বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জেলে বন্দী মিশরীয় ব্লগারকে ছেড়ে দেবার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ চাড়ছে

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মিশরীয় দুতাবাসের সামনে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিবাদগুলো ছিল মিশরীয় ব্লগার করিম নাবিল সুলায়মানকে জেলদণ্ড দেবার প্রতিবাদে। দুই বছর আগে সুলায়মানকে জেলের দন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে তার ব্লগে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক এবং ইসলামকে অপমান করে লেখার অভিযোগে।

২৪ বছর বয়স্ক এই ব্লগারের তিন বছর জেল হয়েছে ইসলামকে অবমাননা করার দায়ে এবং এক বছর জেল হয়েছে মোবারক এর বিরুদ্ধে লেখার দায়ে। ফ্রি করিম সাইট (করিমকে মুক্ত কর) এর মতে সারা বিশ্বে এই ব্লগারের মুক্তির জন্য প্রতিবাদ র‌্যালী বা শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, মস্কো, রোম, প্যারিস, বার্লিন, বুখারেস্ট, স্টকহোম, লন্ডন, এবং আরো বেশ কিছু শহরে এই আশায় যে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ সুলায়মান এর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেবে। জানা গেছে জেলে তার উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৬ই নভেম্বর করিমের জেল জীবনের দ্বিতীয় বর্ষ পার হল, আর চতুর্থবারের মতো তার জন্য সারা বিশ্বে একই সাথে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হল যার উদ্দেশ্য ছিল তার শর্তহীন মুক্তি দাবী।

কেবল ব্লগের লেখার উপর ভিত্তি করে সুলায়মান এর উপর অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি মিশরের প্রেসিডেন্টকে বিকৃতভাবে এবং ইসলামকে ঘৃণাভরে উপস্থাপন করেছেন, এবং অযাচিত কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় তার লেখায় নিয়ে এসেছেন যা কিনা মিশরের ভাবমুর্তিকে ক্ষুন্ন করে। কিন্তু ‘করিমকে মুক্ত করো জোট’ যুক্তি দেখাচ্ছে যে তাকে জেলে দেবার কারনেই মিশরের আন্তর্জাতিক ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে এবং সারা বিশ্বের কোটি কোটি জনতার কাছে দেশটির বাক স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার প্রশ্নের মুখোমুখী হয়েছে।

প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে নিন্মলিখিত স্থানে:

  • প্যারিস, ফ্রান্স
  • লন্ডন, যুক্তরাজ্য
  • ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
  • বার্লিন, জার্মানী
  • বুখারেস্ট, রোমানিয়া
  • ওয়াশিংটন ডিসি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউ ইর্য়ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  • রোম, ইটালি
  • বার্ন, সুইজারল্যান্ড
  • রোডস আইল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  • সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত কিছু প্রতিবাদ এর ছবি এখানে দেওয়া হল।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (সীমান্তবিহীন সাংবাদিকের দল) সারা বিশ্বের এই প্রতিবাদের সাথে নিজেদের যুক্ত করে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে তারা ২৪ বছর বয়স্ক এই ব্লগারের মুক্তি দাবী করেছে:

দুই বছর পার হয়েছে অথচ কিছুই বদলায়নি। তার পরিবার কখনও তাকে দেখতে আসেনি। কেবল তার আইনজীবি বাকী দুনিয়ার কাছে তার খবর জানাচ্ছে। তার নৈতিক মানসিকতা দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর তার স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ছে। তার বাবা মা সম্ভবত আক্রোশের ভয়ে জনসাধারণের সামনে তার ছেলেকে ত্যাজ্য করেছে এবং তার মৃত্যুদণ্ড দাবী করেছে। সেপ্টেম্বর-এর এক তারিখ থেকে ওয়ার্ডেনরা তাকে তার কারাক্ষ ত্যাগ করতে নিবৃত্ত করছে।

সারাবিশ্বের মুক্ত সাংবাদিকতা সংগঠন বা প্রেস ফ্রিডম অর্গানাইজেশন বলেছে, “দুই বছর, যথেষ্ট হয়েছে, এখন সময় তাকে মুক্ত করার।”

করিম এবং তার বিরুদ্ধে মামলাটি সমন্ধে আরো তথ্যের জন্য www.freekareem.org এই সাইটটি দেখুন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .