বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

প্যালেস্টাইন: গাজায় স্কুলের সমাপ্তি পরীক্ষার ফলাফল

গাজা, ওয়েস্ট ব্যান্ক (পশ্চিম তীর) আর জর্ডানে তাওজিহি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মাধ্যমিক পরীক্ষা যা একজন ছাত্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা আর মূল পড়ার বিষয়টি নির্ধারণ করে। এই বছর এই পরীক্ষা গাজা আর ওয়েস্ট ব্যান্কে এক সাথে হয়েছে এবং এটাকে ধরা হয়েছিল পুন:একত্রীকরনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে। এই পোস্টে আমরা তাওজিহির ফলাফলের ব্যাপারে গাজার ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া শুনবো।

গড়ে তাওজিহি পরীক্ষাতে বসা ছাত্রদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক পাস করে। প্রচার মাধ্যমে তাওজিহির ফলাফল ঘোষিত হয়, আর যারা পাস করে তাদের জন্য সরকারীভাবে উৎসব করা হয়। প্রত্যেক বছর সর্বোচ্চ নম্বর যে পায় সে একজন তারকায় পরিণত হয় – এই বছর এই সম্মান পেয়েছে নাবলুসের তালা আল-বাত্তিয়া। প্যালেস্টাইনের মোবাইল ফোন সার্ভিস প্রদানকারী- জাওয়্যাল, তাওজিহি পরীক্ষার ‘নির্ধারিত স্পন্সর’। তারা এই বছর একটা প্রতিযোগিতা করেছে ‘তোমার তাওজিহি ফলাফল কল্পনা করে হাজার হাজার ডলার জিতে নাও’ এই নামে। তবে যেসব পরিবারের কিশোররা এই বছর গাজায় আক্রমণে মারা গেছে তাদের জন্যে এটা শোকের সময়। আর এই ছাত্রদের স্মরণ করতে হামাস সরকার এবার (তাদের পরিবারকে) সম্মানসূচক তাওহিজি সনদ দেয়।

ইলেক্ট্রনিক ইন্তিফাদাতে, রামি আলমেঘারি জানিয়েছেন যে কোন পরিস্থিতিতে গাজার ছাত্রদের পরীক্ষার জন্য পড়ার সংকল্পের ব্যাপারে। আবের আবু শাউইশ নামে একজন ছাত্র তাকে জানিয়েছে:

“ডিসেম্বর ২০০৮ এর শেষভাগের যুদ্ধের আগে, আমি তাওজিহির জন্য পড়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। যুদ্ধের মধ্যিখানে একদিন, আমি রাত ১১টার দিকে কাছেই বোমার আওয়াজ পাই। তবে, আমি জোরে একটা শ্বাস নিয়ে পড়া চালিয়ে যেতে থাকি। যদিও আকাশ, সাগর আর স্থল পথে ইজরায়েলের আক্রমণের কারনে আমি খুব বিচলিত ছিলাম, আমি নিজেকে বলেছি যে আমাকে সফল হতেই হবে ইজরায়েলি দখলের বিরুদ্ধে আমার নিজের উপায়ে লড়াই করার জন্য, শিক্ষা!”

ঘোস্ট অফ প্যালেস্টাইন নামে ছাত্র তার পোস্টে লিখেছে “ফলাফল বেরিয়েছে” এবং তার লেখায় পরীক্ষার চাপ স্পষ্ট:

لا تعليـــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــــق.!

কোন মন্তব্য নেই!

মুতাশারিদ পাস করেছে ৯১.৯ নম্বর নিয়ে এবং তার অনুভূতি:

أمّي ، أبي ، دربكة الأقدام على موسيقى وأغاني لا نحفظها ، أصوات ضحكاتهم الغجريّة ، زغاريد الفلاحات بكل ما اوتين من فرح ، همهمة جدتي بأدعيتها القدسيّة ، الفرح الوحشيّ …

আমার মা, আমার বাবা, বাজনা আর গানের সাথে যেসব নাচের অভ্যাস আমরা করি নি, তাদের হাসির আওয়াজ, কৃষানীদের উলু ধ্বনি যা তারা তাদের সব আনন্দ নিয়ে করে থাকে, আমার দাদীর জেরুজালেমের প্রার্থনা গুনগুনিয়ে পড়ছে, বল্গাহীন আনন্দ…

হাজেম বলেছেন:

أتقدم بالتهنئة الممزوجة بعبير التقدير والاحترام لطلبة الثانوية العامة بمناسبة نجاحهم سائلاً المولى عز وجل ان يوفقهم فى حياتهم العلمية والعملية .
ونقول رغم الحصار والدمار رغم الحرب الاخيرة على غزة الا ان النسب مبشرة والنتائج افضل من نتائج العام الماضى

আমি আমার অভিবাদনে অংশগ্রহণ করতে চাই, আমার বাহবা আর সম্মানসহ, মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রদের প্রতি তাদের সাফল্যের কারনে, সর্বশক্তিমানের কাছে এই প্রার্থনা করে যাতে তারা তাদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনা আর কাজে সাফল্য লাভ করে। আমরা আটক রাখা আর ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও বলতে পারি, গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধ বিবেচনা করে পাসের হার ভালো আর ফলাফল অন্যান্য বছরের থেকে ভালো।

সম্মিলিত একটি পোস্টে, নাজেক আবু রাহমা আর হানাদি আল কাওয়াস্মি লিখেছেন:

هذه بعض مشاهد فرحة فلسطين بطلابها المتفوقين، فلسطين المعروفة بتحصيل أبنائها الأكاديمي العالي مقارنة بأقرانها من العرب، الذين عرفوا أن علماً يحصلونه هنا وهناك يُعلي رصيد نضالهم. حتى الطلاب الأسرى منهم (1821 أسير) ما زالوا حتى اللحظة يطالبون سلطات الاحتلال بحقهم في التقدم لامتحان الثانوية من وراء القضبان. مشاهد هنا وهناك، بعضها يعكس مشاعر ممتزجة في قلوب الفلسطينيين مزينة بأمل أن تتحول الوحدة التربوية إلى وحدةٍ سياسيةٍ .

এগুলো বিশিষ্ট ছাত্রদের জন্য প্যালেস্টাইনের আনন্দের কিছু দৃশ্য। অন্যান্য আরব দেশের তুলনায় প্যালেস্টাইন তার ছাত্রদের উচ্চ মানের শিক্ষার জন্য বিখ্যাত। তারা জানে যে কোন স্থান থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান তাদের (শত্রুকে) প্রতিহত করার হাতিয়ার। এমনকি বন্দী ছাত্ররাও (১৮২১) দখলদার শক্তির [ইজরায়েলের] কাছে তাদের দাবী চালিয়ে যাচ্ছে জেলে বসে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়ার জন্য। এখান ওখান থেকে কিছু দৃশ্য, কিছু তুলে ধরছে ফিলিস্তিনিদের মনের ভাব, এই আশা নিয়ে যে এই শিক্ষার একত্রীকরণ রাজনৈতিক একত্রীকরনে পরিণত হবে এক সময়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .