বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত: অস্কার পুরষ্কারে বাজিমাত করেছে স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার

ভারতে রচিত একটি উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি বৃটিশ সামাজিক চলচ্চিত্র ড্যানিয়েল বোয়েলের স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার ৮১ তম অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড উৎসবে একদম বাজিমাত করে দিয়েছে। এর ব্রিটিশ এবং ভারতীয় কর্মীরা সেরা চলচ্চিত্রের পুরষ্কারটি সহ মোট ৮ টি পুরষ্কার জিতে নিয়েছে। এটি ছিল সত্যি ভারতের দিন যেহেতু ভারতের উপর নির্মিত্ত অন্যএকটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘স্মাইল পিনকি’ও একটি অস্কার জিতেছে।

হলিউডে স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার এর অভিনেতা অভিনেত্রীদের একটি অংশ – ছবি তুলেছেন ফ্লিকার ব্যবহারকারী কৌশিক এবং ব্যবহার করা হয়েছে ক্রিয়েটিভ কমন লাইস্যান্স এর অধীনে।

সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে পুরষ্কার বিতরণী উৎসবটি। কেউ কেউ আবার সরাসরি ব্লগিং করছিল যেমন সেপিয়া মিউটিনি। সরাসরি সম্প্রচারের সময় মিনিটের মধ্যে শত শত টুইটার ম্যাসেজ প্রকাশিত হয় যেখানে রাজেশের মত কণ্ঠস্বর বলে ওঠে:

ভারত এখন পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে

নো বর্ডার এবং বাইনারি ব্লগে প্রেরনা বলেন:

পর্যটন ভিসায় ভারতের একদল অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের ব্রিটিশ সহযোগী এসে বহুপ্রত্যাশিত এবং সম্মানের অস্কার দেশে নিয়ে গেছে যা পৃথিবী দেখলো। বিশেষ করে, একজন, এ আর রহমান বিস্মিত এবং অভিভূত করেছে সকলকে তার সুরের প্রজ্ঞায় এবং সে কথাও বলছিল তামিলে। এটা আমেরিকা, ইংরেজী ভাষা যেখানে সর্বত্র চলে!!

এবং অবশ্যই অনেকে আছে যারা ভারতীয়দের অস্কারে অনুপ্রবেশ পছন্দ করেনি:

দেখেছ? এই ভারতীয়রা সব অস্কারগুলো ঝেড়ে নিয়ে যাচ্ছে! প্রথমে নিয়েছে আমাদের কল সেন্টারগুলো, এখন অস্কারগুলো। এর পরে কি?

অনেক ভারতীয় ব্লগার ‘স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার’ এর কৃতিত্বকে প্রশংসা করায় উৎসুক ছিল না। এই সিনেমা সম্পর্কে অনেক ভারতীয়র মিশ্র প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে গ্লোবাল ভয়েসের আগের একটি পোষ্টে। মুম্বাইয়ের অনেক বস্তিবাসী, যেখানে সিনেমাটি শুটিং করা হয়েছিল, এর বিরুদ্ধচারণ করেছে কারণ সিনেমাটিতে তাদেরকে বস্তির কুত্তা বলা হয়েছে।

মিরা সিনহা লেখেন:

স্লামডগ মিলিওনিয়ার চলচ্চিত্রটি ভারতীয় দারিদ্রতার কোন সংঙ্গা মনে করে দেখা উচিৎ নয় ধরনের আবেগ সত্ত্বেও, চলচ্চিত্রটি আটটি অস্কার জেতার পর ভারতকে খ্যাতির আলোকে দেখাটা বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। আমি আরও বেশী লেখার জন্য উদ্বুদ্ধ, কিন্তু আমি উদযাপন মুহুর্তগুলো তুলে ধরব এবং চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে আমার নিজস্ব ধারণা সম্পর্কে বিস্তৃত বর্ণনা হতে বিরত থাকব।

র‌্যানডম থটস অফ আ ডিমেন্টেড মাইন্ডগ্রেট বন্গ অতটা মুগ্ধ ছিলনা যদিও:

প্রথমে বলতে হয় অ্যাকাডেমি বিচারকরা যেসব বিষয় সহানুভুতির সাথে দেখে স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার বেশ সুচিন্তিতভাবে এবং কার্যকরভাবে তাদের অনেকগুলিকেই তুলে ধরেছে। একটি পরীক্ষায় পাশ করার জন্য, মেধায় সর্বোত্তম হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই- এমনকি একজন গড়পড়তা ব্যক্তি অনেক ভালো করতে পারে যদি সে শিক্ষককে সন্তুষ্ট করার ‘পন্থা’টা ধরতে পারে এবং তা সীমিত পাঙ্গমতার মধ্যেও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারে। স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার সেটাই প্রশংসাজনক ভাবে করেছে।

হিতেশ বাগাই তার বিষ্ময় প্রকাশ করেছে একটি টুইটার ম্যাসেজে:

কেন ভারত/চীনের দারিদ্রতা নিয়ে একটি ছবি অস্কার পায় আর একটি হাসিখুশি বিষয়ের ছবির কোন মূল্যায়ন হয় না?

ইমাজিন্ড ইউনিভার্সলেখনী খুঁজতে চেষ্টা করেছেনকেনো ভারতীয়রা স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার কে ঘৃণা করছে?”

আমি অবাক হই যদি চলচ্চিত্রটিতে আমদের মূল আপত্তি এই কারনেই হয়ে থাকে যে এটি ভারতের এমন এক অংশকে চিত্রায়িত করেছে যা আমরা দেখাতে চাই না। আমরা সচারচর আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উপরে উঠে আসা মধ্যবিত্তদের উদযাপন করতে পছন্দ করি। আমরা আমাদের নতুন শপিং মল এবং কাচে ঘেরা দালানকে তুলে ধরতে পছন্দ করি। চলচ্চিত্রটি মধ্যবিত্তের উন্নতির অতকিছু দেখায়নি। এটি দেখিয়েছে সেই অন্য ভারতকে যা আমাদের অনেকেই ভাল করে জানে না, অথবা ভাবতেও চায়না – দরিদ্র ভারতকে যা সকল সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দরিদ্রই রয়ে গেছে।

টাটভাম (ভেতরের সত্য) ব্লগে শ্রীপ্রিয়া চলচ্চিত্রটি পছন্দ করেছেন এবং লিখেছেন:

কেন কোন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি শহর বা একটি দেশকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার বোঝাটি কাধে নেবেন? তিনি তো কোন ডকুমেন্টারী তৈরী করছেন না। বলার মত এখানে একটি গল্প আছে। যা একটি শহরের সামান্য অংশে সীমাবব্ধ যা নেয়া হয়েছে একটি কাল্পনিক জীবন এর দর্শন হতে। চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজ হলো তার ক্ষমতার সর্বোত্তম উপায়ে সেই গল্পটা বলা। এবং ড্যানি বয়েল ঠিক সেই কাজটিই করেছেন। এবং আমি তার ফলাফলে খুশি।

প্রেরণা ভারতের (মেধা ও) সামর্থ্যকে নির্দেশ করেছেন এবং উপসংহার টেনে বলেছেন:

অবশ্যই, এটি ‘ভারতীয় বিষয়’ এর উপর একজন বৃটিশ পরিচালককে সিনেমা নির্মানে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং ভারতীয় কলাকুশলী যারা বিগত বহু দশক ধরেই উচুঁ মানের কাজ করছেন (যেমন গুলজার, এ আর রহমান, পোকুটি) তাদের অস্কার জিতিয়েছে। স্ল্যামডগ মিলিওনিয়ার কোনভাবেই বলিউডের তালিকার উপরের সিনেমার ধারেকাছে নয়। এটি গতানুগতিক ‘টাকার সাথে লড়াইয়ে ভালবাসাই জয়ী হয়’ ধরনের বহুল পরিক্ষীত এক সাধারণ চিত্রনাট্য। এবং এটি এ আর রহমান বা গুলজার এর সেরা কর্মও নয়। একই সাথে এটি উৎসাহব্যঞ্জক যে ঐ সুরের কৃত্তিমানরা অবশেষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল যার জন্য তা শেষমেষ একটি ভারতীয় চলচিত্রই। যাই হোক, এটা সাফল্যের জন্য কোন মানদন্ড হওয়া উচিৎ নয়। এ আর রহমানের হলিউডকে প্রয়োজন নেই; বরং হলিউডের প্রয়োজন তাকে।

যাইহোক তারপরও অভিনন্দন, স্ল্যামডগ মিলিওনিয়রকে এবং প্রত্যেক ভারতীয়কে যারা এটিকে তাদের সিনেমা মনে করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .