বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মায়ানমার: অভিনেতার ছবি বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে প্রচণ্ড আঘাত করেছে

বার্মার এক অভিনেতা ও তার বন্ধুদের এক ছবি, সে দেশে প্রচণ্ড বিতর্ক তৈরি করেছে। এই ছবিতে অভিনেতা ও তার বন্ধুরা জাফরান রং এর পোশাক পরেছেন যা বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা পরে থাকে। এই ছবি বার্মার এক জনপ্রিয় ব্লগে প্রকাশ করার পরে বার্মার ব্লগার সম্প্রদায়কে প্রচণ্ড আঘাত করেছে।

মিন মাও কুন এবং তার বন্ধুরা তাদের যাজকবৃত্তিতে বরণ করার অনুষ্ঠানে

মিন মাও কুন এবং তার বন্ধুরা তাদের যাজকবৃত্তিতে বরণ করার অনুষ্ঠানে

এই ছবিতে অভিনেতা মিন মাও কুন, ফটোগ্রাফার উনানা খেওয়ার নি ও তাদের বন্ধুবান্ধবদের দেখা যাচ্ছে যাজকবৃত্তিতে বরণ করার অনুষ্ঠানে। এটি অনুষ্ঠিত হয় এক বৌদ্ধ মঠে। তবে ছবির এই সমস্ত নতুন সন্ন্যাসীদের ভাবভঙ্গি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে এক ভ্রুকুঞ্চনের সৃষ্টি করেছে।

ইরাওয়াদি লিখছেন:

যদিও তাদের মস্তিষ্ক মুণ্ডন করা হয়েছে এবং তাদের পরনে ছিল ধর্মীয় পোশাক, কিন্তু ছবিতে দেখা যাচ্ছে বেশীর ভাগ তরুণই ফ্যাশনের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে, তারা প্রদর্শিত করছে শরীরের আঁকা উল্কি ও শিল্পকর্ম যেমন ড্রাগন ও কাঁকড়াবিছা, যাতে পুরোনো স্কুলের প্রভাব ও আদিবাসী শিল্পের ছাপ রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের মুখে এক ধৃষ্টতাপূর্ণ হাসি রয়েছে, যা তারা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দিয়েছে, একই ছবিতে অন্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে অথবা উত্তেজনা ছাড়ানো ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছে।

নিকনায়মানের ব্লগে এই ছবি প্রথম পোস্ট করা হয়। তিনি অভিনেতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করেছেন

জাফরান রং-এর বিশেষ ধর্মীয় পোশাককে শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। কেবল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাই এই পোশাক পড়তে পারে। এই সকল সন্ন্যাসীদের ভগবান বুদ্ধের সন্তান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ছবিতে যারা রয়েছেন তাদের অবশ্যই জাফরান রং-এর সন্ন্যাসীদের পোশাক পরা উচিত হয় নি। তার সাথে এই রকম মুখভঙ্গি করে এবং ভুয়া উল্কি শরীরে লাগিয়ে ছবি তোলার জন্য দাঁড়ানো ঠিক হয় নি। এটা এমন এক জিনিস যা, যে কোন কারণেও ঘটা উচিত নয়।

এই ঘটনার পর এই ছবি কপি করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ব্লগে পুনরায় পোস্ট করা হয়েছে। এই ছবি দেখে অনেক বার্মিজ নাগরিক অপমানিত বোধ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আশিন কন্ডোভাসাকারা নামে একজন শ্রদ্ধেয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন। এ সম্বন্ধে তিনি এক প্রবন্ধ লিখেছেন যার শিরোনাম “কেন অভিনেতা মিন মাও কুন আমাদের ধর্মকে এভাবে অপমান করল”? এই প্রবন্ধ অনেক বার্মিজ ব্লগে দেখা যাচ্ছে যেখানে তিনি একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন এবং একজন সন্ন্যাসীর এই সকল নিয়ম ভাঙ্গার মধ্যে দিয়ে অভিনেতার কি অন্যায় হয়েছে তা বলেছেন।

একজন অভিনেতার অবশ্যই জনগণকে শ্রদ্ধা করতে হবে। তাকে, ভুল কাজ করা পরিহার করে ঠিক কাজটি করতে হবে। মিন মাও কুন ও তার বন্ধুরা এক অপমানজনক কাজ করে তাদের মূল্য হারিয়েছে, যেমন এই কাজটি করে। তার পিতা (অভিনেতা) জিন ওয়ানও এই কাজের জন্য সমান ভাবে দায়ী, পুত্রের কাজের জন্য সরাসরি তার পিতাকে দায়ী করা যায়। এ ছাড়াও ওই মঠের প্রধান বৌদ্ধ সন্ন্যাসী যে এই সমস্ত লোকদের সন্ন্যাসীদের এই পোশাক পরতে দিয়েছে সে খুবই বোকার মতো কাজ করেছে। যে সন্ন্যাসী তাদের এই প্রবেশ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেছে সে সম্ভবত তার এই বোকামীপূর্ণ কাজের ব্যাপারে কোন ধারণা রাখে না। যাই হোক, সুস্থ স্বাভাবিক যে কোন মানুষই জানে যে, এই ধরনের কাজ বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এটাই আমাদের প্রমাণ করে অভিনেতা মিন মাও কুন কি ধরনের মানুষ, সে এমন এক ভিডিও নির্মাণ করতে যাচ্ছে যা জনগণকে শিক্ষা দেবে।

তবে রেডিও ফ্রি এশিয়া বার্মিজের ওয়েব সাইটে অভিনেতা মিন মাও কুন বলেছেন যে ওই সমস্ত ছবি তোলার তার কোন কারণ ছিল না এবং তিনি তার এই আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থী

বৌদ্ধ ধর্মকে আঘাত করার কোন ইচ্ছা আমার নেই। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের অপমান করার কোন ইচ্ছেও ছিল না। আমরা যার উপাসনা করি তারা তার চোখের মণি। হ্যাঁ, আমরা আমাদের শরীরে উল্কি লাগিয়েছি। কিন্তু এটা কেবল তারুণ্যের এক কাজ মাত্র। আমি আমার ছেলের সাথে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হয়েছি। আমরা এক সাথে এই সন্ন্যাস গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। এই ছবিটি তখন তোলা হয়েছে, যখন আমরা মঠ পরিষ্কার করছিলাম। কেবল এক স্মৃতি হিসেবে এই ছবি তোলা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছেও দুই বছর আগে। তখন থেকেই লোকজন এই বিষয়ে কথা বলছে। কাউকে অপমান করার আমার অন্য কোন ইচ্ছে ছিল না এবং একজন তরুণ হিসেবেই আমি এই কাজ করেছি। এর জন্য, আমি সকল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

উপরের উদ্ধৃতি অনুবাদ করেছেন লেখক নিজে, মূল প্রবন্ধটি বার্মিজ ভাষায় লেখা হয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .