিপোর্ট করেছে:

জার্মানীর বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্বচ্যাম্পিয়ানশীপ প্রতিযোগিতায় বৃহস্পতিবার সেমেনেইয়ে ৮০০ মিটার দৌড়ে মহিলা বিভাগে স্বর্ণ পদক জেতে। এর সাথে সাথে সে নিজেকে এক বিতর্কের মধ্যে আবিষ্কার করে, যখন বিশ্বের প্রচার মাধ্যমে আলাদা করে তার পুরুষালী পেশি এবং লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ এথলেটিক ফেডারেশন বা বিশ্ব ক্রীড়া পারিষদ ওরফে আইএএএফ তার লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে তোলা অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান রাজনৈতিক দল, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা এনএনসি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন এই ধরনের তদন্তের নিন্দা জানিয়েছে এবং কাস্টার সেমেনেইয়ের সমর্থনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

এডাম ওয়েকফিল্ড অনুভব করছেন, পুরো বিতর্ক আইএএএফ এর ভণ্ডামি উন্মোচন করে দেয় এবং তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলেছে। তিনি লিখেছেন:

মাত্র ১৮ বছর বয়স তার। এখনো সেমেনেইয়ের সামনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে, যদি না আইএএএফ পরিস্থিতিকে জটিল করে ফেলার কারণে তা খারাপ দিকে গড়ায়।

এটা এক হতাশা তৈরি করে যে, আইএএফ-এর ফাইনালের আগে জানানো উচিত ছিল যে সেমেনেইয়ের লিঙ্গ পরিচয় পরীক্ষা দিতে হবে। তারা কি উসাইন বোল্টের ২০০ মিটার চূড়ান্ত দৌঁড়ের আগে তার ড্রাগ টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে তা প্রকাশ করত?

না, কারণ আইনের শর্ত হল মাদক পরীক্ষার ফলাফল একবার মাত্র জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে, আর তা করা হবে তখন, যখন আইএএফ ও ওয়াডা ১০০% নিশ্চিত হবে যে, হয় মাদক টেস্টে এ অথবা বি নমুনার ফলাফল ইতিবাচক হয়েছে। সেমেনেইয়ের ক্ষেত্রে, সে বিলাসিতা এবং গোপনীয়তার অধিকার অর্জন করতে পারে নি।

আবিগাইল আব্রাহাম কর্ম ক্ষেত্রে তার সহকর্মীদের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা লিখেছেন:

হ্যাঁ, সবাই একমত, তাকে অনেক পুরুষালী দেখায়, কিন্তু যদি কিছু পুরুষ মহিলার মতো এবং কিছু মহিলাকে পুরুষের মতো দেখতে লাগে তা নিয়ে কেউ ভ্রূকুটি করে না, যদি না বিষয়টি কোন বিতর্ক তৈরি করে।

আমার এক সহকর্মী সেমেনেইয়েকে টেনিস খেলোয়াড় উইলিয়াম বোনদের সাথে তুলনা করেছে! যদিও আমি ততটা যেতে রাজি নই।

অন্য আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন:

পুরো ঘটনাটি আমার কাছে এক কবিতার মতো মনে হয়, যা আমরা প্রাথমিক স্কুলে পড়েছিলাম। এই কবিতা লিখেছিল হেনরি এস লেইহ, যেখানে যমজ জোড়া বেদনা অনুভব করেছিল, “… যাদের আমি জানি তাদের কাছে কোন জবাব আশা করা ছাড়াই এই প্রশ্ন করেছি।
তুমি আসলে কি করবে, যদি তোমাকে প্রমাণ করতে বলা হয় যে, তুমি আসলেই তুমি?

জ্যাকি অনুভব করেছে যে পুরো বিষয়টি এড়ানো যেত:

তার কোচ সেমে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা এই বিতর্ক এড়াতে পারত এবং তাদের তা করা উচিত ছিল। এই ঘটনার জন্য তাদের তৈরি থাকা উচিত ছিল এবং এই পরীক্ষা মাস খানেক, এমনকি তা বছর খানেক আগে করা যেত। এই সংবেদনশীল কাজ যা করা উচিত ছিল। এই মেয়েটি এখনো কিশোরী, সে তার লিঙ্গ পরিচয়ের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক জটিলতা যা এড়ানো যেত, সেই বিষয়টি তার এবং তার পরিবারের জন্য বিশাল এক মানসিক চাপ তৈরি করেছে। এই চাপ এমন এক সময় তৈরি হয়েছে, যখন সে ক্ষণভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং তার লিঙ্গ পরিচয় এর দিক থেকে, এবং তার শারীরিক গঠন এখনো তৈরি হচ্ছে।

রোডসেফটি.কো.জায়া দক্ষিণ আফ্রিকার হাই স্কুল প্রতিযোগিতায় কাস্টার সেমেনেইয়ের দৌঁড়ানোর ছবি জোগাড় করতে সমর্থ হয়েছে। সুপারমিডিয়া সাইটে গিয়ে আপনারা এই ছবি দেখতে পারেন

অনেক ব্লগার তার নামের প্রতি মনোযোগ দিয়েছে। ইংরেজীতে এই নামের বানান সেমেনেইয়ের বদলে অনেকটা সী-ম্যান-ইয়েহ উচ্চারণ করা যায়। ব্লগার লিখেছে:

আমি এই গ্রাম্য (দক্ষিণ আফ্রিকার ভাষায় ইয়ারপি) ব্যক্তিটিকে দেখছিলাম.. দু:খিত, আমি বলতে চাচ্ছি বালিকাটিকে.. কাস্টার সী-ম্যান ইয়েহ (উচ্চারণ বিশ্লেষণ করলে নামের মানে দাঁড়ায়, কাস্টার নামক পুরুষটিকে দেখ) গত রাতে মেয়েদের ৮০০ মিটার দৌঁড়ের সেমিফাইনালে সে ছিল এবং আমি বিস্মিত যে কিভাবে আপনারা নিশ্চিত যে ব্যক্তিটি.. দু:খিত সে, আসলে একটা মেয়ে?

“সে” প্রাথমিক বাছাই পর্বে সম্ভাব্য বিজয়ীদের গতিতে পরাস্ত করে এক প্রতারণা করেছে। আমরা কিভাবে নিশ্চিত হবো যে, এই নারী বেশি পুরুষ মেয়ের বেশে ছবি তুলে আর কোন প্রতারণা করবে না, যেখানে বাস্তবতা হচ্ছে সে এক পুরুষ? এই মেয়েটিকে দেখতে নিশ্চিত রুপে এক পুরুষের মতো লাগে।

ওয়ানলার্জপ্রন লিখেছে:

গত রাতে যখন তাকে দৌড় শেষ করে দড়ির প্রান্ত ছুঁতে দেখি, সে সময় তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নির্দেশ করছিল যে এই বিষয়ে তার চিন্তাভাবনা কি- সে তার বাহু আড়াআড়ি টেনে নিল এবং কাঁধের ময়লা পরিষ্কার করল। জেই জেড এতে গর্ব অনুভব করবে।

লিঙ্গ নিশ্চিত করণ পরীক্ষার জটিলতার কারনে পরীক্ষার ফলাফল কয়েক সপ্তাহেও নিশ্চিত করা যাবে না। ঘটনাক্রমে আইএএএফ সেমেনেইয়েকে গতরাতের চুড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে নি। তবে এটা বোঝা যায় যে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ কিছু অপ্রথাগত চাপের মধ্যে ছিল, সেমেনেইয়ের নাম প্রত্যাহার করে নেবার জন্য। তারা তাদের এই স্বর্ণশিকারীর প্রতি আস্থা বজায় রেখেছিল এবং তাকে দৌঁড়াতে দিয়েছিল।

সিমোনিয়াল, কাস্টার সেমেনেইয়ের একটা পুরোনো ছবি জোগাড় করেছে এবং যুক্ত করেছে:

এই সমস্ত ছবিতে সেমেনেইয়েকে নিশ্চিত ভাবে দেখতে একটা মেয়ের মতো লাগে।

সোলফুড বিস্মিত কেন প্রতি বার দক্ষিণ আফ্রিকা কোন অর্জনের বেলায় সংবাদ শিরোনাম হয়, তার অর্জনে একটা কিন্তু থেকে যায়:

কেন এমনটা ঘটে, যখনই দক্ষিণ আফ্রিকা বা দক্ষিণ আফ্রিকার কেউ ভালো কিছুর জন্য সংবাদে আসে-তার এই যোগ্যতা কোন এক “কিন্তুর…” মধ্যে দিয়ে ঘটে অথবা “ সকল ঘটনায়” অথবা “সকল কিছু সত্বেও” একটা প্রশ্ন থেকে যায়। কাস্টার সেমেনেইয়ের বিষয়ও আমার দৃষ্টিতে এ রকম এক ঘটনা।

কর্মকর্তাদের কাছে সংরক্ষিত রেকর্ড মোতাবেক কাস্টার ৮০০ মিটার দৌঁড়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত গতির তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইতিহাসে! কিন্তু এই পরীক্ষা করা হচ্ছে একা তার উপর, সে কি ছেলে নাকি মেয়ে।

৬০০০ মাইল পরিহাসছলে এই বিষয়টির দিকে তাকাচ্ছেন:

সকল গুরুত্ব প্রদান করা সত্ত্বেও, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে এই ঘটনা সেমেনেইয়ের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে যুক্ত হয়েছে, তার অসাধারণ ক্রীড়া শৈলী প্রদর্শনের সাথে নয়, যা সে গত রাতে দৌঁড়ের মাধ্যমে প্রদর্শন করে। সে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গর্বিত করেছে এবং এটাই এখানে সবচেয়ে বড় সংবাদ হবার কথা।

আমি নিশ্চিত যে পুরো দেশ তার পেছনে অবস্থান নেবে যখন সে এক অদ্ভুত দ্বৈত পদক অর্জনের জন্য দৌঁড়াবে, আগামীকাল সন্ধ্যায় পুরুষদের ৮০০ মিটার দৌড়ে পদক অর্জনের জন্য।

দৌঁড়ের ভিডিওটি :

মাইকেল জনসনের কিছু দৃষ্টিভঙ্গি:

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .