বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত: একটি খুনের ঘটনায় জ্বলে উঠেছে মণিপুর

এই সপ্তাহের শুরুতে চিংখাম সান্জিতকে ভারতের অঙ্গরাজ্য মণিপুরের পুলিশ কর্তৃক হত্যা করার ছবি প্রকাশিত হবার পরে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠে। সে ছিল ২৭ বছর বয়সী এক নিরস্ত্র যুবক।

অনুসন্ধান মূলক সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত সংবাদ সংস্থা তেহেলকা.কম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশ সান্জিতকে গ্রেফতার করেছে। ছবিতে মনে হয় নি গ্রেফতারের সময় সান্জিত কোন রকম বাঁধা প্রদান করেছে। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরে এক জনাকীর্ণ বাজারে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

“…. একটি গুলির ঘটনা, যা জুলাইয়ের ২৩ তারিখে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের ঠিক মধ্যিখানে ঘটল। রাজ্যের সংসদ ভবন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব খুব বেশী হলে ৫০০ মিটার। মণিপুরের পুলিশ এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। ২৭ বছর বয়স্ক ভারতীয় নাগরিকের এই “এনকাউন্টার কিলিং” বা “পুলিশের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে মৃত্যু” আসলে এক হত্যাকাণ্ড। নিহত নাগরিকের নাম চিংখাম সান্জিত, যাকে খুন করে মণিপুর র‌্যাপিড এ্যাকশন পুলিশ ফোর্স নামে ভারী অস্ত্র সজ্জিত পুলিশের একটি বিশেষ দল। সাধারণভাবে তাদের পরিচয় মণিপুর পুলিশ কমান্ডো হিসেবে (এমপিসি)”।

লক্ষিপুরঅনলাইন সান্জিতের খুনের আগে, তার উপর যে পুলিশী কর্মকাণ্ড ঘটেছে তার আরো বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে:

“যেখানে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেখানে এমন কোন প্রমাণ ছিল না, যা নির্দেশ করে যে সান্জিত গ্রেফতার হবার সময় পুলিশকে বাঁধা দিয়েছিল। পুলিশ দাবী করে, সান্জিত গ্রেফতার এড়াতে চেয়েছিল এবং গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালাচ্ছিল। কোন রকম যুক্তি ছাড়াই বলা যায়, ঘটনাটি মণিপুরের রাজধানীর সবচেয়ে জনবহুল এলাকায় ঘটে। বরঞ্চ দেখা গেছে এর বদলে সান্জিতকে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাক্কা দিচ্ছে এবং এক ওষুধের দোকানের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর তার নিষ্প্রাণ দেহ একটি পুলিশী যানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে শুইয়ে রাখা হয়”।

রাস্তার পার্শে থাকা এক গর্ভবতী মহিলাও এই ঘটনায় মারা যায়। কারণ সে সময় পুলিশ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল। জনতার ভীড় তৈরি হয় তখন, যখন তারা এই খুনের ঘটনার কথা জানতে পারে।

এই ঘটনার পর মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী জনতার বিশাল এক চাপের মুখে রয়েছে। ভিশনএমপি জানাচ্ছে:

“মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিং বৃহস্পতিবারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার এক বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এই ভুয়া এনকাউন্টার-এর তদন্তের এবং যে ছয়জন পুলিশ এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল তাদের সাথে সাথে বরখাস্তের নির্দেশ দেন”।

টাইমস নাউ রিপোর্ট করছে যে, যদিও মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, এখন মণিপুরের অধিবাসীরা তার পদত্যাগ দাবী করছে।

এই ঘটনা, কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় কারণ কয়েক বছর ধরে মণিপুরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হচ্ছে।

রামজোশি এই ইউটিউব ভিডিওটি আপলোড করেছেন যাতে মণিপুরের পুলিশের নির্মমতার ইতিহাস তুলে ধরছে। একটি সতর্কতা, এই ভিডিও স্বাভাবিকভাবে নির্মমতার ছবি তুলে ধরে, কম বয়সী বা দুর্বল চিত্তের লোকদের এই ভিডিও না দেখার জন্য অনুরোধ করা হল।

২০০৯ সালের ১৭ জুলাই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক রিপোর্ট প্রকাশ করে, যা সরকারের নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়:

“স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মণিপুরে ঘটা বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা তুলে ধরেছে, যেখানে অভিযোগ রয়েছে, খুনী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বিশেষ ক্ষমতা আইন নিরাপত্তা বাহিনীকে বড় ধরনের ক্ষমতা প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে অনুসন্ধান গ্রেপ্তার, এবং খুন করার জন্য গুলি করার অধিকার। এর জন্য তাদের কোন ধরনের বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। এই আইনের ফলে, পুলিশের নিয়ম লঙ্ঘন করা চিরস্থায়ী এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশের ভেতরে এত গভীরে প্রবেশ করেছে যে, এখন তারা নিয়মিতভাবে এই একই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। মণিপুরে লম্বা সময় ধরে সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রের সংসদীয় শক্তি এই একই ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে অনেক ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী লোকজনকে ধরে নিয়ে আসে ও খুন করে, কিন্তু তারপরে তারা দাবি করে যে এই খুনের ঘটনা উভয়ের মুখোমুখি সংঘর্ষ বা “এনকাউন্টারে ঘটেছে”- সশস্ত্র একদল লোকের সাথে সংঘর্ষে”।

টুইটার ব্যবহারকারীঋতুপর্ণাভুঞাবলেছেন:

ভুল লোকের মাথায় একটা বুলেট (এবং কয়েকটা ক্যামেরা শট) রাষ্ট্রের ক্ষমতা বলয়কে ধরে ঝাঁকুনি দেয়। মণিপুর যখন উত্তপ্ত, ইম্ফলের এই নিরপরাধ ব্যক্তিকে আমি স্মরণ করছি।

সুরজকালা জানাচ্ছেন:

মণিপুরে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে- গণতন্ত্র কোথায়; (http://is.gd/23vGV) (অবশ্যই এই ভিডিওটি দেখা দরকার: যা চোখ খুলে দেয়) (ভায়া@পালিন)#এফবি(via @palinn) #fb

কির্তিকিরান বলছেন:

আগস্টের ছয় তারিখ: আমি এখনো বিস্মিত যে কি ভাবে পুরো জাতি এই ঘটনায় নীরব মণিপুরের ভুয়া এই এনকাউন্টারের ঘটনার ব্যাপারে, যদি না তারা ঘুমিয়ে থাকে। সত্যি দু:খজনক।

অলকরেনু উত্তর দিচ্ছেন:

@কির্তিকিরান, কারণ এটা মণিপুর! উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই রকম ছোট শহর কয়টি আমাদের নজরে আসে? এটা সত্যি বেদনাদায়ক।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .