বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বলিভিয়া: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য এবং ঐতিহাসিক ৬-১ গোলের জয়

প্রধান কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং তার তারকায় ভরা আর্জেন্টিনা ফুটবল দল বলিভিয়ার মুখোমুখি হবার জন্য লা পাজ শহরে এসেছিল ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে অংশ নেবার জন্য। সবাই ধরে নিয়েছিল যে এই ম্যাচটিও আর্জেন্টিনার জন্য একটা সহজ জয়ে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা বর্তমানে বিশ্বের সেরা ফুটবল দলগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে। তবে সারা মহাদেশকে বিস্মিত করে এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে বলিভিয়ার ফুটবল দল। জয়টিকে সবাই অবিশ্বাস্য ভাবছে না, অবিশ্বাস্য ভাবছে ৬-১ গোলের এই ফলাফলকে। এই জয় বিশ্বকাপের চুড়ান্ত পর্বে বলিভিয়ার খেলার আশা ও বিশ্বাসকে আবার চাঙ্গা করে তুলছে। কারন এক সময় ভাবা হয়েছিল যে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে দেশটির উত্তীর্ন হবার আশা ধুলিসাৎ হয়ে গেছে।

ছবি হুগো মিরান্ডার তোলা এবং অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত

আবার খেলায় ফিরে আসি, অনেক বলিভিয়ান বিশ্বাস করেছিল যে দেশের মাঠে বলিভিয়া আরেকটি পরাজয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। প্রোবারসে এস গ্রাতিস (স্প্যানিশ ভাষায়) এর ইভান রড্রিগুয়েজ সেই সব লোকদের মধ্যে যারা এ সমস্ত কথা বলছিল।

“আমি স্বীকার করছি পলায়নপর মানসিকতাপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে আমিও ছিল। খেলা শুরু হবার আগে আমি মুখে চুইংগাম পুরিনি। প্রথমার্ধের যে সময় বলিভিয়া প্রথম গোল করলো, তখন সব মাথা ঘুরে গেল এবং আরো বেশী লোকজন খেলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল।”

ঢামপায়ার (স্প্যানিশ ভাষায়) খেলা চলাকালিন সময় কাজের মধ্যে ছিলেন। কিন্তু বিরতির সময় খেলার এক ঝলক দেখতে সক্ষম হন। শীঘ্রই খেলার প্রতি তার আগ্রহী চতুর্গুণ বেড়ে গেল। ম্যাচটিতে বলিভিয়া উন্নততর খেলা প্রদর্শন করতে লাগলো। বিরতির সময় যখন খেলার ফলাফল ৩-১ এবং খেলাটি বলিভিয়ার পক্ষে, তখনও অনেকের মতো উইলি এ্যান্ডুজ ধরে নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা এই খেলায় ড্র করবে, এমনকি জিতেই যেতে পারে।


ছবি হুগো মিরান্ডার তোলা এবং অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত

যখন খেলা শেষ হবার বাঁশী বাজলো খেলার তখনও চুড়ান্ত ফলাফলাকে মাত্র কয়েকজন বিশ্বাস করেছিল। এরপর সারা দেশে অব্যহত এক উৎসব শুরু হলো। জয়ের পরের দিন জাতীয় ফুটবল দলের উপর আবার নতুন করে গর্ব করা শুরু হলো। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলের মুলপর্বে যাবার জন্য যদিও বাছাই পর্বে উত্তীর্ন হবার জন্য এক ভয়ানক যুদ্ধ চলছে তারপরেও গাণিতিকভাবে এখনও বলিভিয়ার পক্ষে সেই বৈতরনী পার হওয়া সম্ভব। ইনসোমনিয়াকোর (স্প্যানশি ভাষায়) সান্তিয়াগো টেরসোর্স আশা করছে যে, “তারা সব সময় এই রকম খেলবে।”

অনেকে আবার অনুশোচনা বোধ করছিল। গেভেলহার তার টুইটার একাউন্টে লিখছেন (স্প্যানিশ ভাষায়) “বলিভিয়া ফুটবল দল আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলে পরাজিত করেছে, জাতীয় দলের কাছে হাজার বার ক্ষমা চাইছি। কারন আমরা তাদের অপ্রয়োজনীয় বলে গালি দিয়েছিলাম।”

এনজেল কাইডো ব্লগের হুগো মিরান্ডা গর্বিত যে তিনিও খেলার সময় মাঠে ছিলেন। তিনি খেলার ভিডিও ধারণ করেছেন এবং তার বিভিন্ন অংশ ইন্টারনেটে তুলো দিয়েছেন। এইসব ভিডিওর মধ্যে কয়েকটি গোলও ছিল। এটি ছিল এমন এক ম্যাচ যা সামনের দিনগুলোতেও ভোলা যাবে না:

Hoy estuve ahi en el Siles junto a las 40000 personas, muchos que vinieron de Trinidad, Oruro, Cochabamba, Santa Cruz, Sucre, en fin de muchos partes del pais, que las entradas estaban caras.. claro que si, que la mayoria fue a ver a Messi, Tevez, Mascherano, Zanetti y demas platinados.. pues si.. pero todos los Bolivianos, en el interior sabiamos que se podia, que podiamos ganar…

Siempre he confiado en mi Seleccion, por que para los pobres la esperanza es lo unico que esta ahi, y sin eso no somos nada…….

সেদিন আমি সেখানে (স্টেডিয়াম হারনান্দো) সিলাসে ছিলাম। সেদিন আমার সাথে ছিল ৪০,০০০ দর্শক। এর মধ্যে অনেকে ত্রিনিদাদ, অরুরো, কোকাবাম্বো, সান্তাক্রুজ, স্ক্রুরে এবং দেশের আরো অনেক এলাকা থেকে এসেছিল। টিকেটের দাম ছিল বেশী…. অবশ্যই তার কারন ছিল। দর্শকদের বেশীরভাগই (আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়) মেসি, তেভেজ, মাসচেরানো, জেনেত্তি এবং অন্য সব তারকা খেলোয়াড়দের দেখতে এসেছিল… কিন্তু ….. সারা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা বলিভিয়ানরা জানতো যে জয় লাভ করা সম্ভব। আমরাও জিততে পারি।

“আমাদের জাতীয় দলের উপর আমার সব সময় বিশ্বাস ছিল। কিন্তু তাদের দুর্বল খেলা প্রদর্শনের কারনে আশাই ছিল একমাত্র ভেলা এবং আশা ছাড়া আমাদের আর আসলে কিছুই ছিল না।”

লা পাজের সকলেই কাজ থেকে সময় বের করে স্টেডিয়ামে গিয়ে বা টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখেনি। কাপসুলা দি তিয়েম্পের ভানিয়া ভালদেরামা(স্প্যানিশ ভাষায়) হতাশ হবার আশন্কায় খেলা দেখতে যাননি। তাই ভদ্রমহিলা কাজের মধ্যেই ডুবে থাকেন। তার স্বামী এবং ছেলেমেয়েরা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যায়। তবে সেদিন সন্ধ্যায় যখনই বলিভিয়ার খেলোয়াড়রা একটি করে গোল করে তিনি সাথে সাথে গান গেয়ে ওঠেন এবং এভাবেই তিনি এই ঐতিহাসিক জয়ের সাথে নিজেকে আবিস্কার করেন।

এই ম্যাচের এই বড় ধরনের জয় পুরোন এক বির্তককে আবার নতুন করে উস্কে দিয়েছে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এত উঁচুতে ফুটবল খেলা কিছুদিন এক বির্তক তৈরী হয়েছিল। কয়েক বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫০০ মিটার উঁচুতে ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদি এই আইন থাকতো তাহলে লা পাজে ফুটবল খেলা বাতিল হয়ে যেত। তবে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস তার দেশের রাজধানী লা পাজে ফুটবল খেলা যাতে হয় তার জন্য আন্দোলন করেন। অনেক দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল দল এই পরিমান উঁচুতে বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলে জিতেছিল। যার মধ্যে ২০০৫ সালের আর্জেন্টিনার দলও ছিল। জেতার সময় তারা কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই জিতেছিল।

এই জয় কারো জন্য আরো মধুর, যেমন আলকোলিকার এরিকা পিন্টোর জন্য ( স্প্যানিশ ভাষায়)। তিনি সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় এক ফুটবল ম্যাচ- এর সময় তৈরী হওয়া বিদেশী বিদ্বেষী এক গণউন্মাদনার কথা স্মরণ করেন

সবশেষে ইউফেনিসমোস ব্লগের গ্যাব্রিয়েল জুলেতা লিখছে, এই জয় ছিল এমন এক দেশের জন্য এক স্বাগত সংবাদ যার দেশের ভেতরের নানা ধরনের চড়াই উৎরাই পার হচ্ছে:

Bolivia supo atacar como nunca lo hace, esta vez los chicos demostraron GARRA, ENTUSIASMO, Dios quiera que esta motivacion se puede ver replicada en futuras presentaciones en el exterior y asi lograr la tan añorada y distante ilusion de participar en un MUNDIAL, otra vez… FELCIDADES BOLIVIANOS….. VIVA LA SELECCION!!!!!

বলিভিয়া জানে কিভাবে আক্রমণ করতে হয় যা সে আগের ম্যাচগুলোতে কখনও করেনি। এই দল, খেলার প্রতি তাদের হৃদয় প্রদর্শন করেছে, তাদের উদ্দীপনা দেখিয়েছে। ঈশ্বরের ইচ্ছায় এই খেলা থেকে পাওয়া উৎসাহ অন্য, সেই সব ম্যাচগুলোতেও দেখা যাবে, যেগুলো বিদেশে খেলা হবে। এভাবে একটা স্মৃতিকাতরতা এবং এক দুরবর্তী ভ্রান্তি তৈরী হবে যে বলিভিয়া বিশ্বকাপের চুড়ান্ত পর্বে খেলেছে। আরেকবার—- অভিনন্দন বলিভিয়া—- জাতীয় ফুটবল দল দীর্ঘজীবি হোক।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .