বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ওবামা বাংলাদেশের জন্যেও

সারা বিশ্বের অনেক জাতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন- এর উপর নজর রেখেছিল। বাংলাদেশীরাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সম্প্রতি ভয়েসেস উইদাউট ভোটস -এ প্রকাশিত এক লেখায় আমরা দেখেছি যে অনেক বাংলাদেশী ব্লগও ওবামা ও ম্যাককেইনের সমর্থনে কণ্ঠ মিলিয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিনেটের বারাক ওবামার জয় বাংলাদেশের উপর কি প্রভাব ফেলতে পারে? ব্যাক টু বাংলাদেশ এমন একজন বাংলাদেশীর ব্লগ, তিনি অনেক দিন ধরে আমেরিকায় বাস করার পর দেশে ফিরেছেন। এই ব্লগার ওবামার এই অভূতপূর্ব জয়ে যে আবেগ তৈরী হয়েছে সে সমন্ধে লিখছেন:

“আমেরিকাকে যারা ভালোবাসে আজ তাদের জন্য এক বিশেষ দিন। পুরুষেরা আনন্দে কাঁদছিল। কেবল আমেরিকার মানুষই নয়, বিশ্বের আনাচে কানাচের মানুষের চোখেও এই আনন্দ অশ্রু দেখা গেছে।”

ধ্রুব হাসান বাংলা ব্লগ সচলয়াতন এ তার ব্লগে এ একটি কবিতা লিখেছে:

বারাক ওবামা, আমার এই ক্ষুদ্র ৩২ বছর জীবনে সবচেয়ে বড় আশাজাগানিয়া মানব তুমি!— তোমায় স্বাগতম!!

আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশী মেয়ে লিপনা তার ব্লগে লিখছেন:

আজ আমি যখন জেগে উঠলাম এবং কিছু পরে আমার অফিসের পথে হাঁটা শুরু করলাম সমস্ত সময় জুড়ে আমি এক ভিন্ন পরিবেশ অনুভব করছিলাম। বলতে গেলে এ সবের মধ্যে তেমন কোন নতুন বিষয় ছিল না। সেই একই লোক, একই ধরনের ভীড়, একই শহর, এক ধরনের রাস্তা, … তারপরেও আমি বাতাসে ভিন্ন কিছুর গন্ধ পাচ্ছিলাম, আমি অনুভব করলাম একটা পরিবর্তনের আভাস শুরু হয়েছে। আমি নিশ্চিত নই, এটা কি এই বিশ্বাসের জন্যেই যে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট ভবনে উপস্থিতিতে সবকিছু বদলে দেবে অথবা চারপাশে আসলেই কিছু বদলে যাচ্ছে! আর আমি এক শক্তিশালী আলোড়ন টের পাচ্ছি, আমি সামনে এক সুন্দর জাতি দেখতে পাচ্ছি, আমেরিকার এক উন্নতর ভবিষ্যত- এ এমন এক দেশ যেখানে অনেক সুযোগ খুঁজে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ থেকে তানিম তার মাই বাংলাদেশ ব্লগে এই নির্বাচন যে এক অসাধারণ নির্বাচন সে সমন্ধে লিখেছেন:

“গাধা বনাম হাতির (নির্বাচনী প্রতীক) এই লড়াই আমরা আশার দৃষ্টিতে দেখছিলাম। আমরা এক দোদুল্যমান বিপ্লবের পরে আবিস্কার করলাম যে এই লাল সংখ্যাগরিষ্ঠ (রিপাব্লিকান দলের রং) রাষ্ট্রটি সংখ্যাগরিষ্ঠ নীলে (ডেমোক্র্যাট দলের রং) পরির্বতিত হচ্ছে। কারণ এটা সেই জনতার বিজয় যারা পরিবর্তন চায়, এ এক তারুণ্যের বিজয় যা ওবামার একতার বার্তার মধ্যে দিয়ে এসেছে। এটা আমেরিকার বিভিন্ন বর্ণ, ধর্ম, জাতি, বিশ্বাস এবং সম্প্রদায়ের মানুষের জন্যে একটা পরিবর্তন, সেই সকল মানুষের জয়। এখন পর্যন্ত এতটা একাত্ব বোধ করা আমেরিকা আগে আর দেখিনি।”

তানিম তার সাথে যোগ করেছে যে আগামী ১৮ ডিসেম্বর ২০০৮ -এ বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিষয়টি প্রভাব ফেলবে:

“তিনি আমেরিকার তরুণ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে উদ্দীপ্ত এবং একত্রিত করেছেন, সফল ভাবে তাদের গতিশীল করেছেন এবং তাদের মধ্যে এমন এক উৎসাহ তৈরী করেছেন যে তারুণ্য সারা বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহন করার জন্য তৈরী হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনে শক্তিশালীভাবে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে।

এখন আমরা গর্ব ভরে বলতে পারি ওবামা কেবল আমেরিকার নয়, ওবামা সারাবিশ্বের জনগণের। এটা বলার সময় বিষয়টি আমাকে আশাবাদী ও আবেগী করে তুলেছে যে ওবামা বাংলাদেশের জন্যেও।”

লোকজন বলছে ওবামার গল্প কেবল আমেরিকার জন্য এবং তা কেবল আমেরিকাতেই সম্ভব। এটা কি বাংলাদেশেও সম্ভব হতে পারে না? তবে তার জন্যে বাংলাদেশে সত্যিই এমন একজন নেতা দরকার যিনি সকল দলকে এক করতে পারবেন।

ব্যাক টু বাংলাদেশ স্মরণ করিয়ে দেয় এই নির্বাচন থেকে বাংলাদেশ কি শিক্ষা নিতে পারে:

“আশা করা যায় বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা বিজিত ম্যাকেইন যে মনোভাব দেখিয়েছেন তার থেকে সামান্য কিছু শিক্ষা নিতে পারে (এমন বক্তব্য নয়, যে অপর পক্ষ ভোট জালিয়াতি করে জিতেছে) আসছে ডিসেম্বরেই তা দেখা গেলে ভালো হয়, নয় কি?”

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .