বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মধ্যপ্রাচ্যের ব্লগারদের ভিতরে প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষণের প্রতিক্রিয়া

কায়রোতে দেয়া বারাক ওবামার আরব ও মধ্যপ্রাচ্যনীতি বিষয়ক বক্তৃতার সূত্র ধরে তার ‘স্বঘোষিত বিশ্বনেতা’ খেতাব পাওয়া, বক্তৃতা প্রদানের স্থান বেছে নেয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তার বক্তৃতায় গুরুত্ব কতখানি ইত্যাদি আলোচনায় সরব ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ব্লগগুলো।

বক্তৃতা শেষে সৌদি আরবীয় আমেরিকা ভিত্তিক স্টিলিটোস ইন দি স্যান্ড লিখেছে:

৫ মিনিট এবং ২২ সেকেন্ড…আমার জীবনে তাই ঘটে গেল যা আর ঘটবে না। চারটি অংশে বিভক্ত ছিল জেজার বক্তৃতা যা শুনে মনে হল আসলেই পৃথিবীর ছোট ছোট অংশে বিভক্ত রাজ্যগুলি শাসন করার জন্য আর ভিন্ন ভিন্ন নেতার প্রয়োজন নেই।

জেজাই সফল ভাবে কতৃর্ত্ব করতে পারেন এবং বিশ্বে প্রথমবারের মত স্ব-নিযুক্ত বিশ্বনেতা হবার ক্ষমতা রাখেন। তিনি যা বিশ্বাস করেন তা-ই বলেছেন নির্দ্বিধায় কারন তিনি মনে করেন যা অর্জন করা সম্ভব, তা ‘একত্রে’ সফল ভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। তাকে এক মুহূর্তের জন্যেও বিশ্বাস করা উচি নয়। তার ঠোট নড়া মানে তিনি মিথ্যা বলছেন।

সিরিয়ান খালদুন জারবু ও খুব সন্তুষ্ট ছিল না। তার ভাষায়:

ওবামার বক্তৃতায় আমি কোন নতুনত্বের স্বাদ পাইনি। উপরন্তু, হোয়াইট হাউসে তিনি পূর্বে যা বলেছেন সেই একই গতানুগতিক ধারার বক্তৃতা এখানেও দিয়েছেন। তবে তার শব্দ বাছাই করে কথা বলাটা আমার ভালো লেগেছে। ‘টেরোরিজম’ ও ‘টেরোরিস্ট’ এর পরিবর্তে ব্যবহার করেছেন ‘ভায়োলেন্স’ ও ‘এক্সট্রিমিস্ট’ শব্দগুলো।

বাহরাইনের মাহমুদ আল ইউসেফ বেশ স্পষ্ট ভাবেই বলেছেন বক্তৃতা ভেন্যু সম্পর্কে বলছেন:

আমি বার বার নিজেকে প্রশ্ন করে যাচ্ছি এই বলে যে কেন ওবামা মধ্যপ্রাচ্যের একটি একনায়কতান্ত্রিক রাজ্যকে তার পদধূলি দিয়ে সম্মনিত করলেন। শুধু তাই নয়, তিনি একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যেরও অবাস্তব স্বপ্নে বিভোর হলেন, যে স্বপ্ন আমাদের মধ্যপ্রাচ্যবাসীর কাছে একটি মোহময় মরীচিকা বৈ কিছুই নয়। আমি ভাবছিলাম অন্যান্য ২২টি আরব দেশগুলোর কোনটিকে তার বক্তৃতার স্থান হিসেবে নির্বাচন করা যেত কিনা, কিন্তু পরিশেষে মনে হল এর চেয়ে আদর্শ স্থান আর হতে পারে না।

ইউসেফ বক্তৃতা নিয়ে আরও বলেছেন:

যদিও তিনি অমীমাংসিত সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেছেন যার পরিধি বিস্তৃত ছিল প্যালেস্টইন থেকে শুরু করে নারী অধিকারের কথা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থেকে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা এবং অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ বর্জনসহ বিশ্বাসের স্বাধীনতা পর্যন্ত। সই একই বিষয়গুলো নিয়ে বলে গেছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের বিগত সরকারপ্রধানরা একে একে বলে গেছেন, সেই সাথে সমব্যথী সুর মিলিয়েছেন বিশ্বের আরো অনেক নেতারা কিন্তু তাদের সমাধানের প্রক্রিয়ায় বরাবর রয়ে গেছে শুভংকরের ফাঁকি।

মিডইস্ট ইউথ -এ বাহরাইনের এসরা লিখেছেন:

ওবামার বক্তৃতা থেকে সত্যিকার অর্থে উপকৃত হবো এমন কিছুই পেলাম না আমি একজন আরব এবং মুসলিম হিসেবে। আমি এসব গালভরা অর্থহীন শব্দ ও আশ্বাসময় বাকচাতুর্য শুনে শুনে অসম্ভব ক্লান্ত। যদিও তার বক্তৃতা শুনতে চরম অনাগ্রহ ছিল, কিন্তু তার বক্তৃতা শুনে অনেকের উচ্ছ্বাস আমাকে অবাক করল, তারা মনে হয় জানে না আমাদের সমস্যার উৎস কোথায়। তাদের ভাবখানা দেখে মনে হয় ‘ওবামা এসেছে সব সমস্যার সমাধান হাতে’, যেখানে ওবামা আমাদের সমস্যাগুলো দেখছে খুব হেলাফেলা ভাবে। আমি শুধু এ কারনে ওবামাকে সমর্থন করি যে সে অন্তত যুদ্ধবাজ নয়, তাই বলে আমাদের তার অথবা আর নেতৃত্বের প্রয়োজন এমন মনে করার কোনো কারন নেই।

ইসরাইলের গ্রেসঘোম গোরেনবার্গসাউথ জেরুজালেমে‘ লিখেছেন:

বারাক ওবামা পরিবর্তন আনতে চান আর এটা ইতিহাসের দাবী। তিনি যা করছেন তা কল্যানকর। উদাহরনে বলা যায়, ছয় দিনের সমর শুরু হবার পর থেকে আজ ৪২ বছর হল। সেই সময় থেকে ‘জুন ৪ লাইন’ বাক্যাংশটি ব্যবহৃত হয় যুদ্ধের প্রাক্কালে সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত ইসরাইল ও আরব প্রতিবেশীদের মধ্যকার বিভাজন সীমারেখাকে বোঝাতে, মানচিত্রে আঁকা সীমানাকে বোঝাতে নয়। ভূমিগত এই স্বল্প দূরত্বটুকু শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে গতকাল থেকে ‘জুন ৪’ কথাটি অন্য পুরোপুরি ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। এখন এর মানে এই দিনটিকে বারাক ওবামা কায়রোতে বক্তৃতা দেবার জন্য নেছে নিয়েছেন। ‘জুন ৪ লাইন’ দিয়ে এখন বোঝানো হচ্ছে, ওবামার চিন্হিত এই সীমানাটি মুসলিম বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার প্রতীক অন্য কথায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনের পূ্র্বাভাস।

গোরেনবার্গ বক্তৃতার উপর আরো লিখেছেন:

তার বার্তা আমাদের কাছে খুবই মৌলিক ও স্পষ্ট ছিল। প্রথমত, তোমাদের ইতিহাস আমি গ্রহন ও সমর্থন করি। দ্বিতীয়ত, মুদ্রার অপর পিঠের ইতিহাসটুকু যার যার পক্ষ থেকে এমন ভাবে স্বীকার করে নেয়া হোক যেন তা করা হলে নিজের ইতিহাসটুকু জলাঞ্জলি দিলাম এই নেতিবাচক মনোভাবটি না থাকে। আর তা করা হয়ে গেলে অতীতের স্রোতকে তার নিজের মত বয়ে যেতে দাও, তাকে আর আটকাবার চেষ্টা করো না। এগিয়ে যাও সম্মুখে, বর্তমানের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিহাসকে তার আপন বেগে চলতে দাও।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .