শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকশে সরকারীভাবে ঘোষণা করেছেন যে সরকারী বাহিনী এলটিটিই বিদ্রোহীদের কেন্দ্রস্থল কিলিনোচি দখল করেছে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর।
সরকার এ পর্যন্ত লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও সামনে আরো জোরালো যুদ্ধের সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় কারন যেসব রিপোর্ট আসছে তাতে বোঝা যায় যে বিদ্রোহীরা আরো উত্তর-পূর্বে সরে গেছে। এটা দেখার বিষয় যে এই গৃহযুদ্ধের দুই পক্ষই ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন তাদের সংবাদ আর দৃষ্টিভঙ্গী জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য।
শ্রীলংকান আর্মি নিউজ সচিত্র এই খবর নাউপাব্লিকে (নাগরিক সাংবাদিকতা সাইট) দিয়েছে:
জানুয়ারি ২, ২০০৯ তারিখে শ্রীলংকার বীর সেনারা এলটিটিইর সাথে অনেক ঘন্টার দীর্ঘ যুদ্ধের পর কয়েক মুহূর্ত আগে কিলিনোচি শহর দখল করেছে। মুলাথিভুর দিক থেকে পলায়নপর এলটিটিই টাইগাররা অল্প কয়েকটা গোলা ছোঁড়ে। আজকে দুপুরে সেনারা কিলিনোচি রেল স্টেশন আর হাসপাতাল দখল করেছে।
ডিফেন্সনেট জানিয়েছে যে শ্রীলংকানরা এই বিজয় উদযাপন করছে:
দেখা গেছে উৎফুল্ল জনগন শ্রীলংকার বিভিন্ন স্থান থেকে আতশবাজি পোড়াচ্ছে আর জাতীয় পতাকা নাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক বিজয় উদযাপন করতে।
কোনান্ড্রাম বলেছে:
কলম্বো আর অন্যান্য শহরে উৎসব হচ্ছে। বলা যায় আজকে শ্রীলংকার নতুন বছরের আসল সকাল হল।
গ্রাফিক্স নামাল এর সৌজন্যে। যুদ্ধের আরও ছবি নামালের সাইটে দেখুন।
তবে তামিলনেট.টিভি ইঙ্গিত করেছে যে এটা পরাজয় না:
মহান থালাইভার তার বিশাল প্রজ্ঞা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেয় এলটিটিই কে আদেশ দেয়ার কার্যত পিছু হটতে। তার তামিল এলামের রাজধানী থেকে তামিল এলামের মুলাইথিভুতে যাত্রা করেছে। কার্যত কিলিনোচি থারমাপুরামে সরে এসেছে।
চিত্রাঙ্গী কিছু ঘুম হারাম করা ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে এলটিটিই বিদ্রোহী ঘাটির উপর শ্রীলংকান এয়ার ফোর্স বোমা হামলার ফলে কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষতবিক্ষত শরীরের ছবি রয়েছে।
র্যান্টিংস ইন কলম্বো…এই সংবাদের প্রতিক্রিয়া হিসাবে একটা কবিতা লিখেছে:
কিলিনোচির জন্য অভিনন্দন
আতশবাজির আওয়াজের মধ্যে আমি টাইপ করছি
অনেক শ্রীলংকানের কাছ থেকে আশার বার্তা
টিভিতে মাহিন্দা, কথা যা আমি বিশ্বাস করতে চাই
কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা মিডিয়া আমাকে ভাবাচ্ছে,
এটা কি আসলেই পক্ষপাতহীন সংবাদ?
বা একটা পরিকল্পিত কৌশল, নির্বাচনের ঠিক আগে?
কে জানে। হয়তো শুধু উনি।
দেশের অন্যত্র হানাহানি চলছে। আ ভয়েস ইন কলম্বো জানিয়েছে যে এলটিটিই আবার কলম্বোতে আঘাত করেছে:
কলম্বোর ট্রান্স এশিয়া হোটেলের কাছে শ্রীলংকার এয়ার ফোর্স অফিসে আত্মঘাতি হামলা হয়েছে কিছুক্ষন আগে। অন্তত দুইজন বিমান বাহিনীর লোক মারা গেছেন আর নয়জন বিমান বাহিনী সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছে।
ভারত থেকে বি রামান জিজ্ঞাসা করেছেন “উদ্দেশ্য কি সিদ্ধ হয়েছে?”
গুরুত্বপূর্ন ভূমি হারানোর পরেও এলটিটিইর পক্ষে প্রচারণার সমাপ্তি হবে না। সেটি সম্ভব হবে যখন তারা যে সব এলাকা দখলে রেখেছে সেখানকার আর প্রবাসী শ্রীলংকান তামিলদের সমর্থন হারাবে।